প্রশ্নঃ বাংলা ভাষায় ছন্দ প্রধানত কত প্রকার?
[ বিসিএস ৩১তম ]
বাংলা ভাষায় ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে যুগ্মধ্বনি সব সময় দুই মাত্রা হিসেবে উচ্চারিত হয়। পঙ্ক্তিতে পর্বগুলো সমান সংখ্যক মাত্রার হয়ে থাকে। স্বরবৃত্ত ছন্দে যুগ্মধ্বনি সব সময় একমাত্রার। অক্ষরবৃত্ত ছন্দে যুগ্মধ্বনি শব্দপ্রান্তিক হলে দু’মাত্রার শব্দের মাঝে বা প্রথমাংশে থাকলে সাধারণত এক মাত্রার ধরা হয়।
Related MCQ
বাংলা ভাষায় যে স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে সেগুলো হলো:
- ই (যেমন: চিনি, দিন) - এক্ষেত্রে জিহ্বার অগ্রভাগ তালুর কাছাকাছি উঁচু অবস্থানে থাকে।
- ঈ (যেমন: ঈদ, দীর্ঘ) - 'ই'-এর মতোই তবে কিছুটা দীর্ঘায়িত উচ্চারণ হয় এবং জিহ্বা সামান্য বেশি উঁচু অবস্থানে থাকতে পারে।
- উ (যেমন: কুল, ভুল) - এক্ষেত্রে জিহ্বার পশ্চাৎভাগ তালুর দিকে উঁচু অবস্থানে থাকে এবং ঠোঁট গোলাকার হয়।
- ঊ (যেমন: ঊষা, ঊর্ধ্বে) - 'উ'-এর মতোই তবে কিছুটা দীর্ঘায়িত উচ্চারণ হয় এবং জিহ্বা সামান্য বেশি উঁচু অবস্থানে থাকতে পারে।
সুতরাং, ই, ঈ, উ, ঊ এই চারটি স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে।
প্রশ্নঃ বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বর কয়টি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরধ্বনি দুটি: ঐ এবং ঔ।
এই দুটি স্বরধ্বনি দুটি মৌলিক স্বরধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত।
- ঐ = অ + ই/ঈ
- ঔ = অ + উ/ঊ
যদিও কিছু ব্যাকরণবিদ [ই+ও] এবং [উ+আ] এই দুটিকেও যৌগিক স্বর হিসেবে বিবেচনা করেন, তবে সাধারণভাবে ঐ এবং ঔ এই দুটিকেই বাংলা বর্ণমালার যৌগিক স্বরধ্বনি হিসেবে ধরা হয়।
প্রশ্নঃ ‘ধ্বনি’ সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো কঃ ধ্বনি দৃশ্যমান।
ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, এটি শ্রবণযোগ্য। আমরা ধ্বনি শুনতে পাই, চোখে দেখতে পাই না।
অন্যান্য বাক্যগুলো সঠিক:
- খঃ মানুষের ভাষার মূলে আছে কতগুলো ধ্বনি: ভাষার মূল উপাদান হলো ধ্বনি। বিভিন্ন ধ্বনির সমন্বয়ে শব্দ এবং বাক্য তৈরি হয়।
- গঃ ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়: ধ্বনি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা যায় এবং কান দিয়ে শোনা যায়।
- ঘঃ অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্ধ্বনি: ভাষার অর্থপূর্ণ ধ্বনিগুলোই বাগ্ধ্বনি হিসেবে পরিচিত এবং এগুলোই বিভিন্ন ভাষার ভিত্তি তৈরি করে।
প্রশ্নঃ স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
স্বরান্ত অক্ষরকে মুক্তাক্ষর বলা হয়।
যেসব অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে অথবা যে অক্ষর স্বরধ্বনি দিয়ে শেষ হয়, তাকে মুক্তাক্ষর বলে। মুক্তাক্ষর উচ্চারণের সময় মুখ খোলা থাকে।
উদাহরণ:
- দা (দ্ + আ)
- মা (ম্ + আ)
- কে (ক্ + এ)
- যাই (য্ + আ + ই)
- অ (এখানে 'অ' নিজেই একটি স্বর এবং অক্ষর)
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী ঘঃ এ হলো উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি।
স্বরধ্বনিগুলোকে জিহ্বার অবস্থান (উচ্চতা ও সম্মুখ-পশ্চাৎ) এবং ঠোঁটের আকৃতির (গোলাকার বা অগোলাকার) ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়।
- উচ্চ: জিহ্বা মুখের তালুর খুব কাছে থাকে (যেমন: ই, ঈ, উ, ঊ)।
- উচ্চমধ্য: জিহ্বা উচ্চ এবং মধ্য অবস্থানের মাঝামাঝি থাকে (যেমন: এ, ও)।
- নিম্নমধ্য: জিহ্বা মধ্য এবং নিম্ন অবস্থানের মাঝামাঝি থাকে (যেমন: অ্যা)।
- নিম্ন: জিহ্বা মুখের তলদেশের কাছে থাকে (যেমন: আ)।
অন্যদিকে, জিহ্বার সামনের অংশের অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনিগুলোকে সম্মুখ, কেন্দ্রীয় ও পশ্চাৎ এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- সম্মুখ: জিহ্বার সামনের অংশ প্রসারিত থাকে (যেমন: ই, ঈ, এ, অ্যা)।
- কেন্দ্রীয়: জিহ্বার মাঝের অংশ সামান্য উঁচু হয় (যেমন: অ)।
- পশ্চাৎ: জিহ্বার পেছনের অংশ প্রসারিত থাকে (যেমন: উ, ঊ, ও, ঔ)।
অতএব, 'এ' ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখের সামনের দিকে এবং উচ্চ ও মধ্যস্থানের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। ঠোঁট সামান্য প্রসারিত থাকে (অগোলাকার)। তাই 'এ' হলো উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি।
অন্যান্য বিকল্পগুলো:
- কঃ অ - কেন্দ্রীয় নিম্নমধ্য স্বরধ্বনি (ঠোঁট সামান্য গোলাকার বা প্রসারিত হতে পারে)।
- খঃ আ - সম্মুখ নিম্ন স্বরধ্বনি (ঠোঁট প্রসারিত)।
- গঃ ও - পশ্চাৎ উচ্চমধ্য স্বরধ্বনি (ঠোঁট গোলাকার)।
সঠিক উত্তর হলো গঃ পিচাশ।
এখানে বর্ণ-বিপর্যয়ের নিয়ম অনুসারে "পিশাচ" শব্দটি "পিচাশ"-এ পরিবর্তিত হয়েছে। বর্ণ-বিপর্যয় হলো যখন শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনবর্ণ নিজেদের স্থান পরিবর্তন করে।
অন্যান্য উদাহরণগুলো বর্ণ-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত নয়:
- কঃ রতন: এটি একটি স্বাভাবিক শব্দ।
- খঃ কবাট: এটিও একটি স্বাভাবিক শব্দ।
- ঘঃ মুলুক: এটিও একটি স্বাভাবিক শব্দ।
প্রশ্নঃ কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল হিত্তিক ও তুখারিক।
কেন্তুম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি শাখা। এই শাখার দুটি উপশাখা এশিয়ার অন্তর্গত:
- হিত্তিক: এই ভাষাটি খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) প্রচলিত ছিল।
- তুখারিক: এই ভাষাটি খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দে তারিম অববাহিকায় (বর্তমান চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ) প্রচলিত ছিল।
উল্লেখ্য, কেন্তুম শাখার অন্যান্য উপশাখাগুলো মূলত ইউরোপে বিকাশ লাভ করেছিল।
প্রশ্নঃ নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল কঃ আ।
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের অবস্থানের উচ্চতা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি হলো সেই স্বরধ্বনি যা উচ্চারণের সময় জিভ মুখের মধ্যে সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে এবং মুখ সবচেয়ে বেশি খোলে।
এখানে বিকল্পগুলোর মধ্যে:
- আ উচ্চারণের সময় জিভ মুখের মধ্যে সবচেয়ে নিচে থাকে এবং মুখ বেশ খোলে। তাই এটি নিম্নবিবৃত স্বরধ্বনি।
- ই উচ্চারণের সময় জিভ মুখের উপরের দিকে থাকে (সংবৃত)।
- এ উচ্চারণের সময় জিভ মধ্য অবস্থানে থাকে (অর্ধ-সংবৃত)।
- অ্যা উচ্চারণের সময় জিভ নিম্ন-মধ্য অবস্থানে থাকে (অর্ধ-বিবৃত)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর আ।
প্রশ্নঃ বড় > বড্ড – এটি কোন ধরনের পরিবর্তন?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
‘বড় > বড্ড’ – এটি গঃ ব্যঞ্জনদ্বিত্ব ধরনের পরিবর্তন।
এখানে, ‘ড়’ ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (দুবার) হয়েছে। মূল শব্দ ‘বড়’-এর ‘ড়’ ধ্বনিটি পরবর্তী শব্দে ‘ড’ এবং ‘ড’ রূপে দুইবার উচ্চারিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলা হয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো কেন সঠিক নয়:
- কঃ বিষমীভবন: যখন দুটি সমবর্ণ ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে একটি পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি হয়, তখন তাকে বিষমীভবন বলে। এখানে এমন কিছু ঘটেনি।
- খঃ সমীভবন: যখন দুটি ভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি একে অপরের প্রভাবে সামান্য বা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে একই রকম হয়, তখন তাকে সমীভবন বলে। এখানে ভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়নি।
- ঘঃ ব্যঞ্জন-বিকৃতি: যখন কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে অন্য ব্যঞ্জনধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়, তখন তাকে ব্যঞ্জন-বিকৃতি বলে। এখানে ‘ড়’ ধ্বনিটি বিকৃত হয়নি, বরং দ্বিত্ব হয়েছে।
সঠিক উত্তর: বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা:
ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্ব ভাষার মৌলিক উপাদান নিয়ে আলোচনা করে, যেমন—ধ্বনি, শব্দগঠন, অর্থ ইত্যাদি। তবে এই উপাদানগুলোকে যথাযথভাবে বাক্যে ব্যবহার করার যে নীতি ও নিয়ম—তাকে বলে বাক্যতত্ত্ব (Syntax)।
অপশন বিশ্লেষণ:
- কঃ রসতত্ত্ব: সাহিত্যের সৌন্দর্য ও অনুভূতির বিশ্লেষণ; ভাষার গঠনসংক্রান্ত নয়।
- খঃ রূপতত্ত্ব (Morphology): শব্দের গঠন ও পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে।
- গঃ বাক্যতত্ত্ব (Syntax): শব্দ ও ধ্বনি কীভাবে বাক্যে বসে তার নিয়ম ও গঠন বিশ্লেষণ করে – সঠিক।
- ঘঃ ক্রিয়ার কাল: কেবল ক্রিয়ার সময় নির্দেশ করে, বাক্যগঠনের পূর্ণ বিধান নয়।
তাই, "ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্ব বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধান" = বাক্যতত্ত্ব (Syntax)।
প্রশ্নঃ ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে-
[ বিসিএস ৪১তম ]
ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে।
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের ফলা মোট ছয়টি:
- ণ-ফলা/ন-ফলা: যেমন - চিহ্ন, রত্ন
- ব-ফলা: যেমন - বিশ্বাস, নিঃস্ব
- ম-ফলা: যেমন - পদ্ম, আত্মা
- য-ফলা: যেমন - সহ্য, বিদ্যা
- র-ফলা: যেমন - গ্রহ, ব্রত
- ল-ফলা: যেমন - ক্লান্ত, উল্লাস
প্রশ্নঃ অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি?
[ বিসিএস ৪১তম ]
অপিনিহিতির উদাহরণ হলো আজি > আইজ।
অপিনিহিতি হলো যখন শব্দের মধ্যে থাকা ই-কার বা উ-কার তার স্বাভাবিক অবস্থানের আগে উচ্চারিত হয় বা লেখা হয়।
- আজি > আইজ - এই উদাহরণে 'ই' ধ্বনিটি তার মূল স্থান থেকে সরে 'আ'-এর পরে উচ্চারিত হচ্ছে।
অন্যান্য উদাহরণগুলোর ব্যাখ্যা:
- জন্ম-জম্ম: এটি দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ।
- ডেস্ক > ডেসক: এটি স্বরভক্তির উদাহরণ (দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে স্বরধ্বনি আগমন)।
- অলাবু > লাবু > লাউ: এটি স্বরসংগতির উদাহরণ (পরবর্তী স্বরের প্রভাবে পূর্ববর্তী স্বরের পরিবর্তন)।
প্রশ্নঃ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত মৌলিক স্বরধ্বনি হলো ৭টি।
এগুলো হলো:
- অ (যেমন: কল্, কম্)
- আ (যেমন: আম, বাবা)
- ই (যেমন: ইঁদুর, ডিম)
- উ (যেমন: উড়াল, চুল)
- এ (যেমন: তেল, দেশ)
- ও (যেমন: বোন, ছোট)
- অ্যা (যেমন: ব্যাট, ব্যাগ - এই ধ্বনিটি যদিও বাংলা বর্ণমালায় সরাসরি নেই, উচ্চারণের সময় এটি একটি মৌলিক স্বরধ্বনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।)
এই সাতটি স্বরধ্বনিকে জিহ্বার অবস্থান এবং ঠোঁটের প্রসারণের ভিত্তিতে মৌলিক হিসেবে ধরা হয়, অর্থাৎ এদেরকে ভাঙলে আর কোনো ছোট ধ্বনিতে বিশ্লেষণ করা যায় না।
প্রশ্নে ‘যুক্তাক্ষর’ -এর স্থলে হবে ‘মুক্তাক্ষর’। কবিতায় নির্দিষ্ট একটি সুর বা গতি দেওয়ার জন্য ছন্দব্যাকরণ তৈরি হয়েছে। ছন্দ পর্ব ও মাত্রানির্ভর, তাই ছন্দের নামকরণ করা হয়েছে তিনভাগে- অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, ও স্বরবৃত্ত। অক্ষরবৃত্ত ধীরগতির - তাই এর মাত্রা হবে মুক্তাক্ষর এক মাত্রা, বদ্ধাক্ষর এককভাবে দুই মাত্রা, শেষে দুই মাত্রা আর প্রথম ও মাঝে এক মাত্রা। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর এক মাত্রা ও বদ্ধাক্ষর দুই মাত্রা হয়। আর স্বরবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর সব সময় এক মাত্রা গণনা করা হয়।
প্রশ্নঃ বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কত?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা হলো ৭ (সাত) টি।
এগুলো হলো: ১. অ (যেমন: কল) ২. আ (যেমন: আম) ৩. ই (যেমন: ইলিশ) ৪. উ (যেমন: উল) ৫. এ (যেমন: তেল) ৬. ও (যেমন: খোকা) ৭. অ্যা (যেমন: ব্যাট, অ্যাড - যদিও এর জন্য কোনো স্বতন্ত্র বর্ণ নেই, তবে এটি একটি মৌলিক স্বরধ্বনি হিসেবে বিবেচিত হয়)।
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ নয় প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক: এটি একটি ব্যাকরণগত ধারণা, যা কোনো শব্দের মূল বা প্রকৃতি বোঝায়, যার সঙ্গে বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার আগে শব্দটি যে রূপে থাকে। এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের কোনো প্রক্রিয়া নয়।
- অভিশ্রুতি: এটি একটি ধ্বনি-পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যেখানে ই-কার বা উ-কার পরিবর্তিত হয়ে পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিশে যায় (যেমন: করিয়া > কইরা > করে)।
- অপিনিহিতি: এটিও একটি ধ্বনি-পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যেখানে ই-কার বা উ-কার তার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির আগে উচ্চারিত হয় (যেমন: আজি > আইজ)।
- ধ্বনি-বিপর্যয়: এটি একটি ধ্বনি-পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো শব্দের মধ্যে দুটি ধ্বনি একে অপরের স্থান পরিবর্তন করে (যেমন: রিকশা > রিসকা)।
সুতরাং, 'প্রাতিপদিক' ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ নয়, বরং এটি শব্দের একটি রূপগত ধারণা।
নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর (Syllable) বলে।
একটি অক্ষরের মধ্যে এক বা একাধিক ধ্বনি থাকতে পারে, তবে সেগুলোকে একটি একক শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে উচ্চারণ করা হয়। প্রতিটি অক্ষরের একটি মূল স্বরধ্বনি থাকে এবং এর আগে বা পরে এক বা একাধিক ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত হতে পারে।
প্রশ্নঃ ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
[ বিসিএস ৩২তম | প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ২৭-০৬-২০১৫ ]
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলো ধ্বনি, যা ভাষার মূল উপাদান। ধ্বনি হলো মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজ বা আওয়াজের ক্ষুদ্রতম অংশ। এই ধ্বনিগুলোকে লিখিত রূপে প্রকাশ করার জন্য আমরা বর্ণ ব্যবহার করি।
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
[ বিসিএস ৩১তম ]
অল্পপ্রাণ বর্গের ১ম ও ৩য় বর্ণ (যেমন: ক, গ) মহাপ্রাণ বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণ (যেমন: খ, ঘ) অঘোষ বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ (যেমন: ক, খ, চ, ছ) ঘোষ বর্গের ৩য়, ও ৪র্থ বর্ণ (যেমন: গ, ঘ)
প্রশ্নঃ বাংলা ছন্দ কত রকমের?
[ বিসিএস ২৫তম ]
বাক্য পরম্পরায় ভাষাগত ধ্বনি প্রবাহের সুসামঞ্জস্য, সঙ্গীত-মধুর ও তরঙ্গ-ঝঙ্কৃত ভঙ্গি রচনা করা হয় যে পরিমিত পদবিন্যাস রীতিতে তাকেই বলে ছন্দ। বাংলাছন্দকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়-মাত্রাবৃত্ত ছন্দ (Moric Metre), স্বরবৃত্ত ছন্দ (Stressed Metre) এবং অক্ষরবৃত্ত ছন্দ (Mixed or composite Metre)।
প্রশ্নঃ কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
[ বিসিএস ১৩তম ]
| বর্গীয় ধ্বনি | অঘোষ | ঘোষ | অল্পপ্রাণ | মহাপ্রাণ |
|---|---|---|---|---|
| ক-বর্গীয় | ক, খ | গ, ঘ | ক, গ | খ, ঘ |
| চ-বর্গীয় | চ, ছ | জ, ঝ | চ, জ | ছ, ঝ |
| ট-বর্গীয় | ট, ঠ | ড, ঢ | ট, ড | ঠ, ঢ |
| ত-বর্গীয় | ত, থ | দ, ধ | ত, দ | থ, ধ |
| প-বর্গীয় | প, ফ | ব, ভ | প, ব | ফ, ভ |
প্রশ্নঃ শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে বলা হয় -
[ প্রা.বি.স.শি. 08-12-2023 ]
শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে বলা হয় ধ্বনি।
যদিও বর্ণও শব্দের অংশ, তবে ধ্বনি হলো ভাষার মূল ভিত্তি এবং শব্দের প্রাথমিক উপাদান। একাধিক ধ্বনি মিলিত হয়ে বর্ণ তৈরি করে এবং একাধিক বর্ণ মিলিত হয়ে শব্দ তৈরি করে।
- ধ্বনি: ভাষার উচ্চারিত আওয়াজ বা শব্দ। এটি ভাষার সবচেয়ে ছোট একক।
- বর্ণ: ধ্বনির লিখিত রূপ।
- পদ: বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ক্রিয়ামূল।
- ভাব: ক্রিয়ার অর্থ বা কালের ধারণা।
প্রশ্নঃ ধ্বনি হলো –
[ প্রা.বি.স.শি. 20-05-2022 ]
ধ্বনি হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম অংশ।
ধ্বনি হলো ভাষার উচ্চারিত রূপ এবং এটি ভাষার সবচেয়ে ছোট একক, যা কোনো অর্থ বহন করে না কিন্তু অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরিতে সাহায্য করে।
অন্যান্য বিকল্পগুলো কেন সঠিক নয়:
- খঃ অর্থবোধক শব্দসমষ্টি: এটি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ, যা ধ্বনির থেকে বড় এবং অর্থ বহন করে।
- গঃ ভাষার লিখিত রূপ: এটি বর্ণ বা অক্ষর, যা ধ্বনির প্রতীক।
- ঘঃ বাক্যের লিখিত রূপ: এটি বাক্য, যা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত এবং একটি সম্পূর্ণ ধারণা প্রকাশ করে।
প্রশ্নঃ মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
[ প্রা.বি.স.শি. 27-06-2019 ]
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। যথা: অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
প্রশ্নঃ কোন গুলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি?
[ প্রা.বি.স.শি. 27-06-2019 ]
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁটের ব্যবহার হয়, সেসব ধ্বনিকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় ওষ্ঠ্য ধ্বনিগুলো হলো:
প ফ ব ভ ম উ ঊ
প্রশ্নঃ পাখির ডাক -
[ প্রা.বি.স.শি. 26-06-2019 ]
'কুজন' শব্দের অর্থ পাখির ডাক।
প্রশ্নঃ দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে কি বলে?
[ ১৮তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
উদাহরণস্বরূপ, শরীর থেকে শরীল, লাল থেকে নাল।
প্রশ্নঃ অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
[ ১৭তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হলো সেইসব ব্যঞ্জনধ্বনি, যা উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় না এবং ফুসফুস থেকে কম বাতাস বের হয়।
বাংলা বর্ণমালায় কিছু নির্দিষ্ট বর্গের প্রথম ও তৃতীয় ব্যঞ্জনগুলো সাধারণত অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হিসেবে বিবেচিত হয়। এদের মধ্যে:
- বর্গীয় 'ক'
- বর্গীয় 'চ'
- বর্গীয় 'ট'
- বর্গীয় 'ত'
- বর্গীয় 'প'
উদাহরণ:
- ক (কণ্ঠ্য)
- চ (তালব্য)
- ট (মূর্ধন্য)
- ত (দন্ত্য)
- প (ওষ্ঠ্য)
প্রশ্নঃ সন্ধিতে ‘চ' ও 'জ' এর নাসিক্য ধ্বনি কী হয়?
[ ১৭তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
সন্ধিতে 'চ' ও 'জ' এর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়।
ব্যাখ্যা:
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, 'ম' বা 'ন' ধ্বনির পর যদি 'চ' বা 'জ' আসে, তবে সেই 'ম' বা 'ন' ধ্বনিটি 'ঞ' বা তালব্য ধ্বনিতে পরিণত হয়। এই 'ঞ' একটি তালব্য নাসিক্য ধ্বনি।
যেমন:
- সম্ + চয় = সঞ্চয় ('ম' এর পর 'চ' আসায় 'ম' ধ্বনিটি 'ঞ' ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়েছে)।
- যাচ + না = যাঞ্চা ('ন' এর পর 'চ' আসায় 'ন' ধ্বনিটি 'ঞ' ধ্বনিতে পরিবর্তিত হয়েছে)।
সুতরাং, আপনার দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে 'তালব্য' উত্তরটি সঠিক।
প্রশ্নঃ বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি?
[ ১৬তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
প্রশ্নঃ বাংলা বর্ণমালার উৎস কী?
[ ১৬তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
প্রশ্নঃ ‘হ্ম’ এর সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি?
[ ১৫তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
প্রশ্নঃ Apenthesis - এর অর্থ-
[ ১৫তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি শুদ্ধ?
[ ১৪তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
প্রশ্নঃ ভাষার মূল উপাদান কী?
[ ১৩তম শি. (স্কুল সমপর্যায়) ]
প্রশ্নঃ ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৭-০১-২০১১ ]
প্রশ্নঃ তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৯-১০-২০০৯ ]
প্রশ্নঃ কোনটি বিষমীভবন-এর উদাহরণ?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৯-১০-২০০৯ ]
প্রশ্নঃ ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১০-১০-২০০৮ ]
প্রশ্নঃ ক্রিয়ামূল, ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ ইত্যাদি ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ২০-০৫-২০০১ ]
প্রশ্নঃ জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনি গুলোকে কী বলে?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২১-০৬-২০১৯ ]
প্রশ্নঃ ধ্বনির পরিবর্তন কত প্রকার?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৪-০৫-২০১৯ ]
প্রশ্নঃ কোনটিতে মধ্যস্বরলোপ ঘটেছে
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০১-০৬-২০১৮ ]
প্রশ্নঃ কোন দুটি মূল স্বরধ্বনি নয়?
[ প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ১৬-১০-২০১৫ ]
প্রশ্নঃ শরীর > শরীল কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০৬-০৯-২০০৭ ]
প্রশ্নঃ কখন 'ন' হয় না?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০৬-০৯-২০০৭ ]
প্রশ্নঃ কোনটি অপিনিহিতির`র উদাহরণ?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৫-০৮-২০০৫ ]
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৬-০৫-২০০১ ]
প্রশ্নঃ কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
[ ১৬তম বে. প্রভাষক নিবন্ধন ]
প্রশ্নঃ ‘ঙ’ ধ্বনিটির সঠিক উচ্চারণ হলো-
[ ১৫তম বে. প্রভাষক নিবন্ধন ]