আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্য প্রকাশিত হয় কত সনে?

[ বিসিএস ৩৭তম ]

ক. ১৯১০
খ. ১৯১১
গ. ১৯১২
ঘ. ১৯১৩
উত্তরঃ ১৯১০
ব্যাখ্যাঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতাঞ্জলি' একটি বিশ্ববিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি এবং রবীন্দ্রনাথকে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছিল।

প্রকাশনা ও বিষয়বস্তু

  • বাংলা গীতাঞ্জলি: এটি ১৯১০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর (১৩১৭ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসে) প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৫৭টি গীতিকবিতা সংকলিত হয়েছে। কবিতাগুলো মূলত ব্রাহ্ম-ভাবাপন্ন ভক্তিমূলক রচনা, যেখানে মানুষ ও ঈশ্বরের মধ্যে এক গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক, প্রেম, ভক্তি, প্রকৃতি ও জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর বেশিরভাগ কবিতাতেই রবীন্দ্রনাথ নিজে সুরারোপ করেছিলেন।

  • ইংরেজি গীতাঞ্জলি (Song Offerings): ১৯১২ সালে লন্ডনে 'Gitanjali (Song Offerings)' নামে এর ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। এই অনুবাদটি রবীন্দ্রনাথ নিজেই করেছিলেন। মজার বিষয় হলো, ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি'তে বাংলা 'গীতাঞ্জলি'র সব কবিতা ছিল না। এতে মূল বাংলা গীতাঞ্জলির মাত্র ৫১টি এবং রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ (যেমন - গীতিমাল্য, নৈবেদ্য, খেয়া, শিশু, কল্পনা, চৈতালি, উৎসর্গ, স্মরণ, অচলায়তন) থেকে নেওয়া আরও কিছু কবিতা/গানসহ মোট ১০৩টি কবিতা সংকলিত হয়েছিল। আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস (W. B. Yeats) এই ইংরেজি সংস্করণের অসাধারণ একটি ভূমিকা লিখেছিলেন, যা পাশ্চাত্যে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি

১৯১৩ সালে 'Song Offerings' কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রথম ভারতীয় এবং প্রথম এশীয় হিসেবে এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেন। সুইডিশ একাডেমি তার "গভীরভাবে সংবেদনশীল, তাজা এবং সুন্দর শ্লোক" এবং "পরিপূর্ণ দক্ষতার সাথে, তিনি তার কাব্যিক চিন্তাভাবনাকে তার নিজস্ব ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করেছেন, যা পাশ্চাত্যের সাহিত্যের একটি অংশ" - এই কারণ দেখিয়ে তাকে পুরস্কার প্রদান করে।

তাৎপর্য

'গীতাঞ্জলি'র মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যকে নয়, ভারতীয় আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক চিন্তাধারাকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরেন। এর কবিতাগুলোতে নিগূঢ় আধ্যাত্মিকতা, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সংযোগ, এবং পরম সত্তার প্রতি আত্মসমর্পণের এক অসামান্য চিত্র ফুটে উঠেছে, যা বিশ্বজুড়ে পাঠককে আকৃষ্ট করেছে। 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথকে 'বিশ্বকবি' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলা ভাষার গৌরব বৃদ্ধি করে।