প্রশ্নঃ কে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করেন?
[ বিসিএস ১৫তম ]
আওরঙ্গজেব দিল্লির সম্রাট হওয়ার পর ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে মুর্শিদকুলী খাঁকে ঢাকার দেওয়ান করে পাঠান। ১৭০১ সালে মুর্শিদকুলী খাঁ তার দপ্তর ঢাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মকসুদাবাদে স্থানান্তর করেন। কর্মদ্ক্ষতার গুণে তিনি নায়েব সুবেদার এবং পরে ১৭১৭ সালে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার সুবাদার পদে উন্নীত হন। তার নাম অনুসারে মকসুদাবাদের নাম হয় মুর্শিদাবাদ।
Related MCQ
প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গের কারণে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
বঙ্গভঙ্গের কারণে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল।
এই প্রদেশে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- ঢাকা বিভাগ
- চট্টগ্রাম বিভাগ
- রাজশাহী বিভাগ
- আসাম
এই নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকা।
প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গের ফলে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিলো?
[ বিসিএস ৪২তম ]
বঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের আদেশে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ তৈরি করা হয়, যার রাজধানী ছিল ঢাকা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত হয় অন্য প্রদেশটি।
বঙ্গভঙ্গের কারণ:
বঙ্গভঙ্গের পেছনে একাধিক কারণ ছিল, যার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:
- প্রশাসনিক অসুবিধা: বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি ছিল বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত। বিহার, উড়িষ্যা এবং ছোটনাগপুরও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এত বড় একটি অঞ্চলের প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশ সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। লর্ড কার্জন এই প্রশাসনিক অসুবিধা দূর করতে বাংলাকে ভাগ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে দুর্বল করাই ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিল, বাংলা ভাগ করলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দুর্বল হয়ে যাবে।
- অর্থনৈতিক বৈষম্য: পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা কেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। কিন্তু পূর্ব বাংলা ছিল কৃষিপ্রধান এবং অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চেয়েছিল, যদিও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
- সাম্প্রদায়িক বিভাজন: যদিও সরকারিভাবে প্রশাসনিক কারণ দেখানো হয়েছিল, তবে বঙ্গভঙ্গের পেছনে একটি বড় কারণ ছিল হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় নতুন প্রদেশে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নতি আশা করেছিল, যা হিন্দু জমিদার ও এলিট শ্রেণী ভালোভাবে নেয়নি।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল:
বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলে, যা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন বা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের প্রধান দিকগুলো ছিল:
- ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি।
- বিভিন্ন বিপ্লবী দলের উত্থান।
- জাতীয়তাবাদী চেতনার বিস্তার।
- হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর হওয়া।
অবশেষে, তীব্র আন্দোলনের মুখে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে এই রদের ঘোষণা করা হয় এবং ১৯১২ সালে এটি কার্যকর হয়।
বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গতিপথকে প্রভাবিত করেছিল।
প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গ রদ কে ঘোষণা করেন?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বঙ্গভঙ্গ রদ হয় ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের শাসনামলে বাংলাকে ভাগ করে দুটি নতুন প্রদেশ তৈরি করা হয়েছিল: পূর্ব বাংলা ও আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার। এই বিভাজন "বঙ্গভঙ্গ" নামে পরিচিত ছিল।
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের প্রধান কারণ ছিল:
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার কথা বললেও, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করা এবং হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সৃষ্টি করা।
- সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ঐক্য: বাঙালিরা তাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের উপর আঘাত হিসেবে এই বিভাজনকে দেখেছিল।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা তীব্র আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং বিপ্লবী কার্যকলাপের ফলে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা করা হয় এবং ১৯১২ সালের ১লা এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর হয়।
বঙ্গভঙ্গ রদ বাঙালি জাতির একটি বড় রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লীতে ১৯১১ সালে স্থানান্তরিত করার ঘোষণা করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থানান্তর ১৯১২ সালে সম্পন্ন হয়েছিল।
প্রশ্নঃ ‘বঙ্গভঙ্গ’ কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
[ বিসিএস ৪০তম ]
বঙ্গভঙ্গ বলতে ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করার পরিকল্পনাকে বোঝায়। এর মাধ্যমে বাংলা প্রদেশকে দুটি নতুন প্রদেশে ভাগ করা হয়:
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম: ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত, যার রাজধানী ছিল ঢাকা। এখানে মুসলিম জনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।
- পশ্চিমবঙ্গ: বিহার, ওড়িশা এবং অবশিষ্ট বাংলা অংশ নিয়ে গঠিত, যার রাজধানী ছিল কলকাতা। এখানে হিন্দু জনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।
বঙ্গভঙ্গের কারণ:
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভঙ্গের প্রধান কারণ হিসেবে প্রশাসনিক অসুবিধা ও প্রদেশের বিশাল আয়তনের কথা বলা হয়েছিল। তবে এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল বলে মনে করা হয়। ব্রিটিশরা মনে করত, বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের আন্দোলন দুর্বল করতে এবং হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারলে তাদের শাসন আরও সুদৃঢ় হবে।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল:
বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হিন্দু সম্প্রদায় এটিকে তাদের জাতীয় ঐক্যের উপর আঘাত হিসেবে দেখে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে, যা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনে রাখি বন্ধন, স্বদেশী আন্দোলন এবং বিপ্লবী কার্যকলাপের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
অন্যদিকে, কিছু মুসলিম নেতা বঙ্গভঙ্গকে পূর্ব বাংলার মুসলিমদের উন্নতি ও বিকাশের সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন এবং প্রাথমিকভাবে এটিকে সমর্থন করেছিলেন।
তবে, তীব্র এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন এবং ১৯১২ সালে এটি কার্যকর হয়।
বঙ্গভঙ্গ এবং এর পরবর্তী আন্দোলন ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি একদিকে যেমন ব্রিটিশবিরোধী চেতনাকে আরও শক্তিশালী করেছিল, তেমনি হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদের বীজও বপন করেছিল, যার প্রভাব পরবর্তীকালে ভারতের রাজনীতিতে দেখা যায়।
প্রশ্নঃ ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসছিলেন –
[ বিসিএস ৪০তম ]
পর্তুগিজরা ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে বাংলায় আগমন করে। তাদের বাংলায় আসার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য করা।
বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন:
- প্রথম আগমন: ধারণা করা হয়, ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজরা প্রথম বাংলায় আসে। তবে, তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম মূলত ১৫৮০ সালের দিকে শুরু হয়।
- বাণিজ্য কেন্দ্র: তারা হুগলি, চট্টগ্রাম ও সপ্তগ্রামে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। হুগলি তাদের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়।
- বাণিজ্য: পর্তুগিজরা বাংলা থেকে প্রধানত চাল, বস্ত্র ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য সংগ্রহ করত এবং ইউরোপ থেকে বিভিন্ন পণ্য এখানে বিক্রি করত।
- অন্যান্য কার্যক্রম: ব্যবসার পাশাপাশি তারা খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার এবং কিছু ক্ষেত্রে জলদস্যুতা ও দাস ব্যবসার সাথেও জড়িত ছিল।
পর্তুগিজদের প্রভাব:
- ভাষায় প্রভাব: বাংলা ভাষায় কিছু পর্তুগিজ শব্দ আজও প্রচলিত আছে, যেমন - আলমারি, আনারস, বালতি, বোতাম, কামিজ, জানালা, পেঁপে, পেরেক, ফিতা, সাবান ইত্যাদি।
- কৃষিতে: তারা কিছু নতুন ফল ও সবজির চাষ introduction করে, যেমন - পেঁপে, আনারস, মিষ্টি আলু ইত্যাদি।
- ধর্ম: তারা বাংলায় খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারে ভূমিকা রাখে এবং কিছু গির্জা স্থাপন করে।
তবে, তাদের জলদস্যুতা ও অন্যান্য অপকর্মের জন্য স্থানীয় শাসকদের সাথে তাদের সংঘাতও হয়। ১৬৩২ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আদেশে কাসিম খান হুগলিতে পর্তুগিজদের ঘাঁটি আক্রমণ করে এবং তাদের বিতাড়িত করে। এরপর বাংলায় তাদের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসে।
প্রশ্নঃ পলাশির যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
পলাশির যুদ্ধ (Battle of Plassey) ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা বাংলার স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে।
সংঘটিত হওয়ার তারিখ: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন।
স্থান: ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী নামক স্থানে (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায়)।
মূল পক্ষসমূহ:
- একদিকে: বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
- অন্যদিকে: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, যার নেতৃত্বে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ।
যুদ্ধের কারণ:
- রাজনৈতিক কারণ: নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার, নবাবের অনুমতি ছাড়া ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সংস্কার, এবং নবাবের শত্রুদের আশ্রয় প্রদান ইত্যাদি বিষয়গুলো বিরোধের জন্ম দেয়।
- অর্থনৈতিক কারণ: ব্রিটিশদের বাংলার ধনসম্পদ লুণ্ঠনের আকাঙ্ক্ষা এবং নবাবের রাজস্ব আদায়ের উপর তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।
- ষড়যন্ত্র: নবাবের সভাসদদের (যেমন মীরজাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ঘসেটি বেগম) ব্রিটিশদের সাথে গোপন আঁতাত এবং নবাবের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা।
যুদ্ধের ঘটনা: নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে পলাশীর প্রান্তরে ব্রিটিশদের মুখোমুখি হন। কিন্তু মীরজাফর, যিনি নবাবের প্রধান সেনাপতি ছিলেন, যুদ্ধের ময়দানে নিষ্ক্রিয় থাকেন এবং তার বিশাল বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকেন। ফলে নবাবের অল্প সংখ্যক অনুগত বাহিনী, যেমন মীর মদন এবং মোহনলালের নেতৃত্বে যারা যুদ্ধ করছিলেন, তারা ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। মীর মদন এই যুদ্ধে শহীদ হন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরবর্তীতে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যান, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের হাতে ধরা পড়ে নির্মমভাবে নিহত হন।
ফলাফল ও তাৎপর্য:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন: পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান হয়।
- ব্রিটিশ শাসনের সূচনা: এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশরা মীরজাফরকে পুতুল নবাব হিসেবে সিংহাসনে বসায় এবং তার মাধ্যমে বাংলার সম্পদ শোষণ করতে থাকে।
- ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা: পলাশির যুদ্ধের বিজয়ের ফলে ব্রিটিশরা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করে এবং প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
- অর্থনৈতিক শোষণ: ব্রিটিশরা বাংলার অফুরন্ত সম্পদ শোষণ করতে শুরু করে, যা বাংলার অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণ হয় এবং পরবর্তীতে উপমহাদেশে শিল্প বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পলাশির যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক সংঘাত ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট।
প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কোন সালে?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
বঙ্গভঙ্গ রদ বলতে ১৯০৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত সরকার কর্তৃক বাংলা প্রদেশকে প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে দ্বিখণ্ডিত করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বাতিল করাকে বোঝায়।
বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal):
- তারিখ: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর।
- কর্তনকারী: ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন।
- কারণ: ব্রিটিশদের দাবি ছিল প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এই বিভাজন, কারণ বাংলা প্রদেশ ছিল বিশাল এবং প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন।
- বিভাজন: বাংলা প্রদেশকে দুটি নতুন প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছিল:
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম: যার রাজধানী ছিল ঢাকা। এই প্রদেশের অধিকাংশ অধিবাসী ছিল মুসলমান।
- পশ্চিমবঙ্গ: যার রাজধানী ছিল কলকাতা। এই প্রদেশের অধিকাংশ অধিবাসী ছিল হিন্দু।
- উদ্দেশ্য: সমালোচকদের মতে, ব্রিটিশদের মূল উদ্দেশ্য ছিল 'বিভক্ত করো এবং শাসন করো' (Divide and Rule) নীতি অনুসরণ করে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন: বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় থেকে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। এর প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলন শুরু হয়, যেখানে বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়। এই আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে এবং ব্রিটিশ সরকারের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।
বঙ্গভঙ্গ রদ (Annulment of Partition of Bengal):
- তারিখ: ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর।
- ঘোষণা: ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং ভারত সচিব লর্ড হার্ডিঞ্জ দিল্লিতে একটি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- কারণ: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী তীব্র আন্দোলন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্রিটিশ সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
- ফলাফল:
- বাংলা আবার একত্রিত হয়, তবে এটি একটি নতুন প্রশাসনিক বিন্যাসে।
- বিহার ও উড়িষ্যাকে বাংলা থেকে পৃথক করে নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়।
- ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।
তাৎপর্য: বঙ্গভঙ্গ রদ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একটি বড় বিজয় ছিল। এটি প্রমাণ করেছিল যে, ঐক্যবদ্ধ জনমত এবং আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশদের সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করা সম্ভব। তবে, বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও এর ফলে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক বিভেদ এবং অবিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে দূর হয়নি, যা পরবর্তীতে ভারত ভাগের ক্ষেত্রেও কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল।
প্রশ্নঃ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনকালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন–
[ বিসিএস ৩৭তম ]
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনকালে (১৯০৫ সালে) ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন: লর্ড কার্জন (Lord Curzon)
তিনি ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়েই বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal) হয়, যার ফলস্বরূপ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়েছিল।
প্রশ্নঃ বাংলার ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’-এর সময় কাল:
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলার ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ ছিল ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৭৬ সাল) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে সংঘটিত এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। এটি বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সময়কাল:
- বাংলা সন: ১১৭৬ বঙ্গাব্দ।
- ইংরেজি সন: ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ।
কারণসমূহ:
- প্রাকৃতিক কারণ: ১৭৬৮-১৭৬৯ সালের দিকে অনাবৃষ্টি এবং খরা দেখা যায়, যার ফলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণমূলক নীতি:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিল্লির বাদশাহ শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে। এর ফলে তারা রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা পায়।
- কোম্পানি অধিক মুনাফার লোভে কৃষকদের উপর উচ্চ হারে রাজস্ব আরোপ করে এবং তা কঠোরভাবে আদায় করত, এমনকি ফসলহানির সময়ও।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার কারণে নবাবের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকলেও রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা ছিল কোম্পানির হাতে। এর ফলে জনগণের দুর্দশা চরম আকার ধারণ করে।
- কোম্পানি খাদ্যশস্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং উচ্চ মূল্যে সেগুলো বিক্রি করে।
- খাদ্যশস্যের পরিবর্তে অর্থকরী ফসল (যেমন: নীল, আফিম) চাষে কৃষকদের বাধ্য করা হয়, যা খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
প্রভাব:
- ব্যাপক প্রাণহানি: এই দুর্ভিক্ষে বাংলা ও বিহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি মানুষ অনাহারে বা অপুষ্টিজনিত রোগে মারা যায়। এটি বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটায়।
- অর্থনৈতিক বিপর্যয়: কৃষি উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, বহু জমি অনাবাদী হয়ে পড়ে, এবং গ্রামগুলো জনশূন্য হয়ে যায়। বাংলার অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
- সামাজিক বিশৃঙ্খলা: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, দস্যুতা বৃদ্ধি পায় এবং সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটে।
- দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: দুর্ভিক্ষ বাংলার জনসংখ্যা, অর্থনীতি, শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
এই মন্বন্তর ব্রিটিশ শাসনের শোষণের একটি জঘন্য উদাহরণ হয়ে আছে।
লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৮৫৮ সালে ভারত শাসন আইন পাসের পর তিনিই ভারতের প্রথম ভাইসরয় হন।
তাঁর আমলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো:
- ১৮৬১ সালের ভারতীয় পুলিশ আইন পাসের মাধ্যমে পুলিশ ব্যবস্থা চালু করা। এটি উপমহাদেশে আধুনিক পুলিশ প্রশাসনের সূচনা করে।
- তিনি পোর্টফোলিও ব্যবস্থা (মন্ত্রিপরিষদ ব্যবস্থায় বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব মন্ত্রীদের মধ্যে বন্টন) চালু করেন, যা ভাইসরয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদে প্রতিটি সদস্যকে একটি নির্দিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব দিত।
- কাগজী মুদ্রা চালু করেন (১৮৬১)।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয় তাঁর আমলে।
- ভারতীয় দণ্ডবিধি (Indian Penal Code - ১৮৬০) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Procedure Code - ১৮৬১) তাঁর সময়ে কার্যকর করা হয়।
- সত্ত্ববিলোপ নীতি (Doctrine of Lapse) প্রত্যাহার করেন।
- আয়কর প্রবর্তন করেন (পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে)।
এই সংস্কারগুলোর মধ্যে, যদি একটি একক ব্যবস্থার কথা বলা হয় যা তিনি 'প্রথম' চালু করেন, তবে পুলিশ ব্যবস্থা (১৮৬১ সালে ভারতীয় পুলিশ আইন পাসের মাধ্যমে) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ ছিল।
প্রশ্নঃ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় কত সনে?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস।
এটি ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যায় প্রবর্তন করা হয়। এর মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার জমিদারদের মধ্যে জমির রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত একটি স্থায়ী চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। এই ব্যবস্থার আওতায় জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিকানা লাভ করেন এবং সরকারকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব প্রদান করতে বাধ্য থাকেন।
প্রশ্নঃ ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
[ বিসিএস ২৯তম ]
লর্ড মাউন্টব্যাটেন (মেয়াদকাল ১৯৪৫-১৯৪৭) ভারতবর্ষকে ভেঙে ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭ পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ ভারত নামে দুটি রাষ্ট্র গঠন করেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর তার ভাইসরয় উপাধি বিলুপ্ত হয়ে গভর্নর জেনারেল উপাধিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে তিনি ভারতের শেষ ভাইসরয় ও প্রথম গভর্নর জেনারেলে পরিণত হন।
প্রশ্নঃ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয়-
[ বিসিএস ২৬তম ]
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার পর প্রশাসন চালাতে এ দেশী ভাষাজ্ঞান, সাহিত্য, সমাজ, ইতিহাস ইত্যাদি জানার প্রয়োজন অনুভব করে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ আগস্ট ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। কোম্পানির তরুণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দানই ছিল এর প্রধান কাজ। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু করা হয়।
১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজ পাদ্রি মানো এল দা আসসুম্পসাঁও পর্তুগিজ ভাষায় একটি বাংলা ব্যাকরণ ও একটি পর্তুগিজ বাংলা শব্দকোষ প্রণয়ন করেন, যা ছিল বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ও শব্দকোষ। পরবর্তীতে ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড নামক ইংরেজ পণ্ডিত ইংরেজি ভাষায় ‘A Grammar of the Bengal Language’ নামে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। এ গ্রন্থ মুদ্রণে সর্বপ্রথম ধাতুতে খোদাই বাংলা হরফ ব্যবহৃত হয়। গ্রন্থটির আংশিক বাংলা হরফে মুদ্রণ করা হয়েছিল।
প্রশ্নঃ বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন–
[ বিসিএস ২৬তম ]
কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর তার সিংহাসনে আরোহণের সময় থেকে কার্যকর হয়। হিজরি চান্দ্রাসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। আর বাংলা নববর্ষ পালন শুরু করেন সম্রাট আকবরই।
প্রশ্নঃ বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
[ বিসিএস ২২তম ]
লর্ড কর্নওয়ালিস । ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ তিনি 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' প্রথা চালুর মাধ্যমে সূর্যাস্ত আইন বলবৎ করেন। মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশের প্রধান সেনাপতি ছিলেন
প্রশ্নঃ বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে কারা প্রথম এসেছিল?
[ বিসিএস ১৬তম ]
পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে পর্তুগিজ দেশীয় নাবিক ভস্কো-দা-গামা আফ্রিকার পশ্চিম পূর্ব উপকূল ঘুরে বরাবর সমুদ্রপথে ভারতবর্ষে আসার পথ আবিষ্কার করেন। ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজ বণিকগণ উড়িষ্যার অন্তর্গত পিপলি নামক স্থানে সর্বপ্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে । উল্লেখ্য, ১৬০২ সালে ওলন্দাজরা, ১৬০০ সালে ইংরেজরা এবং ১৬৬৪ সালে ফরাসিরা বাংলায় আগমন করেন।
প্রশ্নঃ কোন নগরীতে মুঘল আমলে সুবা বাংলার রাজধানী ছিল?
[ বিসিএস ১৬তম ]
সম্রাট জাহাঙ্গীর সিংহাসনে আরোহণ করে ইসলাম খান চিশতীকে বাংলা অধিকারে প্রেরণ করেন। ইসলাম খান ১৬১০ সালে মুসা খানকে পরাজিত করে বাংলা অধিকার করেন এবং ঢাকার নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীর নগর’। তিনি এ সময় রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন। উল্লেখ্য, ঢাকাকে ১৬১০ সালের পর ১৯০৫ সালে দ্বিতীয় বার, ১৯৪৭ সালে তৃতীয় বার ও ১৯৭১ সালে চতুর্থ বার রাজধানী করা হয়।
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে শেষ গভর্নর এবং ১৭৭৪ সালে প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন। লর্ড মিন্টো ১৮০৭ সালে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। লর্ড কার্জন ১৮৯৯ সালে ভাইসরয় নিযুক্ত হন। তিনি ১৯০৫ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করলে নবগঠিত পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন মি. ব্রামফিল্ড ফুলার।
প্রশ্নঃ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ কত সালে ঘটে?
[ বিসিএস ১৪তম ]
ক্লাইভের দ্বৈতশাসনব্যবস্থার কুফল ও বাংলা ১১৭৬ সালে (ইংরেজি ১৭৭০) দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষের ফলে এক মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। এ বিপর্যয়ে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোক প্রাণ হারায় এবং অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সম্পূরূপে ভেঙে পড়ে। ’৭৬ সালের এই ভয়াবহ অবস্থাই ইতিহাসে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত।
প্রশ্নঃ পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন কবে প্রণীত হয়?
[ বিসিএস ১৩তম ]
পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রণীত হয়েছিল এবং ১৯৫১ সালের ১৬ মে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে আইনের মর্যাদা লাভ করে।
প্রশ্নঃ বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোরস্ত প্রথা প্রবর্তন করা কোন সালে?
[ বিসিএস ১০তম ]
লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৮৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭৯৩ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলায় ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্নর জেনারেল ছিলেন। তিনি ছিলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার রূপকার। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ তিনি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রথা চালুর মাধ্যমে সূর্যাস্ত আইন বলবৎ করেন।
প্রশ্নঃ কে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৭-০১-২০১১ ]
প্রশ্নঃ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কোন সালে প্রবর্তিত হয়?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৭-০১-২০১১ ]
প্রশ্নঃ সরকারী ভাষা হিসেবে এদেশে ইংরেজির ব্যবহার শুরু হয় কোন সন থেকে?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৭-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ কোন মোগল সম্রাট 'জিজিয়া কর' রহিত করেন?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৭-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন ----
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৬-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ সতীদাহ প্রথা রহিতকরণ আইন পাস করেন কে?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ২০-০৫-২০০১ | প্রা. বি. স. শি. নি. ২৬-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের ফলে উপমহাদেশে কোন শিল্পের ধ্বংস হয়?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ২০-০৫-২০০১ ]