মীর মশাররফ হোসেনের 'গো-জীবন' (১৮৮৯) প্রবন্ধটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
এই প্রবন্ধে তিনি মূলত গরু কোরবানি এবং এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যেকার সংঘাত এড়িয়ে একটি সহনশীল অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গোহত্যার বিরূপ প্রভাব এবং উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরেন।
যদিও এটি একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ, তবে এখানে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখকের নিজস্ব মতামত ও বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
২. মীর মশাররফ হোসেন রচিত গ্রন্থ হচ্ছে:
[ বিসিএস ৩৯তম ]
মীর মশাররফ হোসেন রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা।
অন্যান্য বিকল্পগুলো অন্যান্য লেখকদের রচনা:
- খঃ আলালের ঘরের দুলাল - প্যারীচাঁদ মিত্র (টেকচাঁদ ঠাকুর) রচিত।
- গঃ হুতোম প্যাঁচার নক্সা - কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত।
- ঘঃ কলিকাতা কমলালয় - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত।
৩. ‘মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।’ –কার উক্তি?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' – এই উক্তিটি মীর মশাররফ হোসেনের।
এটি তার একটি বিখ্যাত উক্তি যা মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরে।
৪. নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম-মৃত্যু সাল?
[ বিসিএস ৩১তম ]
ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক মীর মশাররফ হোসেন ১৩ নভেম্বর ১৮৪৭ সালে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন। মুসলিম রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সমন্বয়ধর্মী ধারার প্রতীক হিসেবে খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এবং পদমদীতে সমাহিত হন।
৫. মীর মশাররফ হোসেনের নাটক কোনটি?
[ বিসিএস ২৮তম ]
"বেহুলা গীতাভিনয়" মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি গীতিনাট্য। এটি বাংলার লোককাহিনি মনসামঙ্গল অবলম্বনে লেখা হয়েছিল। নাটকটি বিশেষভাবে বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত, যেখানে বেহুলার অটল ভালোবাসা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
মীর মশাররফ হোসেন বাংলা সাহিত্যে গীতিনাট্যের প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, এবং "বেহুলা গীতাভিনয়" তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম।
৬. ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ কোন জাতীয় রচনা?
[ বিসিএস ২৬তম ]
‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ মুসলমান নাট্যকার মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
৭. ‘বিষাদ-সিন্ধু’ কার রচনা?
[ বিসিএস ২০তম ]
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন। কারবালার বিষাদময় কাহিনী অবলম্বনে রচিত ‘বিষাদ-সিন্ধু’ মীর মশাররফ হোসেনের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। উপন্যাসটিতে তিনটি পর্ব আছে। ‘মহরম পর্ব’, ‘উদ্ধার পর্ব’ ও ‘এজিদবধ পর্ব’। তার আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো উদাসীন পথিকের মনের কথা।