১. ‘শূন্যপূরাণের’ রচয়িতা –
[ বিসিএস ৪৬তম ]
‘শূন্যপূরাণ’-এর রচয়িতা হলেন কঃ রামাই পণ্ডিত।
‘শূন্যপূরাণ’ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কিত গ্রন্থ, যা সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মতত্ত্বের ধারণা তুলে ধরে। রামাই পণ্ডিত ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, যিনি এই রচনা দ্বারা বৌদ্ধধর্মের দার্শনিক ও সামাজিক দিকগুলোকে উপস্থাপন করেছেন।
অন্য বিকল্পগুলোর বিশ্লেষণ:
- হলায়ূধ মিশ্র → তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃত পণ্ডিত ও ব্যাকরণবিদ।
- কাহ্নপা → তিনি ছিলেন এক সহজিয়া বৌদ্ধ সাধক, তবে ‘শূন্যপূরাণ’ রচয়িতা নন।
- কুক্কুরীপা → তিনি বৌদ্ধ যোগী ছিলেন, তবে এই গ্রন্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম উল্লেখযোগ্য কারণ এখানেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছিল।
- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের একটি গোয়ালঘর থেকে এই কাব্যের খণ্ডিত পুঁথিটি উদ্ধার করেন।
- পরে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাব্য, যা রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি নিয়ে রচিত।
৩. ‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।’ – কবিতাংশটি
কোন কাব্যের অন্তর্গত?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
এই বিখ্যাত কবিতাংশটি আবদুল হাকিম রচিত ‘নূরনামা’ কাব্যের অন্তর্গত।
আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ছিলেন। তার ‘নূরনামা’ কাব্যটি মাতৃভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং যারা বাংলায় জন্মগ্রহণ করেও বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে তাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। এই কবিতাংশটি বাংলা ভাষার প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৪. আলাওল কোন শতাব্দীর কবি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
আলাওল ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর কবি।
তার জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ সালে এবং মৃত্যু ১৬৮০ সালে। তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে পরিচিত। আরাকান রাজসভায় তিনি সাহিত্যচর্চা করতেন।
৫. ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কার সভাকবি ছিলেন?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব গৌড়ের রাজা লক্ষণ সেন-এর সভাকবি ছিলেন। লক্ষণ সেন ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের বাংলার সেন রাজবংশের তৃতীয় রাজা। তিনি শিল্প ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার সভাতে অনেক বিখ্যাত কবি ও পণ্ডিতের সমাগম ঘটেছিল। জয়দেব ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম এবং সবচেয়ে বিখ্যাত।
৬. কবি যশোরাজ খান বৈষ্ণবপদ রচনা করেন কোন ভাষায়?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
কবি যশোরাজ খান মূলত ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
ব্রজবুলি হলো মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনার কৃতিত্ব যশোরাজ খানের। তিনি সম্ভবত হোসেন শাহের রাজত্বকালের কবি ছিলেন।
৭. নিচের কোন জন যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো ঘঃ সৈয়দ নূরুদ্দীন।
দৌলত উজির বাহরাম খাঁ, সাবিরিদ খাঁ এবং সৈয়দ সুলতান মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি এবং তারা যুদ্ধকাব্য রচনা করেছেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ: তার বিখ্যাত যুদ্ধকাব্য হলো "লাইলী-মজনু"।
- সাবিরিদ খাঁ: তিনিও "বিদ্যাসুন্দর" কাব্যের একটি যুদ্ধ-কেন্দ্রিক আখ্যান রচনা করেন।
- সৈয়দ সুলতান: তার রচিত "নবীবংশ" একটি দীর্ঘ কাব্য এবং এর কিছু অংশে যুদ্ধ ও সংঘাতের বর্ণনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সৈয়দ নূরুদ্দীন প্রধানত নাথ সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত। তার উল্লেখযোগ্য রচনা হলো "নাসির নামা"। তিনি যুদ্ধকাব্য রচনা করেননি।
৮. কোনটি কবি জৈনুদ্দিনের কাব্যগ্রন্থ?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো কঃ রসুল বিজয়।
কবি জৈনুদ্দিনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম "রসুল বিজয়"। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এই কাব্যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন ও কর্ম এবং বিভিন্ন যুদ্ধ সম্পর্কিত বর্ণনা রয়েছে।
৯. ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী’ কার স্ত্রী?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের উপাস্য চণ্ডী হলেন শিবের স্ত্রী। তাঁর অপর নাম পার্বতী.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত চণ্ডীদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য রচিত হয়েছিল। এটি বাংলা মঙ্গলকাব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে দেবী চণ্ডীর পূজা ও তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার বর্ণনা রয়েছে।
১০. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য ১৯০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
বাংলা সাহিত্যের গবেষক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচার ওপর অযত্ন অবস্থায় পুঁথিটি খুঁজে পান। পুঁথিটির সঙ্গে প্রাপ্ত চিরকুট থেকে জানা যায়, আড়াইশো বছর আগে এটি বিষ্ণুপুরের রাজগ্রন্থশালায় রাখা ছিল।
১১. বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
বিদ্যাপতি মূলত মৈথিলী ভাষার কবি ছিলেন।
তিনি পঞ্চদশ শতাব্দীর মৈথিলী কবি ছিলেন এবং মিথিলার (বর্তমান বিহার ও নেপালের অংশ) রাজসভায় সম্মানিত ছিলেন। মৈথিলী ছাড়াও তিনি সংস্কৃত ও অবহট্ট ভাষায় কিছু রচনা করেছিলেন।
তবে, বাংলা অঞ্চলে বিদ্যাপতির যে পদাবলী প্রচলিত, তার ভাষা ব্রজবুলি। ব্রজবুলি হলো মৈথিলী ও বাংলার মিশ্রণে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং পরবর্তী বৈষ্ণব পদকর্তারা এই ভাষায় রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক পদ রচনা করেছেন। এই কারণে বিদ্যাপতি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন।
১২. ‘আমার সন্তান যেন থাকে।’—এই মনােবাঞ্ছাটি কার?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’—এই মনোবাঞ্ছাটি গঃ ঈশ্বরী পাটুনীর।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত কালকেতু উপাখ্যানে ঈশ্বরী পাটুনী যখন দেবী চণ্ডীর ছলনায় তার নৌকা ডুবতে দেখেন, তখন দেবীর কাছে এই প্রার্থনা করেন।
১৩. ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’ – পংক্তিটির রচয়িতা-
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’ – এই বিখ্যাত পংক্তিটির রচয়িতা খঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত "মৃত্যু" নামক কবিতার অংশ। এই পংক্তিতে কবি মৃত্যুকে তার প্রিয়তম শ্যামের (কৃষ্ণের) সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে বিরহের গভীরতা ও প্রেমের চিরন্তনতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
১৪. মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
মনসামঙ্গলের একজন সর্বাধিক প্রচারিত কবি হিসাবে বিজয়গুপ্ত - এর খ্যাতি। তার মনসামঙ্গল (বা পদ্মাপুরাণ) বাংলার জনপ্রিয় কাব্যগুলির মধ্য অন্যতম। গল্পরস সৃজনে, করুণরস ও হাস্যরসের প্রয়োগে, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক জীবনের পরিচয়ে, চরিত্র চিত্রণে এবং পাণ্ডিত্যের গুণে বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণ একটি জনপ্রিয় কাব্য। বিজয়গুপ্তের পূর্বে আমরা পাই আদি মঙ্গল কবি কানাহরি দত্ত ও বিপ্রদাস পিপলাইকে।
জমিদার নিজাম শাহের পৃষ্ঠপােষকতা দৌলত উজির বাহরাম খান সাহিত্যসৃষ্টিতে লাভ করেন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের জাফরাবাদের শাসনকর্তা। নিজাম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় বাহরাম খান পারসিয়ান কবি জামির আরবি লোকগাথা অবলম্বনে বাংলায় ‘লায়লী-মজনু’ অনুবাদ করেন।
১৬. মহাকবি আলাওল রচিত কাব্য কোনটি?
[ বিসিএস ৪২তম ]
সঠিক উত্তর হলো খঃ পদ্মাবতী।
মহাকবি আলাওল রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো পদ্মাবতী। এটি মালিক মুহম্মদ জায়সীর "পদুমাবৎ" কাব্যের অনুবাদ।
অন্যান্য বিকল্পগুলো:
- চন্দ্রাবতী: এটি মধ্যযুগের মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর রচনা।
- মধুমালতী: এটি মধ্যযুগের কবি মুহম্মদ কবীরের রচনা।
- লাইলী মজনু: এটি মূলত ফার্সি ভাষার একটি বিখ্যাত প্রণয়োপাখ্যান, যা বিভিন্ন কবি বাংলায় অনুবাদ করেছেন, তবে আলাওলের একক রচনা নয়।
১৭. উল্লিখিত কোন রচনাটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়?
[ বিসিএস ৪০তম ]
উল্লিখিত রচনাগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ গীতিকা পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়।
ময়মনসিংহ গীতিকা লোকসাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ। এটি উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচলিত লোকগাথাগুলোকে সংগ্রহ করে সংকলিত হয়েছে। এর ভাষা ও আঙ্গিক পুঁথি সাহিত্যের থেকে ভিন্ন।
অন্যদিকে, ইউসুফ জুলেখা, পদ্মাবতী, এবং লাইলী মজনু মধ্যযুগের জনপ্রিয় প্রণয়োপাখ্যান এবং এগুলো মূলত পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত। এসকল কাহিনী দীর্ঘ কবিতা আকারে রচিত এবং জনসাধারণের মধ্যে পাঠ ও শ্রবণের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
১৮. জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত:
[ বিসিএস ৪০তম ]
জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হলেন বৃন্দাবন দাস।
বৃন্দাবন দাস চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী অবলম্বনে বিখ্যাত গ্রন্থ "চৈতন্যভাগবত" রচনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনীকাব্য।
অন্যান্য লেখকদের উল্লেখযোগ্য কাজ:
- ফকির গরীবুল্লাহ: তিনি পুঁথি সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো "আমির হামজা"।
- নরহরি চক্রবর্তী: তিনি বৈষ্ণব পদাবলী ও জীবনী সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ "ভক্তিরত্নাকর"।
- বিপ্রদাস পিপিলাই: তিনি মনসামঙ্গল কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি।
১৯. বৈষ্ণব পদাবলীর সঙ্গে কোন ভাষা সম্পর্কিত?
[ বিসিএস ৪০তম ]
বৈষ্ণব পদাবলীর সঙ্গে ব্রজবুলি ভাষা সম্পর্কিত।
ব্রজবুলি হলো এক প্রকার কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা। এটি মূলত মৈথিলী ভাষার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এতে বাংলা, ওড়িয়া এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষার কিছু শব্দ ও ব্যাকরণগত প্রভাব রয়েছে। বৈষ্ণব পদাবলীর কবি যেমন বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস কবিরাজ প্রমুখ এই ভাষাতেই তাদের পদ রচনা করেছেন। এই ভাষার মাধুর্য ও সঙ্গীতময়তা পদাবলী সাহিত্যকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
২০. গঠনরীতিতে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য মূলত-
[ বিসিএস ৩৮তম ]
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি মূলত নাটগীতি বা আখ্যানধর্মী ও সংলাপের আকারে রচিত কাব্য।
গঠনরীতিতে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের বৈশিষ্ট্য:
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন এবং এর গঠনরীতিতে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
-
সংলাপধর্মিতা ও নাটকীয়তা: এই কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র হলো রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়াই। তাদের মধ্যে যে কথোপকথন বা উক্তি-প্রত্যুক্তি রয়েছে, তা এটিকে একটি নাটকীয় রূপ দিয়েছে। প্রতিটি খণ্ড যেন একটি ছোট নাটকের মতো, যেখানে চরিত্রের মনোভাবের ঘাত-প্রতিঘাত সংলাপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই কারণে অনেক গবেষক এটিকে 'নাটগীতি' বা 'চিত্রনাটগীতি' নামে অভিহিত করেন, অর্থাৎ গান এবং নাটকের মিশ্রণ।
-
খণ্ড বিভক্ত: কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত। এই খণ্ডগুলো হলো: জন্মখণ্ড, তাম্বূলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালীয়দমনখণ্ড, বস্ত্রহরণখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহ। প্রতিটি খণ্ডের বিষয়বস্তু রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার এক একটি পর্যায়কে তুলে ধরে।
-
আখ্যানধর্মী: এটি একটি আখ্যানধর্মী কাব্য, অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট কাহিনিকে কেন্দ্র করে এর পদগুলো রচিত হয়েছে। রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়লীলা, তাদের মান-অভিমান, বিরহ এবং মিলনই এর মূল উপজীব্য।
-
ধামালি: কাব্যের অনেক অংশে ধামালি নামক এক প্রকার রঙ্গরস বা পরিহাস বাক্যের ব্যবহার দেখা যায়। এটি মধ্যযুগের বাংলা কাব্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা কৌতুক এবং ঠাট্টা-তামাশার মাধ্যমে কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
-
পদাবলির পূর্বসূরি: যদিও এটি পদাবলি সাহিত্যের সম্পূর্ণ রূপ নয়, এর গঠন ও বিষয়বস্তু পরবর্তীকালের বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিল। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
-
সংস্কৃত শ্লোকের ব্যবহার: কাব্যে কিছু সংস্কৃত শ্লোকেরও ব্যবহার দেখা যায়, যা এর প্রাচীনত্ব এবং তৎকালীন সাহিত্যের উপর সংস্কৃতের প্রভাব নির্দেশ করে।
সব মিলিয়ে, 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি তার সংলাপভিত্তিক, আখ্যানধর্মী এবং নাটকীয় ভঙ্গির জন্য মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।
২১. দৌলত উজির বাহরাম খান কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
দৌলত উজির বাহরাম খান ছিলেন মধ্যযুগের একজন গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি কবি, যিনি ষোড়শ শতকে (আনুমানিক ১৫৪০-১৬০০ খ্রিস্টাব্দ) সক্রিয় ছিলেন।
পরিচয় ও পৃষ্ঠপোষকতা
তার প্রকৃত নাম ছিল আসাউদ্দীন। তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তার পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন শাসক নেজাম শূর-এর (বা নেজাম শাহ) উজির (মন্ত্রী)। পিতার মৃত্যুর পর নেজাম শূর তাকেও 'উজির' পদে নিযুক্ত করেন এবং তাকে 'দৌলত উজির' উপাধি দেন। এই কারণেই তিনি 'দৌলত উজির বাহরাম খান' নামে পরিচিতি লাভ করেন। তার পূর্বপুরুষ হামিদ খান গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য ছিলেন।
সাহিত্যকর্ম
দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
- লায়লী-মজনু: এটিই তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এটি ফারসি কবি জামির (এবং সম্ভবত নিজামী গঞ্জভীর) আরবি লোকগাথা 'লায়লা ওয়া মজনুন' অবলম্বনে রচিত একটি প্রণয়োপাখ্যান। এটি বাংলা ভাষায় প্রথম 'লায়লী-মজনু' কাব্য। যদিও এটি একটি অনুবাদ কাব্য, বাহরাম খান এতে তার নিজস্ব কল্পনা ও বাঙালি জীবনধারার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।
- ইমাম-বিজয়: এটি মার্সিয়া সাহিত্য ধারার একটি কাব্য। এর বিষয়বস্তু হলো কারবালার যুদ্ধকাহিনি এবং ইমাম হোসাইন (রা.) এর শাহাদাত।
- জঙ্গনামা (বা মক্তুল হোসেন): এটিও কারবালার ঘটনা নিয়ে লেখা একটি কাব্য এবং তার রচিত প্রথম কাব্য বলে মনে করা হয়।
অবদান
দৌলত উজির বাহরাম খান মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান এবং মুসলিম ঐতিহ্যের ধারায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি আরবি ও ফারসি ভাষার পাশাপাশি ইসলামী ধর্মশাস্ত্র এবং হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও সংস্কৃতেও পারদর্শী ছিলেন, যার প্রতিফলন তার কাব্যে দেখা যায়। তার 'লায়লী-মজনু' কাব্য মানবীয় প্রেমবোধকে প্রাধান্য দিয়ে রচিত হয়েছিল এবং এটি পরবর্তীকালের রোমান্টিক আখ্যানকাব্যগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
২২. ‘চন্দ্রাবতী’ কী?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত 'চন্দ্রাবতী' কাব্য
আরাকান রাজসভার অমাত্য ও কবি কোরেশী মাগন ঠাকুর সপ্তদশ শতকে 'চন্দ্রাবতী' নামে একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্য রচনা করেন।
এই কাব্যের মূল কাহিনি হলো ভদ্রাবতী নগরের রাজপুত্র বীরভানের সরন্দ্বীপের রাজকন্যা অপূর্বসুন্দরী চন্দ্রাবতীকে লাভ করার বৃত্তান্ত। এই কাব্যটি বাঙালি রূপকথার কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে মাগন ঠাকুরের মৌলিক প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি কবি আলাওলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও পরিচিত।
২৩. “বিদ্যাপতি” কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজসভার কবি।
তিনি মূলত পঞ্চদশ শতকের একজন মৈথিলি কবি ছিলেন, যিনি মিথিলা রাজ্যের রাজা শিবসিংহ-এর সভাকবি হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেন। রাজা শিবসিংহ তাকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
বিদ্যাপতি শুধু শিবসিংহেরই নন, তিনি তার দীর্ঘ জীবনে আরও কয়েকজন রাজা ও রানীর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন, যার মধ্যে রাজা কীর্তিসিংহ, নরসিংহ, ধীরসিংহ এবং রানী বিশ্বাসাদেবী ও লছিমা দেবীও অন্তর্ভুক্ত।
যদিও তিনি মূলত মৈথিলি ভাষায় পদ রচনা করতেন, তার রচিত ব্রজবুলি ভাষার পদাবলী বাংলা, আসাম, উড়িষ্যা এবং পূর্ব বিহারে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই কারণে বাঙালিরাও তাকে নিজেদের কবি হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
২৪. শৃঙ্গার রসকে বৈষ্ণব পদাবলিতে কী রস বলে?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
শৃঙ্গার রসকে বৈষ্ণব পদাবলিতে মধুর রস বলা হয়।
বৈষ্ণব পদাবলির মূল বিষয়ই হলো রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, যা এই মধুর রসের প্রকাশ। এটি কেবল জাগতিক প্রেম নয়, বরং ঈশ্বরের প্রতি ভক্তের গভীর প্রেম, ভক্তি ও আকুতিকে বোঝায়।
২৫. ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে।
ড. দীনেশচন্দ্র সেনের অনুপ্রেরণায় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চন্দ্রকুমার দে পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব লোকপালা সংগ্রহ করেন। পরে ড. দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সম্পাদনা করে 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' নামে প্রকাশ করেন।
২৬. ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
'গোরক্ষ বিজয়' কাব্যটি নাথধর্ম মতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা।
এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ, যা শেখ ফয়জুল্লাহ রচনা করেন। এই কাব্যের মূল বিষয়বস্তু হলো নাথ বিশ্বাস-জাত যোগের মহিমা এবং গুরু মৎস্যেন্দ্রনাথকে তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কদলী রাজ্য থেকে উদ্ধারের কাহিনী। নাথধর্ম মূলত শৈবধর্ম এবং বৌদ্ধ সহজযানের মিশ্রণে গঠিত একটি যোগ-তান্ত্রিক ধর্মমত।
২৭. শাক্ত পদাবলির জন্য বিখ্যাত –
[ বিসিএস ৩৭তম ]
শাক্ত পদাবলির জন্য বিখ্যাত হলেন প্রধানত রামপ্রসাদ সেন।
তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি শাক্ত কবি ও সাধক। তার রচিত কালীবিষয়ক গানগুলো 'রামপ্রসাদী' বা 'শ্যামা সঙ্গীত' নামে পরিচিত, যা বাংলা শাক্ত পদাবলির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রামপ্রসাদ সেন ছাড়াও, কমলাকান্ত ভট্টাচার্য শাক্ত পদাবলির আরেকজন উল্লেখযোগ্য কবি। তিনি রামপ্রসাদ সেনের পরেই শাক্ত পদাবলীতে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
২৮. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্মপ্রচারক-এর প্রভাব অপরিসীম?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে যার প্রভাব অপরিসীম, তিনি হলেন শ্রীচৈতন্যদেব (চৈতন্য মহাপ্রভু)।
পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত তাঁর ভক্তি আন্দোলন (বৈষ্ণব ধর্ম আন্দোলন) বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তাঁর আবির্ভাবে বৈষ্ণব পদাবলি, চৈতন্যজীবনী কাব্য, বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ এবং অন্যান্য ভক্তিমূলক রচনার বিপুল সমাহার ঘটে। তাঁর জীবন ও প্রেমধর্ম বাংলা সাহিত্যের এক বিশাল অংশ জুড়ে স্থান করে নেয়।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কে সাধারণত বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের শেষ এবং শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে গণ্য করা হয়।
তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত কবি ছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'অন্নদামঙ্গল কাব্য', যা 'বিদ্যার সুন্দর' নামেও পরিচিত। এই কাব্যের জন্যই তিনি 'রায়গুণাকর' উপাধি লাভ করেন।
তাঁর গুরুত্ব:
- যুগসন্ধিক্ষণের কবি: ভারতচন্দ্র এমন এক সময়ে কাব্যচর্চা করেছেন যখন মধ্যযুগের প্রভাব শেষ হয়ে আধুনিক যুগের আগমনী বার্তা শোনা যাচ্ছিল। তাঁর রচনায় মধ্যযুগের ঐতিহ্য যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক রচনার কিছু বৈশিষ্ট্যও লক্ষ করা যায়।
- ভাষা ও ছন্দের মুন্সিয়ানা: তিনি ভাষার ব্যবহারে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তাঁর লেখায় শব্দের গাঁথুনি, ছন্দের মাধুর্য এবং রসবোধ ছিল অতুলনীয়। সংস্কৃত, ফারসি এবং দেশীয় শব্দের চমৎকার মিশেল ঘটিয়ে তিনি এক বিশেষ ভাষারীতি তৈরি করেছিলেন।
- আর্টের জন্য শিল্প: তাঁর রচনায় কেবল ধর্মীয় বা পৌরাণিক বিষয়বস্তু নয়, বরং কাব্যিক সৌন্দর্য এবং শিল্পের প্রতিও জোর দেওয়া হয়েছিল, যা মধ্যযুগের ধর্ম-কেন্দ্রিক সাহিত্যের থেকে একটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য ছিল।
তাঁর মৃত্যুর (১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ) পরেই বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাত হয়, বিশেষ করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রমুখের হাত ধরে। এই কারণে তাঁকে মধ্যযুগের সমাপ্তি রেখা হিসেবে ধরা হয়।
৩০. ‘তোহফা’ কাব্যটি কে রচনা করেন?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
'তোহফা' কাব্যটি রচনা করেন আলাওল।
এটি মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওলের একটি নীতি কাব্য। এই কাব্যে তিনি সুফি দর্শন, নীতি ও ধর্মীয় উপদেশমূলক কথা তুলে ধরেছেন।
৩১. “তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে।” অর্থ কী?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
উদ্ধৃত চরণটি মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘পদ্মাবতী’ এর রূপ-বর্ণন খণ্ড থেকে গৃহীত। ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ রচনা। হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে আলাওল গ্রন্থটি রচনা করেন।
৩২. ‘হপ্তপয়কর’ কার রচনা?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভার অন্যতম প্রধান সভাকবি ছিলেন মহাকবি আলাওল। তিনি আনুমানিক ১৬০৭ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থানার জোবরা গ্রামে মতান্তরে ফরিদপুরের ফতেহাবাদ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন। মাগন ঠাকুরের প্রেরণায় তিনি কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি হলো- ‘পদ্মাবতী’, ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’, ‘সিকান্দারনামা’, ‘হপ্তপয়কর’, ‘তোহফা বা তত্ত্বোপদেশ’, ‘রাগতালনামা’ এবং দৌলত কাজীর অসমাপ্ত ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’। তাঁর ‘হপ্তপয়কর’ কাব্যটি পারস্য কবি নিজামী গঞ্জভীর কাব্যের ভাবানুবাদ।
৩৩. মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
দাশু রায়মঙ্গলকাব্যের কবি নন।
ব্যাখ্যা:
- কানাহরি দত্ত, মানিক দত্ত এবং ভারতচন্দ্র—এই তিনজনেই মঙ্গলকাব্যের ধারার উল্লেখযোগ্য কবি। কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবিদের একজন, মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গলের কবি, এবং ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তাঁর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের জন্য বিখ্যাত।
- দাশু রায় (দাশরথি রায়) ছিলেন একজন বিখ্যাত পাঁচালী রচয়িতা এবং গায়ক। তিনি মধ্যযুগের শেষ ভাগ ও আধুনিক যুগের শুরুর দিকের কবি ছিলেন, এবং তাঁর রচনা মঙ্গলকাব্যের মতো হলেও, সেগুলো পাঁচালী গান হিসেবেই বেশি পরিচিত, সরাসরি মঙ্গলকাব্যের ধারার কবি হিসেবে নয়।
৩৪. দ্রৌপদী কে?
[ বিসিএস ৩৫তম ]
দ্রৌপদী হলেন হিন্দু মহাকাব্য মহাভারত-এর একজন কেন্দ্রীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
তাঁর পরিচয় সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
- পাঁচ পাণ্ডবের পত্নী: তিনি পাণ্ডবদের (যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব) পঞ্চপত্নী হিসেবে পরিচিত। এটি মহাভারতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক।
- দ্রুপদ কন্যা: তিনি পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের কন্যা ছিলেন। তাঁর আসল নাম ছিল কৃষ্ণা, তবে দ্রুপদরাজার কন্যা হওয়ায় তিনি 'দ্রৌপদী' নামে পরিচিত।
- যজ্ঞসেনী: তিনি যজ্ঞাগ্নি থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই তাঁকে 'যজ্ঞসেনী' নামেও ডাকা হয়।
- নিয়তি ও মর্যাদার প্রতীক: কুরুসভায় তাঁর বস্ত্রহরণের ঘটনা মহাভারত যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। চরম অপমানের মুখেও তিনি তাঁর মর্যাদা ও আত্মসম্মান ধরে রেখেছিলেন এবং নারীশক্তির এক প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
এক কথায়, দ্রৌপদী মহাভারতের এক দৃঢ়চেতা, বুদ্ধিমতী এবং মহৎ চরিত্রের নারী, যিনি পাণ্ডবদের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত এবং মহাভারতের কাহিনীতে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম।
৩৫. জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে কাকে কেন্দ্র করে?
[ বিসিএস ৪১তম ]
বাংলা জীবনী সাহিত্যের ধারা মূলত শ্রীচৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
ষোড়শ শতাব্দীতে শ্রীচৈতন্যের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনীগ্রন্থ রচিত হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের ‘চৈতন্য ভাগবত’, কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্য চরিতামৃত’ এবং লোচন দাস ঠাকুরের ‘চৈতন্য মঙ্গল’। এই গ্রন্থগুলো কেবল শ্রীচৈতন্যের জীবনকথা নয়, বরং তৎকালীন সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও মূল্যবান তথ্য প্রদান করে। তাই, বাংলা জীবনী সাহিত্যের প্রাথমিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি শ্রীচৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয়েছিল।
৩৬. মধ্যযুগের কবি নন কে?
[ বিসিএস ৩৪তম ]
মধ্যযুগের কবি নন কঃ জয়নন্দী।
- জয়নন্দী ছিলেন পাল যুগের একজন কবি এবং তিনি ছিলেন চর্যাপদ এর একজন পদকর্তা। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন।
- বড়ু চণ্ডীদাস, গোবিন্দ দাস এবং জ্ঞান দাস তিনজনই বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি। বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা এবং গোবিন্দ দাস ও জ্ঞান দাস ছিলেন বৈষ্ণব পদাবলীর গুরুত্বপূর্ণ কবি।
৩৭. বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বলতে-
[ বিসিএস ৩৪তম ]
বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ বলতে ১২০১-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে বোঝায়।
এই সময়কালে তুর্কি আক্রমণের ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণে সাহিত্যচর্চায় এক ধরনের স্থবিরতা দেখা গিয়েছিল। এই সময়ের খুব বেশি সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যায় না, তাই এটিকে "অন্ধকার যুগ" বলা হয়।
৩৮. কবিওয়ালা ও শায়েরের উদ্ভব ঘটে কখন?
[ বিসিএস ৩৩তম ]
কবিওয়ালা এবং শায়ের—এই দুই ধরনের লোককবির উদ্ভব হয়েছে মূলত মধ্যযুগে, তবে তারা জনপ্রিয়তা লাভ করে ঊনবিংশ শতাব্দীর (১৯শ শতক) দিকে এসে।
কবিওয়ালা:
- কবিগান বাংলার এক জনপ্রিয় লোকসংগীতধর্মী নাট্যরূপ, যা মূলত প্রতিযোগিতামূলক কবিতা পাঠ বা গান।
- কবিগানের সূচনা হয় ১৮শ শতকের শেষভাগে, তবে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায় ১৯শ শতকে।
- প্রধান কবি যিনি গান করেন তাকে বলা হতো কবিওয়ালা।
- বিখ্যাত কবিওয়ালাদের মধ্যে আছেন: রাম বসু, নিত্যানন্দ পাল, ভূতেরাম, ইত্যাদি।
শায়ের:
- “শায়ের” শব্দটি মূলত উর্দু ভাষার “শায়েরি” বা কবিতার সঙ্গে যুক্ত।
- বাংলায় শায়ের বা শায়েরি চর্চা শুরু হয় মুসলিম নবজাগরণের সময়, বিশেষত ১৮শ–১৯শ শতকে।
- উর্দু ও ফারসি কবিতার ছায়ায় বাংলার মুসলিম কবিরা শায়েরি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- শায়ের বলতে সাধারণত সেই কবিকে বোঝায়, যিনি ছোট, তীব্র অনুভূতিময় কবিতা বা গজল লেখেন।
৩৯. কবি গানের প্রথম কবি কে?
[ বিসিএস ৩৩তম ]
কবি গানের প্রথম কবি হলেন গোঁজলা গুঁই।
৪০. ‘শূন্যপুরাণ’ রচনা করেছেন-
[ বিসিএস ৩২তম ]
‘শূন্যপুরাণ’ হলো মধ্যযুগের একটি বাংলা সাহিত্যকর্ম। এটি মূলত ধর্মীয় গ্রন্থ, যা বৌদ্ধ ধর্ম থেকে উদ্ভূত ধর্মঠাকুরের পূজা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। এই গ্রন্থটির রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।
'শূন্যপুরাণ'-এ বৌদ্ধ ধর্মের শূন্যবাদ এবং হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেবদেবীর ধারণার মিশ্রণ দেখা যায়। এই গ্রন্থটি ধর্মঠাকুরের মহিমা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
৪১. ‘পরাগলী মহাভারত’ খ্যাত গ্রন্থের অনুবাদকের নাম কী?
[ বিসিএস ৩১তম ]
বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক ‘পরাগলী মহাভারত’ এর লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৮) সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি ‘পরাগলী মহাভারত’ নামে খ্যাত।
৪২. আলাওলের ‘তোহফা’ কোন ধরনের কাব্য?
[ বিসিএস ৩১তম ]
আলাওলের ‘তোহফা’ হলো একটি বিখ্যাত নীতিকাব্য।
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭ শতকে আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় এই কাব্যটি রচনা করেন। ‘তোহফা’ কাব্যে তিনি প্রধানত নৈতিক উপদেশ ও ধর্মীয় আদর্শের কথা তুলে ধরেছেন। এতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রশংসা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার নীতি ও আদর্শের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
৪৩. প্রাচীনতম বাঙালি মুসলমান কবি কে?
[ বিসিএস ২৯তম ]
প্রাচীনতম বাঙালি মুসলমান কবি ছিলেন শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর বিখ্যাত কাব্য “ইউসুফ জুলেখা”। এছাড়া আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি, সৈয়দ সুলতানও মধ্যযুগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন।
৪৪. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ এর রচয়িতা কে?
[ বিসিএস ২৯তম ]
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। তিনি ভগবতের কৃষ্ণলীলা সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য রচনা করেন। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি; কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। এ কাব্যের মোট ১৩টি খণ্ড আছে।
৪৫. কবি আলাওলের জন্মস্থান কোনটি?
[ বিসিএস ২৯তম ]
মহাকবি আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কবি আলাওলের জন্ম ফরিদপুরের ফতেহাবাদ পরগনায়। অধিকাংশ পণ্ডিত এ মত গ্রহণ করেছেন। ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে কবি আলাওল আনুমানিক ১৬০৭ সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার জোবরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
৪৬. মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবির নাম কি?
[ বিসিএস ২৮তম ]
বাংলা সাহিত্যের সময়কালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যযুগ বলতে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে বোঝায়। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠারো শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি। তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য (১৭৫২-৫৩) রচনা। তাকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বলা হয়।
৪৭. বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন?
[ বিসিএস ২৮তম ]
মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (১৩৭৪-১৪৬০) বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম। তিনি বাংলায় একটি পঙ্ক্তি না লিখেও বাঙালিদের কাছে একজন শ্রদ্ধেয় কবি। ‘মৈথিলী কোকিল’ ও ‘অভিনব জয়দেব’ নামে খ্যাত বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তিনি মিথিলার সীতাময়ী মহকুমার বিসফি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কবিখ্যাতি মূলত “ব্রজবুলি” ভাষায় রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়নমূলক পদ (পদাবলী) এর জন্য। তবে তিনি মৈথিলী, অবহটঠ ও সংস্কৃত ভাষায়ও পদ রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত পঙক্তি- “এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর।।”
৪৮. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কি ধরনের চরিত্র?
[ বিসিএস ২৮তম ]
মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য রচনা করেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্য গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্হটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। পুরো কাব্যটি আবর্তিত হয়েছে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমনিবেদন, দেহসম্ভোগ, দুঃখভোগ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে। আর বড়াই চরিত্রটিকে কবি সৃষ্টি করেছেন রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের সংবাদ আদান-প্রদানকারিণী বা দূতী হিসেবে।
৪৯. লোকসাহিত্য কাকে বলে?
[ বিসিএস ২৮তম ]
আবহমান কাল ধরে জনসাধারণের মুখে মুখে প্রচলিত গাঁথা, কাহিনী, গান, ছড়া, প্রবাদ ইত্যাদি নিয়ে যে সাহিত্যের সৃষ্টি তাকে লোকসাহিত্য বলে। এটি পল্লি বাংলার অমূল্য সম্পদ। বিশ শতকের গোড়ায় লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংকলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, দীনেশচন্দ্র সেন প্রমুখ। লোকসাহিত্য বিশ্লেষণে প্রথম এগিয়ে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এছাড়াও লোকসাহিত্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন চন্দ্রকুমার দে, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন প্রমুখ।
৫০. লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা কে?
[ বিসিএস ২৭তম ]
মুখে মুখে রচিত লোককাহিনি বা লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী। এর মূল ভিত্তি কল্পনা। স্বর্গ-মর্ত্য পাতাল পর্যন্ত গল্পের আখ্যানের সীমানা বিস্তৃত। দেব-দৈত্য, জীন-পরী, রাক্ষস- খোক্ষস, রাজা-প্রজা, মাধু-সন্নাসী, পীর ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লৌকিক কাহিনি রচিত হয়। দৌলত কাজীর উল্লেখযোগ্য গ্রন্হের নাম ‘সতীময়না ও লোর চন্দ্রানী।’ ১৬ শতকের কবি দৌলত কাজী কাব্যটি রচনা শুরু করলেও তাঁর মৃত্যুর পর শেষ করেন আলাওল।
৫১. ‘শাহ্নামা’ মৌলিক গ্রন্থটি কার?
[ বিসিএস ২৬তম ]
ইরানের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘শাহ্নামা’ গজনির পজনভি রাজবংশের অধিপতি সুলতান মাহমুদের রাজসভার কবি আবুল কাসিম মনসুর ফেরদৌসী রচনা করেন।
৫২. ‘রুপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ কার রচনা?
[ বিসিএস ২৬তম ]
চৈতন্য পরবর্তী বৈষ্ণব পদাবলীর কবি জ্ঞানদাস (ষোড়শ শতাব্দী) রচিত উক্ত পদটি কৃষ্ণানুরাগ বিষয়ক বিখ্যাত পদ। তার রচিত পদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য; মাধুর্য ও সূক্ষ্মতা একমাত্র চণ্ডীদাসের পদের সাথেই তুলনা হতে পারে। আক্ষেপানুরাগ, রূপানুরাগ ও মাথুরবিষয়ক পদ রচনায় তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
৫৩. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজসভার কবি?
[ বিসিএস ২৬তম ]
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠারো শতকের বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম কবি। তিনি নবদ্বীপাধিপতি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় ‘সভাকবি’ নিযুক্ত হন। কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি ‘অন্নদামঙ্গল’ (১৭৫২) কাব্যটি রচনা করেন। পরবর্তীতে এ রচনা তাকে মহারাজ কর্তৃক ‘রায়গুণাকর’ উপাধি লাভ করিয়ে দেয়। তিনিই মধ্যযুগের শেষ কবি।
৫৪. ‘মহুয়া’ পালাটির রচয়িতা-
[ বিসিএস ২৬তম ]
মহুয়া ময়মনসিংয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে সংগৃহীত একটি পালা গান। দ্বিজ কানাই প্রণীত এই পালা চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে তা ময়মনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
৫৫. চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
[ বিসিএস ২৩তম ]
মঙ্গলকাব্যগুলোর মধ্যে মনসামঙ্গল প্রাচীনতম। সাপের দেবী মনসার পূজা প্রচারের কাহিনিই এ কাব্যের বিষয়বস্তু। এ কাব্যের মূল চরিত্রগুলো হলো চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর ও মনসা দেবী। চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো চণ্ডী (পার্বতীর রূপভেদ) দেবীকে অবলম্বন করে রচিত মঙ্গলকাব্য। ধর্মমঙ্গল হলো পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, বর্ধমান, বাকুঁড়া, মেদিনীপুর ইত্যাদি অঞ্চলে ধর্মঠাকুর বা ধর্ম নামের যে দেবতাকে নিম্নশ্রেণী ও কোথাও কোথাও উচ্চশ্রেণীর হিন্দুরা পূজা করত, সেই কাহিনী অবলম্বনে রচিত কাব্য। এ কাব্যের মূল চরিত্রগুলো হলো-হরিশ্চন্দ্র, মদনা, লুইচন্দ্র, কর্ণসেন, গৌড়েশ্বর, লাউসেন।
৫৬. ‘ইউসুফ-জোলেখা’ প্রণয়কাব্য অনুবাদ করেছে-
[ বিসিএস ২৩তম ]
মধ্যযুগের বাংলা প্রণয়োপাখ্যানগুলোর অন্যতম ‘ইউসুফ-জোলেখা’র কাহিনি। ইউসুফ-জোলেখার যেসব পুঁথি পাওয়া গেছে তার মধ্যে কবি শাহ মুহম্মদ সগীর প্রণীত ‘ইউসুফ-জোলেখা’ অন্যতম।
৫৭. ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’-এ প্রার্থনাটি করেছে–
[ বিসিএস ২৩তম ]
অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (আনুমানিক ১৭০৭-১৭৬০ খ্রি.) রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী প্রভৃতি চরিত্র একান্ত বাস্তব হয়ে ফুটে উঠেছে। আলোচ্য উক্তিটির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অমর চরিত্র ঈশ্বরী পাটনী অন্নদা (চণ্ডী) দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।
৫৮. ‘পদাবলী’র প্রথম কবি কে?
[ বিসিএস ২২তম ]
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস (আনুমানিক ১৩৭০-১৪৩৩ খ্রি.)। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (১৩৮০-১৪৬০ খ্রি.; মতান্তরে ১৩৯০-১৪৯০খ্রি.) ছিলেন বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম। চৈতন্যপরবর্তী কবি জ্ঞানদাস ছিলেন আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীর কবি এবং চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
৫৯. দোভাষী পুঁথি বলতে কি বোঝায়?
[ বিসিএস ২২তম ]
'দোভাষী পুঁথি' শুধু দুটি ভাষায় রচিত পুঁথি নয় । বাংলা, হিন্দি, ফারসি, আরবি, তুর্কি ইত্যাদি ভাষার সংমিশ্রণে রচিত পুঁথিই হলো 'দোভাষী পুঁথি' ।
৬০. পদ বা পদাবলী বলতে কি বুঝায়?
[ বিসিএস ২২তম ]
পদ বা পদাবলী বলতে সাধারণত শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্যের লীলাকথা নিয়ে গান করার জন্য রচিত কমনীয় কবিতাকে বুঝায়। দ্বাদশ শতকে জয়দেব ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যে ‘পদাবলী’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি একাধারে সাহিত্য ও সাধানার অবলম্বন। উপনিষদে যে ব্রাহ্মকে রসস্বরূপ বলা হয়েছে এবং প্রিয়রূপে উপাসনা করতে উপদেশ দেয়া হয়েছে, সেই অনন্তরসের আধার শ্রীকৃষ্ণকে আস্বাদন করার ও করানোর জন্য পদাবলী রচিত হয়েছে। উল্লেখ্যযোগ্য পদাবলী সংকলনের মধ্যে সপ্তদশ শতকের শেষভাগে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী সংকলিত ‘ক্ষণদাগীতচিন্তামনি’ কে প্রাচীনতম বলে মনে করা হয়। পদাবলীর বৃহত্তম ও অধিক প্রচারিত সংকলন বৈষ্ণবদাস ওরফে গোকুলানন্দ সেনের 'পদকল্পগুরু' (৩১০১টি পদ)।
৬১. ‘ব্রজবুলি’ বলতে কী বোঝায়?
[ বিসিএস ২১তম ]
‘ব্রজবুলি’ হলো মৈথিলী ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত এক প্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। এই ভাষায় বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন অনেক কবি, যাদের মধ্যে গোবিন্দদাস, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস অন্যতম। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ব্রজবুলি ভাষায় ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে কাব্য রচনা করেন।
৬২. ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’- কে বলেছেন?
[ বিসিএস ২১তম ]
এই অমর উক্তিটি করেছেন মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচিয়তা চণ্ডীদাস। উল্লেখ্য, পদাবলীতে ভিন্ন ভিন্ন চণ্ডীদাসের নাম (চণ্ডীদাস দ্বিজ, চণ্ডীদাস দীন, চণ্ডীদাস আদি ইত্যাদি।) জানা যায়। তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চণ্ডীদাস তিনজন- বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস এবং দীন চণ্ডীদাস। যাদের মধ্যে বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা এবং দ্বিজ ও দীন পদাবলীর কবি।
৬৩. হিন্দি ‘পদুমাবৎ’-এর অবলম্বনে ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা-
[ বিসিএস ১৭তম ]
আলাওল ছিলেন আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি । তার শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী। এটি হিন্দি কবি মালিক মোহাম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচিত। আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি সম্পাদনা করেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মঙ্গল কাব্যধারার শেষ কবি। তাকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি এবং নাগরিক কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। তার রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের একটি বিখ্যাত উক্তি এটি। উক্তিটি করেছিল ঈশ্বরী পাটনী। ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে রায়গুণাকর উপাধি দেন।
বাউলসাধক লালন সাঁই রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান- ‘জাত গেলো জাত গেলো বলে’, ‘আমার ঘরের চাবি পরের হাতে’, ‘আর আমারে মারিসনে মা’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’, ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘মিলন হবে কতদিনে’।
৬৬. ‘আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন কে?
[ বিসিএস ১৪তম ]
আমীর হামজা কাব্যের রচয়িতা ফকীর গরীবুল্লাহ। তিনি কাজটি অসমাপ্ত রেখে যান। তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করেন সৈয়দ হামজা।
৬৭. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রাচীনতম মুসলমান কবি-
[ বিসিএস ১২তম ]
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রাচীনতম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তার বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জুলেখা’। তিনি পারস্য কবি আবদুর রহমান জামি রচিত ‘ইউসুফ ওয়া জুলায়খা’ থেকে কাহিনি গ্রহণ করেছেন।
৬৮. বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়-
[ বিসিএস ১২তম ]
মধ্যযুগে অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মুসলমান সাহিত্যিকদের রচিত ‘দোভাষী পুঁথি’ ছিল আরবি, ফারসি, হিন্দি, বাংলা ও ইংরেজি শব্দের মিশ্রণে রচিত এক ধরনের পুঁথি। এ সাহিত্য কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে ছাপা হয়ে দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে একে ‘বটতলার পুঁথি’ নামেও চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।
৬৯. কবি গান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত-
[ বিসিএস ১২তম ]
গোজলা গুঁই, হরু ঠাকুর, কেষ্টা মুচি, ভবানী বেনে, নিতাই বৈরাগী, ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি, রামপ্রসাদ রায় ছিলেন বিখ্যাত কবিওয়ালা।
৭০. মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য-
[ বিসিএস ১২তম ]
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রাচীনতম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি। ‘ইউসুফ-জুলেখা’ তার বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। তিনি পারস্য কবি আবদুর রহমান জামি রচিত ‘ইউসুফ ওয়া জুলায়েখা’ থেকে কাহিনি গ্রহণ করেছেন।
৭১. পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক-
[ বিসিএস ১১তম ]
উপরিউক্ত কবিদের মধ্যে শুধু সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্য রচনা করেন। তবে তিনি প্রথম আদি রচয়িতা নন। পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় লেখক ফকির গরীবুল্লাহ।
৭২. “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”- চরণটির রচয়িতা-
[ প্রা.বি.স.শি. (৩য় ধাপ) 03-06-2022 ]
“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”- চরণটির রচয়িতা মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি চণ্ডীদাস।
চণ্ডীদাস ছিলেন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাচীন কবি। তিনি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেছেন। তার কবিতা মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা এবং মানবপ্রেমের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এই চরণটি তার মানবতাবাদী দর্শনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
৭৩. খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে -
[ প্রা.বি.স.শি. 22-04-2022 ]
খনার বচন মূলত কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনের নানা দিকনির্দেশনা সম্বলিত ছড়া, যা যুগ যুগ ধরে গ্রাম বাংলার মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে আসছে।
৭৪. অসমাপ্ত 'অদ্ভুত সাগর' গ্রন্থটি কে সমাপ্ত করেন?
[ প্রা.বি.স.শি. 21-06-2019 ]
অসমাপ্ত 'অদ্ভুত সাগর' গ্রন্থটি লক্ষ্মণ সেনের পুত্র অনন্ত ভট্ট সমাপ্ত করেন।
বল্লাল সেন 'অদ্ভুত সাগর' গ্রন্থটির রচনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু তিনি এটি সমাপ্ত করতে পারেননি। পরবর্তীতে তার পুত্র লক্ষ্মণ সেনের আদেশে অনন্ত ভট্ট এই কাজটি সম্পন্ন করেন।
৭৫. সর্বপ্রথম 'বঙ্গ' দেশের নাম পাওয়া যায় যে গ্রন্থে-
[ ১৬তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]
৭৬. মধ্যে যুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ট নিদর্শন কোনটি?
[ ৯ম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]
৭৭. কেরোসিন শিখা বলে মাটির প্রদীপে, ভাই ব'লে ডাক যদি দেব গলা টিপে। হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা, কেরোসিন বলি উঠে, এসো মোর দাদা। পঙক্তিটি কোন কবির রচনা?
[ প্রা. প্র. শি. নি.০৭-১০-২০১২ ]
৭৮. কোন আমলে বাংলা গজল ও সুফি সাহিত্য সৃষ্টি হয়?
[ প্রা. প্র. শি. নি. ১৫-০৪-২০০৮ ]
৭৯. 'মৈয়মনসিংহ গীতিকা'-এর সংগ্রাহক কে ছিলেন?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৬-০৯-২০১৯ ]
৮০. 'মধুমালতী' কাব্যগ্রন্থের কবি হলেন-
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৬-০৯-২০১৯ ]
৮১. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৬-০৯-২০১৯ ]
৮২. মধ্যযুগের বাংলাভাষা ও সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন কী?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৬-০৯-২০১৯ ]
৮৩. 'সতী ময়না' ও 'লোরচন্দ্রানী' আখ্যানের রচয়িতা কে?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৬-০৯-২০১৯ ]
৮৪. কবি ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন -
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৭-০১-২০১১ ]
৮৬. `পদ্মাবতী` কাব্যের রচয়িতা কে?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৭-০১-২০১১ ]
৮৭. প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি কে?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০৯-১০-২০০৯ ]
৮৮. 'নসীরা নামা' কাব্য কার রচনা?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১৪-০৭-২০০৬ ]
৮৯. চৈতন্যদেবের জীবনভিত্তিক প্রথম কাহিনীকাব্য রচনা করেন-
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১৪-০৭-২০০৬ ]
৯০. পুঁথি সাহিত্য বলতে বোঝায়--
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১৪-০৭-২০০৬ ]
৯১. ব্রজবুলি কি?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১৪-০৭-২০০৬ ]
৯২. আলাওলের কাব্যের নাম-
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১৪-০৭-২০০৬ ]
৯৩. কোনটি মনসা মঙ্গলের চরিত্র?
[ সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ০১-০৫-২০০৪ ]
৯৪. লোকসাহিত্য কাকে বলে?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০১-০৬-২০১৮ ]
৯৫. “ইউসুফ জোলেখা” কাব্য লেখেন কে?
[ প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ০৯-১১-২০১৩ ]
৯৬. কোন দুজন আরাকান রাজসভার কবি?
[ প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ০৮-১১-২০১৩ ]
৯৭. কোন আমলে বাংলা গজল ও সুফী সাহিত্য সৃষ্টি হয়?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২৫-০২-২০১২ ]
৯৮. 'সোনাভান' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ১২-০১-২০১০ ]
৯৯. মধ্যযুগের শেষ কবি কে?
[ ১৮তম বে. প্রভাষক নিবন্ধন ]
১০০. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কোনটি?
[ ১৭তম বে. প্রভাষক নিবন্ধন ]
১০১. মৈমনসিংহ গীতিকার 'মহুয়া' পালার রচয়িতা-
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০৬-০৯-২০০৭ ]
১০২. চাঁদ সদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০৩-০৯-২০০৭ ]
১০৩. মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রাচীনতম কবি কে?
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০৯-১২-২০০৬ ]
১০৪. মঙ্গলকাব্য সমূহের বিষয়বস্তু মূলত -
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ০৯-১২-২০০৬ ]
১০৫. `মঙ্গলকাব্য` সমূহের বিষয়বস্তু মূলত-
[ প্রা. বি. স. শি. নি. ২২-০৮-২০০৫ ]
১০৬. 'ইউসুফ জোলেখা' কী জাতীয় রচনা?
[ ১৬তম বে. প্রভাষক নিবন্ধন ]
১০৭. ব্রজবুলিতে কোন কবি পদাবলি রচনা করেন?
[ ১৫তম বে. প্রভাষক নিবন্ধন ]