প্রশ্নঃ সুন্দরবন কোন ধরনের বন?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ১২-০১-২০১০ ]
Related MCQ
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এ ছয়টি ভৌগোলিক হটস্পট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই হটস্পটগুলো হলো:
১. উপকূলীয় অঞ্চল ২. বরেন্দ্র অঞ্চল ৩. খরাপ্রবণ অঞ্চল ৪. নিম্ন জলাভূমি ৫. পাহাড়ি অঞ্চল ৬. শহর অঞ্চল
প্রশ্নঃ ‘Friday For Future’ কোন ধরনের আন্দোলন?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
‘Friday For Future’ হলো একটি জলবায়ু আন্দোলন।
এই আন্দোলনটি সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমে শুরু করে। সে প্রতি শুক্রবার স্কুলে না গিয়ে "স্কুল ধর্মঘট জলবায়ুর জন্য" (Skolstrejk för klimatet) লেখা একটি প্ল্যাকার্ড হাতে পার্লামেন্টের সামনে বসে থাকত।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনে (কপ-২৮)-এর মূল ফোকাস ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।
কপ-২৮ এর প্রধান দিকগুলো ছিল:
- প্রথম বিশ্বব্যাপী স্টকটেক (Global Stocktake) সম্পন্ন করা: প্যারিস চুক্তির আওতায় দেশগুলো তাদের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (Nationally Determined Contributions - NDCs) কতটা অর্জন করেছে, তার একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও ambitious লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
- জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়ে আলোচনা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি। কপ-২৮ এ এই জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত, একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে "জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে যাওয়ার" (transitioning away from fossil fuels) বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়।
- ক্ষয়ক্ষতি তহবিল (Loss and Damage Fund) কার্যকর করা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্বল দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। কপ-২৮ এ এই তহবিলকে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং কিছু দেশ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়।
- জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি: উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সহায়তার জন্য প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কপ-২৮ এ এই প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
- অভিযোজন (Adaptation) এবং স্থিতিস্থাপকতা (Resilience) জোরদার করা: জলবায়ু পরিবর্তনের অনিবার্য প্রভাবগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ: কপ-২৮ এ নাগরিক সমাজ, নারী, যুব, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং আদিবাসীসহ সকলের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়।
মোটকথা, কপ-২৮ এর মূল লক্ষ্য ছিল কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা।
প্রশ্নঃ গ্রীন হাউস গ্যাসের কোন গ্যাস বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে না?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
Chlorofluorocarbons (CFCs) গ্যাস বর্তমানে তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো Montreal Protocol, যা ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে CFC-এর উৎপাদন ও ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কারণ এটি ওজন স্তরের ক্ষয়কারী একটি প্রধান গ্যাস হিসেবে শনাক্ত হয়েছিল।
যদিও CFC-এর নতুন নির্গমন অনেক কমে গেছে, বায়ুমণ্ডলে এর দীর্ঘ জীবনকালের কারণে এটি এখনও বিদ্যমান এবং গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করছে। তবে, অন্যান্য প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O)-এর ঘনত্ব এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ, যেমন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, কৃষিকাজ এবং শিল্প প্রক্রিয়া এর প্রধান কারণ।
প্রশ্নঃ বিশ্বব্যাপী নিচের কোন অর্থনৈতিক খাত থেকে সবচাইতে বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
বিশ্বব্যাপী, বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন খাত থেকে সবচাইতে বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়।
জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল) পোড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তাপ তৈরির প্রক্রিয়াতেই মূলত এই বিপুল পরিমাণ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়।
প্রশ্নঃ IUCN এর কাজ হলো-
[ বিসিএস ৪২তম ]
The International Union for Conservation of Nature (IUCN)-এর প্রধান কাজগুলো হলো:
- বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ: IUCN বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার জন্য কাজ করে।
- বিপন্ন প্রজাতির তালিকা তৈরি ও প্রকাশ: সংস্থাটি "IUCN Red List of Threatened Species" তৈরি করে, যা বিশ্বের বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি মূল্যায়ন করে এবং তাদের সংরক্ষণের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
- টেকসই উন্নয়নের নীতি প্রণয়নে সহায়তা: IUCN পরিবেশগতভাবে টেকসই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নীতি প্রণয়নে বিভিন্ন সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে।
- সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় সহায়তা: জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে "সংরক্ষিত এলাকা" হিসেবে ঘোষণা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে।
- নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা: টেকসই ব্যবহারের নীতি তৈরি, পরিবেশ আইন প্রয়োগ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারগুলোকে সহায়তা করে।
- গবেষণা ও জ্ঞান তৈরি: প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহার সম্পর্কিত वैज्ञानिक গবেষণা পরিচালনা ও জ্ঞান তৈরি করে এবং তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়।
- সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা: প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করে।
- প্রশিক্ষণ প্রদান: স্থানীয় সম্প্রদায়, সরকারি কর্মকর্তা এবং নীতি নির্ধারকদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
সংক্ষেপে, IUCN বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্নঃ কার্টাগানা প্রটোকল কোন সালে সাক্ষরিত হয়?
[ বিসিএস ৪২তম ]
কার্টাগেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol on Biosafety) একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেনেটিকালি পরিবর্তিত জীবের (LMOs: Living Modified Organisms) নিরাপদ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কনভেনশন (CBD) এর একটি সম্পূরক প্রটোকল।
মূল তথ্যসমূহ:
-
পুরো নাম: Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity
-
গৃহীত হয়: ২৯ জানুয়ারি ২০০০, কার্টাগেনা, কলম্বিয়ায়
-
কার্যকর হয়: ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৩
-
বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে: ২০০৪ সালে
-
উদ্দেশ্য:
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় LMOs-এর নিরাপদ স্থানান্তর, পরিচালনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, বিশেষ করে তা এক দেশ থেকে অন্য দেশে রপ্তানির সময়।
প্রোটোকলের মূল লক্ষ্য:
- পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর LMO-র সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধ।
- খাদ্য, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- দেশগুলোকে "অগ্রিম অবহিত সম্মতির (AIA) পদ্ধতি" ব্যবহার করে LMO গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের অধিকার দেওয়া।
প্রশ্নঃ ‘V-20’ গ্রুপ কিসের সাথে সম্পর্কিত?
[ বিসিএস ৪০তম ]
‘V-20’ গ্রুপ হলো Vulnerable Twenty Group-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের প্রতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি দেশের একটি সহযোগিতা উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৫ সালের অক্টোবরে পেরুর লিমায় ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের অধীনে এই জোটটি গঠিত হয়।
বর্তমানে এই গ্রুপে ৬৮টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে, যারা সম্মিলিতভাবে বিশ্বের প্রায় ২০% জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রায় ৫% বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দেশগুলো বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের সম্মুখীন হয়, যেমন - সুপার সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, খরা, দুর্ভিক্ষ, খাদ্য সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বন্যা, ভূমিধস, মরুকরণ এবং তাপপ্রবাহ।
V-20 গ্রুপের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
- সরকারি ও বেসরকারি জলবায়ু অর্থায়নের mobilization বৃদ্ধি করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোত্তম অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা।
- নতুন অর্থায়ন পদ্ধতি তৈরি করা।
- জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে advocacy করা।
এই জোটটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল যোগানের উপর জোর দেয়।
প্রশ্নঃ জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
[ বিসিএস ৪০তম ]
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন হলো জাতিসংঘ সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea - UNCLOS)। এটিকে "সমুদ্রের সংবিধান" নামেও অভিহিত করা হয়। এই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি সমুদ্র এবং এর সম্পদ ব্যবহারের জন্য একটি আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর জামাইকার মন্টেগো বে-তে এটি স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৯৪ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
জাতিসংঘ সমুদ্র আইনের মূল বিষয়গুলো হলো:
- সমুদ্র অঞ্চলের সীমা নির্ধারণ: এই কনভেনশনে বিভিন্ন সমুদ্র অঞ্চলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন - অভ্যন্তরীণ জলসীমা, আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা (Territorial Sea - উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত), সন্নিহিত অঞ্চল (Contiguous Zone - উপকূল থেকে ২৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত), এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (Exclusive Economic Zone - EEZ - উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত), মহীসোপান (Continental Shelf) এবং উন্মুক্ত সমুদ্র (High Seas)।
- রাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্ব: প্রতিটি সমুদ্র অঞ্চলে উপকূলীয় রাষ্ট্র এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের কী কী অধিকার ও দায়িত্ব থাকবে তা এই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন - আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার থাকলেও বিদেশি জাহাজকে "নির্দোষ উত্তরণ"-এর অধিকার দেওয়া হয়েছে। EEZ-এ উপকূলীয় রাষ্ট্র জীব ও অজীব সম্পদের উপর একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করে, তবে অন্যান্য রাষ্ট্র সেখানে জাহাজ চলাচল, বিমান চলাচল এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন স্থাপনের স্বাধীনতা ভোগ করে।
- সমুদ্র সম্পদের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ: এই আইন সমুদ্রের জীবন্ত ও অজীব সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করে।
- সমুদ্র বিজ্ঞান গবেষণা: সমুদ্র বিজ্ঞান গবেষণার অধিকার এবং এর পরিচালনার জন্য নিয়মকানুন উল্লেখ করা হয়েছে।
- বিরোধ নিষ্পত্তি: সমুদ্র আইন সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশও এই কনভেনশনের একটি পক্ষ এবং সমুদ্র আইন অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে তার সমুদ্রসীমা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে সমুদ্র সীমা বিরোধ কোন সংস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল (International Tribunal for the Law of the Sea - ITLOS)-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছিল।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ জার্মানির হামবুর্গ ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য মামলা করে। ২০১২ সালের ১৪ মার্চ ITLOS রায় ঘোষণা করে এবং বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয়, যার ফলে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের প্রায় ১,১১,৬৩১ বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা সমুদ্রসীমা হিসেবে নির্ধারিত হয়। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয় ছিল।
প্রশ্নঃ নিচের কোন ভৌগোলিক এলাকাটি ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃত?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকাটি ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃত।
'রামসার সাইট' হলো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি, যা জলাভূমি ও জলজ পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির (রামসার কনভেনশন) অধীনে মনোনীত করা হয়।
বাংলাদেশে মোট ৩টি এলাকা রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃত:
১. সুন্দরবন (১৯৯২ সালে স্বীকৃত) ২. টাঙ্গুয়ার হাওর (২০০০ সালে স্বীকৃত) ৩. হাকালুকি হাওর (২০০৩ সালে স্বীকৃত)
সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওর একটি রামসার সাইট।
প্রশ্নঃ বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব কোন গ্যাসটি রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে ব্যবহার করা হয়?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
বর্তমানে রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে পরিবেশ-বান্ধব হিসেবে যে গ্যাসগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর মধ্যে প্রধান দুটি হলো:
১. R-600a (আইসোবুটেন): এটি একটি প্রাকৃতিক হাইড্রোকার্বন গ্যাস, যা পরিবেশের জন্য খুবই নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। এর ওজোনস্তর ক্ষয় করার ক্ষমতা (ODP) শূন্য এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে এর প্রভাব (GWP) অত্যন্ত কম। বাংলাদেশে উৎপাদিত বেশিরভাগ ফ্রিজে বর্তমানে এই গ্যাসটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
২. R-134a (টেট্রাফ্লুরো ইথেন): এটি একটি হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFC) গ্যাস। CFC-এর (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) বিকল্প হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি ওজোনস্তর ক্ষয় করে না (ODP শূন্য)। তবে, এর GWP (গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল) R-600a এর চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও, এটি CFC-এর তুলনায় অনেক কম ক্ষতিকর।
কিছু ক্ষেত্রে R-290 (প্রোপেন) গ্যাসও ব্যবহার করা হয়, যা R-600a এর মতোই একটি প্রাকৃতিক রেফ্রিজারেন্ট এবং পরিবেশের জন্য নিরাপদ।
অতীতে ব্যবহৃত CFC (যেমন R-12) এবং HCFC (যেমন R-22) গ্যাসগুলো ওজোনস্তরের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখায় মন্ট্রিল প্রটোকলের আওতায় সেগুলোর ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বিকল্পগুলোর ব্যবহার বাড়ছে।
প্রশ্নঃ নিম্নের কোনটি গ্রিন হাউজ গ্যাস নয়?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ এবং তাদের প্রভাব
গ্রিন হাউজ গ্যাসগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি করে, যা গ্রিন হাউজ প্রভাব নামে পরিচিত। এদের মধ্যে প্রধান গ্যাসগুলো হলো:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$): জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং বন উজাড়ের ফলে এর নির্গমন বাড়ে।
- মিথেন ($CH_4$): কৃষিক্ষেত্রে (যেমন ধানক্ষেত), বর্জ্য পচন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের ফলে এটি নির্গত হয়।
- নাইট্রাস অক্সাইড ($N_2O$): কৃষি, শিল্প প্রক্রিয়া এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দহন থেকে উৎপন্ন হয়।
- জলীয় বাষ্প ($H_2O$): এটি প্রাকৃতিকভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং গ্রিন হাউজ প্রভাবে এর বড় ভূমিকা আছে।
- ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs): রেফ্রিজারেশন এবং অ্যারোসল স্প্রেতে ব্যবহৃত হয় (যদিও এখন এর ব্যবহার সীমিত)।
অক্সিজেন ($O_2$) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে দ্বিতীয় সর্বাধিক পরিমাণে থাকা গ্যাস (প্রায় ২১%) এবং এটি জীবের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অপরিহার্য। তবে, এটি তাপ শোষণ করে গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে না, তাই এটি গ্রিন হাউজ গ্যাস নয়।
প্রশ্নঃ জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP) ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা (WMO) এর মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে-
[ বিসিএস ৩৭তম ]
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP) ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা (WMO) এর মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে IPCC
IPCC এর পূর্ণরূপ হলো Intergovernmental Panel on Climate Change (জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল)।
- প্রতিষ্ঠা: এটি ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- লক্ষ্য: IPCC এর প্রধান লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ, মূল্যায়ন এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে পরিবেশন করা। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব এবং এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্বকে একটি পরিষ্কার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
- কার্যক্রম: এটি নিজে কোনো গবেষণা বা পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করে না, বরং বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থ-সামাজিক তথ্যের মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন তৈরি করে। এই প্রতিবেদনগুলো আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা এবং নীতি প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- পুরস্কার: ২০০৭ সালে IPCC এবং আল গোর যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তাদের কাজ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য।
মাথাপিছু গ্রিনহাউজ গ্যাস উদগীরণে সবচেয়ে বেশি দায়ী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম।
তবে, বিভিন্ন রিপোর্ট এবং সময়কালের উপর নির্ভর করে এই তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু তথ্যে কুয়েত, কাতার বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোকেও মাথাপিছু নির্গমনে অনেক উচ্চ অবস্থানে দেখা যায়, বিশেষ করে যদি প্রতি ব্যক্তির মোট নির্গমনকে বিবেচনা করা হয়।
যদি প্রদত্ত বিকল্পগুলোর (রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, জার্মানি) মধ্যে বিবেচনা করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রই ঐতিহাসিক এবং বর্তমান মাথাপিছু নির্গমনের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকে। চীন মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে বিশ্বের এক নম্বর দেশ হলেও, বিশাল জনসংখ্যার কারণে তাদের মাথাপিছু নির্গমন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কম।
প্রশ্নঃ ধরিত্রী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
১৯৯২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে প্রথম ধরিত্রী সম্মেলন (Earth Summit) অনুষ্ঠিত হয়।
এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন (United Nations Conference on Environment and Development - UNCED) নামে পরিচিত। এই সম্মেলনে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয় এবং এজেন্ডা ২১ (Agenda 21) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি গৃহীত হয়।
এরপর ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দ্বিতীয় ধরিত্রী সম্মেলন এবং ২০১২ সালে আবারও ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে তৃতীয় ধরিত্রী সম্মেলন (Rio+20) অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্নঃ বিশ্বব্যাংক অনুযায়ী ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সাহায্যের কত শতাংশ বাংলাদেশকে প্রদান করবে?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হচ্ছে। তাই এই ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সাহায্যের ৩০% বাংলাদেশকে প্রদান করবে।
প্রশ্নঃ কার্টাগেনা প্রটোকল হচ্ছে -
[ বিসিএস ৩৫তম ]
কার্টাগেনা প্রটোকল হলো জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত কনভেনশন (Convention on Biological Diversity - CBD)-এর একটি সম্পূরক চুক্তি।
এর পুরো নাম হলো 'কার্টাগেনা প্রটোকল অন বায়োসেফটি টু দ্য কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি' (Cartagena Protocol on Biosafety to the Convention on Biological Diversity)।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো:
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি জীবন্ত পরিবর্তিত জীব (Living Modified Organisms - LMOs)-এর নিরাপদ হস্তান্তর, পরিবহন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- এসব LMOs দ্বারা জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যকে রক্ষা করা।
এটি ২০০০ সালের ২৯শে জানুয়ারি গৃহীত হয় এবং ২০০৩ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
ওজোনস্তর বিষয়ক মন্ট্রিল প্রটোকল ১৯৮৯ সালে কার্যকর হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে।
বিভিন্ন উৎস অনুযায়ী, মন্ট্রিল প্রটোকল এ পর্যন্ত ৯ বার পর্যন্ত সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য সংশোধনীটি ছিল ২০১৬ সালের কিগালি সংশোধনী।
সংশোধনীর প্রধান তারিখগুলো হলো:
- ১৯৯০ (লন্ডন)
- ১৯৯২ (কোপেনহেগেন)
- ১৯৯৫ (ভিয়েনা) - এটি অ্যাডজাস্টমেন্ট ছিল, অ্যামেন্ডমেন্ট নয়।
- ১৯৯৭ (মন্ট্রিল)
- ১৯৯৯ (বেইজিং)
- ২০০৭ (মন্ট্রিল) - এটি অ্যাডজাস্টমেন্ট ছিল।
- ২০১৬ (কিগালি)
গ্রিনহাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ নিমজ্জিত হবে।
প্রশ্নঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি?
[ বিসিএস ২৮তম ]
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান তিনটি উপাদান হচ্ছে মাটি, বায়ু ও পানি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাটি, বায়ু ও পানিই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় দূষিত হচ্ছে। কাজেই বলা যায় যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
প্রশ্নঃ ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সর্বপ্রথম কোন হারিকেনটি আঘাত হানে?
[ বিসিএস ২৭তম ]
২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঙ্গরাজ্য লুইজিয়ানার 'গ্র্যান্ড ইল' এলাকায় প্রথম আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় 'ক্যাটরিনা'।
ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে। ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে।
প্রশ্নঃ জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ সব চাইতে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে-
[ বিসিএস ২৬তম ]
জৈব জ্বালানি কার্বনঘটিত যৌগ। এগুলো বায়ুমণ্ডলে দহনের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বায়ুতে মিশে যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে তৈরি গ্রিন হাউস গ্যাসে কার্বন-ডাই অক্সাইড ৪৯%, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি ১৪%, মিথেন ১৮%, নাইট্রাস অক্সাইড ৬% ও অন্যান্য গ্যাস ১৩% থাকে। এদের মধ্যে কলকারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রশ্নঃ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ কোনটি?
[ বিসিএস ২২তম ]
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ কোনটি, তা বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়। এই সংস্থার বিচারে সাধারণত সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সোমালিয়া, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, ইত্যাদি দেশগুলো উল্লেখযোগ্য। তবে, এই তালিকা প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুর্নীতির মাত্রা নিয়ে কাজ করে। তারা প্রতি বছর একটি তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে কোন দেশে কত মাত্রায় দুর্নীতি হয়, তা উল্লেখ করা হয়। এই তালিকা তৈরিতে তারা বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মতামত ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে।
প্রশ্নঃ গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া এই দেশের জন্য ভয়াবহ আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে–
[ বিসিএস ২২তম ]
গ্রিন হাউসের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী গ্যাসের পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ নিমজ্জিত হবে।
প্রশ্নঃ আমাদের দেশে বনায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ–
[ বিসিএস ২২তম ]
গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে একটা ভারসাম্য অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
গ্রিন হাউজের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী গ্যাসের পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ নিমজ্জিত হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে, যেকোনো দেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ভূমির ২৫% বনভূমি থাকা আবশ্যক। বর্তমানে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৭.০৮% (প্রায়)। FAO-এর মতে বাংলাদেশে বনভূমি রয়েছে মোট ভূমির ১১% (প্রায়)।
প্রশ্নঃ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির প্রধান কারণ কি?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৯-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ 'বিশ্ব পরিবেশ দিবস' কবে পালন করা হয়?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৯-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোনো দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৯-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সরকার কোন সালে 'জাতীয় পরিবেশ নীতি' ঘোষণা করে?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৮-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৮-০২-২০১২ ]
প্রশ্নঃ পৃথিবীতে সর্বোচ্চ কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণকারী দেশ -
[ রে. বে. প্রা. স. শি. নি. ১০-১২-২০১১ ]
প্রশ্নঃ গ্রিন পিস কী?
[ ১৮তম বে. প্রভাষক নিবন্ধন ]