প্রশ্নঃ সুন্দরবনে বাঘ গণনায় ব্যবহৃত হয়–
[ বিসিএস ৩৬তম ]
ক. পাগ-মার্ক
খ. ফুটমার্ক
গ. GIS
ঘ. কোয়ার্ডবেট
উত্তরঃ পাগ-মার্ক
ব্যাখ্যাঃ
গণনা পদ্ধতি:
বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘ গণনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতি (Camera Trapping Method) ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে:
- বনের বিভিন্ন স্থানে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
- বাঘ যখন ক্যামেরার সামনে দিয়ে যায়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ছবি ওঠে।
- প্রতিটি বাঘের শরীরের ডোরাকাটা দাগ (স্ট্রাইপ প্যাটার্ন) স্বতন্ত্র ও অদ্বিতীয়, অনেকটা মানুষের আঙুলের ছাপের মতো। এই ডোরাকাটা দাগ বিশ্লেষণ করে প্রতিটি বাঘকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা হয় এবং মোট বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
- এছাড়া, বাঘের মল বিশ্লেষণ (Pugmark/Scat analysis) এবং অন্যান্য চিহ্ন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও বাঘের উপস্থিতি ও ঘনত্ব সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।
আগে পায়ের ছাপ (পাগমার্ক) দেখে বাঘ গণনার পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও, ২০১৫ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতি চালু হয়েছে।
সর্বশেষ বাঘশুমারি ও সংখ্যা:
- সর্বশেষ বাঘশুমারি: ২০২৩-২০২৪ সালের বাঘ জরিপের ফলাফল ৮ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে।
- বাঘের সংখ্যা: সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১২৫টি-তে দাঁড়িয়েছে।
- পূর্ববর্তী জরিপ:
- ২০১৫ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি।
- ২০১৮ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি।
এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাঘ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হওয়ার ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।