প্রশ্নঃ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’ বলা আছে?
[ বিসিএস ২৭তম ]
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১০নং অনুচ্ছেদে ‘সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি’ ২১(২) নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তির কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। তৃতীয় ভাগের ২৭নং অনুচ্ছেদে ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ এবং ২৮(২)নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার বিষয়ে বলা হয়েছে।
Related MCQ
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
"রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের নীতিসমূহ এবং সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতির উপর ভিত্তি করে অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করিবেন এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সচেষ্ট হইবেন।"
অর্থাৎ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি মূলত আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত হবে এবং রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করবে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন।
প্রশ্নঃ ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ কথাটি সংবিধানের কোন্ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ কথাটি বাংলাদেশ সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে: "প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।"
প্রশ্নঃ কোনাে নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি মামলা করতে পারেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে, তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতে (সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে) রিট আবেদন করে প্রতিকার চাইতে পারেন।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী:
হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে—
- Writ Jurisdiction প্রয়োগ করতে পারে
- যেমন: রিট, হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, কো-ওয়ারান্টো, প্রোহিবিশন ইত্যাদি আদেশ দিতে পারে
‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বাংলাদেশ সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত।
এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
(১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে।
(২) কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন বিশেষ ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হইলে কোন ব্যক্তি যদি সেই ধর্মাবলম্বী না হন, তাহা হইলে তাঁহাকে উক্ত শিক্ষা গ্রহণ করিতে হইবে না।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এ নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: "সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।" এর মাধ্যমে রাষ্ট্র নারী ও পুরুষ উভয়কেই সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রদান করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ এ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি বর্ণিত আছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
"(১) রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি হইবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ; এবং উহা সাধারণভাবে নিম্নলিখিত নীতিসমূহ দ্বারা পরিচালিত হইবে:
(ক) জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা; (খ) অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা; (গ) আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান; এবং (ঘ) আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা।
(২) রাষ্ট্র এই নীতিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট থাকিবে এবং সকল জাতির সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে সহযোগিতা করিবে।"
সুতরাং, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী পরিবর্তনযোগ্য নয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭খ সংযোজন করা হয়েছে, যা মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত বিধানাবলী অপরিবর্তনীয় ঘোষণা করে।
অনুচ্ছেদ ৭খ-এ যা বলা হয়েছে:
"সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং এই সংবিধানের ১৩৯ অনুচ্ছেদ, ১৪০ অনুচ্ছেদ ও ১৪১ অনুচ্ছেদসহ এই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অন্যান্য বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিত বা অন্য কোনো উপায়ে সংশোধন অযোগ্য হইবে।"
অর্থাৎ, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র), দ্বিতীয় ভাগ (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি), নবম-ক ভাগ (জরুরী বিধানাবলী) এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যাবে না। জাতীয় সংসদ চাইলেও এই মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন করতে পারবে না।
এই বিধানটি সংযোজনের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্রের মূলনীতি এবং সংবিধানের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখা।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধানের এয়োদশ সংশোধনীর মূল বিষয় কি ছিল?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বাংলাদেশের সংবিধানের এয়োদশ সংশোধনীর (The Thirteenth Amendment Act, 1996) মূল বিষয় ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের একটি নতুন অধ্যায় দ্বিতীয় ক যুক্ত করা হয়, যেখানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত বিধানাবলী অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এয়োদশ সংশোধনীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল:
- একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, যাতে সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য একটি সমান ও আস্থাশীল পরিবেশ পায়।
- ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল:
- এই সরকার মূলত প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হতো।
- নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত।
- এই সরকারের প্রধান কাজ ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনার সীমিত ক্ষমতা ছিল এবং তারা নীতিগত কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারত না।
পরবর্তীতে, ২০১১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে?
[ বিসিএস ৪১তম ]
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। এই ভাগের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ১৮:
(১) রাষ্ট্র জনগণের পুষ্টিস্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যর উন্নতিকে প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষত: মাদক পানীয় ও স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(২) রাষ্ট্র পতিতাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিবারণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
সুতরাং, সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে?
[ বিসিএস ৪০তম ]
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদে এই তফসিলটির উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণটি হুবহু সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ সংবিধানের কোন সংশোধনকে ‘first distortion of constitution’ বলে আখ্যায়িত করা হয়?
[ বিসিএস ৪০তম ]
পঞ্চম সংশোধনীকে বাংলাদেশের সংবিধানের ‘first distortion of constitution’ বা সংবিধানের প্রথম বিকৃতি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৬ই এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসনামলে জারিকৃত সকল অধ্যাদেশ, ঘোষণা ও আদেশকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে সংবিধানের মূল কাঠামো ও গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
প্রশ্নঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয়-
[ বিসিএস ৪০তম ]
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয়। এই দিনটিকে বাংলাদেশে বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সংবিধানটি ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধানে মোট কয়টি তফসিল আছে?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
বাংলাদেশের সংবিধান হলো স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। এটি একটি লিখিত দলিল, যা দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং সরকারের তিনটি প্রধান শাখা (আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রণয়ন: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- কার্যকর: ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবস থেকে এটি কার্যকর হয়।
- প্রথম হস্তলিখিত অনুলিপি: সংবিধানের প্রথম হস্তলিখিত অনুলিপিটি হাতে লিখেছিলেন বিখ্যাত শিল্পী ও চিত্রকর আব্দুর রউফ।
- ভাষা: সংবিধানটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় রচিত। তবে, বাংলা সংস্করণটি মূল পাঠ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. প্রজাতন্ত্র: বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।
২. এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা: বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র। এখানে কোনো প্রাদেশিক সরকার নেই, কেন্দ্রীয় সরকারই সমগ্র দেশ শাসন করে।
৩. সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা: বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার বিদ্যমান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান এবং তিনি সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের আস্থাভাজন। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান।
৪. এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা: বাংলাদেশের আইনসভা (জাতীয় সংসদ) এককক্ষ বিশিষ্ট।
৫. মৌলিক অধিকার: সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই অধিকারগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক সুরক্ষিত এবং লঙ্ঘিত হলে বিচারিক প্রতিকার পাওয়া যায়।
৬. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণিত হয়েছে। এগুলো হলো: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এই নীতিগুলো রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে ও প্রয়োগে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
৭. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, যাতে বিচারকরা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন।
৮. সার্বভৌমত্ব: রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
৯. সংস্কৃতি ও ভাষা: বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
সংবিধানের কাঠামো: বাংলাদেশের সংবিধান একটি প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল নিয়ে গঠিত।
- প্রস্তাবনা: সংবিধানের আদর্শ ও উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে।
- ১১টি ভাগ:
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন
- অষ্টম ভাগ: মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ
- দশম ভাগ: সংবিধান সংশোধন
- একাদশ ভাগ: বিবিধ
- ৭টি তফসিল: সংবিধানের বিভিন্ন বিস্তারিত বিষয়বস্তু ও ব্যাখ্যা এই তফসিলগুলোতে অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের সংবিধান বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ফসল এবং এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি ও জনগণের অধিকারের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এই সংবিধানে এ পর্যন্ত ১৭ বার (সর্বশেষ ২০১৭ সালে) সংশোধন করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: "রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।"
এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহের (Principles of State Policy) একটি অংশ, যা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
প্রশ্নঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ধারায় সকল নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা হয়েছে?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং ধারায় সকল নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা হয়েছে।
২৭ নং ধারায় বলা হয়েছে: "সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।"
এটি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশের (তৃতীয় ভাগ) একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা আইনের শাসন এবং বৈষম্যহীনতার নীতিকে প্রতিষ্ঠা করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হলো এমন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা কোনো দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ করার লক্ষ্যে গঠিত হয়। এই সরকার নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনা করে। এর প্রধান কাজ থাকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ইতিহাস:
- প্রবর্তন: বাংলাদেশে ১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মুখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক বৈধতা দেয়। এর মাধ্যমে প্রতি সংসদ নির্বাচনের আগে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়।
- উদ্দেশ্য: এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত একটি পরিবেশ তৈরি করা, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং একটি বিতর্কহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
- পরিচালনা: এই সরকার সাধারণত একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত হতো, যিনি সাধারণত সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হতেন। তাঁর অধীনে অনির্বাচিত কয়েকজন উপদেষ্টা মিলে মন্ত্রিসভার কাজ পরিচালনা করতেন। এই সরকারের ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের মতো ব্যাপক ছিল না; এটি কেবল রুটিন কাজ এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখভাল করত।
- যেসব নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছিল: ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল:
- বাতিলের কারণ: ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে। যদিও আদালত জনস্বার্থে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছিল, সরকার তা গ্রহণ করেনি।
- পঞ্চদশ সংশোধনী: এই রায়ের পর ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এই সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচনের বিধান ফিরে আসে।
- বিতর্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল এটিকে অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যান করছে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি কোন অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিষয়টি একশত সতেরো (১১৭) নং অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদে সংসদকে আইন দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের চাকরির শর্তাবলী এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে এখতিয়ার প্রয়োগ করবে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত কতটি সংশোধনী আনা হয়েছে?
[ বিসিএস ৩৩তম ]
১৭টি সংশোধনীগুলো হলো:
১. ১৯৭৩ সালের প্রথম সংশোধনী: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়।
২. ১৯৭৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনী: জরুরি অবস্থা জারির বিধান যুক্ত করা হয়।
৩. ১৯৭৪ সালের তৃতীয় সংশোধনী: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করা হয়।
৪. ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী: সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
৫. ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনী: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে সামরিক সরকারের জারি করা বিধি-বিধানগুলোকে বৈধতা দেওয়া হয়।
৬. ১৯৮১ সালের ষষ্ঠ সংশোধনী: রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি এই পদে না থাকেন, তবে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।
৭. ১৯৮৬ সালের সপ্তম সংশোধনী: সামরিক সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়।
৮. ১৯৮৮ সালের অষ্টম সংশোধনী: ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
৯. ১৯৮৯ সালের নবম সংশোধনী: রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার বিধান যুক্ত করা হয়।
১০. ১৯৯০ সালের দশম সংশোধনী: জাতীয় সংসদে নারী আসন ১০ বছরের জন্য সংরক্ষিত করা হয়।
১১. ১৯৯১ সালের একাদশ সংশোধনী: বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের প্রধান বিচারপতি পদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
১২. ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনী: রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে আবার সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
১৩. ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
১৪. ২০০৪ সালের চতুর্দশ সংশোধনী: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানো হয় এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫-এ উন্নীত করা হয়।
১৫. ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
১৬. ২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনী: উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
১৭. ২০১৮ সালের সপ্তদশ সংশোধনী: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মনোগ্রামে ৪টি তারকা রয়েছে। এ মনোগ্রামে রয়েছে লাল রঙের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র। বৃত্তের উপর দিকে লেখা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে লেখা ‘সরকার’। লেখার দুপাশে দুটি করে মোট ৪টি তারকাচিহ্ন রয়েছে।
প্রশ্নঃ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন?
[ বিসিএস ২৬তম ]
বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) -এর ৬ নং ধারায় নাগরিকের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ ধারার ৬(১) এ বলা হয়েছে “বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে” এবং (৬)২ এ বলা হয়েছে “বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।” ৭ ধারায় সংবিধানের প্রাধান্য এবং ৮ ধারায় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্নঃ ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী’- সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
[ বিসিএস ২৪তম ]
এটি বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগ মৌলিক অধিকার-এর ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ অংশে ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে। অন্যদিকে ২৮নং অনুচ্ছেদে ধর্ম-বর্ণ ইত্যাদি বিষয়ে বৈষম্য, ৩০নং অনুচ্ছেদে বিদেশী খেতাব ইত্যাদি গ্রহণ, নিষিদ্ধকরণ এবং ৪৭নং অনুচ্ছেদে কতিপয় আইনের হেফাজত বিষয়ে আইন বর্ণিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭-১৪১ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সংবিধানের ১৩৭ নং ধারায় বলা হয়েছে, ‘আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্মকমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাইবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেইরূপ নির্ধারিত হইবে, সেইরূপ অন্যান্য সদস্যকে লইয়া প্রত্যেক কমিশন গঠিত হইবে।’
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ বলে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর নাগরিকদের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরির ক্ষমতা পায়?
[ বিসিএস ২১তম ]
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান তৈরি করতে রাষ্ট্রকে কোন কিছুই নিবৃত্ত করবে না। অর্থাৎ, এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র নারী, শিশু ও অনগ্রসর নাগরিকদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি প্রণয়ন করতে পারবে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর উদ্দেশ্য কি ছিল?
[ বিসিএস ২১তম ]
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। এই সংশোধনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান তৈরি করা হয়।
এছাড়াও, এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের কয়েকটি অংশে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন আনা হয়, যা মূলত প্রশাসনিক এবং প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলির সাথে সম্পর্কিত ছিল। তবে, এর মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং তাদের শাস্তি প্রদান করা।
প্রশ্নঃ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটি জাতীয় সংসদে কবে পাস করা হয়?
[ বিসিএস ২১তম ]
তবে পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৩০ জুন তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
উত্তর: \[ \boxed{২৭\ \text{মার্চ}\ ১৯৯৬} \]
১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারির পর ২৩ জুন রাষ্ট্রপতি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এ অধিবেশনে খসড়া সংবিধান প্রণয়নের জন্য ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। এ কমিটি গণপরিষদে খসড়া সংবিধান পেশ করে ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর, যা ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পুনঃপরিবর্তিত হয়। এটি ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) ধারায় বলা হয়েছে:
“সকল সময়ে জনগণের সেবা চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।”
এই ধারাটি সংবিধানের মৌলিক কর্তব্য অংশে অন্তর্ভুক্ত, যা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জনগণের সেবা করার দায়িত্বকে নির্দেশ করে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু হয় সংবিধানের কত নম্বর সংশোধনীর মাধ্যমে?
[ বিসিএস ১৬তম ]
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভের মাধ্যমে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পুনঃপরিবর্তিত হয়।
১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারির পর ২৩ জুন রাষ্ট্রপতি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এ অধিবেশনে খসড়া সংবিধান প্রণয়নের জন্য ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। এ কমিটি গণপরিষদে খসড়া সংবিধান পেশ করে ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর যা ৪ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
প্রশ্নঃ বাংলোদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা সম্পর্কে বলা হয়েছে?
[ প্রা.বি.স.শি. 29-03-2024 ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে নাগরিকের পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে?
[ প্রা.বি.স.শি. 08-12-2023 ]
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪০ এ নাগরিকের পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪০-এ বলা হয়েছে:
"আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের এবং কারবার বা ব্যবসা পরিচালনার অধিকার থাকিবে।"
অর্থাৎ, আইনের দ্বারা যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ আরোপ করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে যেকোনো বৈধ পেশা, বৃত্তি, কারবার বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ "প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা" বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
[ ১৮তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]
"প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা" বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ বিষয়বস্তু কী?
[ ১৬তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]
প্রশ্নঃ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের উল্লেখ আছে-
[ ১৬তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]
প্রশ্নঃ সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
[ ১৫তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধান ২০১১ সাল পর্যন্ত কতবার সংশোধন হয়েছে?
[ ৮ম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কোরাম হয় কত জন সদস্যের উপস্থিতিতে?
[ প্রা. প্র. শি. নি. ১২-০৯-২০০৯ ]
প্রশ্নঃ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের নিয়োগকারী কে?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৬-০৯-২০১৯ ]
প্রশ্নঃ সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয় কততম সংশোধনীতে?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৬-০৯-২০১৯ ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধান কখন থেকে কার্যকর হয়?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৭-০১-২০১১ ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২১-০৬-২০১৯ ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বর্তমানে মোট কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৪-০৫-২০১৯ ]
প্রশ্নঃ কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৪-০৫-২০১৯ ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে শিক্ষার জন্য সাংবিধানিক অঙ্গীকার ব্যক্ত আছে?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৬-০৫-২০১৮ ]
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সংবিধান কতবার সংশোধিত হয়েছে?
[ প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ২৯-১০-২০১৬ ]
প্রশ্নঃ কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়?
[ প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ৩০-১০-২০১৫ ]
প্রশ্নঃ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করতে পারেন কে?
[ প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ১৬-১০-২০১৫ ]