আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ জুম চাষ হয়—

[ বিসিএস ৩৮তম ]

ক. বরিশালে
খ. ময়মনসিংহে
গ. খাগড়াছড়িতে
ঘ. দিনাজপুরে
উত্তরঃ খাগড়াছড়িতে
ব্যাখ্যাঃ

জুম চাষ (Jhum cultivation) হলো এক ধরনের সনাতন কৃষিপদ্ধতি, যা মূলত পাহাড়ি ও উপজাতীয় অঞ্চলে প্রচলিত। এটি 'স্থানান্তর কৃষি' (Shifting Cultivation) বা 'ঝুম চাষ' নামেও পরিচিত।

জুম চাষ পদ্ধতি:

১. জঙ্গল পরিষ্কার করা: বসন্তকালে (সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে) পাহাড়ের ঢালে বা টিলায় অবস্থিত জঙ্গল বা বন কেটে পরিষ্কার করা হয়। গাছপালা কেটে শুকানো হয়।

২. পোড়ানো: শুকনো গাছপালা পোড়ানো হয়। এই পোড়ানো ছাই সারের কাজ করে এবং মাটিকে উর্বর করে তোলে।

৩. বপন: বৃষ্টির সাথে সাথে (সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে) লাঙল ছাড়াই ধারালো দা, কুড়াল বা কাঠের লাঠির (যেমন 'ডিবলিং স্টিক') সাহায্যে মাটির গর্ত করে একসাথে বিভিন্ন ধরনের বীজ বপন করা হয়। একই জমিতে ধান, ভুট্টা, মারফা, আদা, হলুদ, তিল, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, মরিচ, তুলা ইত্যাদি ফসল ফলানো হয়।

৪. ফসল সংগ্রহ: প্রায় ৬-৮ মাস পর (সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে) ফসল পরিপক্ক হলে তা সংগ্রহ করা হয়।

৫. পরিত্যাগ: এক বা দুই বছর ফসল ফলানোর পর যখন মাটির উর্বরতা কমে যায়, তখন সেই জমি পরিত্যাগ করে নতুন অন্য কোনো পাহাড়ি এলাকায় একই প্রক্রিয়ায় চাষাবাদ করা হয়। পরিত্যক্ত জমিতে প্রাকৃতিকভাবে আবার বন জন্মায় এবং বহু বছর পর (সাধারণত ১০-২০ বছর পর) যখন মাটি আবার উর্বর হয়, তখন সেই জমিতে পুনরায় চাষ করা যায়।

যেসব অঞ্চলে প্রচলিত:

বাংলাদেশে প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ি উপজাতি যেমন - চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, লুসাই, খিয়াং, বম, পাংখোয়া, খুমি, ম্রো ইত্যাদি জনগোষ্ঠী জুম চাষ করে থাকে। এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ (যেমন - মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসামের কিছু অংশ), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার কিছু অংশেও এই পদ্ধতির প্রচলন আছে।

সুবিধা:

  • সার কেনার প্রয়োজন হয় না: পোড়া ছাই সারের কাজ করে।
  • কম শ্রম ব্যয়: প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির চেয়ে কম শ্রমের প্রয়োজন হয়।
  • বিবিধ ফসল: একই জমিতে একসাথে অনেক ফসল ফলানো যায়।
  • কম কীটনাশক প্রয়োজন: পোড়ানোর ফলে কীটপতঙ্গ ও আগাছা দমন হয়।

অসুবিধা ও পরিবেশগত প্রভাব:

  • বনভূমি ধ্বংস: জুম চাষের জন্য বনভূমি কেটে পরিষ্কার করা হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
  • ভূমি ক্ষয়: বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় মাটির ক্ষয় হয় এবং বৃষ্টির কারণে মাটি ভেসে যায়।
  • উর্বরতা হ্রাস: দ্রুত মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় এবং দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত রাখতে হয়।
  • পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা: জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন বৃদ্ধি পায়।
  • পাহাড়ি ঝর্ণার উপর প্রভাব: মাটির জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো শুকিয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে, পরিবেশ সচেতনতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জুম চাষের উপর চাপ বাড়ছে। সরকার এবং বিভিন্ন এনজিও এই প্রথাগত পদ্ধতির আধুনিকীকরণ বা বিকল্প জীবিকার উৎস তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে জুম চাষিদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায়।