আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গের ফলে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিলো?

[ বিসিএস ৪২তম ]

ক. পূর্ববঙ্গ
খ. পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা
গ. পূর্ব্বঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ
ঘ. পূর্ববঙ্গ ও আসাম
উত্তরঃ পূর্ববঙ্গ ও আসাম
ব্যাখ্যাঃ

বঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের আদেশে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ তৈরি করা হয়, যার রাজধানী ছিল ঢাকা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত হয় অন্য প্রদেশটি।

বঙ্গভঙ্গের কারণ:

বঙ্গভঙ্গের পেছনে একাধিক কারণ ছিল, যার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:

  • প্রশাসনিক অসুবিধা: বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি ছিল বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত। বিহার, উড়িষ্যা এবং ছোটনাগপুরও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এত বড় একটি অঞ্চলের প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশ সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। লর্ড কার্জন এই প্রশাসনিক অসুবিধা দূর করতে বাংলাকে ভাগ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
  • রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে দুর্বল করাই ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিল, বাংলা ভাগ করলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দুর্বল হয়ে যাবে।
  • অর্থনৈতিক বৈষম্য: পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা কেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। কিন্তু পূর্ব বাংলা ছিল কৃষিপ্রধান এবং অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চেয়েছিল, যদিও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
  • সাম্প্রদায়িক বিভাজন: যদিও সরকারিভাবে প্রশাসনিক কারণ দেখানো হয়েছিল, তবে বঙ্গভঙ্গের পেছনে একটি বড় কারণ ছিল হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় নতুন প্রদেশে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নতি আশা করেছিল, যা হিন্দু জমিদার ও এলিট শ্রেণী ভালোভাবে নেয়নি।

বঙ্গভঙ্গের ফলাফল:

বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলে, যা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন বা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের প্রধান দিকগুলো ছিল:

  • ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি।
  • বিভিন্ন বিপ্লবী দলের উত্থান।
  • জাতীয়তাবাদী চেতনার বিস্তার।
  • হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর হওয়া।

অবশেষে, তীব্র আন্দোলনের মুখে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে এই রদের ঘোষণা করা হয় এবং ১৯১২ সালে এটি কার্যকর হয়।

বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গতিপথকে প্রভাবিত করেছিল।