১. মস্তিষ্কের ডোপামিন তৈরির কোষগুলো নষ্ট হলে কি রোগ হয়?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
মস্তিষ্কের যে কোষগুলো ডোপামিন তৈরি করে, সেগুলো নষ্ট হয়ে গেলে পারকিনসন রোগ (Parkinson's Disease) হয়।
ব্যাখ্যা:
পারকিনসন রোগ একটি প্রগতিশীল স্নায়বিক রোগ। মস্তিষ্কের সাবস্ট্যানশিয়া নিগ্রা (Substantia Nigra) নামক অংশের ডোপামিন উৎপাদনকারী নিউরন বা কোষগুলো যখন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে শুরু করে বা মারা যায়, তখন এই রোগ দেখা দেয়। ডোপামিন হলো একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা মস্তিষ্কে সংকেত প্রেরণে সাহায্য করে এবং মানুষের নড়াচড়া, মেজাজ, ঘুম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্য নিয়ন্ত্রণ করে।
ডোপামিনের ঘাটতির ফলে মস্তিষ্কের বার্তা প্রেরণে ব্যাঘাত ঘটে, যার কারণে পারকিনসন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন মোটর (নড়াচড়া সংক্রান্ত) এবং নন-মোটর লক্ষণ অনুভব করেন।
পারকিনসন রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- কম্পন (Tremor): সাধারণত বিশ্রামরত অবস্থায় হাত, পা, আঙুল বা মাথায় কাঁপুনি।
- পেশীর অনমনীয়তা (Rigidity): অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, যা নড়াচড়া কঠিন করে তোলে এবং ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
- নড়াচড়ার ধীরগতি (Bradykinesia): স্বেচ্ছামূলক নড়াচড়া ধীর হয়ে যায়। হাঁটা শুরু করা বা স্বাভাবিক কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- ভারসাম্যহীনতা (Postural Instability): ভঙ্গিতে অস্থিরতা এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা, যার ফলে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
এছাড়াও, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, কথা বলায় অসুবিধা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া এবং ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) এর মতো নন-মোটর লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
পারকিনসন রোগের কোনো স্থায়ী প্রতিকার নেই, তবে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যায়।
২. মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত?
[ বিসিএস ২৮তম ]
সুষুম্না কাণ্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ। Spinal Cord বা স্নায়ু রঞ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদণ্ডের ভেতরে অবস্থিত। Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা। এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal nerve) উৎপন্ন হয়।
৩. নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে কি বলে?
[ বিসিএস ২৫তম ]
প্রতিটি কিডনি অনেকগুলো ক্ষুদ্র কার্যকরী এককের সমন্বয়ে গঠিত, যা নেফ্রোন নামে পরিচিত। নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী উপাদান, যা দিয়ে নার্ভ বা স্নায়ু গঠিত। থাইমাস হচ্ছে একটি গ্রন্থি এবং মাস্টসেল বিভিন্ন কলাতে পাওয়া যায়।
৪. মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের-
[ বিসিএস ২৪তম ]
মানুষের মস্তিষ্ক ‘Cerebrum’, ‘Cerebellum’ এবং ‘Brain Stem’ নিয়ে গঠিত এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করে। স্নায়ু কোষের মাধ্যমেই মস্তিষ্ক উদ্দীপনা গ্রহণ করে ও উপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যথাস্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। তাই মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ এক চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে এর ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে।