প্রশ্নঃ সুমেরীয় সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৭-১০-২০০৮ ]
Related MCQ
প্রশ্নঃ পাহাড়পুরের ‘সোমপুর মহাবিহার’ বাংলার কোন শাসন আমলের স্থাপত্য কীর্তির নিদর্শন?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
নওগা জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার ❝পাল রাজবংশের❞ শাসনামলে অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকের শুরুর দিকে স্থাপিত হয়।
প্রশ্নঃ ‘বার বিধি’ (The Twelve Tables) কী?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
‘বার বিধি’ (The Twelve Tables) ছিল প্রাচীন রোমান আইনের ভিত্তিস্তম্ভ। এটি ৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্রোঞ্জের বারোটি স্তম্ভে খোদাই করে রোমান ফোরামে জনসমক্ষে স্থাপন করা হয়েছিল।
‘বার বিধি’ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- আইনের একত্রীকরণ ও সুস্পষ্টকরণ: এর আগে রোমান আইন মূলত ঐতিহ্য ও প্রথার উপর নির্ভরশীল ছিল এবং এর প্রয়োগে যথেষ্ট অস্পষ্টতা ও পক্ষপাতিত্বের সুযোগ ছিল। ‘বার বিধি’ আইনগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোয় নিয়ে আসে।
- সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা: প্লেবিয়ান (সাধারণ নাগরিক) শ্রেণী প্যাট্রিশিয়ানদের (অভিজাত শ্রেণী) স্বেচ্ছাচারী আইন প্রয়োগের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম করছিল। ‘বার বিধি’ প্রণয়নের মাধ্যমে আইনের একটি লিখিত রূপ দেওয়া হয়, যা সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার একটি ভিত্তি তৈরি করে।
- আইনের জ্ঞান সকলের কাছে সহজলভ্য করা: জনসমক্ষে স্থাপন করার ফলে সাধারণ মানুষও আইন সম্পর্কে জানতে পারত এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারত।
প্রশ্নঃ চীন-ভারত যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
চীন-ভারত যুদ্ধ ১৯৬২ সালে সংঘটিত হয়।
এই যুদ্ধটি ২০ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলেছিল এবং এর মূল কারণ ছিল দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ।
প্রশ্নঃ কোন দেশ থেকে ‘আরব বসন্ত’-এর সূচনা হয়?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হল তিউনিসিয়া।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিউনিসিয়ার এক ফল বিক্রেতা Mohamed Bouazizi-র আত্মাহুতির মাধ্যমে আরব বসন্তের সূচনা হয়। এরপর এই আন্দোলন দ্রুত অন্যান্য আরব দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্নঃ কোন সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে।
ইউক্রেনের এই উপদ্বীপটি ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং রুশ সৈন্যদের দ্বারা দখলের শিকার হয়। পরবর্তীতে, বিতর্কিত একটি গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিমিয়াকে তার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়, যদিও ইউক্রেন এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই অন্তর্ভুক্তিকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে।
প্রশ্নঃ ‘তাসখন্দ চুক্তি’ কোন দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘তাসখন্দ চুক্তি’ ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তিটি ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি উজবেকিস্তানের তাসখন্দ শহরে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান স্বাক্ষর করেছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল।
প্রশ্নঃ চীনের জিনজিয়াং (Xinjiang) প্রদেশের মুসলিম গােষ্ঠীর নাম-
[ বিসিএস ৪৩তম ]
চীনের জিনজিয়াং (Xinjiang) প্রদেশে বসবাসকারী প্রধান মুসলিম গোষ্ঠীগুলো হলো:
- উইঘুর (Uyghur): এটি জিনজিয়াং প্রদেশের বৃহত্তম মুসলিম গোষ্ঠী। তারা তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে।
- কাজাখ (Kazakh): উইঘুরদের পর এটি জিনজিয়াংয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম তুর্কিভাষী মুসলিম গোষ্ঠী।
- হুই (Hui): যদিও চীনের অন্যান্য প্রদেশেও এদের দেখা যায়, জিনজিয়াংয়েও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হুই মুসলিম বাস করে। তারা মূলত চীনাভাষী মুসলিম।
এছাড়াও জিনজিয়াংয়ে কিরগিজ (Kyrgyz) এবং তাজিক (Tajik) সহ আরও ছোট ছোট মুসলিম গোষ্ঠী বাস করে। তবে উইঘুর এবং কাজাখরাই এই প্রদেশের প্রধান মুসলিম জনগোষ্ঠী।
সঠিক উত্তর হলো খঃ ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি, ১৬৪৮।
ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ১৬৪৮ সালে ইউরোপের "ত্রিশ বছরের যুদ্ধ"-এর সমাপ্তি ঘটে। এই চুক্তিটি দুটি প্রধান শান্তি চুক্তির সমষ্টি:
- মুনস্টার চুক্তি (Treaty of Münster): এটি ফ্রান্স এবং পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য ও তাদের মিত্রদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- ওসনাব্রুক চুক্তি (Treaty of Osnabrück): এটি সুইডেন এবং পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য ও তাদের মিত্রদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তিগুলো ইউরোপের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ ছিল, যা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে এবং সার্বভৌমত্বের ধারণাকে স্বীকৃতি দেয়।
প্রশ্নঃ কোথায় শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
[ বিসিএস ৪২তম ]
শেনজেন চুক্তি হলো একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক চুক্তি যার মাধ্যমে ইউরোপে শেনজেন এলাকা তৈরি হয়েছে। এই এলাকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে বাতিল করা হয়েছে। লুক্সেমবার্গের শেনজেন শহরে ১৯৮৫ সালে এই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে। এটি ইউরোপের মধ্যে ভ্রমণ ও চলাচলের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শেনজেন চুক্তির মূল নীতি:
- অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাতিল: অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সীমান্তগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি বাতিল করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য, যাতে মানুষ অবাধে চলাচল করতে পারে।
- বহিঃস্থ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়: অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে, শেনজেন এলাকার বাইরের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিন্ন নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়ম, ভিসা নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা।
- অভিন্ন ভিসা নীতি: একটি অভিন্ন শেনজেন ভিসা ধারককে স্বল্প সময়ের জন্য (যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত) শেনজেন এলাকার মধ্যে অবাধে ভ্রমণের অনুমতি দেয়।
- পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা: সদস্য দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবেলার জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- শেনজেন তথ্য ব্যবস্থা (SIS): একটি বৃহৎ ডেটাবেস যা সদস্য দেশগুলোকে আইন প্রয়োগ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে ব্যক্তি ও পণ্য সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান করতে সহায়তা করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- প্রাথমিক চুক্তিটি ১৪ জুন, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (EEC) পাঁচটি সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছিল: বেলজিয়াম, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস এবং পশ্চিম জার্মানি।
- ১৯৯০ সালে, শেনজেন কনভেনশন চুক্তিটিকে আরও বিস্তৃত করে, যেখানে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে বাতিল এবং একটি অভিন্ন ভিসা নীতির প্রস্তাব করা হয়। এই কনভেনশনটিই শেনজেন এলাকার মূল আইনি ভিত্তি।
- শেনজেন চুক্তি এবং এর বাস্তবায়নকারী কনভেনশন ১৯৯৫ সালে কিছু প্রাথমিক স্বাক্ষরকারীর জন্য কার্যকর হয়।
- ১৯৯৭ সালের আমস্টারডাম চুক্তি শেনজেন অ্যাকুই (শেনজেন আইনের সমষ্টি) কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে।
গুরুত্ব:
- অবাধ চলাচল: শেনজেন চুক্তি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক ও বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের পাসপোর্ট পরীক্ষা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ সীমান্ত অতিক্রম করা অনেক সহজ করে তুলেছে।
- অর্থনৈতিক একত্রীকরণ: মানুষ, পণ্য ও পরিষেবার অবাধ চলাচলকে সহজ করে তোলার মাধ্যমে শেনজেন এলাকা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক একত্রীকরণে অবদান রেখেছে।
- পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়: ভ্রমণের সহজতা পর্যটন বৃদ্ধি করেছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করেছে।
- নিরাপত্তা সহযোগিতা: তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে।
সদস্য দেশ:
শেনজেন এলাকা সময়ের সাথে সাথে প্রসারিত হয়েছে এবং বর্তমানে ২৯টি ইউরোপীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- ইইউ সদস্য রাষ্ট্র (২৫): অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেকিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন।
- নন-ইইউ সদস্য রাষ্ট্র (৪): আইসল্যান্ড, লিচেনস্টেইন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড (এই দেশগুলো সহযোগী চুক্তির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে)।
প্রশ্নঃ কোন দুটি দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ২০১৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়?
[ বিসিএস ৪১তম ]
২০১৯ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীকে ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়।
প্রশ্নঃ ফিনল্যান্ড কোন দেশের উপনিবেশ ছিল?
[ বিসিএস ৪১তম ]
ফিনল্যান্ড দীর্ঘকাল ধরে দুটি ভিন্ন দেশের অধীনে ছিল। প্রায় ৭০০ বছর ধরে এটি সুইডেনের অংশ ছিল। এরপর ১৮০৯ সালে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অধীনে আসে এবং ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাই, ঐতিহাসিকভাবে ফিনল্যান্ড সুইডেন এবং রাশিয়ার উপনিবেশের মতো ছিল বলা যায়।
প্রশ্নঃ এশিয়াকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
[ বিসিএস ৪১তম ]
এশিয়াকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খাল। এছাড়াও, বাব এল মান্দেব প্রণালী এই দুটি মহাদেশকে পৃথক করেছে এবং একইসাথে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
প্রশ্নঃ মিনস্ক নিচের কোন দেশের রাজধানী?
[ বিসিএস ৪০তম ]
মিনস্ক (Minsk) হলো বেলারুশ দেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। এটি পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত এবং বেলারুশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
প্রশ্নঃ বিখ্যাত ‘ওয়াশিংটন কনসেনসাস’ কোন বিষয়ের সঙ্গে জড়িত?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
বিখ্যাত ‘ওয়াশিংটন কনসেনসাস’ (Washington Consensus) মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক নীতি সংস্কার বিষয়ের সঙ্গে জড়িত।
এটি ১৯৮৯ সালে অর্থনীতিবিদ জন উইলিয়ামসন কর্তৃক প্রস্তাবিত একগুচ্ছ অর্থনৈতিক নীতি নির্দেশিকা, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), বিশ্ব ব্যাংক (World Bank) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের (U.S. Treasury Department) মতো ওয়াশিংটন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।
এই নীতিগুলোর মধ্যে প্রধানত যা যা অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- আর্থিক শৃঙ্খলা (Fiscal Discipline): সরকারি বাজেট ঘাটতি কমানো।
- ব্যয়ের দিক পরিবর্তন (Redirection of Public Expenditure): ভর্তুকি কমানো এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোতে ব্যয় বৃদ্ধি।
- কর সংস্কার (Tax Reform): করের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক করের হার হ্রাস।
- সুদের হারের উদারীকরণ (Interest Rate Liberalization): বাজারভিত্তিক সুদের হার নির্ধারণ।
- প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার (Competitive Exchange Rates): মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে রপ্তানি বৃদ্ধি।
- বাণিজ্য উদারীকরণ (Trade Liberalization): আমদানি শুল্ক ও কোটা হ্রাস।
- প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের উদারীকরণ (Liberalization of Foreign Direct Investment): বিদেশি বিনিয়োগের উপর বিধিনিষেধ কমানো।
- রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজের বেসরকারীকরণ (Privatization of State Enterprises): রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর।
- নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (Deregulation): বাজারের প্রবেশাধিকার এবং মূল্য নির্ধারণের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ হ্রাস।
- সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষা (Secure Property Rights): সম্পত্তির অধিকারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সংক্ষেপে, ওয়াশিংটন কনসেনসাস মুক্তবাজার অর্থনীতি, বেসরকারীকরণ এবং আর্থিক কঠোরতাকে উন্নয়নের মূলমন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছিল।
প্রশ্নঃ কোন সালে হিটলার জার্মান চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
অ্যাডলফ হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর নিযুক্ত হয়েছিলেন ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি।
তৎকালীন জার্মান প্রেসিডেন্ট পল ফন হিডেনবার্গ (Paul von Hindenburg) তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি জার্মানির ইতিহাসে এবং বিশ্ব ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং হলোকাস্টের পথ খুলে দিয়েছিল।
প্রশ্নঃ মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিকত্ব হারায়:
[ বিসিএস ৩৮তম ]
মায়ানমারে রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিকত্ব হারায় ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন দ্বারা।
এই আইনটি বর্মিজ নাগরিকত্বের জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করে এবং ১৩৫টি "জাতীয় জাতিসত্তা" (National Races) তালিকাভুক্ত করে। রোহিঙ্গারা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না, যার ফলস্বরূপ তারা রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয় এবং তাদের নাগরিক অধিকার, যেমন - চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এটিই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নির্যাতনের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।
প্রশ্নঃ অক্টোবর বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন
[ বিসিএস ৩৮তম ]
অক্টোবর বিপ্লব ছিল ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ২১ শতকের বিশ্ব ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এটি কেবল রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকেই পাল্টে দেয়নি, বরং বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্ম ও বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পটভূমি: ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় জারতন্ত্রের পতন ঘটে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে। তবে এই সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় এবং ভূমি সংস্কারের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানেও অনীহা দেখায়। এর ফলে শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এসময় ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি 'শান্তি, ভূমি, ও রুটি' (Peace, Land, and Bread) স্লোগান নিয়ে জনগণের সমর্থন আদায় করতে থাকে।
বিপ্লবের ঘটনাপ্রবাহ:
- তারিখ: ঐতিহ্যগতভাবে 'অক্টোবর বিপ্লব' বলা হলেও, এটি জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর ১৯১৭ তারিখে (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ নভেম্বর ১৯১৭) সংঘটিত হয়।
- নেতৃত্ব: বলশেভিক পার্টির নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন এবং লিওন ট্রটস্কি (Leon Trotsky) এই বিপ্লবের মূল সংগঠক ও নেতা ছিলেন।
- কেন্দ্র: বিপ্লবের কেন্দ্র ছিল তৎকালীন রাশিয়ার রাজধানী পেত্রোগ্রাদ (Petrograd), যা বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ নামে পরিচিত।
- কার্যক্রম: বলশেভিকরা পেত্রোগ্রাদের প্রধান প্রধান সরকারি ভবন, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, রেলওয়ে স্টেশন এবং শীতকালীন প্রাসাদ (Winter Palace) দখল করে নেয়, যা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদর দপ্তর। এই সামরিক ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে রক্তপাতহীন ছিল।
- স্লোগান: 'সকল ক্ষমতা সোভিয়েতদের হাতে' (All Power to the Soviets) ছিল বিপ্লবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান, যা শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের সোভিয়েত (পরিষদ)গুলোর ক্ষমতাকে সমর্থন করত।
ফলাফল ও প্রভাব:
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতন: অক্টোবর বিপ্লবের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতন ঘটে এবং বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে।
- সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতিষ্ঠা: বলশেভিকরা একটি নতুন সরকার গঠন করে, যার নাম ছিল 'সোভিয়েত গণপ্রজাতন্ত্রী রাশিয়া'। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- ভূমি সংস্কার: জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে ভূমি কৃষকদের মধ্যে বন্টন করা হয়।
- যুদ্ধ থেকে প্রত্যাহার: রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় (ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি)।
- কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক: বিপ্লবের পর বলশেভিকরা 'কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল' বা কমিন্টার্ন প্রতিষ্ঠা করে, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে উৎসাহিত করা।
- গৃহযুদ্ধ: বিপ্লবের পর রাশিয়ায় বলশেভিকদের (রেড আর্মি) এবং তাদের বিরোধীদের (হোয়াইট আর্মি) মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা ১৯২২ সাল পর্যন্ত চলে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন: ১৯২২ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, বিভিন্ন প্রজাতন্ত্রকে একত্রিত করে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ইউনিয়ন (USSR) বা সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়।
- বিশ্বব্যাপী প্রভাব: অক্টোবর বিপ্লব বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্ম দেয়। এটি উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনকেও প্রভাবিত করে এবং বিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে গভীরভাবে পরিবর্তন করে দেয়। স্নায়ুযুদ্ধের একটি মূল কারণ ছিল এই বিপ্লবের আদর্শগত প্রভাব।
অক্টোবর বিপ্লব আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আজও আলোচনার বিষয়।
প্রশ্নঃ প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয়:
[ বিসিএস ৩৮তম ]
ব্রিটিশ দার্শনিক ও রাষ্ট্র চিন্তাবিদ টমাস হবস ও জন লক এবং ডাচ আইনজ্ঞ হুগো গ্রোসিয়াসের লেখা থেকে প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয়। ১২১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রাজা জন কর্তৃক ঘোষিত জনগণের জন্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা সংক্রান্ত সনদ হলো ম্যাগনাকার্টা। গ্রিক, খ্রিস্টান ও মধ্যযুগীয় ধর্মতত্ত্ব ছিল প্যাপাসি বা পোপতান্ত্রিক। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের সৃষ্ট কুনফুসিয়াসবাদের মূল শিক্ষাই ছিল সুবিধাভোগী শ্রেণির আধিপত্য কায়েম করা এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার জয়গান করা।
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী প্রধান মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম হলো উইঘুর (Uyghur)।
উইঘুররা মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি জাতিগোষ্ঠী, যারা উইঘুর ভাষায় কথা বলে এবং প্রধানত সুন্নি ইসলাম ধর্মাবলম্বী। জিনজিয়াং প্রদেশকে তারা 'পূর্ব তুর্কিস্তান' নামেও অভিহিত করে থাকে। এই অঞ্চলের উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচিত।
প্রশ্নঃ সামন্তবাদ কোন ইউরোপীয় দেশে প্রথম সূত্রপাত হয়?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
সামন্তবাদ (Feudalism) প্রথম ফ্রান্সে সূত্রপাত হয়।
সামন্তবাদ একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল যা মধ্যযুগের ইউরোপে, বিশেষ করে নবম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। এটি মূলত সামরিক সেবার বিনিময়ে ভূমির (ফিফ) বিনিময়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।
যদিও সামন্তবাদ ইউরোপের অনেক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে এর মূল কাঠামো এবং ব্যাপক প্রয়োগ প্রথমদিকে ফ্রাঙ্কিশ সাম্রাজ্যে (যা বর্তমান ফ্রান্সের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল) অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে শুরু হয়েছিল। ক্যারোলিংগিয়ান সাম্রাজ্যের পতনের পর স্থানীয় সামরিক নেতারা নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এবং ভূমি রক্ষা করার জন্য এই ব্যবস্থার আশ্রয় নেয়। ফলে, সামন্তবাদের ধারণা ও কাঠামো প্রথম ফ্রান্সে বিকশিত হয়ে পরে ইউরোপের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্নঃ জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য:
[ বিসিএস ৩৭তম ]
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে। এই দেশগুলো হলো:
- গণচীন (People's Republic of China)
- ফ্রান্স (France)
- রাশিয়া (Russia) - (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন)
- যুক্তরাজ্য (United Kingdom)
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States of America)
এই দেশগুলোর প্রতিটি নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, যার অর্থ হলো তারা কোনো প্রস্তাবকে বাতিল করে দিতে পারে, এমনকি যদি অন্য সব সদস্য দেশ তাতে সম্মত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই দেশগুলোই প্রধান মিত্রশক্তি ছিল এবং জাতিসংঘ সনদের মাধ্যমে তাদের এই স্থায়ী সদস্যপদ ও বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
প্রশ্নঃ সুয়েজ খাল কোন বছর চালু হয়?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
সুয়েজ খাল (Suez Canal) হলো মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল। এটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। এই খালটি আফ্রিকা মহাদেশকে পরিভ্রমণ না করেই ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
- অবস্থান: মিশর। এটি সিনাই উপদ্বীপ থেকে মিশরের মূল ভূখণ্ডকে পৃথক করেছে।
- সংযোগ: ভূমধ্যসাগরের পোর্ট সাইদকে লোহিত সাগরের সুয়েজ উপসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে।
- দৈর্ঘ্য: বর্তমানে প্রায় ১৯৩.৩০ কিলোমিটার (১২০ মাইল)।
- প্রশস্ততা ও গভীরতা: আধুনিক ও বড় জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে এটি নিয়মিত গভীর ও প্রশস্ত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে এর সমান্তরালে একটি 'দ্বিতীয় লেন' খনন করা হয়, যা জাহাজগুলোর অপেক্ষার সময় কমিয়ে এনেছে।
ইতিহাস:
- খনন কাজ শুরু: ১৮৫৯ সালের ২৫ এপ্রিল ফরাসি কূটনীতিক ফার্দিনান্দ দে লেসেপসের উদ্যোগে সুয়েজ খাল খনন কাজ শুরু হয়।
- উদ্বোধন: দশ বছর ধরে খননের পর ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
- জাতীয়করণ: ১৯৫৬ সালে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন, যা সুয়েজ সংকট নামে পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব:
- বৈশ্বিক বাণিজ্যের ধমনী: সুয়েজ খালকে প্রায়শই বিশ্ব অর্থনীতির ধমনী হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ (প্রায় ১২-১৫%) এই খাল দিয়ে পরিচালিত হয়। বিশেষ করে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে এটি অপরিহার্য।
- দূরত্ব ও সময় সাশ্রয়: এই খালের কারণে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ (উত্তমাশা অন্তরীপ) ঘুরে যেতে হয় না, ফলে ভ্রমণের সময় ও দূরত্ব অনেক কমে যায়, যা জ্বালানি ও খরচ সাশ্রয় করে।
- মিশরের অর্থনীতি: সুয়েজ খাল মিশরের জন্য রাজস্ব আয়ের একটি প্রধান উৎস। প্রতি বছর এই খাল থেকে মিশর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে।
সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুয়েজ খাল একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর গুরুত্ব বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে অপরিসীম।
প্রশ্নঃ প্রেসিডেন্ট উইড্র উইলসনের 14 points এ কত নম্বর point এ জাতিপুঞ্জের সৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের ১৪ দফা (Fourteen Points) ঘোষণার ১৪ নম্বর দফায় জাতিপুঞ্জ (League of Nations) সৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক ভাষণে উইলসনের এই ১৪ দফা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার একটি নীলনকশা হিসেবে উপস্থাপিত হয়। এই ১৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছিল, "A general association of nations must be formed under specific covenants for the purpose of affording mutual guarantees of political independence and territorial integrity to great and small states alike." অর্থাৎ, ছোট-বড় সকল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার পারস্পরিক নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি সাধারণ জাতিসংঘ গঠন করতে হবে।
এই ১৪ নম্বর দফাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে জাতিপুঞ্জ (League of Nations) গঠনের মূল ভিত্তি ছিল।
প্রশ্নঃ ১৭৮৩ সালে ভার্সাইতে কয়টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
১৭৮৩ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে চারটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেগুলো ছিল ঐ সময়কার বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
চারটি চুক্তি হলো:
- গ্রেট ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র – এটি মূলত Treaty of Paris (1783) নামে পরিচিত, যা আমেরিকার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
- গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স – ফ্রান্সের অংশগ্রহণের পরিণতি নির্ধারণ করে।
- গ্রেট ব্রিটেন ও স্পেন – স্পেনের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- গ্রেট ব্রিটেন ও ডাচ প্রজাতন্ত্র – অর্থনৈতিক ও ঔপনিবেশিক বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
উপসংহার: ভার্সাইতে ১৭৮৩ সালে মোট চারটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা স্বীকৃতির চুক্তি।
এই চারটি চুক্তি সম্মিলিতভাবে "Treaties of Versailles (1783)" নামে পরিচিত, এবং এর অন্তর্গত "Treaty of Paris" সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইতিহাসে বিবেচিত হয়।
প্রশ্নঃ Yalta Conference-এর একটি লক্ষ্য ছিল:
[ বিসিএস ৩৬তম ]
ইয়াল্টা সম্মেলন (Yalta Conference) ১৯৪৫ সালের ৪ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইয়াল্টায় (ক্রিমিয়া) অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে মিত্রশক্তির তিন প্রধান নেতা—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিন—এই সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন।
ইয়াল্টা সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল:
- যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের পুনর্গঠন এবং যুদ্ধের পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা নির্ধারণ করা।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা এবং এর কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা। বিশেষ করে, জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ এবং ভেটো ক্ষমতা নিয়ে এখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
- জার্মানির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ: জার্মানিকে কীভাবে বিভক্ত ও দখল করা হবে, নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিবাদের অবসান ঘটানো এবং জার্মানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
- পোল্যান্ডের ভবিষ্যৎ: পোল্যান্ডের সীমান্ত এবং সেখানে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান: স্তালিন জার্মানির আত্মসমর্পণের পর জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সুতরাং, সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইয়াল্টা সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধোত্তর ইউরোপের পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়া নির্ধারণ।
প্রশ্নঃ চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ (Xuanzang)-এর প্রধান দীক্ষাগুরু ছিলেন শীলভদ্র (Shilabhadra)।
শীলভদ্র ছিলেন তৎকালীন ভারতের বিখ্যাত নালন্দা মহাবিহারের (নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যক্ষ এবং একজন অত্যন্ত প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত। হিউয়েন সাঙ নালন্দায় অবস্থানকালে তাঁর কাছেই বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।
প্রশ্নঃ মহাস্থবীর শিলভদ্র কোন মহাবিহারের আচার্য ছিলেন?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
মহাস্থবির শীলভদ্র ছিলেন প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারের আচার্য (অধ্যক্ষ)। তিনি বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এরও দীক্ষাগুরু ছিলেন।
প্রশ্নঃ ‘গ্লাসনস্ত নীতি’ কোন দেশে চালু হয়েছিল?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
‘গ্লাসনস্ত নীতি’ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে চালু হয়েছিল।
এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রবর্তন করেন। 'গ্লাসনস্ত' একটি রুশ শব্দ, যার অর্থ হলো খোলামেলা ভাব বা উন্মুক্ততা। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল সরকারে স্বচ্ছতা আনা এবং জনগণের বাকস্বাধীনতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারে। এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্নঃ ‘উইঘুর’ হলো-
[ বিসিএস ৩৫তম ]
‘উইঘুর’ হলো চীনের একটি জাতিগোষ্ঠী।
এরা প্রধানত চীনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত উইঘুর প্রদেশ (শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল)-এর বাসিন্দা। উইঘুররা মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং সুন্নি মুসলিম ধর্মাবলম্বী। তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে, যা চীনা হান সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন।
প্রশ্নঃ ‘জুলিয়াস সীজার’ কেন বিখ্যাত?
[ বিসিএস ৩২তম ]
জুলিয়াস সিজার একজন বিখ্যাত রোমান সম্রাট ছিলেন।
জুলিয়াস সিজার: একজন রোমান সেনাপতি ও রাজনীতিবিদ
জুলিয়াস সিজার (Julius Caesar) ছিলেন একজন অসাধারণ রোমান সেনাপতি, রাজনীতিবিদ এবং বক্তা। তিনি রোমান প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন। তার সামরিক বিজয়গুলো রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ অব্দে রোমান প্রজাতন্ত্রের একচ্ছত্র শাসক বা ডিক্টেটর হিসেবে ক্ষমতা লাভ করেন।
রোমান সম্রাট ও জুলিয়াস সিজার
তবে তিনি প্রযুক্তিগতভাবে প্রথম রোমান সম্রাট ছিলেন না। রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট হিসেবে তার দত্তক পুত্র অগাস্টাস সিজার (Octavian) পরিচিত। জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক সংস্কার এবং সামরিক বিজয়গুলোই মূলত রোমান প্রজাতন্ত্রকে রোমান সাম্রাজ্যে রূপান্তরের পথ তৈরি করে দিয়েছিল।
প্রশ্নঃ কবে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয?
[ বিসিএস ৩১তম ]
১৭৭৮ থেকে ১৭৮৯ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের নানা উত্তাল ঘটনাধারা ‘ফরাসি বিপ্লব’ নামে ইতিহাস প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ ও দখলের মাধ্যমে জনগণের বিপ্লবী অভ্যুত্থান জয়যুক্ত হয় এবং আজও এই তারিখটি বিশ্বব্যাপী ফরাসি বিপ্লবের দিন হিসেবে পালিত হয়।
প্রশ্নঃ কার্ল মার্কস কোন দেশে মৃত্যুবরণ করেন?
[ বিসিএস ৩১তম ]
সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস ১৮৮৩ সালে যুক্তরাজ্যে মৃত্যুবরণ করে। তিনি ১৮১৮ সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ডাস ক্যাপিটাল’ তার রচিত কালজয়ী গ্রন্থ।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ আলজেরিয়া। ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর Palestine Liberation Organization আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের এক অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়।
প্রশ্নঃ দক্ষিণ আফ্রিকা কত বছর শ্বেতাঙ্গ শাসনে ছিল?
[ বিসিএস ২৮তম ]
আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৪২ বছর শ্বেতাঙ্গ শাসনে ছিল। ১৯৯২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ নীতিকে সরকারিভাবে বিলোপ করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ শ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক (F.W.De Klerk)।
প্রশ্নঃ ফ্রান্সের মহান সম্রাট নেপোলিয়নের জীবনাবসান হয় কোথায়?
[ বিসিএস ২৬তম ]
সম্রাট নেপোলিয়ন ১৮১৫ সালে ওয়াটার লু যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড ওয়েলিংটনের নেতৃত্বে সম্মিলিত বাহিনীর নিকট পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। মিত্রবাহিনী তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেয় এবং সেখানে তিনি ১৮২১ সালে মারা যান।
প্রশ্নঃ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
[ বিসিএস ২৪তম | প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ১৩-০৪-২০১৩ ]
খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (বর্তমান দজলা ও ফোরাত) নদীর তীরে বর্তমান সময়ের ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরানে গড়ে ওঠা সভ্যতাকে মেসোপটেমীয় সভ্যতা নামে অভিহিত করা হয়। মেসোপটেমীয় সভ্যতার চারটি পর্যায় ছিল। এগুলো হলো সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। গ্রিসে গড়ে ওঠে গ্রিক সভ্যতা ও রোমে গড়ে ওঠে রোমান সভ্যতা এবং ভারতে সিন্ধু সভ্যতা।
প্রশ্নঃ ইসরাইল কত সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল?
[ বিসিএস ২৩তম ]
১৯৬৭ সালে তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল প্রতিপক্ষ- মিশর, সিরিয়া ও জর্ডানসহ আরব বিশ্বকে পরাজিত করে গাজা, সিনাই উপদ্বীপ, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রাখে।
প্রশ্নঃ নক্রুমা কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন?
[ বিসিএস ২৩তম ]
কোয়ামে নক্রুমা ঘানার জাতীয়তাবাদী নেতা, প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট এবং উপনিবেশবাদ ও নব্য উপনিবেশবাদের কট্টর বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
প্রশ্নঃ সতীদাহ প্রথা কবে রহিত হয়?
[ বিসিএস ২২তম ]
সতীদাহ প্রথা হলো সহমরণ বিষয়ক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বিশেষ প্রথা। স্বামীর মৃত্যু হলে স্বামীর চিতায় স্ত্রীকে জীবন্ত দাহ করা হতো। রাজা রামমোহন রায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ‘সতীদাহ প্রথা’ রহিত করেন।
প্রশ্নঃ ‘যুদ্ধই জীবন, যুদ্ধই সর্বজনীন’ -এটি কার উক্তি?
[ বিসিএস ২০তম ]
‘যুদ্ধই জীবন, যুদ্ধই সর্বজনীন’ -এই উক্তিটি অ্যাডলফ হিটলারের। তিনি ছিলেন একজন অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ, যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফিউরার ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্ত করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ১৬তম প্রেসিডেন্ট এবং দাস প্রথার চরম বিরোধী। ১৮৬৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাস প্রথাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় তিনি উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন বাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং দক্ষিণের কনফেভারেট জোটকে পরাজিত করেন।
নিউইয়র্কের হাডসন নদীর তীরে অবস্থিত স্ট্যাচু অব লিবার্টি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রতীক এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে প্রদান করে ফ্রান্স। মূর্তিটি ১৮৮৪ সালে প্যারিসে তৈরি সম্পন্ন হয় এবং ১৮৮৫ সালে খণ্ড খণ্ড করে আমেরিকায় পাঠানো হয়। এর উচ্চতা একটি ২২ তলা বিল্ডিং-এর সমান।
প্রশ্নঃ বার্লিনের দেয়াল কত সালে নির্মিত হয়েছিল?
[ বিসিএস ১৬তম ]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ১৯৪৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই জার্মানির প্রকাশ ঘটে। ১৯৬১ সালে দুই জার্মানিকে বিভক্তকারী দেয়াল নির্মাণ করা হয়। সাবেক সোভিয়েত সরকারের আর্থিক সহায়তায় পূর্ব জার্মানি সরকার এ দেয়াল নির্মাণ করে। এর উচ্চতা ছিল ১০ ফুট। দুই জার্মানির একত্রীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৮৯ সালে এ দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়।
দ্বিতীয় ব্শ্বিযুদ্ধের পর জার্মানি বিভক্ত হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে পূর্ব জার্মানি সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়। স্নায়ুযুদ্ধের শেষে ১৯৮৯ সালে দুই জার্মানিকে বিভক্তকারী দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর মাঝরাতে দুই জার্মানি একত্রিত হয়।
প্রশ্নঃ ‘৫০০ দিনের প্ল্যান’ বলতে বোঝায় যে এ সময়ে মধ্যে-
[ বিসিএস ১২তম ]
কমিউনিস্ট অর্থনীতিকে বাজার অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নে যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয় তা হলো ৫০০ দিনের প্লান।
প্রশ্নঃ জাপানের পার্লামেন্টের নাম–
[ বিসিএস ১১তম ]
জাপানের পার্লামেন্টের নাম ডায়েট, নেসেট ইসরাইলের পার্লামেন্টের নাম। সৌদি কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলি (মজলিস আল শুরা আল সৌদ) হলো সৌদি আরবের এবং কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলি (মজলিশ-আল শুরা) কাতারের পার্লামেন্টের নাম।
প্রশ্নঃ যে দেশ এসডিআই প্রতিরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে–
[ বিসিএস ১০তম ]
১৯৮৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত প্রতিরক্ষা কর্মসূচি বা Strategic Defence Initiative কর্মসূচি ঘোষণা করে। মার্কিন সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি একে তারকা যুদ্ধ (Star war) বলে অভিহিত করেন।
প্রশ্নঃ ব্রিটিনের প্রশাসনিক সদর দপ্তরকে বলা হয়–
[ বিসিএস ১০তম ]
ব্রিটেনের প্রশাসনিক সদর দপ্তর হোয়াইট হল লন্ডনে অবস্থিত। এটি ব্রিটেনের রানীর সাবেক সরকারি বাসভবন। ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবে বিখ্যাত ব্রিটিশ নাগরিকদের সমাধিস্থল। বুশ হাউজ বিবিসি’র সাবেক প্রধান কার্যালয়।
কঙ্গোতে দখলদার ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন প্যাট্রিক লুমুম্বা। তিনি জয়লাভ করলে কঙ্গো স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
মধ্য আমেরিকার হ্রদ ও আগ্নেয়গিরির দেশ নিকারাগুয়ার বিদ্রোহী গ্রুপ কন্ট্রা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ অঞ্চলে শান্তি আনয়নে গঠন করে মধ্য আমেরিকায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল (ONUCA) এবং পর্যবেক্ষক দলটি কন্ট্রা বিদ্রোহীদের স্বেচ্ছা তদারক করে। ফলশ্রুতিতে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ায় প্রায় ২২ হাজার কন্ট্রা বিদ্রোহী জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে।