প্রশ্নঃ সার্ক কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়?
[ ১১তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
Related MCQ
জি-৭৭ (Group of 77) হলো উন্নয়নশীল দেশসমূহের একটি বৈশ্বিক জোট, যা ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই জোটের সদস্য সংখ্যা ১৩৪টি দেশ। তবে, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এর নাম এখনও জি-৭৭ রাখা হয়েছে।
জি-৭৭-এর সদস্য দেশসমূহের মধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করা।
উল্লেখযোগ্য যে, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে জি-৭৭-এর পূর্ণ সদস্য নয়, তবে এটি জি-৭৭-এর সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং অনেক সময় "জি-৭৭ ও চীন" নামে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্নঃ কোথায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (European Central Bank - ECB) জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ TIFA এর পূর্ণরূপ কী?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
TIFA এর পূর্ণরূপ হলো Trade and Investment Framework Agreement.
এটি একটি বাণিজ্যিক চুক্তি যা দুটি দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অমীমাংসিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কাঠামো তৈরি করে।
প্রশ্নঃ কোন দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তর হলো খঃ আলজেরিয়া।
আলজেরিয়া একটি উত্তর আফ্রিকার দেশ এবং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো হলো:
- কঃ সাইপ্রাস - এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।
- গঃ এস্তোনিয়া - এটিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।
- ঘঃ মাল্টা - এটিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।
প্রশ্নঃ নিচের কোন দেশটি ডি-৮ এর সদস্য নয়?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হল কঃ জর্ডান।
ডি-৮ (Developing 8) হল আটটি উন্নয়নশীল মুসলিম প্রধান দেশের একটি অর্থনৈতিক জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো:
- বাংলাদেশ
- মিশর
- ইন্দোনেশিয়া
- ইরান
- মালয়েশিয়া
- নাইজেরিয়া
- পাকিস্তান
- তুরস্ক
সুতরাং, জর্ডান ডি-৮ এর সদস্য নয়।
World Economic Forum-এর বাৎসরিক অধিবেশন সাধারণত সুইজারল্যান্ডের দাভোসে (Davos) অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই অধিবেশন বসে, যেখানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ, এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
দাভোস সুইজারল্যান্ডের গ্রাউবুন্ডেন ক্যান্টনের একটি পর্বত রিসোর্ট শহর। বহু বছর ধরে এই শহরটিই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্নঃ জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরােধী কনভেনশনের নাম-
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হল গঃ UNCAC।
UNCAC এর পূর্ণরূপ হল United Nations Convention against Corruption। এটি জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন নামে পরিচিত।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর পূর্ণরূপ হলো:
- UNCLOS: United Nations Convention on the Law of the Sea (জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন)
- UNCTAD: United Nations Conference on Trade and Development (জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন)
- CEDAW: Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women (নারী সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ)
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (Transparency International - TI) একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (Non-Governmental Organization - NGO)। এর প্রধান কাজ হলো বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করা। সংস্থাটি ১৯৯৩ সালে জার্মানির বার্লিনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মূল উদ্দেশ্য:
- দুর্নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও কার্যক্রমের পক্ষে সমর্থন তৈরি করা।
- বিভিন্ন দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় উদ্যোগকে উৎসাহিত ও সমর্থন করা।
- সরকার, ব্যবসা এবং সুশীল সমাজের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় সাধন করা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম:
প্রশ্নঃ নিম্নের কোনটি জাতিসংঘের সংস্থা নয়?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল কঃ আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম (ARF)।
আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম (ASEAN Regional Forum - ARF) আসিয়ান জোটভুক্ত দেশ এবং এর সংলাপ অংশীদারদের নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরাম। এটি জাতিসংঘের কোনো সংস্থা নয়।
অন্যদিকে:
- আঞ্চলিক শ্রম সংস্থা (ILO) - এটি হবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organization - ILO), যা জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা।
- আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD) - এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা।
- খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) - এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা।
প্রশ্নঃ World Development Report কোন সংস্থার বার্ষিক প্রকাশনা?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল খঃ World Bank।
World Development Report (WDR) বিশ্ব ব্যাংকের (World Bank) বার্ষিক প্রকাশনা। প্রতি বছর এই রিপোর্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
প্রশ্নঃ কোনটি “Bretton Woods Institutions” এর অন্তর্ভুক্ত?
[ বিসিএস ৪২তম ]
সঠিক উত্তর হলো খঃ IMF (International Monetary Fund)।
"Bretton Woods Institutions" বলতে মূলত দুটি সংস্থাকে বোঝানো হয়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডস নামক স্থানে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল:
১. International Monetary Fund (IMF): আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এর প্রধান কাজ হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোকে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
২. World Bank: বিশ্ব ব্যাংক। এর প্রধান লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
আপনার দেওয়া অন্যান্য বিকল্পগুলো "Bretton Woods Institutions"-এর অন্তর্ভুক্ত নয়:
- IDB (Inter-American Development Bank): এটি ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করা একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক।
- WTO (World Trade Organization): বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়মকানুন নির্ধারণ এবং তত্ত্বাবধান করে। এটি ১৯৯৫ সালে General Agreement on Tariffs and Trade (GATT)-এর উত্তরসূরি হিসেবে গঠিত হয়।
- ADB (Asian Development Bank): এটি এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক।
প্রশ্নঃ D-8 Organization for Economic Cooperation বা D8 এর দশম শীর্ষ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিট হবে?
[ বিসিএস ৪২তম ]
D-8 Organization for Economic Cooperation, যা Developing-8 নামেও পরিচিত, বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক একটি সংস্থা। ১৯শে ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আজারবাইজান নবম সদস্য হিসেবে এই সংস্থায় যোগদান করে।
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
এই সংস্থা নিম্নলিখিত নীতিগুলির উপর ভিত্তি করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে:
- সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি
- মুখোমুখির পরিবর্তে আলোচনা
- শোষণের পরিবর্তে সহযোগিতা
- দ্বৈত মানদণ্ডের পরিবর্তে ন্যায়বিচার
- বৈষম্যের পরিবর্তে সমতা
- নিপীড়নের পরিবর্তে গণতন্ত্র
প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে (ইস্তাম্বুল, ১৯৯৭) ডি-৮ এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, যা নিম্নলিখিত নীতিগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ:
- সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রসার নিশ্চিত করা।
- বিশ্ব অর্থনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থান উন্নত করা।
- বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করা।
- আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
- জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
সংস্থাটি অর্থনীতি, ব্যাংকিং, গ্রামীণ উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মানব উন্নয়ন, কৃষি, জ্বালানি, পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে থাকে।
D-8 এর সদস্য দেশসমূহ:
- বাংলাদেশ
- মিশর
- ইন্দোনেশিয়া
- ইরান
- মালয়েশিয়া
- নাইজেরিয়া
- পাকিস্তান
- তুরস্ক
- আজারবাইজান (ডিসেম্বর ২০২৪ এ যোগদান করেছে)
D-8 একটি বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থা, কোনো আঞ্চলিক সংস্থা নয়। এর সদস্যপদ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত, যারা এই সংস্থার উদ্দেশ্য ও নীতিগুলোর সাথে একমত পোষণ করে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক রাখে।
প্রশ্নঃ WIPO এর সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪২তম ]
WIPO এর পূর্ণরূপ হল World Intellectual Property Organization (বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা)। এটি জাতিসংঘের ১৫টি বিশেষায়িত সংস্থার মধ্যে একটি। ১৯৬৭ সালের WIPO কনভেনশন অনুসারে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে মেধা সম্পদের (যেমন: উদ্ভাবন, ট্রেডমার্ক, শিল্প নকশা, কপিরাইট ইত্যাদি) প্রচার ও সুরক্ষার জন্য এই সংস্থাটি গঠিত হয়েছে। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে অবস্থিত।
WIPO এর প্রধান কাজগুলো হলো:
- আন্তর্জাতিক মেধাসম্পদ আইনের উন্নয়ন ও সমন্বয় করা।
- মেধাসম্পদ সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং নীতি প্রণয়ন করা।
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে মেধাসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করা।
- মেধাসম্পদ সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যা সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করা।
- বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেধাসম্পদ সুরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা, যেমন:
- প্যাটেন্ট কো-অপারেশন ট্রিটি (PCT): আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্যাটেন্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করে।
- মাদ্রিদ সিস্টেম: একযোগে বহু দেশে ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
- হেগ সিস্টেম: আন্তর্জাতিক শিল্প নকশা নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে।
- লিসবন সিস্টেম: উৎপত্তির ভৌগোলিক চিহ্নের সুরক্ষার জন্য কাজ করে।
- মেধাসম্পদ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প উপায় সরবরাহ করা, যেমন মধ্যস্থতা ও সালিশ।
- মেধাসম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা।
বর্তমানে ১৯৩টি রাষ্ট্র WIPO এর সদস্য। ফিলিস্তিনের পর্যবেক্ষকের মর্যাদা রয়েছে। WIPO বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি পরিচালনা করে এবং নীতি নির্ধারণী ফোরাম হিসেবে কাজ করে, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের মেধাসম্পদ সংক্রান্ত নীতি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সংস্থাটি বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে মেধাসম্পদ বিষয়ে জ্ঞান এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।
লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি (ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা) শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন।
ঐতিহাসিক এই সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। এর আগে, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতা লাভের পর অনেক মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা বোধ করেছিল। বঙ্গবন্ধুর এই সফর বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য ছিল।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (Transparency International) একটি জার্মানি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। এর সদর দপ্তর জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত। সংস্থাটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কাজ করে।
জাতিসংঘের UNCTAD (United Nations Conference on Trade and Development) সংস্থা বার্ষিক বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
UNCTAD মূলত বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) প্রবাহ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে, যা বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কোন সালে গঠিত হয়?
[ বিসিএস ৪১তম ]
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (International Monetary Fund - IMF) হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। এর প্রধান কাজ হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো, উচ্চ কর্মসংস্থান এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য কমানো।
প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম:
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডস সম্মেলনে একটি চুক্তির মাধ্যমে আইএমএফ প্রতিষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৪৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর।
- সদস্যপদ: বর্তমানে (মে ২০২৫) ১৯০টি দেশ আইএমএফের সদস্য।
- সদর দপ্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
- কার্যক্রম: আইএমএফ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:
- অর্থনৈতিক নজরদারি: সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর নজরদারি রাখা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে নীতি পরামর্শ দেওয়া।
- আর্থিক সহায়তা: ব্যালেন্স অব পেমেন্টের সমস্যায় পড়া সদস্য দেশগুলোকে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এই ঋণের শর্তের বিনিময়ে দেশগুলোকে কিছু নীতি সংস্কার করতে হয়।
- কারিগরি সহায়তা: সদস্য দেশগুলোকে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা, মুদ্রা ও আর্থিক নীতি, এবং পরিসংখ্যানের মতো বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
উদ্দেশ্য:
আইএমএফের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মুদ্রা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতা দূর করতে সহায়তা করা।
- বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- সদস্য দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা।
বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৭ই আগস্ট আইএমএফের সদস্যপদ লাভ করে।
প্রশ্নঃ Alliance যে দেশে ভিত্তিক গার্মেন্টস ব্রান্ডগুলোর সংগঠন-
[ বিসিএস ৪০তম ]
"Alliance for Bangladesh Worker Safety" (AFBWS) ছিল উত্তর আমেরিকার পোশাক কোম্পানি এবং ব্র্যান্ডগুলোর একটি জোট। এই জোটটি ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States) ভিত্তিক ছিল এবং এর প্রধান কার্যালয়ও সেখানেই অবস্থিত ছিল।
এই জোটটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত হয়েছিল, বিশেষ করে ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের পর। "Alliance" একটি পাঁচ বছর মেয়াদী, আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক উদ্যোগ ছিল যার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ও ভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।
সুতরাং, Alliance মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিত্তিক গার্মেন্টস ব্র্যান্ডগুলোর একটি সংগঠন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (OIC)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এই সম্মেলনটি ১৯৭৪ সালের ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সম্মেলনের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ৩২তম দেশ হিসেবে OIC-এর সদস্যপদ লাভ করে।
প্রশ্নঃ BRICS কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের নাম হচ্ছে-
[ বিসিএস ৪০তম ]
BRICS কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটির নাম হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (New Development Bank - NDB)।
অতীতে এটি ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক নামেও পরিচিত ছিল। এই ব্যাংকটি ব্রিকস রাষ্ট্রসমূহ - ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ব্রিকস এবং অন্যান্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করা।
ব্যাংকটির সদর দপ্তর চীনের সাংহাইতে অবস্থিত। বাংলাদেশও ২০২১ সালে এই ব্যাংকের সদস্যপদ লাভ করেছে।
প্রশ্নঃ নিচের কোন সংস্থাটির সচিবালয় বাংলাদেশে অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪০তম ]
BIMSTEC (Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation)-এর সচিবালয় বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত।
অন্যান্য সংস্থাগুলোর সচিবালয় যেখানে অবস্থিত:
- CICA (Conference on Interaction and Confidence Building Measures in Asia): এর সচিবালয় কাজাখস্তানের আস্তানায় অবস্থিত।
- IORA (Indian Ocean Rim Association): এর সচিবালয় মরিশাসের ইবেনে অবস্থিত।
- SAARC (South Asian Association for Regional Cooperation): এর সচিবালয় নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ নিচের কোন সংস্থাটির স্থায়ী সদর দপ্তর নেই?
[ বিসিএস ৪০তম ]
NAM (Non-Aligned Movement)-এর কোনো স্থায়ী সদর দপ্তর নেই।
NAM-এর প্রশাসনিক কার্যক্রম ঘূর্ণায়মান এবং কোনো স্থায়ী কাঠামো বাHierarchy অনুসরণ করে না। এর চেয়ারপারসন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত হন এবং চেয়ারের মেয়াদকালে সেই রাষ্ট্রই কার্যত নেতৃত্ব দেয়। NAM-এর একটি সমন্বয়কারী ব্যুরো (Coordinating Bureau) রয়েছে, যা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অবস্থিত, তবে এটি কোনো স্থায়ী সদর দপ্তর নয়।
অন্যান্য সংস্থাগুলোর স্থায়ী সদর দপ্তর রয়েছে:
- NATO (North Atlantic Treaty Organization): ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- EU (European Union): ব্রাসেলস, বেলজিয়াম (কার্যত রাজধানী হিসেবে বিবেচিত)।
- ASEAN (Association of Southeast Asian Nations): জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া।
প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোথায় ওপেক এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
১৯৬০ সালে ওপেক (OPEC - Organization of the Petroleum Exporting Countries) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় এর সদর দপ্তর প্রাথমিকভাবে জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে স্থাপিত হয়েছিল।
তবে, ১৯৬৬ সালে এর সদর দপ্তর জেনেভা থেকে ভিয়েনা, অস্ট্রিয়াতে স্থানান্তরিত হয়, এবং তখন থেকেই ভিয়েনা ওপেকের স্থায়ী সদর দপ্তর।
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC - Organization of Islamic Cooperation) এর দাপ্তরিক ভাষা হলো:
১. আরবি ২. ইংরেজি ৩. ফরাসি
প্রশ্নঃ কোনটি জাতিসংঘের সহযোগী নয়?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
ASEAN (আশিয়ান) জাতিসংঘের সহযোগী নয়।
ব্যাখ্যা:
- আই.এল.ও (ILO - International Labour Organization): এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শ্রম মান নির্ধারণ এবং শ্রম অধিকার উন্নয়নে কাজ করে।
- হু (WHO - World Health Organization): এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
- ASEAN (আশিয়ান - Association of Southeast Asian Nations): এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের একটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা। এটি জাতিসংঘের কোনো সহযোগী বা বিশেষায়িত সংস্থা নয়, বরং একটি স্বাধীন আঞ্চলিক জোট।
প্রশ্নঃ সার্কের সদর দপ্তর কোথায়?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
সার্কের (SAARC - South Asian Association for Regional Cooperation) সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
যদিও সার্ক ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এর স্থায়ী সচিবালয় বা সদর দপ্তর ১৯৮৭ সালের ১৭ জানুয়ারি নেপালের কাঠমান্ডুতে স্থাপন করা হয়।
১৯৯৫ সালটি ছিল জাতিসংঘ (United Nations) এর ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা গোল্ডেন জুবিলি।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সালে। তাই, ১৯৯৫ সাল তার ৫০ বছর পূর্তি হিসেবে পালিত হয়েছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) যা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ ও প্রচারে কাজ করে। তাদের প্রধান কাজ হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা, জনসচেতনতা তৈরি করা এবং সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার রক্ষায় চাপ সৃষ্টি করা। তারা বিবেকবন্দী (Prisoners of Conscience) ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য প্রচারণা চালায়, নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কাজ করে।
প্রশ্নঃ UNHCR-এর সদর দপ্তর কোথায়?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
ইউএনএইচসিআর (UNHCR) হলো জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (United Nations High Commissioner for Refugees)। এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায় এবং রাষ্ট্রবিহীন মানুষদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করে।
প্রতিষ্ঠা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সৃষ্ট ব্যাপক শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ১৯৫০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউএনএইচসিআর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধকালীন শরণার্থীদের পুনর্বাসনে সহায়তা করা। ১৯৫১ সালে 'শরণার্থীদের অবস্থা সম্পর্কিত কনভেনশন' (১৯৫১ শরণার্থী কনভেনশন) গৃহীত হওয়ার পর এটি আরও সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট লাভ করে।
সদর দপ্তর: ইউএনএইচসিআর-এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অবস্থিত।
মূল কাজ ও উদ্দেশ্য: ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান কাজগুলো হলো:
১. সুরক্ষা প্রদান: যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যারা নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে (শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি, রাষ্ট্রবিহীন ব্যক্তি), তাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন থেকে সুরক্ষা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সহিংসতা ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা থেকে রক্ষা করা।
২. মানবিক সহায়তা: আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করা।
৩. দীর্ঘমেয়াদী সমাধান: বাস্তুচ্যুতদের জন্য স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা। এর তিনটি প্রধান উপায় হলো:
- স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন: যখন নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তখন শরণার্থীদের তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করা।
- স্থানীয় সংহতকরণ: যদি নিজ দেশে ফেরা সম্ভব না হয়, তবে আশ্রয়দানকারী দেশেই তাদের স্থানীয় সমাজে সংহত হতে সহায়তা করা।
- তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন: খুব সীমিত ক্ষেত্রে, যদি প্রত্যাবাসন বা স্থানীয় সংহতকরণ কোনোটিই সম্ভব না হয়, তবে তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন করা।
৪. রাষ্ট্রবিহীনতা দূর করা: রাষ্ট্রবিহীন ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব লাভে সহায়তা করা এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিহীনতা প্রতিরোধের জন্য কাজ করা।
৫. আইনি কাঠামো তৈরি ও প্রয়োগ: আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন (যেমন ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন) এবং রাষ্ট্রবিহীনতা সম্পর্কিত কনভেনশনগুলোর বাস্তবায়ন ও অনুসরণ নিশ্চিত করা।
৬. সচেতনতা বৃদ্ধি ও অ্যাডভোকেসি: বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সংকট সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শরণার্থী অধিকারের পক্ষে ও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার পক্ষে ওকালতি করা।
World Development Report (ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট) হলো বিশ্বব্যাংকের (World Bank) একটি বার্ষিক প্রকাশনা।
প্রতি বছর বিশ্বব্যাংক এই রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নির্দিষ্ট কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ এবং ডেটা উপস্থাপন করা হয়। ১৯৭৮ সাল থেকে এটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে এবং উন্নয়ন অর্থনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত।
প্রশ্নঃ IMF-এর সদর দপ্তর অবস্থিত-
[ বিসিএস ৩৭তম ]
IMF (International Monetary Fund) এর সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডি.সি. শহরে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ বিশ্বব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোন সংস্থাটি স্বল্প আয়ের উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি খাতে আর্থিক সহায়তা ও উপদেশ দিয়ে থাকে?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
বিশ্বব্যাংক সংশ্লিষ্ট যে সংস্থাটি স্বল্প আয়ের উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি খাতে আর্থিক সহায়তা ও উপদেশ দিয়ে থাকে, সেটি হলো আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশন (International Finance Corporation - IFC)।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পাঁচটি সংস্থার মধ্যে IFC একটি। এর প্রধান লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেসরকারি খাতের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করা। IFC বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা (যেমন: ঋণ, ইক্যুইটি বিনিয়োগ) এবং পরামর্শ সেবা প্রদান করে, যাতে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, উদ্ভাবনী সমাধান আনতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটাতে পারে। এটি বিশেষ করে কঠিন বিনিয়োগ পরিবেশে কাজ করতে আগ্রহী।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অন্যান্য সংস্থাগুলো হলো:
- International Bank for Reconstruction and Development (IBRD): মধ্যম আয়ের এবং ঋণগ্রহীতা দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করে।
- International Development Association (IDA): বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোকে অনুদান ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করে।
- Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA): উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগে রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা (Political Risk Insurance) প্রদান করে।
- International Centre for Settlement of Investment Disputes (ICSID): আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশি ও মধ্যস্থতা পরিষেবা প্রদান করে।
প্রশ্নঃ BRICS এর সদর দপ্তর কোথায়?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
BRICS হলো উদীয়মান জাতীয় অর্থনীতির পাঁচটি দেশের একটি জোটের নাম। এর সদস্য দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সংস্থাটি গঠিত হয় ২০০৮ সালে। এর কোনো সদর দপ্তর নেই।
প্রশ্নঃ SDR (Special Drawing Rights) সুবিধা প্রবর্তনের জন্য কত সালে IMF এর গঠনতন্ত্র (Articles) সংশোধন করা হয়েছিল?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
IMF এর গঠনতন্ত্র (Articles of Agreement) বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে:
১. প্রথম সংশোধনী (১৯৬৯ সাল): এই সংশোধনীটি Special Drawing Rights (SDR) সুবিধা প্রবর্তনের জন্য করা হয়েছিল। এটি আন্তর্জাতিক তারল্য সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
২. দ্বিতীয় সংশোধনী (১৯৭৮ সাল): এই সংশোধনীটি মূলত ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট সিস্টেমকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। ব্রেটন উডস ব্যবস্থার অধীনে স্থির বিনিময় হার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়। এটি স্বর্ণের আনুষ্ঠানিক ভূমিকা বাতিল করে এবং সদস্য দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার নীতিতে আইএমএফের নজরদারি (surveillance) জোরদার করে।
৩. সাম্প্রতিক সংশোধনী (২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর গৃহীত, ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যকর): এই সংশোধনীটি আইএমএফের গভর্ন্যান্স কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে, বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কোটা (Quotas) এবং ভোটিং ক্ষমতা বাড়ানো হয়, যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা প্রতিফলিত হয়।
সংক্ষেপে, IMF এর গঠনতন্ত্রে মোট সাতবার সংশোধনী আনা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথমটি ছিল ১৯৬৯ সালে SDR প্রবর্তনের জন্য।
প্রশ্নঃ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর শীর্ষ পদটি কি?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর শীর্ষ পদটি হলো Administrator (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর)।
তিনিই ইউ.এন.ডি.পি-এর প্রধান কার্যনির্বাহী। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর শীর্ষ পদটি হলো প্রশাসক (Administrator)।
প্রশ্নঃ আরব লীগ প্রতিষ্ঠা পায়–
[ বিসিএস ৩৬তম ]
আরব লীগ (League of Arab States) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৫ সালের ২২ মার্চ।
এটি মিশরের কায়রোতে ছয়টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রগুলো ছিল: মিশর, ইরাক, লেবানন, সৌদি আরব, সিরিয়া এবং ট্রান্সজর্ডান (যা পরে জর্ডান হয়)। এরপর ৫ মে ১৯৪৫ সালে ইয়েমেন আরব লীগে যোগদান করে।
এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পারস্পরিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। আরব লীগের সদর দপ্তর মিশরের কায়রোতে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ বর্তমানে NAM-এর সদস্য সংখ্যা–
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বর্তমানে NAM (Non-Aligned Movement) বা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন-এর সদস্য দেশের সংখ্যা হচ্ছে ১২০টি দেশ
এছাড়াও:
- ১৭টি পর্যবেক্ষক দেশ
- ১০টি পর্যবেক্ষক সংস্থা
NAM বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর একটি, যা মূলত ঠাণ্ডা যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার লক্ষ্যে।
প্রশ্নঃ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস-এর সদর দপ্তর:
[ বিসিএস ৩৬তম ]
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস হলো একটি বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদী আন্দোলন, যা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা এবং তাদের মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করে। এটি কয়েকটি স্বতন্ত্র সংগঠন নিয়ে গঠিত, তবে তারা একই মৌলিক নীতি ও উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত হয়।
প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা:
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস আন্দোলনের মূল ধারণা আসে ১৮৫৯ সালে সলফেরিনোর যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে। সুইস ব্যবসায়ী ও মানবতাবাদী অঁরি দ্যুনঁ (Henry Dunant) যুদ্ধাহত সৈন্যদের দুর্দশা দেখে গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং তাদের সাহায্য করার জন্য একটি নিরপেক্ষ সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- প্রতিষ্ঠা: ১৮৬৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় "আন্তর্জাতিক কমিটি ফর রিলিফ টু দ্য ওয়ান্ডেড" (International Committee for Relief to the Wounded) নামে একটি কমিটি গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রস (ICRC) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- প্রতিষ্ঠাতা: অঁরি দ্যুনঁ এবং গ্যুস্তাভ মোয়ানিয়ে সহ আরও চারজন মিলে এই কমিটি গঠন করেন।
সদর দপ্তর ও মূলনীতি:
- সদর দপ্তর: আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (ICRC) সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
- মূলনীতি: রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন সাতটি মৌলিক নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়: ১. মানবতা (Humanity): মানুষের দুঃখ-দুর্দশা প্রতিরোধ ও উপশম করা। ২. পক্ষপাতহীনতা (Impartiality): জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতবাদ নির্বিশেষে কেবল প্রয়োজনের ভিত্তিতে সাহায্য করা। ৩. নিরপেক্ষতা (Neutrality): সকলের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, জাতিগত, ধর্মীয় বা আদর্শগত বিতর্কে জড়িয়ে না পড়া। ৪. স্বাধীনতা (Independence): যদিও এটি সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে, তবে এর কার্যক্রমের মৌলিক লক্ষ্য বজায় রাখার জন্য স্বাধীন থাকা। ৫. স্বেচ্ছাসেবা (Voluntary Service): কোনো প্রকার ব্যক্তিগত বা দলগত লাভের আশা ছাড়া স্বেচ্ছায় কাজ করা। ৬. একতা (Unity): প্রতিটি দেশে কেবল একটিই রেড ক্রস বা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থাকবে। ৭. সর্বজনীনতা (Universality): বিশ্বব্যাপী একটি সর্বজনীন আন্দোলন হিসেবে সমমর্যাদা ও দায়িত্ব পালন করা।
প্রধান কাজ:
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের মূল কাজগুলো হলো:
- যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা ও সহায়তা প্রদান।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা।
- নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও পরিবারের পুনর্মিলনে সহায়তা করা।
- আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (International Humanitarian Law - IHL) প্রচার ও প্রয়োগে সহায়তা করা।
- দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমে সহায়তা করা।
অঁরি দ্যুনঁ-এর জন্মদিন, ৮ মে, বিশ্বজুড়ে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস হিসেবে পালিত হয়।
প্রশ্নঃ IAEA-এর সদর দপ্তর হচ্ছে:
[ বিসিএস ৩৬তম ]
IAEA-এর পূর্ণরূপ হলো International Atomic Energy Agency বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। এটি জাতিসংঘের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এবং সামরিক উদ্দেশ্যে এর ব্যবহার (বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার) প্রতিরোধে কাজ করে।
প্রতিষ্ঠার পটভূমি:
১৯৫৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে "এটমস ফর পিস" (Atoms for Peace) প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পারমাণবিক প্রযুক্তির ধ্বংসাত্মক দিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। এই ধারণার ভিত্তিতেই ১৯৫৭ সালের ২৯ জুলাই IAEA প্রতিষ্ঠিত হয়।
সদর দপ্তর:
IAEA-এর সদর দপ্তর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত।
মূল কাজ ও উদ্দেশ্য:
IAEA-এর প্রধান কাজগুলো তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলোকে প্রায়শই "থ্রি পিলারস" বলা হয়:
১. নিরাপত্তা ও যাচাই (Safeguards and Verification):
- এটি IAEA-এর সবচেয়ে পরিচিত কাজ। সংস্থাটি পারমাণবিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যাতে সামরিক উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করে (যেমন: পরিদর্শন, তথ্য বিশ্লেষণ)।
- পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (Non-Proliferation Treaty - NPT) বাস্তবায়নে IAEA একটি মূল ভূমিকা পালন করে।
২. নিরাপত্তা ও সুরক্ষা (Safety and Security):
- পারমাণবিক স্থাপনা এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং এমন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা উন্নত করা।
- পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি ও প্রয়োগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা করা।
৩. পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ প্রয়োগ (Peaceful Applications of Nuclear Technology):
- সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে, স্বাস্থ্য, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প এবং জ্বালানি উৎপাদন (যেমন: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও উন্নয়নে সহায়তা করা।
- পারমাণবিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করা।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- সদস্য সংখ্যা: বর্তমানে IAEA-এর সদস্য সংখ্যা ১৭৮টি (এপ্রিল, ২০২৪ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী)।
- নোবেল শান্তি পুরস্কার: ২০০৫ সালে IAEA এবং এর তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ এলবারাদেই (Mohamed ElBaradei) যৌথভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে তাদের প্রচেষ্টার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
সংক্ষেপে, IAEA বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে, যাতে মানবজাতির কল্যাণে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায় এবং এর ধ্বংসাত্মক অপব্যবহার রোধ করা যায়।
প্রশ্নঃ সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়:
[ বিসিএস ৩৬তম ]
সার্ক (SAARC - South Asian Association for Regional Cooperation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটি গঠিত হয়েছিল। এর সদর দপ্তর নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে ৭টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, ২০০৭ সালে আফগানিস্তান এর অষ্টম সদস্য হয়।
প্রশ্নঃ ব্রিকসের সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় -
[ বিসিএস ৩৫তম ]
ব্রিকস (BRICS) এর সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর, ২০২৪-এ রাশিয়ার কাজান শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনটি প্রথমবারের মতো সম্প্রসারিত ব্রিকস সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান এবং ইথিওপিয়া নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং একটি নতুন অর্থপ্রদান পদ্ধতি গঠন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি।
প্রশ্নঃ ‘WIPO’ এর সদর দপ্তর?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
WIPO (ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা)-এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ IMF (International Monetary Fund) is the result of-
[ বিসিএস ৩৪তম ]
International Monetary Fund (IMF) বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল গঠিত হয়েছিল ঘঃ Brettonwood Conference (ব্রেটন উডস সম্মেলন)-এর ফলস্বরূপ।
১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডস শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে ১৯৩০-এর দশকের মতো অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে একটি নতুন বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সম্মেলনেই IMF এবং বিশ্বব্যাংক (International Bank for Reconstruction and Development - IBRD, যা পরবর্তীতে World Bank Group-এর অংশ হয়) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের সমন্বয়কারী কোন সংস্থা?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
প্রশ্নঃ কোনটি D-৮ ভুক্ত দেশ নয়?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
D-৮ বা ডেভেলপিং এইট (Developing Eight) হলো আটটি উন্নয়নশীল মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নিয়ে গঠিত একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট।
এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো:
১. বাংলাদেশ ২. মিশর (Egypt) ৩. ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) ৪. ইরান (Iran) ৫. মালয়েশিয়া (Malaysia) ৬. নাইজেরিয়া (Nigeria) ৭. পাকিস্তান (Pakistan) ৮. তুরস্ক (Türkiye)
এই জোটটি ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন ইস্তাম্বুলে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ানো। এটি ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত একটি জোট, যা আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রশ্নঃ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (NGO) যা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে। এটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় নিবেদিত।
প্রতিষ্ঠা ও সদর দপ্তর
১৯৬১ সালের ২৮ মে ব্রিটিশ আইনজীবী পিটার বেনেনসন এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। 'অন্ধকারকে অভিশাপ দেওয়ার চেয়ে একটি মোমবাতি জ্বালানো উত্তম' - এই নীতিবাক্য নিয়ে এটি কাজ করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদর দপ্তর লন্ডনে অবস্থিত।
লক্ষ্য ও কার্যক্রম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা। তারা যে সকল বিষয় নিয়ে কাজ করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বিচারের অধিকার: বিনাবিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, রাজবন্দিদের স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
- নির্যাতনের অবসান: সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক উৎপীড়ন এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করা।
- মৃত্যুদণ্ড বিলোপ: বিশ্বের সব দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ড প্রথা তুলে দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালানো।
- অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার: তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
- নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার: তাদের প্রতি সকল বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধে কাজ করা।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গবেষণা করে, তথ্য সংগ্রহ করে এবং জনসমক্ষে তুলে ধরে। তারা বিভিন্ন প্রচার অভিযান, চিঠি লেখা, পিটিশন এবং আইনগত পরামর্শের মাধ্যমে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাতে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে।
স্বীকৃতি
মানবতার প্রতি অসাধারণ অবদানের জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে ১৯৭৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পুরস্কার প্রদান করা হয়।
প্রশ্নঃ সার্ক-এর সদস্য দেশ কয়টি?
[ বিসিএস ৩৩তম ]
সার্ক (SAARC)-এর বর্তমান সদস্য দেশ ৮টি। এই দেশগুলো হলো:
- বাংলাদেশ
- ভারত
- পাকিস্তান
- শ্রীলঙ্কা
- মালদ্বীপ
- নেপাল
- ভুটান
- আফগানিস্তান
উল্লেখ্য, সার্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল ৭টি দেশ। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান সার্কের অষ্টম সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়।
প্রশ্নঃ রেডক্রসের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৩২তম ]
রেড ক্রস (Red Cross) হলো একটি আন্তর্জাতিক মানবিক আন্দোলন যা বিশ্বের প্রায় ৯৭ মিলিয়ন স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীর মাধ্যমে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা, সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা এবং দুর্ভোগ প্রতিরোধ ও লাঘব করার জন্য কাজ করে। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (ICRC), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC) এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলো কাজ করে।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতা
১৮৫৯ সালে ইতালির সলফেরিনো যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সুইস ব্যবসায়ী জ্যাঁ হেনরি ডুনান্ট আহত সৈন্যদের সেবায় একটি নিরপেক্ষ সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করেন। তার এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ, ১৮৬৩ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রিলিফ টু দ্য ওয়ান্ডেড ইন ওয়ার প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (ICRC) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
মূলনীতি
রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের ৭টি মূলনীতি হলো:
- মানবতা: মানুষের কষ্ট লাঘব করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
- নিরপেক্ষতা: এটি কোনো পক্ষ বা রাজনীতিতে সমর্থন করে না।
- অপক্ষপাতিত্ব: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমানভাবে সহায়তা করে।
- স্বাধীনতা: এটি একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা।
- স্বেচ্ছাসেবা: এটি কোনো প্রকার লাভের উদ্দেশ্যে কাজ করে না।
- ঐক্য: প্রতিটি দেশে শুধু একটিই রেড ক্রস বা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থাকবে।
- সার্বজনীনতা: এটি একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন।
প্রশ্নঃ ষোড়শ সার্ক সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
[ বিসিএস ৩১তম ]
ষোড়শ সার্ক সম্মেলন ২৮-২৯ এপ্রিল, ২০১০ ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সার্ক প্রতিষ্ঠার পর ২০১০ সালেই প্রথম ভুটানে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল: ‘সবুজ ও সুখী দক্ষিণ এশিয়ার পথে’। ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ২০১৬ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভারতসহ সার্কের অন্য রাষ্ট্রগুলো পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয়ায় সেটি স্থগিত রয়েছে। ২৩তম সার্ক সম্মেলন পাকিস্তানে হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের অসম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রশ্নঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট কোনটি?
[ বিসিএস ৩১তম | ১৩তম শি. (স্কুল সমপর্যায়) ]
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। এটি একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট, যা মূলত ইউরোপের ২৮টি সদস্য দেশকে নিয়ে গঠিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কে কিছু তথ্য:
- গঠন: ১৯৫৭ সালে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (EEC) নামে প্রতিষ্ঠিত হলেও, ১৯৯৩ সালে মাস্ট্রিখট চুক্তির মাধ্যমে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে রূপান্তরিত হয়।
- সদস্য রাষ্ট্র: এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক এবং অস্ট্রিয়া অন্যতম।
- মূল লক্ষ্য: EU-এর প্রধান লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অবাধ বাণিজ্য, পুঁজি, সেবা এবং মানুষের চলাচল নিশ্চিত করা। এর ফলে একটি একক বাজার তৈরি হয়েছে, যা এই জোটকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্লকে পরিণত করেছে।
- মুদ্রা: EU-এর বেশিরভাগ দেশ ইউরো নামক একটি একক মুদ্রা ব্যবহার করে, যা তাদের অর্থনৈতিক সংহতি আরও জোরদার করেছে।
- অর্থনৈতিক প্রভাব: সম্মিলিতভাবে, EU বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) এর একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা এটিকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।