আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

ক. ২১৯
খ. ২২১
গ. ২২৩
ঘ. ২২৫
উত্তরঃ ২২৩
ব্যাখ্যাঃ

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩২টি আসনে জয়লাভ করেছিল।

মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। পরবর্তীতে উপনির্বাচনে আরও ৯টি আসনে জয়লাভ করে তাদের মোট আসন সংখ্যা ২৩২-এ পৌঁছেছিল।

ক. ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
খ. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
গ. ২৬ মার্চ ১৯৬৬
ঘ. ৩১ মার্চ ১৯৬৬
উত্তরঃ ২৩ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যাঃ

ঐতিহাসিক ‘ছয়-দফা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৬৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান) বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে উত্থাপন করেন।

পরবর্তীতে, ১৯৬৬ সালের ২৩শে মার্চ ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এই ছয়-দফা দলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে গৃহীত হয়।

ক. শেখ মুজিবুর রহমান
খ. শামছুল হক
গ. আতাউর রহমান খান
ঘ. আবুল হাশিম
উত্তরঃ শামছুল হক
ব্যাখ্যাঃ

‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে (হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি) 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন এই দলের প্রথম সভাপতি এবং শামসুল হক ছিলেন প্রথম সাধারণ সম্পাদক।

ক. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪
খ. ২২ মার্চ ১৯৫৮
গ. ২০ এপ্রিল ১৯৬২
ঘ. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
উত্তরঃ ২৩ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যাঃ

সঠিক উত্তর হল ২৩ মার্চ ১৯৬৬

যদিও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে প্রথম ছয় দফা উত্থাপন করেন, তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায়। এই সভায় ছয় দফা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় এবং এটি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

ক. ৩টি
খ. ৪টি
গ. ৫টি
ঘ. ৬টি
উত্তরঃ ৩টি
ব্যাখ্যাঃ

১৯৬৬ সালের ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল। এই দফাগুলো ছিল:

  • তৃতীয় দফা: পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করতে হবে; অথবা এর বিকল্প হিসেবে একটি মুদ্রাব্যবস্থা সারা দেশের জন্য চালু থাকতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বতন্ত্র ব্যাংকিং রিজার্ভের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • চতুর্থ দফা: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা, শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করতে হবে এবং আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।
  • পঞ্চম দফা: পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব রাখতে হবে এবং এর ওপর পূর্বাঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলে তা উভয় অঞ্চলের জন্য সমান অথবা নির্ধারিত অনুপাতে সরবরাহ করা হবে।

অন্যান্য তিনটি দফা ছিল মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কিত।

ক. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
খ. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
গ. স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা
ঘ. বিচার ব্যবস্থা
উত্তরঃ বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যাঃ

ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপন করেন।

ছয় দফার মূল বিষয়বস্তু ছিল:

১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং প্রদেশগুলোকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। কেবল প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে।

২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল দুটি বিষয় থাকবে - প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক। অবশিষ্ট সকল ক্ষমতা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

৩. মুদ্রাব্যবস্থা: দুটি পৃথক অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। অথবা, সমগ্র দেশের জন্য একটি মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, তবে সেক্ষেত্রে প্রদেশগুলোর জন্য পৃথক পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ রাখতে হবে।

৪. রাজস্ব ও কর ধার্য: সকল প্রকার কর ও রাজস্ব ধার্যের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রাদেশিক রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ পাবে।

৫. বৈদেশিক বাণিজ্য: প্রদেশগুলোকে তাদের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্যের বৈদেশিক বাণিজ্য করার এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অধিকার দিতে হবে। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব প্রদেশের হাতে থাকবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদেশের কাছ থেকে মুদ্রা গ্রহণ করবে।

৬. সামরিক বাহিনী: প্রদেশগুলোকে নিজস্ব মিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।

ক. ১৯৬৬ সালে
খ. ১৯৬৭ সালে
গ. ১৯৬৮ সালে
ঘ. ১৯৬৯ সালে
উত্তরঃ ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যাঃ

আওয়ামী লীগের ৬-দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবি সম্বলিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। এটি ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে, ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ৬ দফা ঘোষণা করা হয়।

৬-দফার মূল বিষয়গুলো ছিল:

১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: পাকিস্তানের সংবিধান হবে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামোতে। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অন্যান্য সকল বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

৩. মুদ্রা ব্যবস্থা: পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকবে। অথবা, সমগ্র দেশের জন্য একটি মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, তবে এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ থাকবে।

৪. রাজস্ব ও কর ব্যবস্থা: সকল প্রকার কর ও রাজস্ব ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না। অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের নির্ধারিত অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রদান করবে।

৫. বৈদেশিক বাণিজ্য: অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অধিকারী হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ প্রদান করবে।

৬. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী: পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা থাকবে।

৬-দফা ছিল মূলত পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের একটি ঐতিহাসিক সনদ। এই ৬-দফা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে।

ক. ৩৪ জন
খ. ৩৫ জন
গ. ৩৬ জন
ঘ. ৩২ জন
উত্তরঃ ৩৫ জন
ব্যাখ্যাঃ

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল পাকিস্তান সরকারের দায়ের করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারী মাসে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বসে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র করছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট:

  • ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছিলেন।
  • ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের উত্থাপিত ৬ দফা বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।
  • পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়।

মামলার মূল অভিযোগ:

  • অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন।
  • এই ষড়যন্ত্র ত্রিপুরার আগরতলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

গুরুত্ব:

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • এই মামলা শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করে।
  • মামলার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
  • এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খানের সরকারের পতন হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল অভিযুক্ত ব্যক্তি মুক্তি পান।
  • আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের গতিকে আরও বেগবান করে তোলে।
ক. ফেব্রুয়ারিতে
খ. মে মাসে
গ. জুলাই মাসে
ঘ. আগস্টে
উত্তরঃ ফেব্রুয়ারিতে
ব্যাখ্যাঃ

ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি। এটি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পেশ করেন।

ক. বিল অব রাইটস
খ. ম্যাগনাকার্টা
গ. পিটিশন অব রাইটস
ঘ. মুখ্য আইন
উত্তরঃ ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যাঃ

ঐতিহাসিক ৬-দফাকে ম্যাগনা কার্টার সাথে তুলনা করা হয়।

৬-দফা ও ম্যাগনা কার্টা

ম্যাগনা কার্টা ছিল ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন এবং তার ব্যারনদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি, যা রাজার ক্ষমতাকে সীমিত করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। একইভাবে, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬-দফা কর্মসূচি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছিল। এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির মুক্তির সনদ, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে। এ কারণেই ৬-দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনা কার্টা বলা হয়।

ক. ধানের শীষ
খ. নৌকা
গ. লাঙ্গল
ঘ. বাইসাইকেল
উত্তরঃ নৌকা
ব্যাখ্যাঃ

১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট একতরফা বিজয় লাভ করেছিল।

  • গঠন: এই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল মূলত চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে: ১. আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরে আওয়ামী লীগ) - যার নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ২. কৃষক শ্রমিক পার্টি - যার নেতা ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক। ৩. নেজামে ইসলাম পার্টি। ৪. গণতন্ত্রী দল।

  • নির্বাচনী ইশতেহার: যুক্তফ্রন্ট ২১-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, যা জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এই ২১-দফার মূল বিষয়গুলো ছিল পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ, পাট শিল্প জাতীয়করণ ইত্যাদি।

  • ফলাফল: এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। তারা ৩০০টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি (কিছু সূত্রে ২২৩ বা ২৩৬টি) আসনে জয়লাভ করে, যেখানে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসনে (কিছু সূত্রে ৭ থেকে ১০টি) জয়লাভ করে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

এই নির্বাচনটি পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা ছিল এবং এটি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পথকে আরও সুগম করেছিল।

ক. ১৯৭০ সালে
খ. ১৯৬৬ সালে
গ. ১৯৬৫ সালে
ঘ. ১৯৬৯ সালে
উত্তরঃ ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যাঃ

ছয় দফা দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত একটি ঐতিহাসিক কর্মসূচি, যা পরবর্তীকালে বাঙালির মুক্তি সনদ বা ম্যাগনাকার্টা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু এই ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ৭ জুনকে প্রতি বছর '৬ দফা দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

নিচে ছয় দফা দাবির বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

৬ দফা দাবিসমূহ:

১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি:

  • ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
  • সরকারের ধরন হবে সংসদীয় পদ্ধতির।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল আইনসভা গঠিত হবে এবং আইনসভা সার্বভৌম হবে।
  • জনসংখ্যার অনুপাতে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিনিধি থাকবে।

২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা:

  • কেন্দ্রীয় বা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের ক্ষমতা শুধুমাত্র দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে: প্রতিরক্ষা (Defence) ও পররাষ্ট্র (Foreign Affairs)।
  • অবশিষ্ট সকল ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর (প্রদেশ) হাতে থাকবে।

৩. মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা:

  • পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এক্ষেত্রে দুটি অঞ্চলের জন্য দুটি স্বতন্ত্র রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে এবং মুদ্রার পরিচালনা ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে।
  • অথবা, একটি মুদ্রা ব্যবস্থা চালু থাকবে, তবে সংবিধানের এমন বিধান থাকতে হবে যাতে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে মূলধন পাচার হতে না পারে।

৪. কর বা রাজস্ব বিষয়ক ক্ষমতা:

  • সকল প্রকার কর (Tax), খাজনা ও শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকবে।
  • প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয়সহ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে সংবিধানে নির্দেশিত হারে বা নির্ধারিত অনুপাতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় রাজস্বের যোগান দেওয়া হবে।

৫. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:

  • ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক হিসাব রাখতে হবে।
  • বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলোর এখতিয়ারে থাকবে এবং অঙ্গরাজ্যগুলো নিজ নিজ প্রয়োজনে তা ব্যবহার করবে।
  • কেন্দ্রীয় সরকারের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে, তা সংবিধান নির্দেশিত বিধি অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে আদায় করা হবে।
  • দেশের বৈদেশিক নীতির কাঠামোর মধ্যে, যার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্য সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সরকারগুলোর হাতে থাকবে।

৬. আঞ্চলিক মিলিশিয়া ও আধা-সামরিক বাহিনী গঠন:

  • পূর্ব পাকিস্তানের কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে মিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।

ছয় দফা দাবি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের শোষণমুক্তি ও স্বাধিকার অর্জনের মূল ভিত্তি। এটি পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করে।

ক. ঢাকা
খ. লাহোর
গ. দিল্লি
ঘ. চট্টগ্রাম
উত্তরঃ লাহোর
ব্যাখ্যাঃ

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (৬-২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫) সমাপ্তির পর উভয় দেশের মধ্যে ‘তাসখন্দ চুক্তি’ (১০ জানুয়ারি, ১৯৬৬) স্বাক্ষরের পটভূমিকায় ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

ক. ঢাকায়
খ. লাহোরে
গ. করাচিতে
ঘ. নারায়ণগঞ্জে
উত্তরঃ লাহোরে
ব্যাখ্যাঃ

পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলনে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা দাবি উত্থাপন করেন। এটাই ইতিহাসে 'ছয় দফা কর্মসূচি' নামে পরিচিত।

ক. ঢাকায়
খ. নারায়ণগঞ্জে
গ. লাহোরে
ঘ. করাচীতে
উত্তরঃ লাহোরে
ব্যাখ্যাঃ

পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্ন ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্বলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত। অবশেষে লাহোরে অনুষ্ঠিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন।

ক. ১৯৬৫ সালে
খ. ১৯৬৬ সালে
গ. ১৯৬৭ সালে
ঘ. ১৯৬৮ সালে
উত্তরঃ ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যাঃ

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা নামে পরিচিত ‘৬ দফা দাবি’ পেশ করেন। ১৯৬৬ সালের ২৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘৬ দফা দাবি’ উত্থাপন করা হয়। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গণআন্দোলন শুরু হলে পুলিশের গুলিতে বিভিন্ন স্থানে ১১ জন বাঙালি নিহত হন। এ জন্য প্রতি বছর ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।

প্রশ্নঃ কে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন?

[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ২০-০৫-২০০১ ]

ক. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
খ. এ.কে. ফজলুল হক
গ. খাজা নাজিমুদ্দীন
ঘ. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তরঃ এ.কে. ফজলুল হক