আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা উদ্ভবের সময়কাল কোনটি?

[ বিসিএস ৩৯তম ]

ক. প্রাচীন গ্রীস সময়কাল
খ. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকাল
গ. ১৬০০-১৮০০ সাল
ঘ. প্রাচীন রোম শাসনকাল
উত্তরঃ ১৬০০-১৮০০ সাল
ব্যাখ্যাঃ

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, যা মূলত ইউরোপে শুরু হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এর উৎস খুঁজতে গেলে মধ্যযুগীয় ইউরোপের সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে রেনেসাঁস, সংস্কার আন্দোলন, জ্ঞানালোকের যুগ এবং দুটি বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব পর্যন্ত বিবেচনা করতে হয়।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য: আধুনিক রাষ্ট্রকে বোঝার জন্য এর কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য জানা জরুরি: ১. সার্বভৌমত্ব (Sovereignty): রাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ক্ষমতা এবং বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনতা। এটি আধুনিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ২. ভূখণ্ড (Territory): সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা। ৩. জনগণ (Population): নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে বসবাসকারী জনগণ। ৪. সরকার (Government): জনগণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য একটি সুসংগঠিত সরকার ব্যবস্থা। ৫. জাতীয়তা (Nationality): রাষ্ট্রের অন্তর্গত জনগণের মধ্যে একাত্মতাবোধ।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব ও বিবর্তন:

  • মধ্যযুগীয় ইউরোপে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা (Feudalism in Medieval Europe):

    • মধ্যযুগে রাষ্ট্র বলতে আজকের মতো সুসংগঠিত কোনো একক অস্তিত্ব ছিল না। ক্ষমতা ছিল খণ্ড খণ্ড, রাজা, ভূস্বামী, চার্চ এবং বিভিন্ন স্থানীয় শক্তির মধ্যে বিভক্ত।
    • সার্বভৌমত্বের ধারণা ছিল অনুপস্থিত। রাজনৈতিক আনুগত্য ছিল ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল, যেমন লর্ড ও ভ্যাসালের সম্পর্ক।
  • ওয়েস্টফালিয়া শান্তি চুক্তি (Peace of Westphalia, ১৬৪৮):

    • ত্রিশ বছর যুদ্ধের (১৬১৮-১৬৪৮) সমাপ্তি ঘটে এই চুক্তির মাধ্যমে। এই চুক্তিকে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার (বিশেষ করে ওয়েস্টফালিয়ান সার্বভৌমত্বের) সূচনালগ্ন হিসেবে ধরা হয়।
    • চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের প্রতিটি রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ না করার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা একটি এককেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে।
  • absolutism এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ (Absolutism and Centralization of State Power):

    • ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইউরোপে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করে। রাজা নিজেকে রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সমস্ত ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেন।
    • নিয়মিত সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীভূত আমলাতন্ত্র এবং কর ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়।
  • রেনেসাঁস ও জ্ঞানালোকের প্রভাব (Influence of Renaissance and Enlightenment):

    • রেনেসাঁস মানবিকতা এবং যুক্তিবাদের জন্ম দেয়, যা চার্চের প্রভাব হ্রাস করে এবং রাষ্ট্রকে ধর্মীয় বন্ধন থেকে মুক্ত করার পথ তৈরি করে।
    • জ্ঞানালোকের দার্শনিকরা (যেমন লক, রুশো, মন্টেস্কিউ) সামাজিক চুক্তি, জনগণের সার্বভৌমত্ব, ক্ষমতার বিভাজন এবং প্রাকৃতিক অধিকারের মতো ধারণাগুলো উপস্থাপন করেন, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।
  • ফরাসি বিপ্লব (French Revolution, ১৭৮৯) ও জাতীয়তাবাদ (Nationalism):

    • ফরাসি বিপ্লব 'জনগণের সার্বভৌমত্ব' এবং 'জাতীয়তাবাদ'-এর ধারণাকে শক্তিশালী করে। জনগণই রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস - এই ধারণাটি জনপ্রিয় হয়।
    • জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রকে একটি অভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে। এটি জাতি-রাষ্ট্র (Nation-state) ধারণার জন্ম দেয়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট জাতির নিজস্ব রাষ্ট্র থাকে।
  • শিল্প বিপ্লব ও পুঁজিবাদ (Industrial Revolution and Capitalism):

    • শিল্প বিপ্লব সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করে, যার ফলে নতুন সামাজিক শ্রেণি (বুর্জোয়া এবং শ্রমিক শ্রেণি) এবং নতুন অর্থনৈতিক চাহিদা তৈরি হয়।
    • পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকাশের সাথে সাথে রাষ্ট্রকে বাজারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে নতুন ভূমিকা পালন করতে হয়।
  • দুটি বিশ্বযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব (Two World Wars and Emergence of International Institutions):

    • বিংশ শতাব্দীর দুটি বিশ্বযুদ্ধ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। একই সাথে, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যেমন জাতিসংঘ (UN) গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
    • যুদ্ধের পর উপনিবেশবাদের অবসান ঘটে এবং অনেক নতুন স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

উপসংহার: আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো একক ঘটনা বা নির্দিষ্ট সময়ের ফল নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক বিবর্তনের ফল যা প্রায় ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলেছে। ওয়েস্টফালিয়া শান্তি চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ধরা হলেও, ফরাসি বিপ্লব এবং জ্ঞানালোকের ধারণাগুলো এর গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রূপ দিতে সহায়ক হয়েছিল। বর্তমানে, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তার সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ড, জনগণ ও সরকার - এই চারটি মূল স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে।