আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ পলাশির যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?

[ বিসিএস ৩৯তম ]

ক. জুন ২২, ১৭৫৭
খ. জুন ২৪, ১৭৫৭
গ. জুন ২৩, ১৭৫৭
ঘ. জুন ২৫, ১৭৫৭
উত্তরঃ জুন ২৩, ১৭৫৭
ব্যাখ্যাঃ

পলাশির যুদ্ধ (Battle of Plassey) ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা বাংলার স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে।

সংঘটিত হওয়ার তারিখ: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন।

স্থান: ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী নামক স্থানে (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায়)।

মূল পক্ষসমূহ:

  • একদিকে: বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  • অন্যদিকে: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, যার নেতৃত্বে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ

যুদ্ধের কারণ:

  • রাজনৈতিক কারণ: নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার, নবাবের অনুমতি ছাড়া ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সংস্কার, এবং নবাবের শত্রুদের আশ্রয় প্রদান ইত্যাদি বিষয়গুলো বিরোধের জন্ম দেয়।
  • অর্থনৈতিক কারণ: ব্রিটিশদের বাংলার ধনসম্পদ লুণ্ঠনের আকাঙ্ক্ষা এবং নবাবের রাজস্ব আদায়ের উপর তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।
  • ষড়যন্ত্র: নবাবের সভাসদদের (যেমন মীরজাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ঘসেটি বেগম) ব্রিটিশদের সাথে গোপন আঁতাত এবং নবাবের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা।

যুদ্ধের ঘটনা: নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে পলাশীর প্রান্তরে ব্রিটিশদের মুখোমুখি হন। কিন্তু মীরজাফর, যিনি নবাবের প্রধান সেনাপতি ছিলেন, যুদ্ধের ময়দানে নিষ্ক্রিয় থাকেন এবং তার বিশাল বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকেন। ফলে নবাবের অল্প সংখ্যক অনুগত বাহিনী, যেমন মীর মদন এবং মোহনলালের নেতৃত্বে যারা যুদ্ধ করছিলেন, তারা ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। মীর মদন এই যুদ্ধে শহীদ হন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরবর্তীতে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যান, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের হাতে ধরা পড়ে নির্মমভাবে নিহত হন।

ফলাফল ও তাৎপর্য:

  • নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন: পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান হয়।
  • ব্রিটিশ শাসনের সূচনা: এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশরা মীরজাফরকে পুতুল নবাব হিসেবে সিংহাসনে বসায় এবং তার মাধ্যমে বাংলার সম্পদ শোষণ করতে থাকে।
  • ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা: পলাশির যুদ্ধের বিজয়ের ফলে ব্রিটিশরা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করে এবং প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
  • অর্থনৈতিক শোষণ: ব্রিটিশরা বাংলার অফুরন্ত সম্পদ শোষণ করতে শুরু করে, যা বাংলার অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণ হয় এবং পরবর্তীতে উপমহাদেশে শিল্প বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পলাশির যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক সংঘাত ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট।