প্রশ্নঃ “মানুষ হও এবং মরে বাঁচ।” – এটি কার উক্তি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
"মানুষ হও এবং মরে বাঁচ।" — এটি হেগেল (Georg Wilhelm Friedrich Hegel)-এর উক্তি।
হেগেল এই কথার মাধ্যমে মানুষের আত্মবিকাশ ও আত্মত্যাগের গভীর দর্শন ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে "মৃত্যু" মানে হলো নিজের সংকীর্ণ স্বার্থের মৃত্যু এবং বৃহত্তর সত্য ও ন্যায়ের জন্য বেঁচে থাকা।
Related MCQ
নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ক্রিয়া হলো ঐচ্ছিক ক্রিয়া (Voluntary action)।
নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত নিয়ে আলোচনা করে। মানুষের যে কাজগুলো স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং যেগুলোর জন্য মানুষ দায়ী থাকে, সেগুলোই নীতিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয়। অনৈচ্ছিক বা বাধ্যবাধকতামূলক কাজ নীতিবিদ্যার আওতায় পড়ে না, কারণ সেসব কাজের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজস্ব নৈতিক বিচার বা পছন্দের সুযোগ থাকে না।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের ‘নব্য-নৈতিকতার’ প্রবর্তক হলেন-
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলাদেশের 'নব্য-নৈতিকতার' প্রবর্তক হিসেবে সাধারণত ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব-কে গণ্য করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং তাঁর দার্শনিক চিন্তাভাবনায় নব্য-নৈতিকতার ধারণা বিশেষভাবে স্থান পায়।
তবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরজ আলী মাতুব্বর-কেও এই ধারণার প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ করে তাঁর ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী এবং বিজ্ঞানভিত্তিক নৈতিকতার অনুসন্ধানের জন্য।
সুতরাং, প্রশ্নে যদি নির্দিষ্ট একজনের নাম উল্লেখ করতে হয়, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব অধিক পরিচিত এবং সাধারণভাবে স্বীকৃত। তবে আরজ আলী মাতুব্বরের অবদানও এক্ষেত্রে আলোচনার যোগ্য।
প্রশ্নঃ “দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।” – উক্তিটি কে করেছেন?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
“দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।” – এই উক্তিটি করেছেন বারট্রান্ড রাসেল।
তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবিদ, লেখক, সমাজ সমালোচক এবং শান্তিকর্মী। তাঁর এই উক্তিটি দর্শনের স্বতন্ত্র অবস্থান এবং জ্ঞানার্জনের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য।
প্রশ্নঃ ‘Republic’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
‘Republic’ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্লেটো (Plato)।
এটি প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলির মধ্যে একটি। গ্রন্থটিতে ন্যায়বিচার, আদর্শ রাষ্ট্র এবং একজন ন্যায়বান মানুষের চরিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সক্রেটিসের মুখ দিয়ে প্লেটো তাঁর দার্শনিক চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন।
প্রশ্নঃ ‘Utilitarianism’-গ্রন্থের লেখক কে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
জন স্টুয়ার্ট মিল 'Utilitarianism' গ্রন্থের লেখক।
এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এই গ্রন্থে তিনি উপযোগবাদ (Utilitarianism) তত্ত্বের ব্যাখ্যা ও সমর্থন করেন। যদিও উপযোগবাদের ধারণা জেরেমি বেন্থামের হাত ধরে এসেছিল, জন স্টুয়ার্ট মিল এটিকে আরও পরিশীলিত করেন এবং বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দেন।
প্রশ্নঃ ‘জ্ঞান হয় পুণ্য’-এই উক্তিটি কার?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
‘জ্ঞান হয় পুণ্য’—এই বিখ্যাত উক্তিটি প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের।
সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন যে মানুষ ভুল করে অজ্ঞতার কারণে। যদি কেউ সত্য ও জ্ঞানের অধিকারী হয়, তবে সে কখনোই অন্যায় কাজ করতে পারে না। তার মতে, জ্ঞানই নৈতিক আচরণের ভিত্তি।
প্রশ্নঃ ‘শর্তহীন আদেশ’ ধারণাটির প্রবর্তক কে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
‘শর্তহীন আদেশ’ (Categorical Imperative) ধারণাটির প্রবর্তক জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।
তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'গ্রাউন্ডওয়ার্ক অফ দ্য মেটাফিজিক্স অফ মর্যালস' (Groundwork of the Metaphysics of Morals) এবং 'ক্রিটিক অফ প্র্যাকটিক্যাল রিজন' (Critique of Practical Reason)-এ এই ধারণাটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। কান্টের মতে, শর্তহীন আদেশ হলো এমন নৈতিক নিয়ম যা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা ফলাফলের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা অবশ্যই পালনীয়।
প্রশ্নঃ ‘সততার জন্য সদিচ্ছা’র কথা বলেছেন-
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘সততার জন্য সদিচ্ছা’র কথা বলেছেন গঃ ইমানুয়েল কান্ট।
ইমানুয়েল কান্ট তাঁর নীতিশাস্ত্রের আলোচনায় "সদিচ্ছা" (Good Will)-কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়েছেন। তিনি মনে করতেন, কোনো কাজ নৈতিকভাবে সঠিক কিনা, তা ফলাফলের উপর নির্ভর করে না, বরং সেই কাজটি কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তার উপর নির্ভর করে। কান্টের মতে, সদিচ্ছা হলো একমাত্র জিনিস যা কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই unconditionally ভালো।
সততার (honesty) ক্ষেত্রেও কান্ট সদিচ্ছার গুরুত্বের কথা বলেছেন। তিনি মনে করতেন, কেবল কর্তব্যবোধ থেকে সততা অবলম্বন করাই নৈতিকভাবে মূল্যবান। যদি কোনো ব্যক্তি কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য বা শাস্তির ভয়ে সৎ হয়, তবে তার সেই সততা নৈতিকভাবে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। কান্টের মতে, সততার মূলে থাকতে হবে সদিচ্ছা - অর্থাৎ, সততা অবলম্বন করার আন্তরিক ইচ্ছা এবং কর্তব্যবোধ।
প্রশ্নঃ ‘On Liberty’ গ্রন্থের লেখক কে?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
‘On Liberty’ গ্রন্থের লেখক হলেন জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill)। এটি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত দার্শনিক রচনা, যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সমাজের কর্তৃত্বের সীমা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক কে?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ (Duty for duty's sake) - এই বিখ্যাত ধারণাটির প্রবর্তক হলেন ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant)।
তিনি একজন জার্মান দার্শনিক এবং তাঁর নীতিশাস্ত্রের এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কান্ট মনে করতেন যে কোনো কাজ নৈতিকভাবে সঠিক হতে হলে, সেটি কেবল কর্তব্যের খাতিরেই করতে হবে, অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা ফলাফলের জন্য নয়।
প্রশ্নঃ ‘Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থের লেখক কে?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
‘Human Society in Ethics and Politics’ গ্রন্থটির লেখক হলেন বারট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell)।
এটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে রাসেল তার নৈতিক এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি রাজনীতি ও ধর্ম উভয়কেই স্পর্শ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে মানুষের মধ্যে বুদ্ধি এবং প্রবৃত্তির দ্বন্দ্বের কারণে নৈতিকতার প্রয়োজন। মানুষের প্রবৃত্তি এবং আকাঙ্ক্ষা সামাজিক এবং ব্যক্তিগত উভয়ই হতে পারে। রাজনীতি এবং নৈতিকতা হলো সেই মাধ্যম যার দ্বারা আমরা সমাজ এবং ব্যক্তি হিসেবে সামাজিকভাবে উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং নৈতিক নিয়মাবলী ধারণ করি।
প্রশ্নঃ ‘শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়ােজন, আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর’-এটি কে বলেছেন?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
এই বিখ্যাত উক্তিটি প্লেটোর। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "The Republic"-এ এই ধারণাটি তুলে ধরেছিলেন। প্লেটো মনে করতেন যে একজন মহৎ ও জ্ঞানী শাসক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে আইনের চেয়েও বেশি সক্ষম, কারণ তার প্রজ্ঞা ও গুণাবলী তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, একজন অসৎ শাসক আইনের অপব্যবহার করতে পারে, তাই আইন তার ক্ষেত্রে অকার্যকর।
সঠিক উত্তর হলো ঘঃ উপযোগবাদ (Utilitarianism)।
উপযোগবাদ একটি নৈতিক তত্ত্ব যা কর্মের সঠিকতা বা ভুলতা নির্ধারণ করে তার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে। এই তত্ত্ব অনুসারে, সেই কাজটি নৈতিকভাবে সঠিক যা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি সুখ (greatest happiness) বয়ে আনে। জন স্টুয়ার্ট মিল এবং জেরেমি বেন্থাম এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা।
অন্যান্য নৈতিক মানদণ্ডগুলো:
- আত্মস্বার্থবাদ (Egoism): এই নৈতিক মানদণ্ড ব্যক্তির নিজের সুখ ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
- পরার্থবাদ (Altruism): এটি অন্যের কল্যাণ ও সুখকে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): এই নৈতিক মানদণ্ড মানুষের ব্যক্তিগত গুণাবলী ও সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের উপর জোর দেয়।
প্রশ্নঃ Political Ideals- গ্রন্থের লেখক কে?
[ বিসিএস ৪১তম ]
Political Ideals গ্রন্থটির লেখক হলেন বারট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell)।
তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী এবং সমাজ সমালোচক। বইটি ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রশ্নঃ প্লেটো ‘সদগুণৎ বলতে বুঝিয়েছেন-
[ বিসিএস ৪১তম ]
প্লেটো 'সদগুণ' (Virtue) বলতে মূলত জ্ঞানের (Knowledge) কথা বুঝিয়েছেন। তবে তার ধারণায় সদগুণ শুধুমাত্র বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান নয়, বরং এটি এক ধরনের ব্যবহারিক জ্ঞান যা মানুষকে সঠিক পথে চালিত করে এবং ন্যায়সঙ্গত কাজ করতে সাহায্য করে।
প্লেটোর মতে, সদগুণ হলো আত্মার সুষম অবস্থা। মানুষের আত্মা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:
- যুক্তি (Reason): যা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অন্বেষণ করে।
- ইচ্ছা বা স্পৃহা (Spirit): যা সাহস ও দৃঢ়তার উৎস।
- ক্ষুধা বা কামনা (Appetite): যা শারীরিক চাহিদা ও বাসনার সাথে জড়িত।
প্লেটোর মতে, যখন এই তিনটি অংশ সঠিক ভারসাম্যে থাকে এবং যুক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখনই মানুষের মধ্যে সদগুণ তৈরি হয়।
এছাড়াও, প্লেটো চারটি প্রধান সদগুণের কথা বলেছেন, কার্ডিনাল ভার্চুস (Cardinal Virtues) বলা হয়:
- প্রজ্ঞা (Wisdom): সঠিক জ্ঞান এবং বিচক্ষণতা।
- সাহস (Courage): ভয়কে জয় করার এবং ন্যায়সঙ্গত কাজের জন্য দৃঢ়তা।
- মিতব্যয়িতা (Temperance): নিজের কামনা ও বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিমিত আচরণ করা।
- ন্যায়বিচার (Justice): সমাজের প্রতিটি স্তরে এবং ব্যক্তির আত্মার অভ্যন্তরে সঠিক ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য বজায় রাখা।
সুতরাং, প্লেটোর কাছে সদগুণ শুধুমাত্র জ্ঞান নয়, বরং জ্ঞান, আত্মার ভারসাম্য এবং এই চারটি প্রধান গুণের সমন্বিত রূপ যা একটি ভালো ও ন্যায়সঙ্গত জীবন যাপনে সহায়তা করে।
প্রশ্নঃ কে কর্তব্যের নৈতিকতার ধারণা প্রবর্তন করেন?
[ বিসিএস ৪১তম ]
ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant) কর্তব্যের নৈতিকতার ধারণা প্রবর্তন করেন।
কান্টের নৈতিক দর্শন, যা কর্তব্যভিত্তিক নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) নামেও পরিচিত, কর্মের ফলাফলের পরিবর্তে কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে নৈতিকতাকে বিচার করে। কান্টের মতে, একটি কাজ নৈতিকভাবে সঠিক কিনা তা নির্ধারণ করে সেই কাজের অন্তর্নিহিত নিয়ম বা কর্তব্য, পরিণতি নয়।
তার বিখ্যাত ধারণা Categorical Imperative (নিঃশর্ত আদেশ) এই নীতির মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমে কান্ট এমন নীতি নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন যা সার্বজনীনভাবে প্রযোজ্য এবং যা বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তির মাধ্যমেই মানুষ উপলব্ধি করতে পারে।
প্রশ্নঃ সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো?
[ বিসিএস ৪১তম ]
সঠিক উত্তর হলো সমাজ।
যদিও সুশাসন, রাষ্ট্র এবং নৈতিকতাও সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তবে সমাজ হলো সেই ভিত্তি যার উপর একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে এবং বিকশিত হয়। সমাজ ছাড়া সভ্যতার ধারণা অর্থহীন।
একটি সভ্যতা মূলত মানুষের একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যারা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করে, নিজস্ব সংস্কৃতি, রীতিনীতি, প্রযুক্তি এবং সামাজিক কাঠামো তৈরি করে। এই অর্থে, সমাজ হলো সভ্যতার প্রাথমিক এবং অপরিহার্য প্রতিচ্ছবি।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে ‘নব-নৈতিকতা’র প্রবর্তক হলেন-
[ বিসিএস ৪০তম ]
বাংলাদেশে ‘নব-নৈতিকতা’র প্রবর্তক হিসেবে ডক্টর গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জি.সি. দেব)-কে বিবেচনা করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
অধ্যাপক জি.সি. দেব ঐতিহ্যবাহী নৈতিক ধারণার পরিবর্তে বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানবতাবাদী একটি নতুন নৈতিক framework প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে যুক্তি, বিজ্ঞান এবং মানুষের কল্যাণের উপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক নৈতিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তবে, কেউ কেউ আরজ আলী মাতুব্বরকেও এই ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন বলে মনে করেন, যিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারমুক্ত একটি যুক্তিবাদী নৈতিকতার কথা বলেছিলেন।
সুতরাং, প্রশ্নে যদি নির্দিষ্ট কোনো একজনের নাম উল্লেখ করতে হয়, সেক্ষেত্রে ডক্টর গোবিন্দ চন্দ্র দেব নামটিই সাধারণত প্রথম আসে।
প্রশ্নঃ আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি। এটি –
[ বিসিএস ৪০তম ]
বাক্যটি নাগরিক হিসেবে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে দায়িত্বশীল আচরণ, নৈতিকতা এবং সামাজিক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব প্রকাশ করে। এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন এর ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক অনুশাসন মানে: নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা। সামাজিক অনুশাসন মানে: সমাজের গৃহীত নীতি, মূল্যবোধ ও নিয়ম মেনে চলা।
প্রশ্নঃ নৈরাজ্য যে তত্ত্বের মূল উপাদান সেটি হচ্ছে:
[ বিসিএস ৩৮তম ]
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্বে বাস্তববাদ (Realism) এবং এর উপধারা নয়া-বাস্তববাদ (Neo-realism) উভয়ই নৈরাজ্য (Anarchy)-কে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য বা মৌলিক উপাদান হিসেবে দেখে।
বাস্তববাদীরা বিশ্বাস করে যে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনো কেন্দ্রীয় বিশ্ব সরকার নেই যা রাষ্ট্রগুলোর উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারে। এই ক্ষমতার অনুপস্থিতিকেই 'নৈরাজ্য' বলা হয়। এই নৈরাজ্যপূর্ণ পরিবেশে রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও টিকে থাকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে।
অন্যান্য বিকল্পগুলো:
- নয়া উদারতাবাদ (Neoliberalism): এটি সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দেয়, যদিও নৈরাজ্যের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না, তবে বাস্তববাদীরা যতটা করে, ততটা মৌলিক উপাদান হিসেবে দেখে না।
- গঠনবাদ (Constructivism): এটি সামাজিক গঠন এবং ধারণা (ideas) ও নিয়মের (norms) ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয়। এটি নৈরাজ্যকে 'কীভাবে রাষ্ট্রগুলো এটিকে উপলব্ধি করে' তার উপর নির্ভরশীল বলে মনে করে, মৌলিক কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে নয়।
- নব্য মার্কসবাদ (Neo-Marxism): এটি বিশ্ব অর্থনীতির শ্রেণিবিন্যাস এবং পুঁজিবাদের প্রভাবকে গুরুত্ব দেয়, যেখানে রাষ্ট্রগুলো এই অর্থনৈতিক কাঠামোর অধীন।
প্রশ্নঃ গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো—
[ বিসিএস ৩৮তম ]
"গোল্ডেন মিন" (Golden Mean) হলো একটি দার্শনিক ধারণা, যা মূলত প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল প্রবর্তন করেছিলেন।
এর মূল অর্থ হলো: দুটি চরম পন্থার (মতবাদের) মধ্যবর্তী অবস্থান বা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা।
এরিস্টটলের মতে, নৈতিক গুণাবলী (moral virtues) হলো দুটি চরম অবস্থার (একটি হলো অতি প্রাচুর্য বা বাড়াবাড়ি, অন্যটি হলো অভাব বা ঘাটতি) মধ্যবর্তী একটি সুষম অবস্থা। যেমন:
- সাহস (Courage): এটি ভীরুতা (cowardice) এবং বেপরোয়া সাহসিকতা (recklessness) - এই দুটি চরম অবস্থার মধ্যবর্তী একটি গুণ।
- উদারতা (Generosity): এটি অপচয় (extravagance) এবং কৃপণতা (stinginess) - এই দুই চরম অবস্থার মধ্যবর্তী।
- আত্মসম্মান (Self-respect): এটি অহংকার (arrogance) এবং আত্ম-অবনতি (self-deprecation) - এর মধ্যবর্তী।
সুতরাং, গোল্ডেন মিন হলো এমন একটি ধারণা যেখানে কোনো কাজ বা গুণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বা ঘাটতি না করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সঠিক মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা হয়। এটি নৈতিকতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।
প্রশ্নঃ শূন্যবাদ যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভূত তার অর্থ-
[ বিসিএস ৩৮তম ]
শূন্যবাদ (Nihilism) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ "nihil" থেকে উদ্ভূত।
"nihil" শব্দের অর্থ হলো: "কিছুই না" বা "nothing"।
এই শব্দ থেকেই শূন্যবাদের ধারণাটি এসেছে, যা জীবনের অর্থ, নৈতিকতা, জ্ঞান বা অস্তিত্বের মূল্য সম্পর্কে কোনো কিছুরই চূড়ান্ত ভিত্তি বা উদ্দেশ্য নেই বলে মনে করে।
প্রশ্নঃ জেরেমি বেন্থাম কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
জেরেমি বেন্থাম (Jeremy Bentham) একজন প্রভাবশালী ইংরেজ দার্শনিক, আইনতত্ত্ববিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তাকে আধুনিক উপযোগবাদের (Utilitarianism) জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।
তার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- জন্ম ও মৃত্যু: তিনি ১৭৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৩২ সালের ৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন।
- উপযোগবাদ (Utilitarianism): এটি তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দার্শনিক অবদান। এই তত্ত্ব অনুসারে, একটি কাজ তখনই নৈতিকভাবে সঠিক যখন এটি সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ (greatest happiness for the greatest number) নিশ্চিত করে। তিনি 'সুখ' এবং 'দুঃখ' কে মানুষের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন যে আইন ও নীতির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমাজে সামগ্রিক সুখ বৃদ্ধি করা।
- হিউডোনিক ক্যালকুলাস (Hedonic Calculus): বেন্থাম সুখ ও দুঃখের পরিমাণ পরিমাপ করার জন্য একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেছিলেন, যা হিউডোনিক ক্যালকুলাস বা ফেলিসিফিক ক্যালকুলাস নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন কাজের সম্ভাব্য সুখ বা দুঃখের পরিমাণ নির্ণয় করার চেষ্টা করেছিলেন।
- সংস্কারের প্রস্তাবনা: তিনি শুধুমাত্র দার্শনিক ছিলেন না, একজন সক্রিয় সংস্কারকও ছিলেন। তিনি সংসদ, আইনি কোড, বিচার বিভাগ এবং কারাগার ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি আইন, শিক্ষা এবং সামাজিক নীতিতে তার উপযোগবাদী নীতিগুলি প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন।
- প্যানোপটিকন (Panopticon): বেন্থাম একটি মডেল কারাগার, প্যানোপটিকন, এর নকশা করেছিলেন। এই নকশার উদ্দেশ্য ছিল সর্বনিম্ন সংখ্যক পর্যবেক্ষক দ্বারা সর্বাধিক সংখ্যক বন্দিকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব করা। যদিও এটি কখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে এটি নজরদারি এবং কারাগার ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
- অন্যান্য অবদান: তিনি ব্যক্তি স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাষ্ট্র থেকে ধর্ম পৃথকীকরণ, বাক স্বাধীনতা, নারীর সমান অধিকার, তালাকের অধিকার, এবং এমনকি সমকামীতাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো বিষয়গুলিরও পক্ষে ছিলেন। তিনি দাসপ্রথা, মৃত্যুদণ্ড এবং শারীরিক শাস্তির (শিশুদের ক্ষেত্রেও) বিলোপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। তাকে পশু অধিকারের প্রথম দিকের প্রবক্তাদের একজন হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
- ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL): তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) প্রতিষ্ঠায় পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন, যা ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম প্রতিষ্ঠান যেখানে জাতি, শ্রেণি বা ধর্ম নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীকে এবং নারীদেরকে পুরুষের সমান শর্তে ভর্তি করা হয়েছিল।
- অটো-আইকন (Auto-Icon): তার ইচ্ছানুযায়ী, মৃত্যুর পর তার দেহকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য দান করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দেহাবশেষকে একটি "অটো-আইকন" হিসেবে সংরক্ষণ করে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে প্রদর্শন করা হয়, যা আজও সেখানে রয়েছে।
সংক্ষেপে, জেরেমি বেন্থাম ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ যার ধারণাগুলি নৈতিকতা, আইন, রাজনীতি এবং সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল।
প্রশ্নঃ একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা। নৈতিকতা (Ethics) একটি ব্যাপক ধারণা, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণের পাশাপাশি মানব চিন্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করে। আর দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা, সরলতা, কর্বত্যপরায়ণতা, ন্যায়নিষ্ঠা প্রভৃতি নৈতিকতা থেকেই উদ্ভূত।
প্রশ্নঃ নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান কি?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো: সততা ও নিষ্ঠা
ব্যাখ্যা:
- সততা ও নিষ্ঠা: নৈতিক শক্তির মূলে রয়েছে সত্যের প্রতি অবিচল থাকা (সততা) এবং নিজের আদর্শ বা লক্ষ্যের প্রতি অবিচল আনুগত্য ও একাগ্রতা (নিষ্ঠা)। একজন ব্যক্তি যখন সৎ এবং তার কাজে নিষ্ঠাবান হন, তখন তার নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়। এটি তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সঠিক পথে থাকতে এবং দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে সাহায্য করে।
অন্যান্য বিকল্পগুলিও নৈতিকতার অংশ হতে পারে, তবে সততা ও নিষ্ঠা হলো নৈতিক শক্তির মৌলিক ভিত্তি:
- কর্তব্যপরায়ণতা: দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য পালনের মানসিকতা। এটি সততা ও নিষ্ঠার একটি ফল, কিন্তু এর মূল উৎস হলো সততা।
- মায়া ও মমতা: স্নেহ, ভালোবাসা ও সহানুভূতি। এগুলো মানবিক গুণাবলী, যা নৈতিক আচরণের জন্ম দিতে পারে, কিন্তু সরাসরি নৈতিক শক্তির মূল উপাদান নয়।
- উদারতা: মহত্ব ও দানশীলতা। এটি একটি মূল্যবান নৈতিক গুণ, তবে এটিও সততা ও নিষ্ঠার মতো মৌলিক উপাদান নয়।
সুতরাং, সততা ও নিষ্ঠা-ই নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান।
প্রশ্নঃ নৈতিকভাবে বলা হয় মানবজীবনের–
[ বিসিএস ৩৬তম ]
নৈতিকভাবে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
এটি বোঝায় যে, মানবজীবনকে নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে তার একটি নির্দিষ্ট আদর্শ বা মূল্যবোধ অনুসরণ করা উচিত।
প্রশ্নঃ ‘Power : A New Social Analysis’ গ্রন্থটি কার লেখা?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
'Power : A New Social Analysis' গ্রন্থটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি লিখেছেন নোবেল বিজয়ী ব্রিটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell)।
এই বইটি ক্ষমতা (Power) এবং সমাজের উপর তার প্রভাব নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ। রাসেল বইটিতে ক্ষমতাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা করেছেন – যেমন রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, ধর্মীয় ক্ষমতা এবং সামরিক ক্ষমতা। তিনি দেখিয়েছেন যে কিভাবে ক্ষমতা মানুষের সম্পর্ক, রাষ্ট্র এবং সামাজিক কাঠামোকে প্রভাবিত করে।
রাসেল ক্ষমতার উৎস, এর বিভিন্ন রূপ এবং এটি কিভাবে সমাজে ব্যবহৃত হয়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ক্ষমতা, যেমন সম্পদ বা জ্ঞানের মতো, নৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয় এবং এর ব্যবহার মানবজাতির জন্য কল্যাণকর বা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। বইটি ক্ষমতাকে একটি মৌলিক সামাজিক শক্তি হিসেবে দেখে যা মানব ইতিহাস এবং সমাজের বিবর্তনকে চালিত করে।
প্রশ্নঃ ‘সুবর্ণ মধ্যক’ হলো–
[ বিসিএস ৩৬তম ]
'সুবর্ণ মধ্যক' (Golden Mean) হলো একটি দার্শনিক ধারণা, যা মূলত প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তার নীতিশাস্ত্র (Ethics) আলোচনায় তুলে ধরেছেন।
এই ধারণা অনুযায়ী, নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব বা গুণাবলী হলো দুটি চরম প্রান্তের মধ্যবর্তী একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা, যা অতিরিক্ত বা অভাব থেকে মুক্ত। অর্থাৎ, কোনো গুণের বা আচরণের অতি বেশি বা অতি কম থাকা উভয়ই ত্রুটিপূর্ণ, আর তার মাঝামাঝি একটি সঠিক ও পরিমিত অবস্থানই হলো 'সুবর্ণ মধ্যক'।
সহজভাবে বললে:
- এটি বাড়াবাড়ি বা কমতি এড়িয়ে চলাকে বোঝায়।
- এটি বিচক্ষণতা, পরিমিতি এবং ভারসাম্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে।
- এটি বিশ্বাস করে যে, প্রতিটি গুণ বা মহৎ কর্মের একটি 'সঠিক' পরিমাণ আছে, যা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ:
- সাহস (Courage) হলো 'সুবর্ণ মধ্যক'। এর অভাব হলো ভীরুতা (Cowardice) এবং এর বাড়াবাড়ি হলো বেপরোয়া সাহস (Rashness)।
- উদারতা (Generosity) হলো 'সুবর্ণ মধ্যক'। এর অভাব হলো কৃপণতা (Stinginess) এবং এর বাড়াবাড়ি হলো অপচয় (Prodigality)।
অ্যারিস্টটল মনে করতেন যে, এই 'সুবর্ণ মধ্যক' খুঁজে বের করা এবং সে অনুযায়ী জীবনযাপন করাই হলো সার্থক ও নৈতিক জীবনযাপনের চাবিকাঠি। এটি কোনো গাণিতিক মধ্যবিন্দু নয়, বরং বিচক্ষণতার মাধ্যমে অর্জিত একটি পরিস্থিতিগত সঠিকতা।
প্রশ্নঃ নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায়–
[ বিসিএস ৩৬তম ]
নৈতিক আচরণবিধি (Code of Ethics) বলতে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট পেশা, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ডগুলোর একটি লিখিত দলিলকে বোঝায়, যা তাদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নৈতিক নির্দেশনা প্রদান করে।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো:
১. সদস্যদের আচরণের মান নির্ধারণ: এটি সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেয় কোন আচরণগুলো নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং কোনগুলো নয়। ২. সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা: প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বা পেশাগত অনুশীলনে সততা, ন্যায্যতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ৩. দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি: সদস্যদের তাদের পেশাগত এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ৪. নৈতিক দ্বিধা সমাধানে সহায়তা: যখন সদস্যরা কোনো নৈতিক দোটানায় পড়েন, তখন এই আচরণবিধি তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পথনির্দেশ করে। ৫. বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি: গ্রাহক, ক্লায়েন্ট, সহকর্মী এবং বৃহত্তর সমাজের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি করতে সাহায্য করে। ৬. পেশাগত মান বজায় রাখা: এটি পেশার মর্যাদা ও মানকে উন্নত ও বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সংক্ষেপে, নৈতিক আচরণবিধি হলো একটি পথনির্দেশিকা যা সদস্যদের সঠিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে উৎসাহিত করে এবং অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। এটি শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের উপর জোর দেয়।
প্রশ্নঃ নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কী?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
নীতিবিদ্যা (Ethics) দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা মানুষের নৈতিক আচরণ, মূল্যবোধ এবং নীতির যৌক্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করে। নীতিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:
১. আচরণ: নীতিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের স্বেচ্ছাকৃত কর্ম বা ঐচ্ছিক ক্রিয়া। এটি মানুষের এমনসব কাজ নিয়ে আলোচনা করে, যা মানুষ স্বাধীনভাবে ও বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে সম্পন্ন করে। অনিচ্ছাকৃত বা বাধ্যতামূলক কাজ নীতিবিদ্যার আওতায় পড়ে না।
২. নৈতিক আদর্শ: নীতিবিদ্যা বিভিন্ন নৈতিক আদর্শ নিয়ে আলোচনা করে, যা মানুষের আচরণের ভালোত্ব বা মন্দত্ব বিচার করার ভিত্তি তৈরি করে। এটি চরম নৈতিক আদর্শ (যেমন - সত্য, মঙ্গল, সুন্দর) এবং কীভাবে এই আদর্শগুলো মানুষের জীবনে প্রয়োগ করা উচিত, তা নিয়ে অনুসন্ধান করে।
৩. নৈতিক বিচার: মানুষের আচরণের নৈতিক বিচার কী, কীভাবে এই বিচার করা হয়, এবং এই বিচারের ভিত্তি কী—এসব বিষয় নিয়ে নীতিবিদ্যা আলোচনা করে। নৈতিক বিচার প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্য, অভিপ্রায়, এবং ফলাফলের ভূমিকাও নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
৪. নৈতিক বাধ্যতাবোধ: কোন কাজ করা উচিত বা অনুচিত, তা নিয়ে মানুষের মনে যে বাধ্যতাবোধ বা তাগিদ কাজ করে, নীতিবিদ্যা তার স্বরূপ নির্ণয় করে। সৎকাজ করার এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাকার পেছনে কী ধরনের নৈতিক অনুভূতি কাজ করে, তা নিয়েও এটি আলোচনা করে।
৫. ইচ্ছার স্বাধীনতা, বুদ্ধি ও বিচারশক্তি, এবং ব্যক্তিত্ব: নৈতিক বিচারের জন্য মানুষের মধ্যে কিছু পূর্বস্বীকৃত গুণ থাকা প্রয়োজন। যেমন - ইচ্ছার স্বাধীনতা (freedom of will), বুদ্ধি ও বিচারশক্তি (intellect & reason), এবং ব্যক্তিত্ব (personality)। নীতিবিদ্যা এই বিষয়গুলোর স্বরূপ ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে।
৬. কর্তব্য ও অধিকার: ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্কের ভিত্তিতে মানুষের কর্তব্য (duties) এবং অধিকার (rights) কী হওয়া উচিত, তা নীতিবিদ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৭. নৈতিক ভাবাবেগ ও বিবেক: সৎকাজ করলে মানুষের মনে যে সন্তোষ বা নৈতিক গৌরব আসে এবং অসৎকাজ করলে যে অনুশোচনা বা অসন্তোষ আসে, তা নৈতিক ভাবাবেগের অংশ। বিবেক (conscience) কীভাবে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে, সেটিও নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
সংক্ষেপে, নীতিবিদ্যা হলো একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের নৈতিক আচরণ, তার ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত এবং ন্যায়-অন্যায়ের বিচার ও বিশ্লেষণ করে।
প্রশ্নঃ মানুষের কোন ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
মানুষের যে ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় তা হলো কঃ ঐচ্ছিক ক্রিয়া।
নীতিবিদ্যা শুধুমাত্র মানুষের স্বেচ্ছাকৃত কর্ম বা ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে, কারণ এগুলোর পেছনে ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা ও বিচারবুদ্ধি কাজ করে এবং এগুলোর নৈতিক মূল্যায়ন সম্ভব। অনৈচ্ছিক বা ইচ্ছা নিরপেক্ষ ক্রিয়া, যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস বা প্রতিবর্ত ক্রিয়া, মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় নীতিবিদ্যার আওতায় পড়ে না।
প্রশ্নঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা কে?
[ প্রা. প্র. শি. নি.১১-১০-২০১২ ]
প্রশ্নঃ মার্কসীয় দর্শনের মূল লক্ষ্য কি?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১৪-০৭-২০০৬ ]