আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ ‘গারো উপজাতি’ কোন জেলায় বাস করে?

[ বিসিএস ৪০তম ]

ক. পার্বত্য চট্রগ্রাম
খ. সিলেট
গ. ময়মনসিংহ
ঘ. টাঙ্গাইল
উত্তরঃ ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যাঃ

গারোরা বাংলাদেশের একটি অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় তারা প্রধানত বসবাস করে। গারোরা নিজেদেরকে 'মান্দি' বা 'আচিক মান্দি' নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে, যার অর্থ 'মানুষ' বা 'পাহাড়ের মানুষ'।

গারোদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা:

  • মাতৃতান্ত্রিক সমাজ: গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। এখানে মায়ের বংশ পরিচয় মুখ্য এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারী সাধারণত কনিষ্ঠ কন্যা সন্তান।
  • ভাষা: গারোরা 'আচিক' বা গারো ভাষায় কথা বলে, যা বোডো-গারো ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
  • ধর্ম: ঐতিহ্যগতভাবে গারোদের নিজস্ব ধর্ম ছিল, যার নাম 'সাংসারেক'। তবে বর্তমানে এদের বেশিরভাগই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। কিছু সংখ্যক সনাতন ধর্ম ও ইসলাম ধর্মও অনুসরণ করে।
  • উৎসব: গারোদের প্রধান উৎসব হলো 'ওয়ানগালা'। এটি ফসল তোলার পর অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের প্রধান দেবতা 'মিসালজং'-কে উৎসর্গ করা হয়। এই উৎসবে নাচ, গান ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়।
  • পোশাক: গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে নারীরা 'দকমান্দা' (এক প্রকার লম্বা পোশাক) এবং পুরুষরা 'খাদি' পরিধান করে। বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কারও তারা ব্যবহার করে।
  • খাদ্য: ভাত তাদের প্রধান খাদ্য। এছাড়াও মাছ, মাংস, ডাল ও বিভিন্ন प्रकारের সবজি তারা খায়। শুঁটকি মাছ তাদের একটি প্রিয় খাবার।
  • পেশা: গারোদের প্রধান পেশা কৃষি। তারা জুম চাষ এবং সমতল ভূমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন করে। অনেকে পশুপালন এবং বনজ সম্পদের উপরও নির্ভরশীল।
  • নৃত্য ও সঙ্গীত: গারোদের সংস্কৃতিতে নৃত্য ও সঙ্গীতের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গান পরিবেশিত হয়। 'কু-দারে-সালা', 'কোরে-দোকা', 'ইঞ্জোকা' তাদের উল্লেখযোগ্য সঙ্গীত এবং 'আজেমা-রোয়া', 'চাম্বিল-মোয়া' তাদের জনপ্রিয় নৃত্যশৈলী।

গারোরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রেখেছে এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।