প্রশ্নঃ দক্ষিণ তালপট্টি কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ২৯তম ]
দক্ষিণ তালপট্টি একটি দ্বীপ। এ দ্বীপটি হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় অবস্থিত। দ্বীপটি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে এটি বিলুপ্ত।
Related MCQ
বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি এলাকাকে ‘Marine Protected Area (MPA)’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এবং এর চারপাশের এলাকা: এই এলাকাটিকে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য MPA ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে প্রবাল প্রাচীর এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি বিদ্যমান।
- নিঝুম দ্বীপ মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া: এটি বঙ্গোপসাগরের মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখির আবাসস্থল।
এছাড়াও, সরকার আরও কিছু এলাকাকে MPA ঘোষণার পরিকল্পনা করছে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হল কঃ ঘন ঘন বন্যা।
বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির (সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি) উন্নয়নে কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো:
-
সমুদ্র দূষণ: শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ এবং জাহাজ থেকে নির্গত তেল সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। এটি ব্লু-ইকোনমির বিভিন্ন খাত, যেমন মৎস্য সম্পদ ও পর্যটনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
-
ত্রুটিপূর্ণ সমুদ্র শাসন: সমুদ্র অঞ্চলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে ব্যাহত করে। অবৈধ মৎস্য শিকার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও এর অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, ঘন ঘন বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা মূলত বাংলাদেশের স্থলভাগকে প্রভাবিত করে। যদিও বন্যার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন ও জীবিকার ক্ষতি হতে পারে, তবে এটি সরাসরি ব্লু-ইকোনমির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয় না। সমুদ্র অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো মূলত সমুদ্র ও সমুদ্র সম্পদকেন্দ্রিক।
সুতরাং, "ঘন ঘন বন্যা" বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের কোন দ্বীপটি প্রবাল দ্বীপ নামে খ্যাত?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো সেন্ট মার্টিন।
এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত, কারণ এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ জন্মে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রবাল প্রাচীর বিদ্যমান। এই প্রবাল প্রাচীরটিতে বিভিন্ন ধরণের প্রবাল এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। জোয়ারের সময় এই প্রাচীরের অনেক অংশ পানিতে তলিয়ে গেলেও ভাটার সময় তা দৃশ্যমান হয়।
ছোট আয়তনের এই দ্বীপটি তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রবাল প্রাচীর এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত এবং এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের কোথায় প্লায়িস্টোসিন কালের সােপান দেখা যায়?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
বাংলাদেশে প্লায়িস্টোসিন কালের সােপান প্রধানত তিনটি অঞ্চলে দেখা যায়:
১. বরেন্দ্রভূমি: এটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, রংপুর এবং বগুড়া জেলার কিছু অংশ।
২. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: এটি মধ্য বাংলাদেশে অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল, গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার কিছু অংশ।
৩. লালমাই পাহাড়: এটি কুমিল্লা শহরের পশ্চিমে অবস্থিত।
প্লাইস্টোসিন কালের এই সোপানগুলো আনুমানিক ২৫ হাজার বছর পূর্বে গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই অঞ্চলগুলো সমভূমি থেকে কিছুটা উঁচু এবং এদের মাটি লালচে ও কঠিন প্রকৃতির।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কোনটি অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪১তম ]
সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একটি অংশ। এর স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা।
সেন্টমার্টিন তার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। স্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবাল পাথর, সাদা বালির সৈকত এবং সারি সারি নারকেল গাছ এই দ্বীপটিকে এক অসাধারণ রূপ দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে কিছু তথ্য:
- অবস্থান: বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত। টেকনাফ মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এটি অবস্থিত।
- আয়তন: প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- জনসংখ্যা: প্রায় ৮,০০০ (স্থায়ী বাসিন্দা)।
- প্রধান আকর্ষণ: প্রবাল, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, সামুদ্রিক শৈবাল, মনোরম সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়।
- দর্শনীয় স্থান: ছেঁড়াদ্বীপ (দ্বীপের দক্ষিণতম অংশ, জোয়ারের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়), সেন্টমার্টিন বাজার, পাথর বিচ।
- যাতায়াত: টেকনাফ থেকে স্পিডবোট বা ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। নভেম্বরের শুরু থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য কয়টি?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বাংলাদেশের সাথে ভারতের পাঁচটি রাজ্য সীমান্ত ভাগ করে:
১. পশ্চিমবঙ্গ: বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত এই রাজ্যের সাথে। ২. আসাম: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। ৩. মেঘালয়: আসামের দক্ষিণে অবস্থিত। ৪. ত্রিপুরা: বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত। ৫. মিজোরাম: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ প্রান্তিক হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪১তম ]
প্রান্তিক হ্রদ বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। এটি বান্দরবান-কেরাণীহাট সড়কের পাশে হলুদিয়া নামক স্থানে রয়েছে। জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪১তম ]
আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা, যা আলুটিলা রহস্যময় গুহা নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত একটি আকর্ষণীয় স্থান।
আলুটিলা গুহা সম্পর্কে কিছু তথ্য:
- অবস্থান: খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায়, খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে আলুটিলা বা আরবারী পাহাড়ে এই গুহাটি অবস্থিত।
- স্থানীয় নাম: স্থানীয়রা একে "মাতাই হাকড়" বা "দেবতার গুহা" নামে ডাকে। তবে পর্যটকদের কাছে এটি আলুটিলা নামেই পরিচিত।
- নামকরণ: "আলুটিলা" নামের অর্থ "আলুর পাহাড়"। কথিত আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের মানুষ খাদ্যের জন্য এই পাহাড় থেকে বুনো আলু সংগ্রহ করত, সেই থেকেই এর নাম আলুটিলা।
- বৈশিষ্ট্য: এটি একটি প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ। গুহাটি প্রায় ১০০ মিটার লম্বা এবং বেশ অন্ধকার ও শীতল। এর ভেতরের পাথরগুলো পিচ্ছিল এবং কিছু জায়গায় জলধারা বয়ে যায়।
- আকর্ষণ: গুহার অন্ধকার ভেদ করে মশাল (স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয়) বা টর্চলাইটের আলোয় ভেতরের রহস্যময় পরিবেশ দেখা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। গুহার এক মুখ দিয়ে ঢুকে অন্য মুখ দিয়ে বের হওয়া যায়।
- পার্শ্ববর্তী আকর্ষণ: আলুটিলার কাছেই রিসাং ঝর্ণা ও বৌদ্ধ মন্দিরও অবস্থিত, যা পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
- যাতায়াত: খাগড়াছড়ি শহর থেকে চান্দের গাড়ি, সিএনজি, মোটরবাইক বা লোকাল বাসে করে আলুটিলা যাওয়া যায়।
আলুটিলা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রহস্যময় গুহার জন্য খাগড়াছড়ির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
প্রশ্নঃ ‘বেঙ্গল ফ্যান’- ভূমিরূপটি কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪১তম ]
‘বেঙ্গল ফ্যান’ (Bengal Fan) হলো পৃথিবীর বৃহত্তম submarine fan বা underwater delta (অন্তঃসাগরীয় পলল শঙ্কু)। এটি বঙ্গোপসাগরের তলদেশে অবস্থিত একটি বিশাল আকৃতির ভূমিরূপ।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
- আয়তন: এটি প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া। এর পুরুত্ব কোথাও কোথাও ১৬.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি পুরো বঙ্গোপসাগরের তলদেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: হিমালয় পর্বতমালা এবং তিব্বত মালভূমির উত্থান ও ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট পলিমাটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। এই নদীবাহিত পলি ধীরে ধীরে জমা হয়ে এই বিশাল পলল শঙ্কুটি তৈরি করেছে। এছাড়াও ভারতের অন্যান্য নদী যেমন গোদাবরী, কৃষ্ণা এবং মায়ানমারের ইরাবতী নদীর পলিও এর গঠনে কিছু অবদান রেখেছে।
- গঠন: বেঙ্গল ফ্যান অসংখ্য ডুবো খাদ (submarine canyon) এবং পললবাহী নদীখাত (fan valley system) দ্বারা গঠিত। এই খাদগুলোর মাধ্যমে পলি দূরবর্তী অঞ্চলে পরিবাহিত ও জমা হয়। বর্তমানে এর একটি প্রধান সক্রিয় খাদ এবং একটি সক্রিয় পললবাহী নদীখাত রয়েছে।
- গুরুত্ব: বেঙ্গল ফ্যান হিমালয়ের উত্থান, ক্ষয় এবং ভারতীয় বর্ষাকালের ইতিহাস জানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রাচীনতম শিলাস্তর প্রায় ২ কোটি বছর আগের। এই পলল শঙ্কুতে সঞ্চিত পলি ভূতাত্ত্বিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের বহু তথ্য ধারণ করে।
- অবস্থান: এটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত, পশ্চিমে ভারতের পূর্ব উপকূল, উত্তরে বাংলাদেশ এবং পূর্বে মায়ানমার ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পর্যন্ত বিস্তৃত।
সংক্ষেপে, ‘বেঙ্গল ফ্যান’ হলো একটি বিশাল подводный পলল শঙ্কু যা হিমালয় পর্বতমালা থেকে আসা নদীবাহিত পলি দ্বারা বঙ্গোপসাগরের তলদেশে গঠিত হয়েছে এবং এটি পৃথিবীর বৃহত্তম এই ধরনের ভূমিরূপ।
প্রশ্নঃ ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’- কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বঙ্গবন্ধু দ্বীপ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার দুবলার চর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। এটি সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত এবং বঙ্গবন্ধু চর বা বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড নামেও পরিচিত।
এই দ্বীপটি ১৯৯২ সালে প্রথম জেগে ওঠে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় আসে। এটি বর্তমানে একটি নতুন পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্নঃ মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ক’টি জেলার সীমান্ত রয়েছে?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
জেলাগুলো হলো:
১. রাঙ্গামাটি ২. বান্দরবান ৩. কক্সবাজার
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ গঠিত হয় টারশিয়ারী যুগে। এই অঞ্চলের টারশিয়ারি যুগের শিলাসমূহ মূলত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (পার্বত্য চট্টগ্রাম), উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ অঞ্চল) এবং ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গড়ের কিছু অংশে বিদ্যমান। এগুলো মূলত ভাঁজ করা পাহাড় ও উচ্চভূমি।
প্রশ্নঃ নিচের কোন জেলাতে প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি রয়েছে?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
ভূগোল ও ভূ-প্রকৃতি অনুসারে, প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি (Pleistocene Terraces) হলো বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল। এগুলো মূলত প্লাইস্টোসিন যুগে (প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বে) গঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই সময়ে আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল। এখানকার মাটির রঙ সাধারণত লালচে বা ধূসর হয় এবং মাটি নুড়ি, বালি ও কাঁকর মিশ্রিত।
বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract):
- অবস্থান: এটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত।
- বিস্তৃতি: রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি প্লাবন সমভূমি থেকে প্রায় ৬ থেকে ১২ মিটার উঁচু।
২. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় (Madhupur and Bhawal Tract):
- অবস্থান: এটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত।
- বিস্তৃতি: ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর এবং ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটিও তুলনামূলকভাবে উঁচু এবং বনাঞ্চলে আচ্ছাদিত।
৩. লালমাই পাহাড় (Lalmai Hills):
- অবস্থান: এটি কুমিল্লা শহরের পশ্চিমে অবস্থিত।
- বিস্তৃতি: কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি তুলনামূলকভাবে ছোট আয়তনের একটি নিচু পাহাড়ী এলাকা।
এই প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমিগুলো বাংলাদেশের অন্যান্য সমভূমি অঞ্চলের থেকে কিছুটা উঁচু এবং এদের মাটি ও গঠন প্রকৃতি ভিন্ন। কৃষি ও বসতি স্থাপনার ক্ষেত্রে এগুলোর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারি পাহাড়কে ২ ভাগে ভাগ করা হয়।
বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলো প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হয়েছিল। এই পাহাড়গুলো দেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে গঠিত। এদের অবস্থান এবং বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: এই অংশে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশের পাহাড়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে বিস্তৃত। তাজিংডং (বিজয়) ও কেওক্রাডং-এর মতো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলো এই অঞ্চলেই অবস্থিত।
২. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: এই অংশে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড় এবং ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশের ছোট ছোট টিলা ও পাহাড়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর উচ্চতা সাধারণত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ের তুলনায় কম, প্রায় ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
কিশোরগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের একটি প্রধান অংশ। এই জেলার বেশিরভাগ অঞ্চলই নিচু ভূমি, যা মূলত হাওড় ও বাঁওড় এলাকা নিয়ে গঠিত এবং বর্ষাকালে মৌসুমী বায়ু প্রবাহের সময় ১৮০ সেমি থেকে ২৭৫ সেমি পর্যন্ত প্লাবিত হয়। বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জে ১২২টি হাওর রয়েছে, যার আয়তন ১,৮২,১০৩ হেক্টর। হবিগঞ্জেও হাওর রয়েছে, তবে কিশোরগঞ্জের তুলনায় এর পরিমাণ কম।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কোনটি?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়, ভারত ও মিয়ানমারের মাঝখানে এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত। এটি একটি নিম্নভূমির দেশ যা মূলত বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বিশাল অববাহিকা অবস্থিত।
ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক:
- অক্ষাংশ: ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।
- দ্রাঘিমাংশ: ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
- কর্কটক্রান্তি রেখা: বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫০′ উত্তর অক্ষাংশ) অতিক্রম করেছে।
- মান সময়: গ্রিনিচ মান সময় থেকে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে (GMT +6)।
আয়তন:
- বাংলাদেশের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার (মতান্তরে ১,৪৮,৪৬০ বর্গ কিলোমিটার)।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা কতটি?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জেলার সংখ্যা ছিল ১৬ টি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় নদীয়া জেলা থেকে প্রাপ্ত অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ১৭তম জেলা ‘কুষ্টিয়া’ গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি বৃহত্তর বরিশাল জেলা থেকে ‘ পটুয়াখালী’ (১৮তম) এবং একই সালের ১ ডিসেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে ‘টাঙ্গাইল’ (১৯তম) জেলা আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭৮ বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলা থেকে ২০তম জেলা হিসেবে গঠিত হয় জামালপুর। তারপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তারিখ ও প্রজ্ঞাপন মূলে দেশে জেলার সংখ্যা হয় ৬৪টি।
প্রশ্নঃ ‘শুভলং’ ঝরনা কোন জেলায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
শুভলং ঝরনা রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত।
এটি রাঙামাটি সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই হ্রদের পাশে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। বর্ষাকালে এর রূপ আরও মনোমুগ্ধকর হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থানের নাম কি?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং চলমান তাপপ্রবাহের ভিত্তিতে কিছু স্থানকে উষ্ণতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ঐতিহাসিকভাবে, বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান হিসেবে নাটোরের লালপুর-কে উল্লেখ করা হয়, যেখানে দেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাতও রেকর্ড করা হয়।
তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এপ্রিল-মে মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় চুয়াডাঙ্গা, যশোর, রাজশাহী এবং পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায়শই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায় এবং অনেক সময় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এই স্থানগুলোতে রেকর্ড করা হয়।
অতএব, যদিও ঐতিহাসিকভাবে নাটোরের লালপুর উষ্ণতম স্থান হিসেবে পরিচিত, সাম্প্রতিক সময়ে চুয়াডাঙ্গা এবং যশোর-ও দেশের অন্যতম উষ্ণতম অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্রায়শই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা কত?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলাদেশের সাথে ভারতের স্থলসীমানার দৈর্ঘ্য হলো ৪,১৫৬ কিলোমিটার।
এটি বিশ্বের দীর্ঘতম স্থলসীমান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের মোট স্থলসীমার (প্রায় ৪,৪২৭ কিলোমিটার) প্রায় ৯৪% হলো ভারতের সাথে। ভারতের পাঁচটি রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম) বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে।
প্রশ্নঃ প্রান্তিক হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
প্রান্তিক হ্রদ বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় অবস্থিত একটি সুন্দর কৃত্রিম হ্রদ। এটি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
প্রশ্নঃ যশোর জেলায় অবস্থিত বিল-
[ বিসিএস ৩৫তম ]
ভবদহ বিলটিই যশোর জেলায় অবস্থিত।
এখানে বিকল্প বিলগুলোর অবস্থান ব্যাখ্যা করা হলো:
- কঃ হাইল (Hail): এটি হাইল হাওর নামে পরিচিত এবং এটি প্রধানত মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ হাওর।
- খঃ পাথরচাওলি (Pathorchawli): এই নামে সুপরিচিত কোনো বড় বিলের তথ্য পাওয়া যায় না। এটি কোনো নির্দিষ্ট জেলার উল্লেখযোগ্য বিল নয়।
- ঘঃ আড়িয়াল (Arial): এটি আড়িয়াল বিল নামে পরিচিত এবং এটি প্রধানত মুন্সিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এটি দেশের বৃহত্তম বিলগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
সিলেট অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
এই নামকরণ মূলত হযরত শাহজালাল (র.) এবং তাঁর ৩৬০ জন সঙ্গী আউলিয়ার সিলেট আগমনের সাথে জড়িত, যারা এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
হযরত শাহজালাল (র.) এবং তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়ার ইসলাম প্রচারের কারণে সিলেট এই নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
প্রশ্নঃ ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে -
[ বিসিএস ৩৫তম ]
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন (UNCLOS) অনুযায়ী একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা ভিত্তি রেখা হতে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হতে পারে।
তবে, এর একটি প্রাথমিক সীমাও রয়েছে, যা ভিত্তি রেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল। যদি কোনো রাষ্ট্রের মহীসোপান ভূতাত্ত্বিকভাবে ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরেও বিস্তৃত হয়, তবে সেটি সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দাবি করা যেতে পারে, কিছু নির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক সূত্র মেনে।
প্রশ্নঃ ‘মংডু’ কোন দুটি দেশের সীমান্ত এলাকা?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
‘মংডু’ হলো বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার-এর সীমান্ত এলাকা।
এটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি শহর, যা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বিপরীতে নাফ নদীর ওপারে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্য পথও বটে।
প্রশ্নঃ ভারতীয় কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত নেই?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
ভারতের ৫টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো:
১. পশ্চিমবঙ্গ ২. আসাম ৩. মেঘালয় ৪. ত্রিপুরা ৫. মিজোরাম
সুতরাং, এই ৫টি রাজ্য ব্যতীত ভারতের অন্য যেকোনো রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত নেই। যেমন, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ ইত্যাদির সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত নেই।
প্রশ্নঃ বহুল আলোচিত মুহুরীর চর কোন জেলায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
বহুল আলোচিত মুহুরীর চর হলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। এটি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় মুহুরী নদীর পাশে অবস্থিত।
এই চরের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মুহুরী নদীর ভাঙনের ফলে এই চরের সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এর সীমানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেশ বিভাগের পর থেকেই এই চর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
যদিও উভয় দেশের মধ্যে একাধিকবার যৌথ জরিপ হয়েছে এবং কিছু অংশে সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে এখনও কিছু অমীমাংসিত অংশ রয়ে গেছে। এই চর ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
সংক্ষেপে, মুহুরীর চর হলো:
- অবস্থান: ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্ত, মুহুরী নদী সংলগ্ন।
- বৈশিষ্ট্য: এটি মুহুরী নদীর ভাঙনের ফলে জেগে ওঠা একটি চর।
- আলোচনার কারণ: এর মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ ও বার্মার সীমান্তবর্তী নদী কোনটি?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের (পূর্বের বার্মা) সীমান্তবর্তী প্রধান নদী হলো নাফ নদী।
নাফ নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এটি দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমানার একটি অংশ হিসেবে কাজ করে।
এছাড়াও, কিছু ছোট নদী বা ছড়া এই সীমান্ত বরাবর রয়েছে, তবে নাফ নদীই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সীমান্তবর্তী নদী।
প্রশ্নঃ পূর্বাশা দ্বীপের অপর নাম কি?
[ বিসিএস ৩৩তম ]
পূর্বাশা দ্বীপ হলো বঙ্গোপসাগরের একটি ছোট দ্বীপ। এটি দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নামেও পরিচিত। এর অবস্থান ছিল ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে, সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায়।
তবে, বর্তমানে এই দ্বীপটির কোনো অস্তিত্ব নেই। ১৯৯৬ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এটি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোন জেলায়?
[ বিসিএস ৩৩তম ]
সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত।
এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার স্বচ্ছ নীল জল, চারপাশের প্রবাল পাথরের সারি, এবং নারকেল গাছের বন।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের মোট আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। এই দ্বীপটি তিনটি অংশে বিভক্ত:
- উত্তর অংশ: যাকে বলা হয় উত্তর পাড়া।
- দক্ষিণ অংশ: যাকে বলা হয় দক্ষিণ পাড়া বা ছেঁড়াদ্বীপ।
- মধ্যভাগ: যেখানে স্থানীয়রা বসবাস করে এবং পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে।
এখানে জীববৈচিত্র্য অনেক সমৃদ্ধ। বিভিন্ন ধরনের মাছ, সামুদ্রিক শৈবাল, এবং কচ্ছপের দেখা মেলে। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্যের কারণে এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচিত।
প্রশ্নঃ তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের কোন শহরটি অবস্থিত?
[ বিসিএস ৩২তম ]
তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের ডাউকি শহরটি অবস্থিত। এটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড় জেলায় অবস্থিত।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের কোন জেলাটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মধ্যে নয়?
[ বিসিএস ৩২তম ]
কক্সবাজার জেলাটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মধ্যে অবস্থিত নয়। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর সীমান্ত রয়েছে মিয়ানমারের সাথে।
অন্যান্য বিকল্পগুলো হলো:
- পঞ্চগড়: এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা।
- সাতক্ষীরা: এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা।
- হবিগঞ্জ: এটি ভারতের ত্রিপুরার সাথে সীমান্তবর্তী জেলা।
প্রশ্নঃ সাগরকন্যা কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
[ বিসিএস ৩১তম ]
কুয়াকাটা বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত, যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত গভীরভাবে অবলোকন করা যায়। সমুদ্র সৈকতটি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি ইউনিয়নের অন্তর্গত। কুয়াকাটা স্থানীয়ভাবে ‘সাগরকন্যা’ নামে পরিচিত।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন পরিষদ কোনটি?
[ বিসিএস ২৯তম ]
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন। টেকনাফ থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
প্রশ্নঃ পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি জেলা আছে?
[ বিসিএস ২৯তম ]
আশির দশকের প্রথমদিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ৩টি স্বতন্ত্র জেলায় বিভক্ত করা হয়। জেলাগুলো হচ্ছে- ১. রাঙামাটি, ২. খাগড়াছড়ি, ৩. বান্দরবান।
প্রশ্নঃ টেকনাফ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
[ বিসিএস ২৯তম ]
নাফ নদীর তীরে অবস্থিত টেকনাফ কক্সবাজার জেলার একটি উপজেলা। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে এ উপজেলাটির অবস্থান। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশকে (কক্সবাজার) পৃথক করেছে এ নদীটি। এ নদীর দৈর্ঘ্য ৫৬ কিমি।
প্রশ্নঃ নিঝুম দ্বীপের আয়তন কত?
[ বিসিএস ২৮তম ]
নিঝুম দ্বীপ মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। ১৯৬০ সালে নোয়াখালীর মাঝিরা এটি আবিষ্কার করেন। এর পুরনো নাম বাউলার চর। নিঝুম দ্বীপের আয়তন ৯১ বর্গ.কি.মি. বা, ৩৫ বর্গ মাইল।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন কোনটি?
[ বিসিএস ২৮তম ]
[তথ্যটি পরিবর্তনশীল] ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা রিপোর্ট-২০২২ অনুসারে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন হচ্ছে হাজীপুর, দৌলতখান (ভোলা)। যার আয়তন ৫.২৫ বর্গ.কি.মি.।
প্রশ্নঃ সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আয়তন কত বর্গ কিলোমিটার?
[ বিসিএস ২৭তম ]
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের আয়তন ৮ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপটির স্থানীয় নাম ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’। এর অবস্থান-টেকনাফ, কক্সবাজার (নাফ নদীর মোহনায়)।
প্রশ্নঃ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ২৬তম ]
| দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ |
|
বান্দরবানের সাথে ভারতের সংযোগ নেই। বান্দরবানের সংযোগ আছে মিয়ানমারের সাথে। বান্দরবান ছাড়া মিয়ানমারের সাথে আরো সংযোগ আছে কক্সবাজার জেলার। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশর সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি। উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটিই একমাত্র জেলা, যার সাথে উভয় দেশের সীমান্ত সংযুক্ত রয়েছে।
প্রশ্নঃ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা কয়টি?
[ বিসিএস ২৬তম ]
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে এমন ৩০টি জেলার তালিকা নিচে দেওয়া হলো। এই জেলাগুলি বাংলাদেশের ৬টি বিভাগে বিভক্ত:
রংপুর বিভাগ:
১. পঞ্চগড় ২. ঠাকুরগাঁও ৩. দিনাজপুর ৪. নীলফামারী ৫. লালমনিরহাট ৬. কুড়িগ্রাম
রাজশাহী বিভাগ:
৭. জয়পুরহাট ৮. নওগাঁ ৯. চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০. রাজশাহী ১১. নাটোর
খুলনা বিভাগ:
১২. মেহেরপুর ১৩. কুষ্টিয়া ১৪. চুয়াডাঙ্গা ১৫. ঝিনাইদহ ১৬. যশোর ১৭. সাতক্ষীরা
সিলেট বিভাগ:
১৮. সুনামগঞ্জ ১৯. সিলেট ২০. মৌলভীবাজার ২১. হবিগঞ্জ
ময়মনসিংহ বিভাগ:
২২. শেরপুর ২৩. ময়মনসিংহ ২৪. নেত্রকোনা
চট্টগ্রাম বিভাগ:
২৫. ফেনী ২৬. চট্টগ্রাম ২৭. রাঙ্গামাটি ২৮. বান্দরবান ২৯. খাগড়াছড়ি ৩০. কক্সবাজার
এই জেলাগুলি বাংলাদেশের উত্তর, পশ্চিম, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে ভারতের সাথে সংযুক্ত। প্রতিটি জেলার সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, যাতায়াত এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।
প্রশ্নঃ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অপর নাম কি?
[ বিসিএস ২৪তম ]
সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ অবস্থিত। ভারতের নিকট এটি পূর্বাশা বা নিউমুর নামে পরিচিত। দ্বীপটি ২০১০ সালে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।
প্রশ্নঃ হালদা ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ২৪তম ]
হালদা ভ্যালি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত একটি উপত্যকা। এছাড়া কাপ্তাই থেকে প্লাবিত রাঙ্গামাটির উপত্যকাকে বলা হয় ভেঙ্গিভ্যালি। শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এলাকায় বালিশিরা ভ্যালি অবস্থিত। এছাড়াও চট্টগ্রামে অবস্থিত সাঙ্গু ভ্যালি।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা কোনটি?
[ বিসিএস ২২তম ]
বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলার মধ্যে সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় ও উপজেলা তেঁতুলিয়া । সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার ও উপজেলা টেকনাফ। সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান ও উপজেলা থানচি এবং সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও উপজেলা শিবগঞ্জ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা (পঞ্চগড়)।
প্রশ্নঃ সিলেট কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
[ বিসিএস ২২তম ]
আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে মাদারীপুর, সুরমা নদীর তীরে সিলেট ও সুনামগঞ্জ, চন্দনা নদীর তীরে ফরিদপুর এবং রূপসা নদীর তীরে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা অবস্থিত।
প্রশ্নঃ ঢাকা বিভাগে কয়টি জেলা আছে?
[ বিসিএস ২২তম ]
বর্তমানে ঢাকা বিভাগে মোট ১৩টি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো -
১. ঢাকা
২. গাজীপুর
৩. নারায়ণগঞ্জ
৪. নরসিংদী
৫. মুন্সিগঞ্জ
৬. মানিকগঞ্জ
৭. টাঙ্গাইল
৮. কিশোরগঞ্জ
৯. ফরিদপুর
১০. মাদারীপুর
১১. শরিয়তপুর
১২. গোপালগঞ্জ
১৩. রাজবাড়ি।
আগে ঢাকা বিভাগে ১৭টি জেলা ছিল। ময়মনসিংহ বিভাগে ৪টি জেলা (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ঢাকা বিভাগে জেলার সংখ্যা কমে ১৩টি হয়।
প্রশ্নঃ দহগ্রাম ছিটমহল কোন জেলায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ২২তম ]
১৯৭২ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী দহগ্রাম আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার একটি ছিটমহলে পরিণত হয়। এটি ২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময়ের আওতা বহির্ভূত।
প্রশ্নঃ নিম্নলিখিত কোনটির উপর বাংলাদেশ অবস্থিত?
[ বিসিএস ২০তম ]
ট্রপিক অব ক্যানসার বাংলা প্রতিশব্দ হলো কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ট্রপিক অব ক্যাপ্রিকন হলো মকরক্রান্তি রেখা। কর্কটক্রান্তি রেখা উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫০ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে চলে গেছে।
বাংলাদেশে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরের লালমাটি সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বরেন্দ্রভূমি বলা হয়। বৃহত্তর বগুড়া ও বৃহত্তর রাজশাহী জেলা এবং দিনাজপুরের দক্ষিণাংশ ও গাইবান্ধার পশ্চিম-দক্ষিণাংশ এর আওতায় পড়েছে।