আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ মোবাইল কমিউনিকেশনে 4G এর ক্ষেত্রে 3G এর তুলনায় অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য কি?

[ বিসিএস ৩৫তম ]

ক. ভয়েস টেলিফোনি
খ. ভিডিও কল
গ. মোবাইল টিভি
ঘ. ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা
উত্তরঃ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা
ব্যাখ্যাঃ

মোবাইল কমিউনিকেশনে 4G (চতুর্থ প্রজন্ম) 3G (তৃতীয় প্রজন্ম) এর তুলনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছে, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই উন্নত করেছে। প্রধান অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. উচ্চ গতি (Higher Speed)


এটি 4G এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। 3G নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ ডাউনলোড গতি যেখানে সাধারণত 2 Mbps থেকে 21 Mbps (HSPA+) পর্যন্ত হয়, সেখানে 4G LTE (Long-Term Evolution) নেটওয়ার্ক মোবাইলের জন্য 100 Mbps এবং স্থির ডিভাইসের জন্য 1 Gbps পর্যন্ত ডাউনলোড গতি দিতে পারে। এর ফলে:

  • দ্রুত ফাইল ডাউনলোড ও আপলোড করা যায়।
  • নির্বিঘ্নে ভিডিও স্ট্রিমিং (HD/Full HD) করা যায়।
  • ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হয়।

২. কম ল্যাটেন্সি (Lower Latency)


ল্যাটেন্সি হলো ডেটা পাঠানোর পর সেটি পৌঁছাতে যে সময় লাগে। 4G নেটওয়ার্কে 3G এর তুলনায় ল্যাটেন্সি অনেক কম, যার অর্থ ডেটা আদান-প্রদানে কম বিলম্ব হয়। এর সুবিধাগুলো হলো:

  • অনলাইন গেমিং আরও মসৃণ হয় (কম ল্যাগ)।
  • ভিডিও কল বা অনলাইন কনফারেন্সে কথা বলার সময় বিরতি বা বিলম্ব কমে যায়।
  • রিয়েল-টাইম অ্যাপ্লিকেশনগুলো আরও ভালোভাবে কাজ করে।

৩. উন্নত সংযোগের মান (Improved Connection Quality)


4G নেটওয়ার্কে কল ড্রপ হওয়ার হার কম এবং ভয়েস কলের মান উন্নত হয়। ডেটা সংযোগও অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।

৪. বৃহত্তর ক্ষমতা (Greater Capacity)


4G নেটওয়ার্ক 3G এর তুলনায় একই সময়ে বেশি সংখ্যক ডিভাইসকে সংযুক্ত রাখতে পারে। এটি নেটওয়ার্কের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়, বিশেষ করে জনাকীর্ণ এলাকায়।

৫. উন্নত ব্যান্ডউইডথ (Enhanced Bandwidth)


4G এর ব্যান্ডউইডথ 3G এর তুলনায় অনেক বেশি (যেমন, 3G এর 15-20 MHz এর তুলনায় 4G এর 100 MHz পর্যন্ত), যা একসঙ্গে অনেক বেশি ডেটা বহন করতে সক্ষম।

৬. অল-আইপি (All-IP) ভিত্তিক নেটওয়ার্ক


4G সম্পূর্ণরূপে আইপি (Internet Protocol) ভিত্তিক নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার ব্যবহার করে, যেখানে 3G ভয়েস কলের জন্য সার্কিট সুইচিং এবং ডেটার জন্য প্যাকেট সুইচিং ব্যবহার করত। এই অল-আইপি আর্কিটেকচার ডেটা ট্রান্সফারকে আরও দক্ষ এবং দ্রুত করে।

৭. উন্নত অ্যাপ্লিকেশন সমর্থন (Better Application Support)


উচ্চ গতি এবং কম ল্যাটেন্সির কারণে 4G এমন অনেক আধুনিক অ্যাপ্লিকেশন এবং পরিষেবা সমর্থন করে যা 3G তে ভালোভাবে চলত না বা একেবারেই সম্ভব ছিল না। যেমন:

  • উচ্চ-মানের ভিডিও স্ট্রিমিং ও কলিং।
  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) অ্যাপ্লিকেশন।
  • ক্লাউড-ভিত্তিক পরিষেবাগুলোর মসৃণ ব্যবহার।
  • ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ডিভাইসগুলোর জন্য উন্নত সংযোগ।

সংক্ষেপে, 4G মোবাইল কমিউনিকেশনের গতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে 3G এর চেয়ে অনেক বেশি উন্নত করেছে, যা বর্তমান স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণের জন্য অপরিহার্য।