১. ‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’ – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো গঃ অনন্বয়ী অব্যয়।
যদিও এই বাক্যে "ভারি" শব্দটিকে অনুসর্গ অব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে (যেহেতু এটি "সুন্দর" বিশেষণের পরে বসে তার তীব্রতা বোঝাচ্ছে), প্রধানত এই বাক্যের সুর এবং বিস্ময় ভাব প্রকাশ করছে "তো" শব্দটি।
অনন্বয়ী অব্যয় হলো সেইসব অব্যয় পদ যা বাক্যের অন্য কোনো পদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ভাব (যেমন - বিস্ময়, আনন্দ, দুঃখ, স্বীকৃতি, অস্বীকৃতি ইত্যাদি) প্রকাশ করে। এই বাক্যে "তো" বিস্ময় বা সামান্য জোর দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
পদান্বয়ী অব্যয় (যা অনুসর্গ নামেও পরিচিত) বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে এবং কারক বিভক্তি বা অন্যান্য সম্পর্ক বোঝাতে সাহায্য করে (যেমন: দ্বারা, হতে, থেকে)। "ভারি" এখানে সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।
অনুকার অব্যয় কোনো কিছুর ধ্বনি বা অনুকরণ প্রকাশ করে (যেমন: ঝমঝম, কিচিরমিচির)।
অতএব, প্রধানত "তো" শব্দটির কারণে এই বাক্যে অনন্বয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে বলা যায়।
সঠিক উত্তর হলো কঃ অনন্বয়ী অব্যয়।
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক।' এই বাক্যটিতে "তো" শব্দটি অব্যয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
অনন্বয়ী অব্যয় সেই সকল অব্যয় পদ, যারা বাক্যের অন্য কোনো পদের সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক স্থাপন করে না। এরা স্বাধীনভাবে বাক্যে বিভিন্ন ভাব, যেমন - বিস্ময়, যন্ত্রণা, মিনতি, স্বীকৃতি, ইত্যাদি প্রকাশ করে।
এই বাক্যে "তো" শব্দটি একটি নিরর্থক বা আলংকারিক অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অর্থের তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং একটি বিশেষ জোর বা আবেগ প্রকাশ করছে। এটি বাক্যের অন্য কোনো পদের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়।
অন্যান্য প্রকার অব্যয়গুলো এই বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি:
- অনুকার অব্যয়: কোনো ধ্বনির অনুকরণে গঠিত অব্যয় (যেমন - ঝমঝম, কটকট)।
- পদান্বয়ী অব্যয়: যে অব্যয়গুলো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে তাদের সাথে বাক্যের অন্যান্য পদের সম্পর্ক স্থাপন করে (যেমন - দ্বারা, হতে, চেয়ে)।
- অনুসর্গ অব্যয়: পদান্বয়ী অব্যয়গুলো যখন স্বাধীনভাবে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে ব্যবহৃত হয়, তখন তাদের অনুসর্গ বলা হয় (অনেক ব্যাকরণবিদ পদান্বয়ী ও অনুসর্গকে আলাদা করেন না)।
সুতরাং, "তো" শব্দটি এখানে অনন্বয়ী অব্যয় রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে তাকে 'বিশেষণের অতিশায়ন' বলে। ‘এ মাটি সোনার বাড়া’ শব্দটি খাঁটি বাংলা শব্দের অতিশায়ন। এখানে মাটিকে সোনার চেয়ে বড় বা মূল্যবান মনে করা হয়েছে।
৪. ‘তুমি এতক্ষণ কী করেছ’?-এই বাক্যে ‘কী’ কোন পদের?
[ বিসিএস ২৪তম ]
বিশেষণ হলো যা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের দোষ, গুণ ইত্যাদি প্রকাশ করে। যেমন ভালো, ছোট, বড়, পাঁচটি ইত্যাদি। অব্যয় হলো যে পদের কোনো পরিবর্তন নেই। যেমন-এবং, কিংবা, কিন্তু, অথবা ইত্যাদি। সর্বনাম হলো যা বিশেষ্যের পরিবর্তে বসে। যেমন-আমি, তুমি, সে, তাকে, আমার ইত্যাদি। ক্রিয়া হলো যে পদ দ্বারা কার্য সম্পন্ন হয়। যেমন-করা, খাওয়া, যাওয়া ইত্যাদি। সুতরাং উপরিউক্ত বাক্যে ‘তুমি’ ও ‘কী’ উভয়ই সর্বনাম।
৫. যে পদে বাক্যের ক্রিয়াপদটির গুণ, প্রকৃতি, তীব্রতা ইত্যাদি প্রকৃতিগত অবস্থা বোঝায়, তাকে বলা হয়-
[ বিসিএস ২৩তম ]
যে পদে বাক্যের ক্রিয়াপদটির গুণ, প্রকৃতি, তীব্রতা ইত্যাদি প্রকৃতিগত অবস্থা বোঝায়, তাকে বলা হয় ক্রিয়া বিশেষণ। ক্রিয়া বিশেষণ এমন একটি পদ যা ক্রিয়ার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, যেমন ক্রিয়ার সময়, স্থান, প্রকার, পরিমাণ ইত্যাদি বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, "সে দ্রুত দৌড়ায়" বাক্যে "দ্রুত" শব্দটি একটি ক্রিয়া বিশেষণ।
এরূপ ক্ষেত্রে বাক্যের ভাব বুঝেই ‘কী’ এর অর্থ নিরূপণ করতে হবে। সে হিসেবে এর অর্থ ‘ভয়’, ‘রাগ’ বা ‘বিপদ’ নয়, অবশ্যই 'বিরক্ত'।
৭. ক্রিয়াপদ–
[ বিসিএস ২১তম ]
যে পদ দ্বারা কোনো কার্য সম্পাদন বুঝায় তাই ক্রিয়াপদ। সাধারণত বাক্যে ক্রিয়াপদ থাকে। তবে কখনো কখনো সময় বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে। যেমন- ফুলটি সুন্দর। এ বাক্যে ‘হয়’ ক্রিয়াপদ উহ্য রয়েছে।
৮. ‘যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা’- এখানে ‘মুখ’ বলতে কী বোঝাচ্ছে?
[ বিসিএস ২১তম ]
যে ভাষায় শব্দভাণ্ডার যত সমৃদ্ধ এবং যত বেশি অর্থবৈচিত্র্যে ঋদ্ধ সেই ভাষা তত উন্নত বলে স্বীকৃত। বাংলা একটি সমৃদ্ধ ভাষা হওয়ায় এ ভাষায় বানান ও উচ্চারণগত অভিন্নতা সত্ত্বে ও একই শব্দ বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে। উপরিউক্ত প্রশ্নে ‘মুখ’ দ্বারা এখানে স্পষ্টতই শক্তি বুঝানো হয়েছে।
৯. ‘পদ’ বলতে কি বোঝায়?
[ বিসিএস ২০তম ]
সাধারণ অর্থে বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ। কিন্তু বাক্যে ব্যবহার হওয়া মাত্র শব্দসমূহে বিভক্তি যুক্ত হয়। যে শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেটিতে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই ব্যাকরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকেই পদ বলে।
১০. ধাতুর পর কোন প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য বুঝায় ?
[ বিসিএস ১৮তম ]
| প্রত্যয় | বর্ণনা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| আন | বিশেষ্য গঠনে প্রযোজক ধাতু ও কর্মবাচ্যের ধাতুর পরে 'আন/আনো' প্রত্যয় যুক্ত হয়। | চাল + আন = চালান |
| আই | ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয়। | সিল + আই = সিলাই |
| আল | 'আল' প্রত্যয় যুক্ত পদ। | রাখ্ + আল = রাখাল; চণ্ড + আল = চণ্ডাল |
| আও | ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয়। | পাকড় + আও = পাকড়াও |
যেসব বাক্য অন্য পদের সাথে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। উচ্ছ্বাস প্রকাশে : মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ। যেসব অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে। যেমন- নূপুরের আওয়াজ – রুম ঝুম, বাতাসের গতি – শন শন।
১২. ‘ইচ্ছা’ বিশেষ্যের বিশেষণ নির্দেশ করুন।
[ বিসিএস ১৫তম ]
‘ইচ্ছা’ বিশেষ্যের বিশেষণ হলো ঐচ্ছিক।
১৩. কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
[ বিসিএস ১৫তম ]
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম যদি একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হয় তবে সেই বাক্যের কর্মকে সমধাতুজ কর্ম বলে। এই বাক্যে ‘চাল’ কর্ম এবং চেলেছে ‘ক্রিয়াপদ’ একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
১৪. কোনটি বিশেষণ বাচক শব্দ?
[ বিসিএস ১৪তম ]
জীবন-বিশেষ্য, জীবিকা-বিশেষ্য, জীবনী- বিশেষণ, জীবাণু- বিশেষ্য।
১৫. জাতিবাচক বিশেষ্যের দৃষ্টান্ত–
[ বিসিএস ১৪তম ]
নদী- জাতিবাচক বিশেষ্য; সমাজ, মিছিল- সমষ্টিবাচক বিশেষ্য; পানি- বস্তুবাচক বিশেষ্য।
১৬. কোন বাক্যে সমুচ্চয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
[ বিসিএস ১৩তম ]
ধন অপেক্ষা মান বড় (অনুসর্গ অব্যয়)। তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না (অনুসর্গ অব্যয়)। ঢং ঢং ঘণ্টা বাজে (অনুকার অব্যয়)। লেখা পড়া কর, নতুবা ফেল করবে (সমুচ্চয়ী অব্যয়)। যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সাথে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। যেমন: লেখাপড়া কর, নতুবা ফেল করবে।
১৭. কোন বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
[ বিসিএস ১৩তম ]
ক ও গ তে খাচ্ছি ও খাই ক্রিয়াপদ দিয়ে বাক্যের অর্থের পরিসমাপ্তি ঘটেছে, তাই এরা সমাপিকা ক্রিয়া।
১৮. কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার করা হয়েছে?
[ বিসিএস ১৩তম ]
ওরা কি করে?- নাম পুরুষ (তুচ্ছার্থে)। আপনি আসবেন?- মধ্যম পুরুষ (সম্মানার্থে)। আমরা যাচ্ছি- উত্তম পুরুষ। তোরা খাসনে- মধ্যম পুরুষ (তুচ্ছার্থে)।
১৯. বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে বলে–
[ বিসিএস ১১তম ]
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে। বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি শব্দকেও পদ বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নাম পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। যে পদ দ্বারা কোনো কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।