১. বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো কঃ নাইট্রোজেন।
বজ্রবৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রোজেন অক্সাইড তৈরি করে। এই নাইট্রোজেন অক্সাইড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মাটিতে আসে এবং নাইট্রেট (NO₃⁻) ও নাইট্রাইট (NO₂⁻) নামক রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়। এই নাইট্রেট এবং নাইট্রাইট উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান, যা প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জৈব অণু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো বজ্রবৃষ্টির ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় না:
- পটাশিয়াম (খ): এটি মাটির খনিজ উপাদান থেকে আসে।
- অক্সিজেন (গ): যদিও বৃষ্টিতে অক্সিজেন থাকে, বজ্রবৃষ্টির মূল প্রভাব উদ্ভিদের জন্য নাইট্রোজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করা।
- ফসফরাস (ঘ): এটিও মূলত মাটির খনিজ উপাদান থেকে আসে।
সুতরাং, বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের জন্য নাইট্রোজেন খাদ্য উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
২. যে কারণে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে তা হলো –
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো গঃ হাম।
হাম (Measles) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা শিশুদের মধ্যে অন্ধত্বের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে। হামের জটিলতা হিসেবে চোখের কর্ণিয়ায় প্রদাহ (কেরাটাইটিস) এবং ভিটামিন এ-এর অভাব দেখা দিতে পারে, যা স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা অন্ধত্বের দিকে ধাবিত করতে পারে।
অন্যান্য বিকল্পগুলো শৈশব-অন্ধত্বের সরাসরি কারণ হিসেবে ততটা উল্লেখযোগ্য নয়:
- এইচআইভি/এইডস (ক): এইচআইভি/এইডস শিশুদের শরীরে অন্যান্য রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এবং পরোক্ষভাবে চোখের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তবে এটি শৈশব-অন্ধত্বের প্রধান কারণ নয়।
- ম্যালেরিয়া (খ): ম্যালেরিয়া সাধারণত চোখের সরাসরি ক্ষতি করে না, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ম্যালেরিয়া হলে অন্যান্য জটিলতার সাথে দৃষ্টি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- যক্ষা (ঘ): যক্ষা সাধারণত ফুসফুসকে আক্রমণ করে, তবে বিরল ক্ষেত্রে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে চোখের সমস্যা হতে পারে, কিন্তু এটি শৈশব-অন্ধত্বের প্রধান কারণ নয়।
সুতরাং, হাম একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যা শৈশবে অন্ধত্ব সৃষ্টি করতে পারে।
৩. ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভাল পদ্ধতি –
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো ঘঃ কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন।
ধারালো যন্ত্রপাতি, যেমন অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন একটি ভালো পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন জীবাণুনাশক রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করা হয় যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। ধারালো যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি যাতে তাদের ধার নষ্ট না হয় এবং সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা যায়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ধারালো যন্ত্রপাতির জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি নাও হতে পারে:
- বয়লিং (ক): যদিও এটি কিছু জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, তবে এটি সব ধরনের জীবাণু, বিশেষ করে স্পোর ধ্বংস করতে পারে না। ধারালো যন্ত্রপাতি দীর্ঘক্ষণ ধরে সেদ্ধ করলে তাদের ধার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- বেনজিন ওয়াশ (খ): বেনজিন জীবাণুনাশক নয় এবং এটি স্বাস্থ্যকর নয়। এটি পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু জীবাণুমুক্ত করার জন্য নয়।
- ফরমালিন ওয়াশ (গ): ফরমালিন একটি জীবাণুনাশক, তবে এটি সাধারণত গ্যাসীয় আকারে বা দীর্ঘ সময় ধরে দ্রবণে ডুবিয়ে রাখার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। শুধু ওয়াশ করা যথেষ্ট জীবাণুমুক্ত নাও করতে পারে এবং এর তীব্র গন্ধ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে এটি খুব একটা পছন্দের পদ্ধতি নয়।
সুতরাং, ধারালো যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার ভালো পদ্ধতি হলো কেমিক্যাল স্টেরিলাইজেশন।
৪. কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
[ বিসিএস ৪১তম ]
নদীর পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
এছাড়াও সকালে পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কমে যায়, বিকেলে অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।
৫. কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
[ বিসিএস ৪১তম ]
সঠিক উত্তর হলো ঘঃ ক্যালসিয়াম কার্বনেট।
ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়। এটি কঠিন অবস্থায় থাকে এবং পানিতে মেশালে খুব সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
অন্যদিকে, গ্লিসারিন, ফিটকিরি (অ্যালুমিনিয়াম পটাসিয়াম সালফেট), এবং সোডিয়াম ক্লোরাইড (সাধারণ লবণ) পানিতে সহজেই দ্রবীভূত হয়।
৬. নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
[ বিসিএস ৪১তম ]
নদীর পানির ক্ষেত্রে সাধারণত কঃ COD > BOD - এই উক্তিটি সত্য।
এর কারণ হলো:
-
BOD (Biochemical Oxygen Demand): এটি পানিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থকে জীবাণু দ্বারা জারিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ নির্দেশ করে। এটি মূলত সহজে পচনযোগ্য জৈব পদার্থের পরিমাপ করে।
-
COD (Chemical Oxygen Demand): এটি পানিতে বিদ্যমান জৈব ও অজৈব উভয় প্রকার জারনযোগ্য পদার্থকে রাসায়নিকভাবে জারিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ নির্দেশ করে। COD পরীক্ষায় শক্তিশালী জারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যা BOD পরীক্ষায় জীবাণু দ্বারা জারিত হতে পারে না এমন অনেক পদার্থকেও জারিত করতে পারে।
নদীর পানিতে শুধুমাত্র সহজে পচনযোগ্য জৈব পদার্থই থাকে না, বরং অনেক জটিল জৈব যৌগ এবং কিছু অজৈব জারনযোগ্য পদার্থও থাকতে পারে। এই কারণে, নদীর পানির COD মান সাধারণত BOD মানের চেয়ে বেশি হয়।
৭. কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম কি?
[ বিসিএস ৪১তম ]
কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম হলো ক্লোরোপিক্রিন।
এছাড়াও এটিকে টিয়ার গ্যাসও বলা হয়। এটি মূলত একটি রাসায়নিক যৌগ যা চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং অশ্রু নির্গমণ ঘটায়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এটি ব্যবহার করে থাকে।
৮. ঢাকা থেকে হংকং হয়ে প্লেন নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় দিনের সময়কালকে অপেক্ষাকৃত ছোট মনে হয়, কেন?
[ বিসিএস ৪০তম ]
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে হংকং হয়ে প্লেন নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় দিনের সময়কালকে অপেক্ষাকৃত ছোট মনে হয়, কেন? পৃথিবী পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে ঘোরে। ফলে যখন আপনি একটি প্লেনে পূর্ব থেকে পশ্চিম (যেমন: ঢাকা → হংকং → নিউইয়র্ক) দিকে ভ্রমণ করেন, তখন আপনি সূর্যের গতিপথের বিপরীতে চলছেন। এই কারণে সময়ের অনুভূতি অনুযায়ী দিনের সময় তুলনামূলক ছোট মনে হয়।
এটি একটি Time Zone Effect এবং পৃথিবীর Rotation (অক্ষীয় ঘূর্ণন)–এর কারণে ঘটে।
৯. সমুদ্রতীরে কোনটির প্রাচুর্য থাকে?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
সমুদ্রতীরে কোনটির প্রাচুর্য থাকে নাইট্রোজেন।
ব্যাখ্যা:
সমুদ্রতীরও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অংশ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলো নাইট্রোজেন, যা আয়তনে প্রায় ৭৮%। এরপর রয়েছে অক্সিজেন, যা প্রায় ২১%।
সুতরাং, সমুদ্রতীরে অন্যান্য স্থানের মতোই নাইট্রোজেনের প্রাচুর্য সবচেয়ে বেশি থাকে।
১০. গ্রিনহাউজ কি?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
গ্রিনহাউস (Greenhouse) হলো একটি বিশেষ ধরনের কাঁচ বা প্লাস্টিকের তৈরি ঘর, যা উদ্ভিদের চাষের জন্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভেতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা, বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বা নির্দিষ্ট ফসল ফলানোর জন্য।
গ্রিনহাউসের কাজ করার পদ্ধতি:
১. সূর্যের আলো প্রবেশ: গ্রিনহাউসের কাঁচ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের দেয়াল সূর্যের আলোকরশ্মিকে সহজে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়।
২. তাপ আটকে রাখা (গ্রিনহাউস প্রভাব):
- সূর্যের আলোকরশ্মি (স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ) ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর মাটি, গাছপালা এবং ভেতরের অন্যান্য বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এই বস্তুগুলো উত্তপ্ত হয়ে তাপশক্তি বিকিরণ করে (দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত বিকিরণ)।
- কাঁচ বা প্লাস্টিকের দেয়ালগুলো এই দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তাপ বিকিরণকে সহজে বাইরে বের হতে দেয় না, ফলে তাপ ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে।
- এর ফলে গ্রিনহাউসের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে উষ্ণ থাকে, যা ঠান্ডা আবহাওয়ায় উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়াটিই 'গ্রিনহাউস প্রভাব' নামে পরিচিত।
গ্রিনহাউসের ব্যবহার:
- ঠান্ডা অঞ্চলে উষ্ণতা প্রদান: শীতপ্রধান দেশগুলোতে ঠান্ডা আবহাওয়ায় ফসল ফলানোর জন্য গ্রিনহাউস অপরিহার্য।
- নির্দিষ্ট ফসল চাষ: বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল বা সবজি, যা একটি নির্দিষ্ট জলবায়ুতে স্বাভাবিকভাবে জন্মায় না, সেগুলোর চাষের জন্য গ্রিনহাউস ব্যবহার করা হয়।
- ফসলের সুরক্ষা: এটি গাছপালাকে কঠোর আবহাওয়া (যেমন অতিরিক্ত ঠান্ডা, বাতাস) এবং কীটপতঙ্গ থেকে রক্ষা করে।
- গবেষণা: কৃষি গবেষণায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য গ্রিনহাউস ব্যবহৃত হয়।
সংক্ষেপে, গ্রিনহাউস হলো এমন একটি কাঠামো যা সূর্যের আলো ব্যবহার করে ভেতরের পরিবেশকে উষ্ণ রাখে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য অনুকূল তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখে।
১১. কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
যে জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) বাতাসে আসে, তা হলো সালফারযুক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি।
প্রধানত:
- কয়লা (Coal): কয়লায় উচ্চ মাত্রার সালফার থাকতে পারে। কয়লা পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা অম্লবৃষ্টি এবং বায়ু দূষণের একটি প্রধান কারণ।
- পেট্রোলিয়াম (Petroleum) বা অপরিশোধিত তেল: কিছু পেট্রোলিয়াম পণ্যে (যেমন কিছু ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল) সালফারের উপস্থিতি থাকে। এসব পোড়ালেও সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যদিও বর্তমানে সালফার কমানোর জন্য পরিশোধনের প্রক্রিয়া উন্নত হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসে (Natural Gas) সালফারের পরিমাণ সাধারণত খুবই কম থাকে, তাই এটি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গমন অনেক কম হয়।
১২. জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলো গামা রশ্মি (Gamma Ray)।
গামা রশ্মি হলো উচ্চ শক্তি সম্পন্ন তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ। এর ভেদন ক্ষমতা (penetrating power) অত্যন্ত বেশি, যা আলফা (Alpha) এবং বিটা (Beta) রশ্মির চেয়েও অনেক বেশি। গামা রশ্মি মানবদেহ বা উদ্ভিদ দেহের গভীরে প্রবেশ করে কোষের ডিএনএ (DNA) সহ গুরুত্বপূর্ণ অণুগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে ক্যান্সার, বিকলাঙ্গতা এবং অন্যান্য মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
যদিও অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet Ray) ত্বকের ক্ষতি এবং ত্বকের ক্যান্সার ঘটাতে পারে, তবে ভেদন ক্ষমতা এবং কোষীয় ক্ষতির মাত্রার দিক থেকে গামা রশ্মিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিঃ (Natural Gas Fertilizer Factory Ltd.)-এর উৎপাদিত সারের নাম হলো ইউরিয়া।
ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (Natural Gas Fertilizer Factory Ltd. বা NGFFL) বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক সার কারখানা।
এর সম্পর্কে কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- অবস্থান: এটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত ছিল।
- গুরুত্ব: এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়া এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস-ভিত্তিক সার কারখানা।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৬১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উৎপাদিত সার: এই কারখানায় মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদিত হতো।
- বর্তমান অবস্থা: পুরোনো এই কারখানাটি বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং একই স্থানে আরও আধুনিক ও বৃহৎ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (Shahjalal Fertilizer Company Ltd. বা SFCL) স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন সার উৎপাদন করছে।
বিগব্যাং তত্ত্বের প্রবর্তক জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। কিন্তু এ তত্ত্বে আধুনিক তত্ত্বে ব্যখ্যা উপস্থাপন করেন- স্টিফেন হকিং (১৯৪২-২০১৮)। ১৯৮৮ সালে তিনি “A Brief History of Time” গ্রন্থে ‘বিগব্যাং’ তত্ত্বের পক্ষে যুক্তি দেন এবং পদার্থ বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ হতে এর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। মহাবিশ্ব নিয়ে প্রকাশিত তার সর্বশেষ বই ‘দ্য গ্রান্ড ডিজাইন’।
১৫. রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে-
[ বিসিএস ৩১তম ]
রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড এর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে অক্সিজেন সরবরাহের সৃষ্টির মাধ্যমে আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনে।
১৬. কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?
[ বিসিএস ৩১তম ]
সালফারের অভাবে গাছ খর্বাকৃতির হয় এবং ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়। দস্তার অভাবে গাছের পাতার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে এবং অভাব বেশি হলে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়। পটাশিয়ামের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষণের হার হ্রাস পায় এবং পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয়।
১৭. নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?
[ বিসিএস ২৯তম ]
১৮. গ্রীন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?
[ বিসিএস ২৯তম ]
শীত প্রধান দেশে অত্যধিক ঠাণ্ডার কারণে গাছপালা জন্মাতে পারে না। তাই শীতপ্রধান দেশে অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য গ্রীন হাউজে গাছ লাগানো হয়। গ্রীন হাউজ হচ্ছে কাঁচের তৈরি বিশেষ এক ধরনের ঘর। সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকীর্ণ তাপ কাঁচের মধ্য দিয়ে গ্রীন হাউসের ভিতরে প্রবেশ করতে পারলেও ভিতর থেকে বের হতে চাওয়া তাপের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি থাকায় তা বাইরে যেতে পারে না। ফলে কাচের তৈরি গ্রীন হাউজটি বেশ গরম থাকে এবং এর ভিতরে লাগানো গাছপালাকে সব সময়ই প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রাখে।
১৯. কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?
[ বিসিএস ২৯তম ]
জীবণুনাশক ও পরিষ্কারক হিসেবে সাধারণত পায়খানা-প্রস্রাবখানায় সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়।
২০. নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
[ বিসিএস ২৬তম | ১০তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]
নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয় এবং অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয়। এতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৪৬%।
২১. রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে-
[ বিসিএস ২৪তম ]
রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে অক্সিজেন সরবরাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনে।
২২. রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়–
[ বিসিএস ২৩তম ]
রেডিও আইসোটোপ গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
রেডিও আইসোটোপ এবং গলগণ্ড রোগ:
গলগণ্ড রোগটি থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে হয়।
রেডিও আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা এবং আকার নির্ণয় করতে সাহায্য করে।
আয়োডিন-১৩১ (I-131) একটি রেডিও আইসোটোপ যা থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা শোষিত হয়।
এই আইসোটোপ ব্যবহার করে থাইরয়েড গ্রন্থির স্ক্যান করা হয়, যা গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে সহায়ক।
রেডিও আইসোটোপ ব্যবহারের সুবিধা:
এটি একটি নিরাপদ এবং কার্যকর পদ্ধতি।
এটি থাইরয়েড গ্রন্থির বিস্তারিত চিত্র প্রদান করে।
* এটি গলগণ্ডের কারণ এবং প্রকার নির্ধারণে সাহায্য করে।
২৩. দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
[ বিসিএস ২১তম | প্রা. প্র. শি. নি.০৭-১০-২০১২ ]
কার্বন ও অক্সিজেনের যৌগ কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি বর্ণ ও গন্ধহীন গ্যাস। শ্বাসবায়ুর সঙ্গে শরীরে গেলে তার মারাত্মক পরিণাম হতে পারে এ বিচারে কার্বন মনোক্সাইড তীব্র বিষ-গ্যাস, যা মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
২৪. রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কি?
[ বিসিএস ২০তম ]
রাডারের মূলনীতি হলো ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পালস ছড়িয়ে দেয়া হয় যেন বস্তু থেকে প্রতিফলিত হয়ে রাডারের গ্রাহক যন্ত্রে আসে। এ জন্য গামা রশ্মি বা মাইক্রোওয়েভ উভয়ের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হলেও কম ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভই ব্যবহার করা হয়। অপরপক্ষে অবলোহিত বিকিরণ ও আলোক তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশ বড়।
২৫. ভায়াগ্রা কি?
[ বিসিএস ১৯তম ]
সিলডেনাফিল সাইট্রেট যা ভায়াগ্রা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক নামে বিক্রি হয়ে থাকে এমন একটি ঔষুধ যা পুরুষের ধ্বজভঙ্গের (ইরেকটাইল ডিসফাংশান) ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও হৃদপিণ্ডের ধমনীর উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি ফাইজার কোম্পানির বিজ্ঞানী এন্ড্রু বেল, ডেভিড ব্রাউন এবং নিকোলাস টেরেট ১৯৯৮ তে আবিষ্কার করেন।
২৬. উপকূলে কোনো একটি স্থানে পরপর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হলো–
[ বিসিএস ১৬তম | রে. বে. প্রা. স. শি. নি. ০৯-১২-২০১১ ]
উপকূলে একটি জোয়ারের সময়সীমা ৬ ঘণ্টা এবং ভাটার সময়সীমা ৬ ঘণ্টা। সুতরাং একটি জোয়ারের আর একটি জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ১২ ঘণ্টা।
২৭. অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে-
[ বিসিএস ১২তম ]
‘পোলারয়েড’ বিশেষভাবে তৈরি স্বচ্ছ মাধ্যম। এর মধ্যে দিয়ে সাধারণ আলো পাঠালে সমবর্তিত আলো পাওয়া যায়। এ সূত্র কাজে লাগিয়ে ফটোকপি মেশিন তৈরি করা হয়। রোদ চশমা, ক্যামেরার লেন্সের সামনে লাগানোর ফিল্টার ইত্যাদিতে আলোর ঝলসানোভাব কমানোর জন্য পোলারয়েডের ব্যবহার রয়েছে।
২৮. রিমোট সেন্সিং বা দূর অনুধাবন বলতে বিশেষভাবে বুঝায়-
[ বিসিএস ১২তম ]
উপগ্রহের সাহায্যে অতিশাব্দিক তরঙ্গ বা আল্ট্রা সাউন্ড ওয়েভের মাধ্যমে কোনো বস্তুকে স্ক্যান করে যে সংকেত পাওয়া যায় তা ব্যবহার বস্তুর অবস্থান তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত বস্তুর সংস্পর্শ ছাড়াই সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া কে রিমোট সেন্সিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডল অবলোকন করা হয়।
২৯. পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
[ বিসিএস ১২তম ]
পালতোলা নৌকা যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে অন্যদিকের বাতাসকেও সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে।
৩০. নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
[ বিসিএস ১২তম ]
বায়ুর মধ্যে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ধূলিকণা, জলীয়বাষ্প ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস রয়েছে। এজন্য বায়ুকে মিশ্র পদার্থ বলা হয়।
৩১. ঔষধ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো–
[ বিসিএস ১১তম ]
১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঔষুধ নীতি প্রণয়ন করা হয়। কারণ এর আগে ঔষুধ উৎপাদন ও ব্যবহারের বিষয়ে কোনো ধরনের নীতিমালা ছিলো না। এর ২০০৫ সালে এই নীতি নবায়ন করা হয় এবং ২০১৬ সালে আবার এই জাতীয় ঔষুধ জন সাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া জাতীয় ঔষুধ নীতির লক্ষ্য।