আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ যে জেলায় হাজংদের বসবাস নেই–

[ বিসিএস ৩৭তম ]

ক. শেরপুর
খ. ময়মনসিংহ
গ. সিলেট
ঘ. নেত্রকোনা
উত্তরঃ সিলেট
ব্যাখ্যাঃ

হাজং হলো উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশের একটি অন্যতম আদিবাসী জনগোষ্ঠী

ভৌগোলিক অবস্থান

বাংলাদেশে হাজংদের প্রধানত ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে (যেমন: ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, ফুলপুর, তারাকান্দা), শেরপুর (শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতি, নালিতাবাড়ী), নেত্রকোনা (দুর্গাপুর, কলমাকান্দা) এবং সুনামগঞ্জ জেলায় (ধর্মপাশা, তাহিরপুর) বসবাস রয়েছে। এছাড়াও, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলেও কিছু হাজং পরিবার বাস করে। ভারতের আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশেও তাদের বড় অংশ বসবাস করে।

উৎপত্তি ও ইতিহাস

নৃবিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদি নিবাস ছিল উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তারা ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে আসামের কামরূপ জেলার হাজো নামক স্থানে বসতি স্থাপন করে। ধারণা করা হয়, 'হাজো' শব্দ থেকেই 'হাজং' নামের উৎপত্তি। সপ্তদশ শতকে মুঘলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে তারা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরবর্তীতে সমতল ভূমিতে বসতি স্থাপন করে। ঐতিহাসিক টঙ্ক আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন এবং জমিদারবিরোধী আন্দোলনে হাজং জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাসিমণি হাজং টঙ্ক আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন।

ভাষা ও সংস্কৃতি

  • ভাষা: হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যা তিব্বতি-বর্মী ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। তবে এই ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। তারা সাধারণত বাংলা বা অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে তাদের ভাষা লেখে। বাংলাদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ হাজং বাংলা ভাষায় কথা বলে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ব্যবহার করে।
  • ধর্ম: হাজংরা প্রধানত হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাদের নিজস্ব কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও দেব-দেবী রয়েছে। প্রতিটি হাজং বাড়িতে সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য একটি ছোট ঘর থাকে, যাকে তারা 'দেওঘর' বলে। সন্ধ্যায় তারা দেওঘরে প্রদীপ জ্বেলে ধূপধুনা দেয়।
  • খাদ্যাভ্যাস: তাদের প্রধান খাদ্য ভাত ও মাছ। তারা আমিষভোজী এবং বিভিন্ন পশুপাখির মাংস (যেমন: পাঁঠা, শুকর, মুরগি) খেতে পছন্দ করে। বিন্নী চালের ভাত এবং শুঁটকি মাছ তাদের প্রিয়।
  • পোশাক: হাজং নারীরা 'পাথিন' নামক এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী মোটা ডোরাকাটা কাপড় পরিধান করে, যা তারা নিজেরাই তাঁতে বুনে। শীতকালে তারা 'আর্গন' নামে এক ধরনের চাদর ব্যবহার করে এবং কাজের সময় 'বানং' নামে কোমরবন্ধনী পরে।
  • সমাজ ব্যবস্থা: হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ছেলেরা হয়। তারা মূলত যৌথ পরিবারে বাস করে, যদিও বর্তমানে একক পরিবারের প্রবণতা বাড়ছে।
  • জীবিকা: হাজংরা মূলত কৃষি প্রধান জনগোষ্ঠী। তারা ধান, গম, শাকসবজি এবং ফলমূল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রাচীনকাল থেকেই তারা জমি চাষে অভ্যস্ত ছিল।