আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?

[ বিসিএস ৩৫তম ]

ক. সামাজিক অবক্ষয়ের
খ. মূল্যবোধ অবক্ষয়ের
গ. সুশাসনের
ঘ. শিক্ষার গুণগতমানের
উত্তরঃ সুশাসনের
ব্যাখ্যাঃ

নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বহুবিধ অন্তরায় সৃষ্টি করে। এর প্রধান কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সুশাসনের অন্তরায়: এটি সবচেয়ে বড় অন্তরায়। নিরপেক্ষ গণমাধ্যম সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অস্বচ্ছতা প্রকাশ করে। গণমাধ্যম নিরপেক্ষ না হলে সরকার বা ক্ষমতাশীলদের ভুল পদক্ষেপ, অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয় না, ফলে সুশাসন ব্যাহত হয়।

২. গণতন্ত্রের অন্তরায়: গণতন্ত্রে জনগণের মতামত এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ অত্যন্ত জরুরি। নিরপেক্ষ গণমাধ্যম না থাকলে জনগণ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়, ফলে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণে বাধা দেয়।

৩. মত প্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায়: গণমাধ্যমই হলো সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যদি গণমাধ্যম শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে ভিন্নমত ও সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরগুলো প্রকাশের সুযোগ পায় না, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

৪. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব: একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম সরকার, প্রশাসন এবং অন্যান্য ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এর অনুপস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে।

৫. তথ্য বিকৃতি ও গুজব: নিরপেক্ষ গণমাধ্যম না থাকলে তথ্য বিকৃতি, মিথ্যা সংবাদ এবং গুজবের বিস্তার ঘটে। এতে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, জনমনে অবিশ্বাস বাড়ে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।

৬. দুর্নীতি বৃদ্ধি: গণমাধ্যমকে প্রায়শই "চতুর্থ স্তম্ভ" বলা হয়, যা সরকার ও সমাজের অন্যান্য স্তম্ভের ওপর নজর রাখে। এর অনুপস্থিতি দুর্নীতিবাজদের অবাধে কাজ করার সুযোগ করে দেয়, কারণ তাদের অপকর্ম প্রকাশের ভয় থাকে না।

৭. সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাব: নিরপেক্ষ গণমাধ্যম সমাজের বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে পারে। এর অনুপস্থিতিতে তাদের সমস্যাগুলো সমাজের সামনে আসে না, ফলে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

৮. উন্নয়নের অন্তরায়: সঠিক তথ্য প্রবাহ এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার অভাবে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ত্রুটি থাকতে পারে, দুর্নীতির কারণে সম্পদের অপচয় হতে পারে এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো সফল নাও হতে পারে, যা সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।

সংক্ষেপে, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি একটি সমাজের গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য মারাত্মক অন্তরায়।