প্রশ্নঃ ঢাকা পৌরসভা কোন সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
[ বিসিএস ১৬তম ]
মুঘল আমলে কোতোয়ালের এবং ব্রিটিশ আমলে পৌরসভার ওপর ঢাকা শহর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ভার ন্যস্ত হয়। এ লক্ষ্যে ১ আগস্ট, ১৮৬৪ সালে ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা পৌরসভাকে ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ সালে ‘পৌর কর্পোরেশন’ এবং ১৯৯০ সালে ‘সিটি কর্পোরেশন’ নামকরণ করা হয়।
Related MCQ
প্রশ্নঃ বাংলার প্রাচীন জনপথ হরিকেল-এর বর্তমান নাম কী?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
হরিকেল ছিল প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এর সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও, অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন যে, এটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম বিভাগ (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) নিয়ে গঠিত ছিল। এছাড়াও, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশও এই জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- অবস্থান: এটি ছিল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ, যার অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে। চৈনিক পরিব্রাজক ই-ৎসিঙ সপ্তম শতকে এর অবস্থানকে 'পূর্বভারতের পূর্বসীমা'য় নির্দেশ করেন।
- রাজধানী: ধারণা করা হয়, হরিকেলের রাজধানী ছিল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট)।
- সময়কাল: সপ্তম ও অষ্টম শতক থেকে দশম ও একাদশ শতক পর্যন্ত হরিকেল একটি স্বতন্ত্র রাজ্য হিসেবে টিকে ছিল।
- প্রমাণ: চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ অঞ্চলে আবিষ্কৃত কান্তিদেবের অসম্পূর্ণ তাম্রলিপি এবং বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত হরিকেল রাজ্যের রৌপ্যমুদ্রা এর অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে। এই মুদ্রাগুলোর একদিকে ত্রিশূল এবং অন্যদিকে শিবের ষাঁড় নন্দীর ছবি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- সাহিত্যিক উল্লেখ: বিভিন্ন প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ ও চৈনিক পরিব্রাজকদের বর্ণনায় হরিকেলের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন, 'মঞ্জুশ্রীমূলকল্প' গ্রন্থে হরিকেল, বঙ্গ এবং সমতটকে পৃথক পৃথক অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংক্ষেপে, হরিকেল ছিল প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ জনপদ, যা মূলত বর্তমান সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
The Foreshadowing of Bangladesh গবেষণা গ্রন্থটির লেখক অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই গ্রন্থে ১৯০৬ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে বাংলার মুসলিম রাজনীতি এবং বেঙ্গল মুসলিম লীগের কার্যক্রম বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসনে জয়লাভ করেছিল?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩২টি আসনে জয়লাভ করেছিল।
মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। পরবর্তীতে উপনির্বাচনে আরও ৯টি আসনে জয়লাভ করে তাদের মোট আসন সংখ্যা ২৩২-এ পৌঁছেছিল।
প্রশ্নঃ ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলন শুরু হয়—
[ বিসিএস ৪৫তম ]
১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট মহাত্মা গান্ধী বোম্বাইয়ে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের সূচনা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানো এবং ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট এবং ভারতীয়দের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাবের ফলে। গান্ধীজির "করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে" (Do or Die) স্লোগান এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছিল।
‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। যদিও ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে এই আন্দোলন দমন করে, তবুও এটি প্রমাণ করে যে ভারতীয়রা আর ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে রাজি নয়। এই আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি ব্রিটিশদের উপলব্ধি করতে বাধ্য করে যে ভারতকে আর বেশি দিন পরাধীন করে রাখা সম্ভব নয়।
প্রশ্নঃ ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়—
[ বিসিএস ৪৫তম ]
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের সময় এটি গঠিত হয়েছিল এবং এর সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। এই কমিটি ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও র্যালি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ঐতিহাসিক ‘ছয়-দফা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৬৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান) বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, ১৯৬৬ সালের ২৩শে মার্চ ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এই ছয়-দফা দলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে গৃহীত হয়।
‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে (হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি) 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন এই দলের প্রথম সভাপতি এবং শামসুল হক ছিলেন প্রথম সাধারণ সম্পাদক।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর ২ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরবর্তীতে মেজর এ.টি.এম. হায়দার। ২ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন এলাকা ছিল ঢাকা, কুমিল্লা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ।
প্রশ্নঃ কোথায় ঐতিহাসিক ট্রয় নগর অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
ঐতিহাসিক ট্রয় নগরী বর্তমানে তুরস্কে অবস্থিত।
প্রাচীনকালে এটি আনাতোলিয়া নামে পরিচিত ছিল, যা বর্তমানে তুরস্কের একটি অংশ। ট্রয় নগরীর ধ্বংসাবশেষ তুরস্কের উত্তর-পশ্চিম অংশে, কানাক্কালে প্রদেশের হিসারলিক নামক স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ কোনটি প্রাচীন সভ্যতা?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তর হলো খঃ মেসোপটেমিয়া।
প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে মেসোপটেমীয় সভ্যতা প্রাচীনতম। এরপরে রয়েছে সিন্ধু সভ্যতা, তারপর গ্রিক সভ্যতা এবং সবশেষে রোমান সভ্যতা।
মেসোপটেমিয়া খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দ থেকে শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল এবং এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি আধুনিক ইরাক এবং এর কাছাকাছি অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
প্রশ্নঃ UNESCO কত তারিখে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
UNESCO ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তারিখে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সঠিক উত্তর হলো গঃ বঙ্গ।
বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাচীন বঙ্গ জনপদের একটি অংশ এই অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মুক্তিযােদ্ধাকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৭৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই খেতাব প্রদান করা হয়।
প্রশ্নঃ মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
অন্যান্য পদাধিকারীগণ ছিলেন:
- তাজউদ্দিন আহমেদ: প্রধানমন্ত্রী
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি)
- এম মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী
উত্তর: এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
সঠিক উত্তর হল ঘঃ মুসলিম।
মুসলিম শাসকদের আমলেই বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সুলতানি আমলে এই নামটি ব্যাপকতা লাভ করে।
প্রশ্নঃ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হল খঃ মুর্শিদ কুলি খান।
মুর্শিদ কুলি খান ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। তিনি ১৭১৭ সাল থেকে ১৭২৭ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুঘল সম্রাটের অধীন ছিলেন, কার্যত তিনি স্বাধীনভাবেই বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা পরিচালনা করতেন।
প্রশ্নঃ চীনদেশের কোন ভ্রমণকারী গুপ্তযুগে বাংলাদেশে আগমন করেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
চীনদেশের যে ভ্রমণকারী গুপ্তযুগে বাংলাদেশে আগমন করেন তিনি হলেন ফা-হিয়েন।
তিনি আনুমানিক ৪০০ খ্রিস্টাব্দে ভারতে আসেন এবং বেশ কিছু বছর এখানে অবস্থান করেন। এই সময় গুপ্ত সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসন চলছিল। ফা-হিয়েন মূলত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের সন্ধানে ভারতে এসেছিলেন এবং বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থান পরিভ্রমণ করেন। তিনি তার ভ্রমণকাহিনীতে তৎকালীন ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির মূল্যবান বিবরণ রেখে গেছেন। যদিও তার বর্ণনায় সরাসরি "বাংলাদেশ" নামটি পাওয়া যায় না (কারণ তখন এই অঞ্চলের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সংজ্ঞা ছিল না), তবে তিনি পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চল ভ্রমণ করেছিলেন যা পরবর্তীকালে বাংলার অংশ হয়েছিল।
প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গের কারণে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
বঙ্গভঙ্গের কারণে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিল।
এই প্রদেশে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- ঢাকা বিভাগ
- চট্টগ্রাম বিভাগ
- রাজশাহী বিভাগ
- আসাম
এই নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকা।
প্রশ্নঃ ‘তমদ্দুন মজলিশ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ‘তমদ্দুন মজলিশ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
এটি ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনটি মূলত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রথম সোচ্চার হয়েছিল এবং ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্নঃ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি কে রচনা করেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি রচনা করেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
এই গানটি ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে রচিত একটি কালজয়ী গান। এর সুরকার ছিলেন শহীদ আলতাফ মাহমুদ।
সিয়েরালিওন বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
২০০২ সালে, ভাষা আন্দোলনের সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে, এই পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি বাংলা ভাষাকে তাদের সরকারি ভাষাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ঘোষণা করে। সিয়েরালিওনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হয়েছিল।
সঠিক উত্তর হল ২৩ মার্চ ১৯৬৬।
যদিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে প্রথম ছয় দফা উত্থাপন করেন, তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায়। এই সভায় ছয় দফা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় এবং এটি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্নঃ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার গ্রাম’ – জাতির পিতা কবে এই ঘােষণা দেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। তিনি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রায় ১০ লক্ষ লোকের বিশাল জনসভায় এই ঘোষণা দেন।
প্রশ্নঃ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ (Concert for Bangladesh) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ (Concert for Bangladesh) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এটি ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট দুটি পর্যায়ে (দুপুর ও সন্ধ্যায়) অনুষ্ঠিত হয়। জর্জ হ্যারিসন এবং রবি শঙ্কর এই কনসার্টের আয়োজন করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি করা।
প্রশ্নঃ ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবে ভারতবর্ষে ঘটেছিল-
[ বিসিএস ৪৪তম ]
ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবে ভারতবর্ষে গঃ চিন্তাবিপ্লব ঘটেছিল।
ইসলামের একেশ্বরবাদ এবং সুফিবাদের প্রেম ও ভক্তিবাদের সমন্বয়ে ভারতীয় সমাজে নতুন চিন্তা ও দর্শনের উন্মেষ হয়। এর কিছু প্রভাব নিচে উল্লেখ করা হলো:
- একেশ্বরবাদের প্রসার: ইসলাম একেশ্বরবাদের ধারণাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে, যা ভারতীয় ধর্মীয় চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে।
- বর্ণপ্রথার বিরোধিতা: সুফিবাদের মূল ভিত্তি ছিল মানবতাবাদের উপর, যা বর্ণ ও জাতিভেদের ঊর্ধ্বে সকলের সমানাধিকারের কথা বলে। এর প্রভাবে সমাজে বর্ণপ্রথার কঠোরতা কিছুটা হলেও কমেছিল।
- ভক্তিবাদের উন্নতি: সুফিবাদের প্রেম ও ভক্তির ধারণা ভারতীয় ভক্তি আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। অনেক হিন্দু সন্তও সুফিবাদের এই দিকটির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- নতুন সাহিত্য ও সঙ্গীতের সৃষ্টি: ইসলামি ও সুফি সংস্কৃতি ভারতীয় সাহিত্য, সঙ্গীত ও স্থাপত্যের সাথে মিশে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করে। উর্দু ভাষার জন্ম এবং সুফি গান এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- সহিষ্ণুতার বিকাশ: অনেক সুফি সাধক বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বার্তা দেন।
যদিও এই প্রভাব রাজনৈতিক বা সামাজিক বিপ্লবের মতো ব্যাপক পরিবর্তন আনেনি, তবে এটি নিঃসন্দেহে ভারতীয় চিন্তাধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল।
প্রশ্নঃ ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়
[ বিসিএস ৪৩তম ]
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠার সঠিক তারিখ ছিল ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে (বর্তমান সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) এই সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠা হয়।
এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ছিলেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন
- কাজী আবদুল ওদুদ
- আবুল হুসেন
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (প্রতিষ্ঠাকালীন সভায় সভাপতিত্ব করেন)
এই সংগঠনটি "বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন"-এর সাথে জড়িত ছিল এবং এর মুখপত্র ছিল শিখা পত্রিকা।
প্রশ্নঃ বাংলার প্রাচীন জনপদ কোনটি?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল কঃ পুণ্ড্র।
পুণ্ড্র ছিল বাংলার প্রাচীনতম জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর অবস্থান ছিল মূলত উত্তরবঙ্গে। ঐতিহাসিক বিভিন্ন গ্রন্থে পুণ্ড্র জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায় এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনেও এর প্রাচীনত্বের প্রমাণ মেলে।
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী। তিনি মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পরিচালনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন।
প্রশ্নঃ ‘নির্বাণ’ ধারণাটি কোন ধর্মবিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল খঃ বৌদ্ধধর্ম।
'নির্বাণ' বৌদ্ধধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এটি দুঃখ ও পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তিলাভের চূড়ান্ত অবস্থাকে বোঝায়।
প্রশ্নঃ ১৯৬৬ সালের ৬ দফার কয়টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
১৯৬৬ সালের ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল। এই দফাগুলো ছিল:
- তৃতীয় দফা: পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করতে হবে; অথবা এর বিকল্প হিসেবে একটি মুদ্রাব্যবস্থা সারা দেশের জন্য চালু থাকতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বতন্ত্র ব্যাংকিং রিজার্ভের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- চতুর্থ দফা: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা, শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করতে হবে এবং আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।
- পঞ্চম দফা: পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব রাখতে হবে এবং এর ওপর পূর্বাঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলে তা উভয় অঞ্চলের জন্য সমান অথবা নির্ধারিত অনুপাতে সরবরাহ করা হবে।
অন্যান্য তিনটি দফা ছিল মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কিত।
প্রশ্নঃ প্রাচীন বাংলায় সমতট বর্তমান কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
প্রাচীন বাংলায় সমতট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অঞ্চল ছিল। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময় থেকে শুরু করে পাল সাম্রাজ্যের পূর্ব পর্যন্ত এর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
সমতটের ভৌগোলিক অবস্থান:
প্রাচীনকালে সমতটের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও, সাধারণভাবে এটি বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা অঞ্চল এবং এর সন্নিহিত এলাকা যেমন নোয়াখালী ও চাঁদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। কারো কারো মতে, ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। মেঘনা নদীর পূর্ব তীরবর্তী নিচু ও সমতল ভূমি এই অঞ্চলের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল, যা এর নামের ('সম' অর্থ সমতল এবং 'তট' অর্থ তীর বা ভূমি) সার্থকতা প্রমাণ করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- গুপ্ত সাম্রাজ্য: গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে সমতট একটি করদ রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ স্তম্ভলিপিতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- স্বাধীন রাজ্য: সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে সমতট একটি স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়। চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এই অঞ্চল ভ্রমণ করেন এবং 'কিয়া-মল-কিয়া' নামে একটি সমৃদ্ধ ও স্বাধীন রাজ্যের বর্ণনা দেন, যা সম্ভবত সমতটই ছিল। তিনি এর রাজধানী 'লো-টো-উই' (Loto-wi) বা লালমাই পাহাড়ের কাছে অবস্থিত বলে উল্লেখ করেন।
- দেব বংশ: অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দেব বংশ সমতটে একটি শক্তিশালী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। তাদের রাজধানী ছিল দেবপর্বত (বর্তমান ময়নামতী)। দেব রাজারা বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে এই অঞ্চল শাসন করেন।
- পাল সাম্রাজ্য: পরবর্তীতে পাল সাম্রাজ্যের অধীনে সমতট তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।
প্রশ্নঃ ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের জন্য তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদান করা হয়।
এখানে তার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো:
- জন্ম ও প্রাথমিক জীবন: তিনি ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মাতার নাম জেন্নাতুন্নেসা।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান: নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন এবং ল্যান্স নায়েক পদে উন্নীত হন।
- মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে বিভিন্ন সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ ও শাহাদাত: ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে তিনি অসাধারণ বীরত্ব দেখান। শত্রুদের মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাদের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন। সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে আহত অবস্থায়ও যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হন। তার এই অসীম সাহস ও আত্মত্যাগ মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধি করে।
- বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব: মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব "বীরশ্রেষ্ঠ" প্রদান করে।
- স্মৃতিস্তম্ভ: তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য নড়াইল এবং গোয়ালহাটিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ মায়া সভ্যতাটি আবিষ্কৃত হয়-
[ বিসিএস ৪৩তম ]
মায়া সভ্যতা মধ্য আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা যা বর্তমান দক্ষিণ-পূর্ব মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং হন্ডুরাসের কিছু অংশে বিস্তৃত ছিল। এই সভ্যতা প্রায় ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৬৯৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল এবং এর স্বর্ণযুগ ছিল ২৫০ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
মায়া সভ্যতার কিছু উল্লেখযোগ্য দিক:
- কৃষি: ভুট্টা, শিম এবং স্কোয়াশ ছিল তাদের প্রধান খাদ্য ফসল। তারা উন্নত কৃষি কৌশল ব্যবহার করত, যেমন জঙ্গল কেটে ও পুড়িয়ে জমি তৈরি করা এবং উঁচুPlatform তৈরি করা।
- স্থাপত্য: মায়ারা পাথর দিয়ে বিশাল আকারের মন্দির, পিরামিড, প্রাসাদ এবং খেলার মাঠ তৈরি করত। তাদের স্থাপত্যশৈলী জটিল কারুকার্য ও জ্যামিতিক নকশার জন্য বিখ্যাত। চিচেন ইতজা, টিikal এবং Palenque-এর ধ্বংসাবশেষ তাদের স্থাপত্যের চমৎকার উদাহরণ।
- গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা: মায়ারা উন্নত গাণিতিক জ্ঞান এবং জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখত। তারা শূন্যের ধারণা আবিষ্কার করেছিল এবং জটিল ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল, যা সৌর বছর এবং ধর্মীয় বছর গণনা করত। তারা গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারত।
- লিখন পদ্ধতি: মায়াদের নিজস্ব লিপি ছিল, যা হায়ারোগ্লিফিক লিপির মতো চিত্রভিত্তিক ছিল। তারা পাথর, মৃৎপাত্র এবং গাছের বাকলের তৈরি বইয়ে (codices) তাদের ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত জ্ঞান লিপিবদ্ধ করত।
- ধর্ম: মায়ারা বহু দেব-দেবীর পূজা করত, যারা প্রকৃতি ও জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নরবলি ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান প্রচলিত ছিল।
- শিল্প: মায়ারা ভাস্কর্য, কারুশিল্প এবং মৃৎশিল্পে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। তারা পাথর, কাঠ ও কাদামাটি দিয়ে সুন্দর মূর্তি ও অলঙ্কার তৈরি করত।
মায়া সভ্যতার পতন:
নবম শতাব্দীর দিকে মায়া সভ্যতার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের শহরগুলো রহস্যজনকভাবে জনশূন্য হতে শুরু করে। এর কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচলিত আছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- জনসংখ্যার আধিক্য ও পরিবেশের অবক্ষয়: অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে খাদ্য ও অন্যান্য সম্পদের অভাব দেখা দিয়েছিল। বনভূমি ধ্বংস এবং মৃত্তিকা ক্ষয় কৃষিকে কঠিন করে তুলেছিল।
- যুদ্ধ: বিভিন্ন মায়া শহরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।
- খরা: দীর্ঘমেয়াদী খরা খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করেছিল এবং দুর্ভিক্ষের কারণ হয়েছিল।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা: শাসকদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল।
তবে, মায়া সভ্যতা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়নি। ইউকাটান উপদ্বীপ এবং গুয়াতেমালার পার্বত্য অঞ্চলে তাদের বংশধররা আজও বসবাস করে এবং তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
প্রশ্নঃ বঙ্গভঙ্গের ফলে কোন নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয়েছিলো?
[ বিসিএস ৪২তম ]
বঙ্গভঙ্গ ছিল ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের আদেশে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ তৈরি করা হয়, যার রাজধানী ছিল ঢাকা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত হয় অন্য প্রদেশটি।
বঙ্গভঙ্গের কারণ:
বঙ্গভঙ্গের পেছনে একাধিক কারণ ছিল, যার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:
- প্রশাসনিক অসুবিধা: বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি ছিল বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত। বিহার, উড়িষ্যা এবং ছোটনাগপুরও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এত বড় একটি অঞ্চলের প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশ সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। লর্ড কার্জন এই প্রশাসনিক অসুবিধা দূর করতে বাংলাকে ভাগ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে দুর্বল করাই ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিল, বাংলা ভাগ করলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দুর্বল হয়ে যাবে।
- অর্থনৈতিক বৈষম্য: পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা কেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল। কিন্তু পূর্ব বাংলা ছিল কৃষিপ্রধান এবং অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চেয়েছিল, যদিও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
- সাম্প্রদায়িক বিভাজন: যদিও সরকারিভাবে প্রশাসনিক কারণ দেখানো হয়েছিল, তবে বঙ্গভঙ্গের পেছনে একটি বড় কারণ ছিল হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় নতুন প্রদেশে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নতি আশা করেছিল, যা হিন্দু জমিদার ও এলিট শ্রেণী ভালোভাবে নেয়নি।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল:
বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলে, যা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন বা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের প্রধান দিকগুলো ছিল:
- ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি।
- বিভিন্ন বিপ্লবী দলের উত্থান।
- জাতীয়তাবাদী চেতনার বিস্তার।
- হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর হওয়া।
অবশেষে, তীব্র আন্দোলনের মুখে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে এই রদের ঘোষণা করা হয় এবং ১৯১২ সালে এটি কার্যকর হয়।
বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গতিপথকে প্রভাবিত করেছিল।
প্রশ্নঃ ঢাকা গেইট এর নির্মাতা কে?
[ বিসিএস ৪২তম ]
ঢাকা গেট, যা মির জুমলার গেট নামেও পরিচিত, ঢাকার একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য। এটি মুঘল সুবেদার মীর জুমলা ১৬৬০-১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মাণ করেছিলেন। ধারণা করা হয়, এটি শহরের প্রধান প্রবেশদ্বার ছিল।
এই গেটটি মূলত তৎকালীন ঢাকার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ছিল। মীর জুমলা যখন ঢাকা শহরের বিস্তার ঘটান, তখন এই গেটটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। এটি শহরের সীমানা নির্দেশ করত এবং একই সাথে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে শহরকে রক্ষা করত।
কালের পরিক্রমায় ঢাকা গেটের মূল কাঠামো অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। বর্তমানে এর কিছু অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের কাছে দেখা যায়। গেটের আসল রূপ এখন আর নেই, তবে এর ধ্বংসাবশেষ আজও মুঘল স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করে।
ঢাকা গেট শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি ঢাকার ইতিহাসেরও ধারক। মুঘল আমলে ঢাকার গুরুত্ব এবং শহরের বিস্তার সম্পর্কে এটি ধারণা দেয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে এবং পর্যটকদের লেখায় ঢাকা গেটের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা এর ঐতিহাসিক তাৎপর্যের প্রমাণ।
প্রশ্নঃ ব্রিটিশ কৃষি বিপ্লব কখন সংগঠিত হয়েছিলো?
[ বিসিএস ৪২তম ]
ব্রিটিশ কৃষি বিপ্লব ছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরু থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ইংল্যান্ডে কৃষি উৎপাদন, প্রযুক্তি ও ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ব্যাপক পরিবর্তন। এই বিপ্লবের ফলে কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং শিল্প বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করে।
কৃষি বিপ্লবের প্রধান কারণ ও বৈশিষ্ট্য:
- নতুন কৃষি পদ্ধতির প্রবর্তন: এই সময়ে শস্য আবর্তন (Crop Rotation) পদ্ধতির ব্যাপক প্রচলন ঘটে। এর ফলে জমির উর্বরতা বজায় রাখা সহজ হয় এবং পতিত জমি ফেলে রাখার প্রয়োজন কমে। চার ফসলী চক্র (Four-Course Rotation), যেখানে গম, টার্নিপ, বার্লি এবং ক্লোভার পর্যায়ক্রমে চাষ করা হতো, বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহার: উন্নত ধরনের লাঙ্গল (যেমন রদারহ্যামের চাকাযুক্ত লাঙ্গল), বীজ বপনকারী যন্ত্র (Jethro Tull কর্তৃক উদ্ভাবিত সিড ড্রিল), এবং ফসল কাটার যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়। এই যন্ত্রপাতিগুলি শ্রমের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।
- নির্বাচিত প্রজনন (Selective Breeding): গবাদি পশুর উন্নত জাত তৈরির জন্য নির্বাচিত প্রজনন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এর ফলে মাংস ও দুধের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। রবার্ট বাকওয়েল এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- ভূমি একত্রীকরণ (Enclosure Movement): এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বে উন্মুক্ত এবং সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত জমিগুলিকে ব্যক্তিগত মালিকানায় আনা হয় এবং বড় খামারে পরিণত করা হয়। এর ফলে কৃষকরা আরও দক্ষতার সাথে জমি ব্যবহার করতে এবং নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে সক্ষম হন। তবে, অনেক ছোট কৃষক তাদের জমি হারান এবং শহরে কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হন।
- নতুন ফসলের চাষ: আলু এবং অন্যান্য নতুন ফসলের চাষ খাদ্য সরবরাহকে আরও বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল করে তোলে।
- পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি: খাল এবং রাস্তার উন্নয়নের ফলে কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হয়।
দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ ছিল ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত দুটি বেনিফিট কনসার্ট। এই কনসার্ট দুটি আয়োজন করেছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক রবিশঙ্কর এবং প্রাক্তন বিটলস সদস্য জর্জ হ্যারিসন।
উদ্দেশ্য:
কনসার্টটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ভোলা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (তৎকালীন বাংলাদেশ) শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ করা।
আয়োজক:
রবিশঙ্করই প্রথম জর্জ হ্যারিসনকে এই বিষয়ে অবগত করেন এবং একটি কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেন। জর্জ হ্যারিসন এই উদ্যোগে সাড়া দেন এবং বন্ধু ও অন্যান্য বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীদের একত্রিত করে এই ঐতিহাসিক কনসার্টের আয়োজন করেন।
অংশগ্রহণকারী শিল্পী:
কনসার্টে সঙ্গীত পরিবেশন করেন:
- জর্জ হ্যারিসন
- রবিশঙ্কর
- বব ডিলান
- রিঙ্গো স্টার
- এরিক ক্ল্যাপটন
- বিলি Preston
- লিওন রাসেল
- ব্যাডফিঙ্গার
সঠিক উত্তর হলো কঃ জয় বাংলা।
১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার নাম ছিল জয় বাংলা। এটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
[ বিসিএস ৪২তম ]
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও এর পেছনের ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি জাদুঘর। এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস:
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর একটি বেসরকারি উদ্যোগ। আটজন ট্রাস্টির উদ্যোগে ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি ভাড়া করা বাড়িতে এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে, ২০১৭ সালের ১৬ই এপ্রিল জাদুঘরটি আগারগাঁওয়ে তার নিজস্ব নবনির্মিত ভবনে স্থানান্তরিত হয়। এই জাদুঘরটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
সংগ্রহ:
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বহু দুর্লভ নিদর্শন ও স্মারক সংগৃহীত আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
- মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম
- শহীদদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র
- মুক্তিযুদ্ধের সময়ের আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য দলিল
- তৎকালীন পত্রপত্রিকা ও পোস্টার
- মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত চিঠি ও ডায়েরি
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল
- আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন ও সংহতির নিদর্শন
জাদুঘরের গ্যালারিগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, ২৫শে মার্চের গণহত্যা, প্রতিরোধ যুদ্ধ, মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধকালীন জীবন, বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং চূড়ান্ত বিজয়সহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শুধু একটি সংগ্রহশালা নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জীবন্ত প্রতীক এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
প্রশ্নঃ নঁওগা জেলার অবস্থিত সোমপুর বিহার এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
[ বিসিএস ৪২তম ]
সোমপুর বিহার:
- অবস্থান: সোমপুর বিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। এর অন্য নাম পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহার।
- প্রতিষ্ঠাতা ও সময়কাল: পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে, কিছু তিব্বতীয় ইতিহাস অনুসারে দেবপাল (৮১০-৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ) এটি নির্মাণ করেন।
- আবিষ্কার: ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল স্থাপনা আবিষ্কার করেন।
- ঐতিহাসিক তাৎপর্য:
- এটি এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহারগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- প্রায় ৩০০ বছর ধরে এটি বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্ম শিক্ষাদান কেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশ নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও বৌদ্ধরা এখানে জ্ঞান অর্জনের জন্য আসতেন।
- খ্রিস্টীয় দশম শতকে এই বিহারের আচার্য ছিলেন বিখ্যাত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- এটি পাল যুগের বৌদ্ধ স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন, যা পরবর্তীতে বার্মা, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার স্থাপত্যে প্রভাব ফেলেছিল।
- স্থাপত্য:
- বিহারটি একটি বিশাল আয়তক্ষেত্রাকার কাঠামো, যার উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট।
- এর চারদিকে উঁচু প্রাচীর এবং অভ্যন্তরে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কক্ষ ছিল। ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল এবং প্রায় ৮০০ ভিক্ষু এখানে বাস করতে পারতেন।
- বিহারের কেন্দ্রে একটি শূন্যগর্ভ চতুষ্কোণ কক্ষ রয়েছে, যা মন্দিরের ভিত্তি থেকে চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
- দেয়ালের বাইরের দিকে বুদ্ধমূর্তি, হিন্দুদের দেব-দেবী মূর্তি ও পোড়ামাটির ফলকচিত্র দেখা যায়, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনগাথা চিত্রিত হয়েছে।
- বর্তমান অবস্থা: কালের বিবর্তনে এই বিহারটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে এর ধ্বংসাবশেষ আজও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সোমপুর বিহার শুধু একটি প্রাচীন স্থাপত্য নয়, এটি এক সময়ের জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তমদ্দুন মজলিস ছিল ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত একটি ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এই সংগঠনটিই প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তোলে এবং ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
তমদ্দুন মজলিসের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল:
- সুস্থ ও সুন্দর তমদ্দুন (নাগরিক জীবন ও সংস্কৃতি) গড়ে তোলা: কুসংস্কার, গতানুগতিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দূর করে একটি প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণ করা।
- ধর্মভিত্তিক সাম্যবাদের দিকে মানবসমাজকে এগিয়ে নেওয়া: যুক্তিবাদের উপর ভিত্তি করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- সাহিত্য ও শিল্পের মাধ্যমে নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা: মানবীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন সাহিত্য ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে একটি উন্নত সমাজ গঠন করা।
- নিখুঁত চরিত্র গঠন করে গণজীবনের উন্নয়ন: নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক তৈরির মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক উন্নতি সাধন করা।
- বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রথম জোরালো প্রতিবাদ জানানো এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা আদায়ে আন্দোলন গড়ে তোলা।
ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা:
ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে বিবেচিত হয়। এর উল্লেখযোগ্য অবদানগুলো হলো:
- প্রথম রাষ্ট্রভাষার দাবি উত্থাপন: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই তমদ্দুন মজলিস বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলে।
- পুস্তিকা প্রকাশ: ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এই পুস্তিকায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয় এবং অধ্যাপক আবুল কাশেম কতৃক বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে একটি প্রস্তাবনাও ছিল।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন: ভাষা আন্দোলনকে একটি রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগেই প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- জনমত সৃষ্টি: তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হয়।
- সাপ্তাহিক সৈনিক: এই সংগঠনের মুখপত্র হিসেবে সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে অন্যান্য ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন ভাষা আন্দোলনে যোগ দিলেও, তমদ্দুন মজলিসই প্রথম সংগঠন হিসেবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে এবং এর একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি তৈরি করে। এ কারণে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তমদ্দুন মজলিসের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প্রশ্নঃ ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ‘ভাষা দিবস’ হিসেবে কোন দিনটি পালন করা হতো?
[ বিসিএস ৪২তম ]
১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের সময় ১১ই মার্চ ‘ভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হতো।
১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এই দিনটিতে ছাত্রদের ওপর পুলিশি নির্যাতন হয় এবং অনেকেই গ্রেফতার হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে দিনটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত প্রতি বছর ১১ই মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হতো।
প্রশ্নঃ কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
[ বিসিএস ৪১তম ]
সিপাহী হামিদুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত সাত জন শহীদের একজন।
তাঁর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- জন্ম: ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩
- জন্মস্থান: খোর্দ্দ খালিশপুর, মহেশপুর, ঝিনাইদহ
- পিতা: আক্কাস আলী মন্ডল
- মাতা: কায়দুন্নেছা
- মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ: ১৯৭১ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির সৈনিক ছিলেন।
- বীরত্ব: ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই সীমান্ত ফাঁড়িতে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন। যুদ্ধে তিনি অসীম সাহস ও বীরত্বের পরিচয় দেন। শত্রুদের মেশিনগানের গুলিবৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি একা দুটি এলএমজি পোস্ট দখল করে নেন এবং দলের বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা করেন।
- বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব: মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করে।
- সমাধি: প্রথমে তার মরদেহ ত্রিপুরা রাজ্যের আমসার হাতিমেরছড়া গ্রামে সমাহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর, ২০০৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ১১ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
সিপাহী হামিদুর রহমান তার অসীম সাহস ও দেশপ্রেমের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
প্রশ্নঃ কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বীরশ্রেষ্ঠ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এই খেতাব প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।
এই সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন:
১. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: ৭ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন এবং চাপাইনবাবগঞ্জে শহীদ হন। ২. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন এবং পাকিস্তান থেকে একটি বিমান ছিনতাই করে আসার সময় শহীদ হন। ৩. সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন এবং মৌলভীবাজারে শহীদ হন। ৪. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ: ৮ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন এবং রাঙামাটিতে শহীদ হন। ৫. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ: ৮ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন এবং নড়াইলে শহীদ হন। ৬. সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ হন। ৭. রুহুল আমিন: নৌবাহিনীর আর্টিলারি অফিসার ছিলেন এবং খুলনায় শহীদ হন।
এই সাতজন বীর তাদের জীবন উৎসর্গ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ চিরকাল বাঙালি জাতির হৃদয়ে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় থাকবে।
প্রশ্নঃ ঐতিহাসিক ‘ছয়দফা দাবিতে’ যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না-
[ বিসিএস ৪১তম ]
ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপন করেন।
ছয় দফার মূল বিষয়বস্তু ছিল:
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং প্রদেশগুলোকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। কেবল প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল দুটি বিষয় থাকবে - প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক। অবশিষ্ট সকল ক্ষমতা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত করতে হবে।
৩. মুদ্রাব্যবস্থা: দুটি পৃথক অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। অথবা, সমগ্র দেশের জন্য একটি মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, তবে সেক্ষেত্রে প্রদেশগুলোর জন্য পৃথক পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ রাখতে হবে।
৪. রাজস্ব ও কর ধার্য: সকল প্রকার কর ও রাজস্ব ধার্যের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রাদেশিক রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ পাবে।
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য: প্রদেশগুলোকে তাদের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্যের বৈদেশিক বাণিজ্য করার এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অধিকার দিতে হবে। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব প্রদেশের হাতে থাকবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদেশের কাছ থেকে মুদ্রা গ্রহণ করবে।
৬. সামরিক বাহিনী: প্রদেশগুলোকে নিজস্ব মিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।
প্রশ্নঃ ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কাল নির্দেশ করে?
[ বিসিএস ৪১তম ]
'মাৎস্যন্যায়' বাংলার ইতিহাসে একটি অন্ধকার ও অরাজকতাময় সময়কালকে নির্দেশ করে। এটি মূলত সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
এই সময়ে বাংলায় কোনো স্থায়ী ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না। ফলে ছোট ছোট আঞ্চলিক শক্তি নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ক্রমাগত সংঘর্ষে লিপ্ত থাকত। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে এবং সমাজে জোর যার মুল্লুক তার নীতি প্রচলিত হয়।
'মাৎস্যন্যায়' নামটি এসেছে মাছের জগতের একটি প্রাকৃতিক নিয়ম থেকে, যেখানে বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে ফেলে। তেমনিভাবে, এই সময়ে শক্তিশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দুর্বলদের উপর অত্যাচার করত এবং তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করত। প্রজারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছিল।
ঐতিহাসিকরা এই সময়কালকে বাংলার ইতিহাসে একটি বিপর্যয়পূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে পাল রাজবংশের উত্থানের মাধ্যমে বাংলায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে।
প্রশ্নঃ বাংলার কোন সুলতানের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বাংলার হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামলকে (১৪৯৪-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ) বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়।
তাঁর শাসনামলে শান্তি, সমৃদ্ধি, ন্যায়বিচার এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছিল। নিচে এর কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো:
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণ শাসন বজায় ছিল, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক ছিল।
- ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: তিনি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের প্রতি সমান উদারতা দেখিয়েছিলেন। অনেক হিন্দু পন্ডিত ও কবি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যের উন্নতি: তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্য বিশেষভাবে সমৃদ্ধ হয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই সময়েই তাঁর ধর্মীয় আন্দোলন শুরু করেন এবং বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন পথে চালিত করেন। মালাধর বসু শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য রচনা করেন এবং বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গল রচনা করেন।
- স্থাপত্য ও শিল্পকলা: এই সময়ে সুন্দর সুন্দর মসজিদ, প্রাসাদ ও অন্যান্য স্থাপত্য নির্মিত হয়। শিল্পকলারও যথেষ্ট উন্নতি দেখা যায়।
- কৃষি ও বাণিজ্যের প্রসার: কৃষির উন্নতি এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসারের ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়।
এসব কারণে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামলকে বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
প্রশ্নঃ ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
[ বিসিএস ৪১তম ]
ভাষা আন্দোলনের সময় (১৯৫২ সাল) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন।
তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের (তৎকালীন পূর্ব বাংলা) একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং মুসলিম লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ভাষা আন্দোলনের সময় তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, কারণ তিনি উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, যা আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তুলেছিল।
সেন বংশের শেষ সফল শাসক লক্ষণ সেন হলেও তিনি সেন বংশের সর্বশেষ শাসনকর্তা নন। কেননা বখতিয়ার খলজির বাংলা আক্রমনের পর তিনি নদীয়া থেকে বিক্রমপুরে পালিয়ে যান। সেখানে অল্প কিছু দিন শাসনকার্য চালানোর পর ১২০৬ সালে মৃত্যুবরণ করলে যথাক্রমে তাঁর পুত্র বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন ১২৩০ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
প্রশ্নঃ বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম কী?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হিসেবে ধরা হয় বঙ্গ-কে।
প্রাচীন সাহিত্য ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন গ্রন্থে বঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্বাব্দ কয়েক শতক আগে থেকেই এই জনপদের অস্তিত্ব ছিল। এটি মূলত বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল এবং কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।
তবে, কিছু ঐতিহাসিক পুন্ড্র জনপদকেও বাংলার অন্যতম প্রাচীন জনপদ হিসেবে বিবেচনা করেন। এর অবস্থান ছিল উত্তরবঙ্গে, যা বর্তমান বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং রংপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।