‘যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।’-এটি একটি জটিল বাক্য।
এই বাক্যে দুটি খণ্ডবাক্য রয়েছে:
১. যিনি বিদ্বান - এটি একটি অধীন খণ্ডবাক্য বা আশ্রিত বাক্য (subordinate clause)। কারণ এটি একা সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, এর অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য অন্য একটি বাক্যের উপর নির্ভর করতে হয়। এটি 'যিনি' সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে শুরু হয়েছে।
২. তিনি সর্বত্র আদরণীয় - এটি একটি প্রধান খণ্ডবাক্য বা স্বাধীন বাক্য (principal clause)। কারণ এটি একা সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন খণ্ডবাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বলে। এই বাক্যে 'যিনি' এবং 'তিনি' সাপেক্ষ সর্বনামের মাধ্যমে দুটি খণ্ডবাক্য যুক্ত হয়ে একটি জটিল বাক্য গঠন করেছে।
প্রশ্নঃ “উলুবনে মুক্তা ছড়ানো” প্রচলিত এমন শব্দগুলোকে কী বলে?
[ বিসিএস ৪২তম ]
“উলুবনে মুক্তা ছড়ানো” - এই ধরনের প্রচলিত শব্দগুলোকে প্রবাদ বা প্রবাদ বাক্য বলা হয়।
প্রবাদ বাক্যগুলো সমাজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থেকে তৈরি হয় এবং সংক্ষিপ্ত আকারে গভীর অর্থ প্রকাশ করে। "উলুবনে মুক্তা ছড়ানো" প্রবাদটি এমন স্থানে মূল্যবান জিনিস দেওয়া বা এমন ব্যক্তির কাছে মূল্যবান কথা বলা বোঝায় যেখানে তার কোনো কদর বা গুরুত্ব নেই।
অন্যান্য কাছাকাছি শব্দ:
- বাগধারা: কতগুলো শব্দ একত্রিত হয়ে যখন কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাগধারা বলে (যেমন: কান খাড়া করা)।
- বচন: বিখ্যাত ব্যক্তি বা মনীষীদের জ্ঞানগর্ভ উক্তিকে বচন বলা হয়।
- শব্দবন্ধ: দুই বা ততোধিক শব্দ একত্রিত হয়ে একটি অখণ্ড ভাব প্রকাশ করলে তাকে শব্দবন্ধ বলে (যেমন: নীল আকাশ)।
সুতরাং, "উলুবনে মুক্তা ছড়ানো" একটি প্রবাদ বাক্য।
প্রশ্নঃ ‘খনার বচন’ -এর মূলভাব কি?
[ বিসিএস ৩৯তম ]
‘খনার বচন’-এর মূলভাব হলো কৃষি ও আবহাওয়াভিত্তিক উপদেশ।
খনার বচন মূলত আবহাওয়া, কৃষি, জ্যোতির্বিদ্যা এবং দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কিত প্রবাদ ও ছড়ার আকারে উপদেশ। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষিকাজকে সহজ ও ফলপ্রসূ করার জন্য বাস্তব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া। খনার বচনে ভালো ফসল ফলানো, কখন বীজ বপন করতে হবে, কেমন বৃষ্টিপাত হবে, কোন ঋতুতে কী কাজ করা উচিত - এই সমস্ত বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও, খনার বচনে কিছু স্বাস্থ্য ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কিত উপদেশও পাওয়া যায়, তবে এর প্রধান ভিত্তি কৃষি ও আবহাওয়া।
প্রশ্নঃ ‘ঔ’ কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
[ বিসিএস ৩৭তম ]
'ঔ' হলো একটি যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বরধ্বনি (Diphthong)।
যৌগিক স্বরধ্বনি বলতে বোঝায় দুটি স্বরধ্বনি পাশাপাশি দ্রুত উচ্চারিত হয়ে একটি স্বরধ্বনির মতো শোনায়, যেখানে প্রথম স্বরধ্বনির উচ্চারণ শুরু হয়ে দ্বিতীয় স্বরধ্বনিতে গিয়ে শেষ হয়। 'ঔ' ধ্বনিটি মূলত 'ও' এবং 'উ' এই দুটি স্বরধ্বনির সম্মিলিত রূপ। অর্থাৎ, এর উচ্চারণ 'ওউ' এর মতো শোনায়।
প্রশ্নঃ বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলা বর্ণমালায় মোট আটটি অর্ধমাত্রার বর্ণ রয়েছে।
এগুলো হলো:
স্বরবর্ণ:
- ঋ (Rri)
ব্যঞ্জনবর্ণ:
- খ (Kho)
- গ (Go)
- ণ (No)
- থ (Tho)
- ধ (Dho)
- প (Po)
- শ (Sho)