আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ গঠনরীতিতে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য মূলত-

[ বিসিএস ৩৮তম ]

ক. পদাবলি
খ. ধামালি
গ. প্রেমগীতি
ঘ. নাটগীতি (নাট্যগীতি)
উত্তরঃ নাটগীতি (নাট্যগীতি)
ব্যাখ্যাঃ

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি মূলত নাটগীতি বা আখ্যানধর্মী ও সংলাপের আকারে রচিত কাব্য

গঠনরীতিতে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের বৈশিষ্ট্য:

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন এবং এর গঠনরীতিতে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

  • সংলাপধর্মিতা ও নাটকীয়তা: এই কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র হলো রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়াই। তাদের মধ্যে যে কথোপকথন বা উক্তি-প্রত্যুক্তি রয়েছে, তা এটিকে একটি নাটকীয় রূপ দিয়েছে। প্রতিটি খণ্ড যেন একটি ছোট নাটকের মতো, যেখানে চরিত্রের মনোভাবের ঘাত-প্রতিঘাত সংলাপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই কারণে অনেক গবেষক এটিকে 'নাটগীতি' বা 'চিত্রনাটগীতি' নামে অভিহিত করেন, অর্থাৎ গান এবং নাটকের মিশ্রণ।

  • খণ্ড বিভক্ত: কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত। এই খণ্ডগুলো হলো: জন্মখণ্ড, তাম্বূলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালীয়দমনখণ্ড, বস্ত্রহরণখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহ। প্রতিটি খণ্ডের বিষয়বস্তু রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার এক একটি পর্যায়কে তুলে ধরে।

  • আখ্যানধর্মী: এটি একটি আখ্যানধর্মী কাব্য, অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট কাহিনিকে কেন্দ্র করে এর পদগুলো রচিত হয়েছে। রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়লীলা, তাদের মান-অভিমান, বিরহ এবং মিলনই এর মূল উপজীব্য।

  • ধামালি: কাব্যের অনেক অংশে ধামালি নামক এক প্রকার রঙ্গরস বা পরিহাস বাক্যের ব্যবহার দেখা যায়। এটি মধ্যযুগের বাংলা কাব্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা কৌতুক এবং ঠাট্টা-তামাশার মাধ্যমে কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

  • পদাবলির পূর্বসূরি: যদিও এটি পদাবলি সাহিত্যের সম্পূর্ণ রূপ নয়, এর গঠন ও বিষয়বস্তু পরবর্তীকালের বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিল। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

  • সংস্কৃত শ্লোকের ব্যবহার: কাব্যে কিছু সংস্কৃত শ্লোকেরও ব্যবহার দেখা যায়, যা এর প্রাচীনত্ব এবং তৎকালীন সাহিত্যের উপর সংস্কৃতের প্রভাব নির্দেশ করে।

সব মিলিয়ে, 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি তার সংলাপভিত্তিক, আখ্যানধর্মী এবং নাটকীয় ভঙ্গির জন্য মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।