প্রশ্নঃ বাংলাদেশের ২য় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ কবে শেষ হবে?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলাদেশের ২য় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ ২০৪১ সালে শেষ হবে।
এই পরিকল্পনার সময়কাল হলো ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
Related MCQ
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সরকার কোন উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলাদেশ সরকার মূল্য সংযোজন কর (VAT) থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাত থেকে আসা রাজস্বের মধ্যে ভ্যাট সবচেয়ে বড় অংশীদার। এর পরেই আয়কর ও কর্পোরেট কর এবং অন্যান্য করের অবস্থান।
ভ্যাট মূলত পণ্য ও সেবার উপর ধার্য করা হয় এবং এটি সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আটটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনাগুলো হলো:
১. প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮) ২. দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮০-১৯৮৫) ৩. তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮৫-১৯৯০) ৪. চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯০-১৯৯৫) ৫. পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২) ৬. ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫) ৭. সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) ৮. অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫)
বর্তমানে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চলমান রয়েছে।
প্রশ্নঃ ‘e-TIN’ চালু করা হয় কত সালে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
‘e-TIN’ (Electronic Taxpayer Identification Number) চালু করা হয় ২০১৩ সালে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue - NBR) করদাতাদের জন্য অনলাইনে টিআইএন নিবন্ধন এবং সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে এটি চালু করে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের জিডিপি (GDP)-তে কোন খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
বাংলাদেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান সেবা খাতের।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২০২২-২৩ অর্থবছর), জিডিপিতে বিভিন্ন খাতের অবদান নিম্নরূপ:
- সেবা খাত: ৫২.১১%
- শিল্প খাত: ৩৩.৬৬%
- কৃষি খাত: ১৪.২৩%
সুতরাং, সেবা খাত বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির বৃহত্তম খাত এবং জিডিপিতে এর অবদান সবচেয়ে বেশি। এই খাতের মধ্যে ব্যবসা, পরিবহন, যোগাযোগ, পর্যটন এবং আর্থিক সেবা উল্লেখযোগ্য।
প্রশ্নঃ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার কত?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ৫.৪৩ শতাংশ ধরা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৬.৯৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। কোভিড-১৯ pandemic থাকা সত্ত্বেও এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনার (Perspective Plan) দুটি পর্যায় রয়েছে:
-
প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা: ২০১০-২০২১ মেয়াদকালের জন্য প্রণীত হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের একটি রূপরেখা তৈরি করা এবং বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা।
-
দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা: ২০২১-২০৪১ মেয়াদকালের জন্য প্রণীত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা।
সুতরাং, যদি সামগ্রিকভাবে প্রেক্ষিত পরিকল্পনার সময়সীমা জিজ্ঞাসা করেন, তবে এটি ২০১০ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কোনটি ব্যাংক নােট নয়?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল কঃ ২ টাকা।
বাংলাদেশে ২ টাকা সরকারি নোট, এটি ব্যাংক নোট নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনুসারে, বর্তমানে প্রচলিত ব্যাংক নোটগুলো হলো: ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা এবং ১০০০ টাকা।
১ টাকা এবং ২ টাকার নোট বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যু করা হয়, তাই এগুলো সরকারি নোট হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্নঃ ‘সেকেন্ডারি মার্কেট’ কিসের সাথে সংশ্লিষ্ট?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল গঃ স্টক মার্কেট।
সেকেন্ডারি মার্কেট স্টক মার্কেটের একটি অংশ। এখানে পূর্বে ইস্যু করা শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ কেনা বেচা হয়। প্রাথমিক বাজারে (Primary Market) যখন কোনো কোম্পানি প্রথমবার শেয়ার বিক্রি করে, তখন সেটি সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনের জন্য আসে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সরকার কোন খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
বাংলাদেশ সরকার ঘঃ মূল্য সংযােজন কর (VAT) খাত থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে।
মূল্য সংযোজন কর বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর এই কর আরোপিত হয় এবং এটি সরকারের আয়ের একটি বড় অংশ।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কোন সালে বয়স্ক ভাতা চালু হয়?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালে বয়স্ক ভাতা চালু হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কর্মসূচিটি উদ্বোধন করেন।
প্রশ্নঃ তথ্য অধিকার আইন কোন সালে চালু হয়?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (Right to Information Act, 2009) জনগণের তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকগণ সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য জানার এবং তা পাওয়ার অধিকার লাভ করেছেন।
এই আইনের মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:
- নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা।
- সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্নীতি হ্রাস করা।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৭-তে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ (Annual Financial Statement) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে সরকারের প্রত্যেক অর্থবছরের জন্য আয় ও ব্যয়ের একটি হিসাব বিবরণী জাতীয় সংসদে পেশ করার বিধান রয়েছে। এটিকে সাধারণত বাজেট হিসেবে অভিহিত করা হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে জাতীয় আয়ে কোন খাতে প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি?
[ বিসিএস ৪২তম ]
সঠিক উত্তর: শিল্প খাত।
বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী, শিল্প খাতের অবদান ৩৭.৫৬% এবং প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৮%। অন্যদিকে, সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির হার ৫.৮৪% এবং কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ২.৬১%।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হয়?
[ বিসিএস ৪১তম ]
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এর প্রধান কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রামানের হ্রাস-বৃদ্ধি করে বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য প্রচার করা, সদস্য দেশগুলোর আর্থিক ও আর্থিক নীতিসমূহের সমন্বয় সাধন করা। তাদেরকে ঋণ প্রদানের ভারসাম্য নিষ্পিত্তির জন্য exchange সরবরাহ করা এবং বিনিময় হার প্রদান করা। IMF এর bailout package- এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা করে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী, বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে কর্মসংস্থানের চিত্রটি হলো:
- কৃষি: ৪৫.৩৩%
- সেবা: ৩৭.৬৫%
- শিল্প: ১৭.০২%
সুতরাং, পরিসংখ্যা অনুযায়ী এখনও কৃষি খাতই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সরবরাহকারী খাত।
প্রশ্নঃ ২০১৮ সালে বাংলাদেশের Per Capita GDP (nominal) কত?
[ বিসিএস ৪০তম ]
২০২৩ সালে কমে ২ হাজার ৪৬৯ দশমিক ৫৮ ডলার । তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে যথাক্রমে ২ হাজার ৭২৮ দশমিক ৪৬ ও ৩ হাজার ২৩ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়াবে বলে আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রশ্নঃ Inclusive Development Index ( IDI) – এর ভিত্তিতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্থান কত?
[ বিসিএস ৪০তম ]
Inclusive Development Index (IDI)-এর সর্বশেষ তথ্য ২০১৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।
২০১৮ সালের আইডিআই র্যাঙ্কিং-এ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর স্কোর ছিল নিম্নরূপ:
- নেপাল: ৪.১৫ (২২তম)
- বাংলাদেশ: ৩.৯৮ (৩৪তম)
- শ্রীলঙ্কা: ৩.৭৯ (৪০তম)
- পাকিস্তান: ৩.৫৫ (৫২তম)
- ভারত: ৩.০৯ (৬২তম)
তবে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ২০১৮ সালের পর থেকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আর এই সূচক প্রকাশ করেনি। তাই বর্তমানে এর নতুন কোনো তথ্য নেই। তবে ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্থান ছিল দ্বিতীয়।
প্রশ্নঃ ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় কত?
[ বিসিএস ৪০তম ]
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রদত্ত জাতীয় সংসদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাব অনুযায়ী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ৪১বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩৬.৬৬৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রশ্নঃ ২০১৮ সালে বাংলাদেশের GDP – তে শিল্প খাতের অবদান কত?
[ বিসিএস ৪০তম ]
২০১৮ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৩৩.৬৬ শতাংশ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮ এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (MCCI)-এর প্রতিবেদন)
প্রশ্নঃ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রপ্তানি প্রণোদনা রাখা হয়েছে-
[ বিসিএস ৪০তম ]
২০১৮ - ২০১৯ অর্থ বছরে রপ্তানি প্রনোদনা রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রপ্তানি পণ্যের বিপরীতে বিভিন্ন হারে নগদ প্রণোদনা রাখা হয়েছিল। এই প্রণোদনার হার পণ্য ভেদে ২% থেকে ২০% পর্যন্ত ছিল।
কিছু খাতের জন্য প্রণোদনার হার ছিল:
- তৈরি পোশাক (কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১% প্রণোদনা সহ): ৪% পর্যন্ত
- পাটজাত পণ্য: ৭% থেকে ২০% পর্যন্ত
- চামড়াজাত পণ্য: বিভিন্ন হারে
- মৎস্যজাত পণ্য: বিভিন্ন হারে
- কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য: বিভিন্ন হারে
এই প্রণোদনার মূল উদ্দেশ্য ছিল রপ্তানি বৃদ্ধি করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে প্রথম ভ্যাট (VAT) চালু হয়-
[ বিসিএস ৪০তম ]
বাংলাদেশে প্রথম মূল্য সংযোজন কর (Value Added Tax - VAT) চালু হয়েছিল ১ জুলাই ১৯৯১ সালে। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই নতুন কর ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
প্রথমে অল্প কিছু পণ্যের উপর ভ্যাট আরোপ করা হলেও, পরবর্তীতে এটি ধীরে ধীরে অধিকাংশ পণ্য ও সেবার উপর প্রযোজ্য হয় এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য কত বরাদ্দ আছে?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
বাংলাদেশের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (Annual Development Programme - ADP) জন্য বরাদ্দ ছিল ১,৭৩,০০০ কোটি টাকা।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের (ফসল, বন , প্রাণিসম্পদ, মৎস্যসহ) অবদান কত শতাংশ?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮ অনুসারে ২০১৬ - ১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৪.৭৪ শতাংশ।
এছাড়া বিবিএস - এর চূড়ান্ত হিসাব মতে ২০১৭ - ১৮ অর্থবছরে অবদান ১৪.১৯ শতাংশ।
বাংলাদেশের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির প্রক্ষেপিত প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ (৭.৮%) ধরা হয়েছিল।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষি খাতের অবদান-
[ বিসিএস ৩৮তম ]
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জিডিপিতে (GDP) কৃষি খাতের অবদান ক্রমহ্রাসমান। স্বাধীনতার পর থেকে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে, যদিও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ হলো:
- শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশ: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প এবং সেবা খাতের অবদান দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) একটি বৃহত্তর অংশ দখল করে নিচ্ছে।
- অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন: একটি দেশের অর্থনীতি যখন উন্নয়নশীল পর্যায় থেকে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে অগ্রসর হয়, তখন জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে আসে এবং শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বাড়ে। এটি অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক কাঠামোগত পরিবর্তন।
যদিও শতাংশের হিসাবে কৃষির অবদান কমছে, এর অর্থ এই নয় যে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। বরং, উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক অর্থনীতির তুলনায় এর আপেক্ষিক অবদান কমে যাচ্ছে।
প্রশ্নঃ ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা মেয়াদে প্রতিবছর বাংলাদেশের গড় প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা-
[ বিসিএস ৩৮তম ]
৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) মেয়াদে প্রতি বছর বাংলাদেশের গড় প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.৪%।
এই পরিকল্পনায়, শেষ বছর অর্থাৎ ২০২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮% এ উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রশ্নঃ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল-
[ বিসিএস ৩৮তম ]
বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউ বা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৫.৯২%।
এটি ৬% এর নিচে ছিল এবং সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই ছিল।
বাংলাদেশের জাতীয় আয় (মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি) গণনায় দেশের অর্থনীতিকে ১৫টি খাতে ভাগ করা হয়।
এই খাতগুলো বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জিডিপি গণনার জন্য এই ১৫টি খাত ব্যবহার করে থাকে। খাতগুলো কৃষি, শিল্প এবং সেবা - এই তিনটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক বিভাগের আওতায় পড়ে।
১৫টি খাত হলো:
কৃষি ও বনজ সম্পদ: ১. কৃষি ও বনজ ২. মৎস্য
শিল্প খাত: ৩. খনিজ সম্পদ ও খনন ৪. শিল্প (ম্যানুফ্যাকচারিং) ৫. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ৬. নির্মাণ
সেবা খাত: ৭. পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য ৮. হোটেল ও রেস্তোরাঁ ৯. পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ ১০. আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১১. রিয়েল এস্টেট, ভাড়া ও ব্যবসায়িক সেবা ১২. জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা ১৩. শিক্ষা ১৪. স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা ১৫. কমিউনিটি, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সেবা
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
সঠিক উত্তর হলো রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা।
ব্যাখ্যা:
-
নাগরিকের দায়িত্ব: নাগরিকের দায়িত্ব হলো দেশের আইন-কানুন ও নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলা, সমাজের প্রতি কর্তব্য পালন করা এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নেওয়া।
-
কঃ রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা: এটি সরাসরি একটি আইন মেনে চলার উদাহরণ যা সমাজের শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি প্রত্যেক নাগরিকের প্রাথমিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
-
খঃ শিল্প কারখানায় অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া: এটি শিল্পোদ্যোক্তাদের একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা দেশের কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি সরাসরি নাগরিকের দায়িত্বের আওতায় পড়ে না।
-
গঃ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা: এটি রাষ্ট্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং নীতি-নির্ধারকদের কাজ। فرد হিসেবে এটি একজন নাগরিকের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব নয়, যদিও প্রত্যেকে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
-
ঘঃ রাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া: এটি একজন নাগরিকের অধিকার, কিন্তু বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নয়। একজন নাগরিক রাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত না হয়েও তার সব দায়িত্ব পালন করতে পারে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১১%।
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১১ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ছিল। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করে–
[ বিসিএস ৩৭তম ]
বাংলাদেশে প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা শুরু করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক (Dutch-Bangla Bank Ltd.)।
ডাচ-বাংলা ব্যাংক ২০১১ সালের ৩১শে মার্চ 'রকেট' (Rocket) নামে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে। এটি ছিল বাংলাদেশে প্রথম কোনো ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ (bKash) এবং পরে অন্যান্য ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান এই সেবায় যুক্ত হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে রোপা আমন ধান কাটা হয়–
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলাদেশে রোপা আমন ধান হলো এক গুরুত্বপূর্ণ ধান ফসল, যা প্রধানত বর্ষাকালে (বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে) আবাদ করা হয়। বাংলাদেশের মোট ধান উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসে রোপা আমন থেকে।
রোপা আমন ধানের বৈশিষ্ট্য:
- চারা রোপণ পদ্ধতি: রোপা আমন ধানের ক্ষেত্রে প্রথমে বীজতলায় ধানের চারা তৈরি করা হয়। এরপর সেই চারাগুলোকে নির্দিষ্ট দূরত্বে সারি করে মূল জমিতে রোপণ করা হয়। 'রোপা' নামটি এই রোপণ পদ্ধতি থেকেই এসেছে।
- চাষের সময়কাল:
- বীজ বপন (বীজতলায়): সাধারণত জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাস (মে-জুন)।
- চারা রোপণ (মূল জমিতে): শ্রাবণ-ভাদ্র মাস (জুলাই-আগস্ট)।
- ধান কাটা: কার্তিক-অগ্রহায়ণ-পৌষ মাস (অক্টোবর-ডিসেম্বর), তবে অঞ্চল ও জাতভেদে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।
- আলোক-সংবেদনশীলতা: রোপা আমনের অনেক জাতই আলোক-সংবেদনশীল, অর্থাৎ দিনের আলোর দৈর্ঘ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার সময় প্রভাবিত হয়। তবে, বর্তমানে আলোক-অসংবেদনশীল উচ্চফলনশীল জাতও উদ্ভাবিত হয়েছে।
- উচ্চফলনশীল জাত (উফশী): বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) বিভিন্ন উচ্চফলনশীল রোপা আমন জাত উদ্ভাবন করেছে, যেমন: ব্রি ধান৪৯, ব্রি ধান৫১ (বন্যা সহনশীল), ব্রি ধান৫২ (বন্যা সহনশীল), ব্রি ধান৫৬ (খরা সহনশীল), ব্রি ধান৭০ (সুগন্ধি), ব্রি ধান৮৭, ব্রি ধান৯০, ব্রি ধান৯৩, ব্রি ধান৯৪, ব্রি ধান৯৮ ইত্যাদি।
- জলবায়ু নির্ভরতা: এটি মূলত বৃষ্টির পানিতে চাষ হওয়া ধান। তাই আর্দ্রতা ও বর্ষার জলবায়ু রোপা আমন চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে রোপা আমনের গুরুত্ব:
- খাদ্য নিরাপত্তা: আমন ধান বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান ফসল (বোরোর পর), যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশাল ভূমিকা রাখে।
- অর্থনীতিতে অবদান: এটি কৃষক পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে।
- কর্মসংস্থান: রোপা আমন ধানের আবাদ, পরিচর্যা ও কাটার সময় বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
রোপা আমন ধান বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রশ্নঃ বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকারের বড় অর্জন কোনটি?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনের সবগুলোই বর্তমান সরকারের সাফল্য। তবে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪০ বছর পর দেশি -বিদেশি চাপের মুখে থেকেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করা এবং সফলভাবে শেষের পথে থাকা বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকারের বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কখন থেকে বয়স্কভাতা চালু হয়?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলাদেশে বয়স্কভাতা কর্মসূচি ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে প্রবর্তন করা হয়।
এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে। এটি দেশের দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবার ও সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু করা হয়েছিল।
প্রশ্নঃ পরিকল্পনা কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কোন মেয়াদে হবে?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
পরিকল্পনা কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদে কার্যকর ছিল (অর্থাৎ, অর্থবছর ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯-২০ পর্যন্ত)।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের কৃষি কোন প্রকার?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী (Intensive Subsistence with Rice Dominance) প্রকারের।
এর কারণগুলো হলো:
- ধান প্রধান (Rice-dominated): বাংলাদেশের প্রধান এবং সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফসল হলো ধান। দেশের প্রায় ৮০% আবাদি জমিতে ধান চাষ হয় এবং বছরে তিনবার ধান উৎপাদন করা হয়।
- নিবিড় কৃষি (Intensive Agriculture): এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ছোট ছোট জমিতে অধিক শ্রম ও মূলধন বিনিয়োগ করে বেশি ফলন উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো হয়।
- স্বয়ংভোগী (Subsistence): কৃষকদের একটি বড় অংশ নিজেদের এবং পরিবারের খাদ্য চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যেই ফসল উৎপাদন করে। যদিও বর্তমানে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক কৃষির দিকে প্রবণতা বাড়ছে, ঐতিহ্যগতভাবে এবং এখনও একটি বড় অংশ স্বয়ংভোগী।
তাই, সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প হলো কঃ ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে শেয়ারবাজার কার্যক্রম কোন সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
বাংলাদেশে শেয়ারবাজার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC)।
বিএসইসি (BSEC) হলো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ আইন, ১৯৯৩ দ্বারা গঠিত। এর প্রধান কাজ হলো শেয়ারবাজারের কার্যক্রম তদারকি করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করা।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে শেয়ারবাজার কার্যক্রম কোন সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
বাংলাদেশে শেয়ারবাজার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC)।
বিএসইসি (BSEC) হলো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ আইন, ১৯৯৩ দ্বারা গঠিত। এর প্রধান কাজ হলো শেয়ারবাজারের কার্যক্রম তদারকি করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করা।
UNDP-এর সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৭৭০ মার্কিন ডলার (GDP per capita, nominal)।
তবে, সময়ের সাথে সাথে এই পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন করার কথা কোন সময়ে?
[ বিসিএস ২৭তম ]
মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDG) ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন সম্মেলনে গৃহীত ঐতিহাসিক 'সহস্রাব্দ উন্নয়ন ঘোষণা' । যাতে বিশ্ববাসীর জন্য ২০১৫ সালের মধ্যে অর্জনযোগ্য আটটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যগুলো হলো ১. চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূলকরণ, ২. সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা- অর্জন, ৩. নারী -পুরুষ সমতা অর্জন ও নারীর ক্ষমতায়নে উৎসাহ দান, ৪. শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসকরণ, ৫. মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, ৬. এইচআইভি/ এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগ নির্মূল, ৭. পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ, ৮. সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।
প্রশ্নঃ স্টক শেয়ারে প্রবর্তিত নতুন পদ্ধতি কোনটি?
[ বিসিএস ২৬তম ]
১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন স্থাপিত হয়। এরপর ১৯৬২ সালের ২৩ জুন এর নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ লি. এবং ১৯৬৪ সালের ১৪ মে আবার পরিবর্তন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লি. (DSE) রাখা হয়। ১৯৯৫ সালে সিকিউরিটি ও এক্সচেঞ্জ কমিশন চট্টগ্রামে দেশের দ্বিতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। এ কমিশন স্টক শেয়ারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যেমন - ডিম্যাট (demat) ব্যবস্থার শেয়ার লেনদেনে ডিপজিটরি পদ্ধতি চালু, আন্তর্জাতিক মান ও পদ্ধতি প্রবর্তন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশের GDP তে কৃষিখাতের অবদান কত?
[ বিসিএস ২৬তম ]
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুসারে বাংলাদেশের GDP তে কৃষিখাতের অবদান ১১.২০%, শিল্পখাতের অবদান ৩৭.৫৬% এবং সেবা খাতের অবদান ৫১.২৪%
প্রশ্নঃ চলতি আর্থিক বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকি কত টাকা ধরা হয়েছে?
[ বিসিএস ২৬তম ]
২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ১৭,৫৫৩ কোটি টাকা।
প্রশ্নঃ মূল্য সংযোজন কর বাংলাদেশে কখন থেকে চালু করা হয়?
[ বিসিএস ২৫তম ]
ভ্যাট বা Value Added Tax-এর বাংলারূপ হলো মূল্য সংযোজন কর। ১৯৯১ সালের অর্থ আইন দ্বারা বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ১ জুলাই, ১৯৯১ থেকে এ কর ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
প্রশ্নঃ কোন উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় হয়?
[ বিসিএস ২৪তম ]
বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় হয় মূল্য সংযোজন কর (VAT) থেকে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১-২২ (সাময়িক) অনুযায়ী আমদানি শুল্ক সাথে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১.৫২% সূচক ১৬.৭৫% সম্পূরক শুল্ক: ৮.৮৮%।
প্রশ্নঃ ২০০৩-০৪ সনের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট ব্যয়-
[ বিসিএস ২৪তম ]
২০০৩-০৪ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট ব্যয় ২০, ৩০০ কোটি টাকা। সরকার ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ২৪৬০৬৬ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) অনুমোদন করেছে।
তৈরি পোশাক খাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার।
ইপিবি এর বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২-২৩ অনুসারে, তৈরি পোশাক খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ ৪৬,৯৯১.৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৮৪.৫৭%।
প্রশ্নঃ বর্তমানে বাংলাদেশে গড়পড়তা মাথাপিছু আয় কত মার্কিন ডলার?
[ বিসিএস ২১তম ]
অর্থবছর 2023-24 এ বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় 2,784 মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের অর্থবছরে অর্থাৎ 2022-23 এ এই পরিমাণ ছিল 2,749 মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরে এই আয়ের পরিমাণ 35 ডলার বেড়েছে।
তবে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে মাথাপিছু আয় কমে ২ হাজার ৭৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় বিবিএসের হিসাবে মাথাপিছু আয় কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার ১১১ টাকা ৬ পয়সা হিসেবে ধরা হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে ডলারের বিনিময় হার বাড়ছে। তবে টাকার হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২২ অনুসারে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় অর্থাৎ বাংলাদেশের সর্বাধিক রপ্তানি আয় আসে তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার থেকে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ শিল্পজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ৩২৪৩৭ (মিলিয়ন মার্কিন ডলার) যা মোট রপ্তানির ৯৫.৮৫%। শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় নীটওয়্যার ও তৈরিপোশাক (ওভেন) হতে। এই দুটি শিল্পখাত হতে ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ২৭৪৯৭ মার্কিন ডলার) যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮২.২৫%।