আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ কোথায় শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?

[ বিসিএস ৪২তম ]

ক. ১৯৯৫ সালে ডেনমার্ক
খ. ১৯৮৪ সালে বেলজিয়াম
গ. ১৯৮৫ সালে লুক্সেমবার্গে
ঘ. ১৯৯৬ সালে হাঙ্গেরিতে
উত্তরঃ ১৯৮৫ সালে লুক্সেমবার্গে
ব্যাখ্যাঃ

শেনজেন চুক্তি হলো একটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক চুক্তি যার মাধ্যমে ইউরোপে শেনজেন এলাকা তৈরি হয়েছে। এই এলাকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে বাতিল করা হয়েছে। লুক্সেমবার্গের শেনজেন শহরে ১৯৮৫ সালে এই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে। এটি ইউরোপের মধ্যে ভ্রমণ ও চলাচলের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।

শেনজেন চুক্তির মূল নীতি:

  • অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাতিল: অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সীমান্তগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি বাতিল করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য, যাতে মানুষ অবাধে চলাচল করতে পারে।
  • বহিঃস্থ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়: অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে, শেনজেন এলাকার বাইরের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিন্ন নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রবেশ ও প্রস্থানের নিয়ম, ভিসা নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা।
  • অভিন্ন ভিসা নীতি: একটি অভিন্ন শেনজেন ভিসা ধারককে স্বল্প সময়ের জন্য (যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত) শেনজেন এলাকার মধ্যে অবাধে ভ্রমণের অনুমতি দেয়।
  • পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা: সদস্য দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবেলার জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
  • শেনজেন তথ্য ব্যবস্থা (SIS): একটি বৃহৎ ডেটাবেস যা সদস্য দেশগুলোকে আইন প্রয়োগ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে ব্যক্তি ও পণ্য সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান করতে সহায়তা করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

  • প্রাথমিক চুক্তিটি ১৪ জুন, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (EEC) পাঁচটি সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছিল: বেলজিয়াম, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস এবং পশ্চিম জার্মানি
  • ১৯৯০ সালে, শেনজেন কনভেনশন চুক্তিটিকে আরও বিস্তৃত করে, যেখানে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে বাতিল এবং একটি অভিন্ন ভিসা নীতির প্রস্তাব করা হয়। এই কনভেনশনটিই শেনজেন এলাকার মূল আইনি ভিত্তি।
  • শেনজেন চুক্তি এবং এর বাস্তবায়নকারী কনভেনশন ১৯৯৫ সালে কিছু প্রাথমিক স্বাক্ষরকারীর জন্য কার্যকর হয়।
  • ১৯৯৭ সালের আমস্টারডাম চুক্তি শেনজেন অ্যাকুই (শেনজেন আইনের সমষ্টি) কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে।

গুরুত্ব:

  • অবাধ চলাচল: শেনজেন চুক্তি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক ও বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের পাসপোর্ট পরীক্ষা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ সীমান্ত অতিক্রম করা অনেক সহজ করে তুলেছে।
  • অর্থনৈতিক একত্রীকরণ: মানুষ, পণ্য ও পরিষেবার অবাধ চলাচলকে সহজ করে তোলার মাধ্যমে শেনজেন এলাকা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক একত্রীকরণে অবদান রেখেছে।
  • পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়: ভ্রমণের সহজতা পর্যটন বৃদ্ধি করেছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করেছে।
  • নিরাপত্তা সহযোগিতা: তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে।

সদস্য দেশ:

শেনজেন এলাকা সময়ের সাথে সাথে প্রসারিত হয়েছে এবং বর্তমানে ২৯টি ইউরোপীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • ইইউ সদস্য রাষ্ট্র (২৫): অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেকিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন।
  • নন-ইইউ সদস্য রাষ্ট্র (৪): আইসল্যান্ড, লিচেনস্টেইন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড (এই দেশগুলো সহযোগী চুক্তির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে)।