প্রশ্নঃ অভিধানে ং, ঃ, ঁ - এই বর্ণগুলোর অবস্থান কোথায়?
[ ৪৭তম বিসিএস ]
Related MCQ
বাংলা ভাষায় যে স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে সেগুলো হলো:
- ই (যেমন: চিনি, দিন) - এক্ষেত্রে জিহ্বার অগ্রভাগ তালুর কাছাকাছি উঁচু অবস্থানে থাকে।
- ঈ (যেমন: ঈদ, দীর্ঘ) - 'ই'-এর মতোই তবে কিছুটা দীর্ঘায়িত উচ্চারণ হয় এবং জিহ্বা সামান্য বেশি উঁচু অবস্থানে থাকতে পারে।
- উ (যেমন: কুল, ভুল) - এক্ষেত্রে জিহ্বার পশ্চাৎভাগ তালুর দিকে উঁচু অবস্থানে থাকে এবং ঠোঁট গোলাকার হয়।
- ঊ (যেমন: ঊষা, ঊর্ধ্বে) - 'উ'-এর মতোই তবে কিছুটা দীর্ঘায়িত উচ্চারণ হয় এবং জিহ্বা সামান্য বেশি উঁচু অবস্থানে থাকতে পারে।
সুতরাং, ই, ঈ, উ, ঊ এই চারটি স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে।
প্রশ্নঃ বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ –
[ বিসিএস ৪৬তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো গঃ দেশি।
বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতি, অর্থাৎ অস্ট্রিক, দ্রাবিড় প্রভৃতি প্রাচীন জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত শব্দগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। এই শব্দগুলো সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসেনি এবং এদের মূল ভারতীয় আর্য ভাষার বাইরে খুঁজে পাওয়া যায়।
- তৎসম: যে সকল সংস্কৃত শব্দ অপরিবর্তিতভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
- তদ্ভব: যে সকল সংস্কৃত শব্দ সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃত ভাষার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
- বিদেশি: বিভিন্ন বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ, যেমন আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি।
সুতরাং, অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দগুলো বাংলা ভাষার দেশি শব্দ ভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্নঃ ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থের রচয়িতা –
[ বিসিএস ৪৬তম ]
‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন মুহাম্মদ আবদুল হাই।
তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। বাংলা ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব নিয়ে তার গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নঃ বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বর কয়টি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরধ্বনি দুটি: ঐ এবং ঔ।
এই দুটি স্বরধ্বনি দুটি মৌলিক স্বরধ্বনির সমন্বয়ে গঠিত।
- ঐ = অ + ই/ঈ
- ঔ = অ + উ/ঊ
যদিও কিছু ব্যাকরণবিদ [ই+ও] এবং [উ+আ] এই দুটিকেও যৌগিক স্বর হিসেবে বিবেচনা করেন, তবে সাধারণভাবে ঐ এবং ঔ এই দুটিকেই বাংলা বর্ণমালার যৌগিক স্বরধ্বনি হিসেবে ধরা হয়।
প্রশ্নঃ যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো ঘঃ শাখামৃগ।
যোগরূঢ় শব্দ: যে সকল শব্দ সমাসবদ্ধ হওয়ার পর তাদের আক্ষরিক অর্থ বাদ দিয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদেরকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।
- শাখামৃগ: 'শাখা' (ডাল) এবং 'মৃগ' (পশু) এই দুটি শব্দের যোগে গঠিত হয়েছে 'শাখামৃগ'। এর আক্ষরিক অর্থ 'ডালে বিচরণকারী পশু' হলেও, এটি একটি বিশেষ অর্থে বানর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- কলম: এটি একটি মৌলিক শব্দ, কোনো সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয়নি এবং এর আক্ষরিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মলম: এটিও একটি মৌলিক শব্দ এবং এর আক্ষরিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- বাঁশি: এটিও একটি মৌলিক শব্দ এবং এর আক্ষরিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং, একমাত্র শাখামৃগ শব্দটি সমাসবদ্ধ হয়ে একটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করছে, তাই এটি যোগরূঢ় শব্দ।
প্রশ্নঃ উপসর্গযুক্ত শব্দ –
[ বিসিএস ৪৬তম ]
"বিদ্রোহী" শব্দে "বিদ-" উপসর্গ যুক্ত হয়েছে, যা "প্রতি" বা "বিরুদ্ধ" অর্থ প্রকাশ করে।
প্রশ্নঃ বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো কঃ সরোবরে।
"সরোবরে" শব্দটিতে "এ" বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। এর মূল শব্দ হলো "সরোবর"। "এ" বিভক্তি অধিকরণে (স্থান, কাল, বিষয়) ব্যবহৃত হয়। এখানে "সরোবরে" অর্থ "সরোবরে"।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- চশমা: এটি একটি মৌলিক শব্দ, কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
- সরোজ: এটি একটি মৌলিক শব্দ, কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
- চম্পক: এটি একটি মৌলিক শব্দ, কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
প্রশ্নঃ কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো ঘঃ ঐকিক।
প্রত্যয়-সাধিত শব্দ: যে শব্দের শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
- ঐকিক: এই শব্দটি "এক" শব্দের সাথে "ইক" প্রত্যয় যুক্ত করে গঠিত হয়েছে। (এক + ইক = ঐকিক)। "ইক" একটি তদ্ধিত প্রত্যয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- ভাইবোন: এটি একটি দ্বন্দ্ব সমাস, যেখানে দুটি ভিন্ন শব্দ ("ভাই" ও "বোন") মিলিত হয়ে একটি নতুন অর্থ ("ভাই এবং বোন") প্রকাশ করছে। এখানে কোনো প্রত্যয় যুক্ত হয়নি।
- রাজপথ: এটি একটি তৎপুরুষ সমাস ("রাজার পথ")। এখানেও কোনো প্রত্যয় যুক্ত হয়নি।
- বকলম: এটি একটি উপসর্গযুক্ত শব্দ ("ব" (ফারসি উপসর্গ) + কলম)। এখানে কোনো প্রত্যয় যুক্ত হয়নি।
সুতরাং, ঐকিক শব্দটি একটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ।
প্রশ্নঃ ‘শিরশ্ছেদ’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ –
[ বিসিএস ৪৬তম ]
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। বিসর্গের পরে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ হয়।
প্রশ্নঃ ‘নীলকর’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
‘নীলকর’ উপপদ তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত।
এর ব্যাসবাক্য হলো: নীল (চাষ) করে যে।
উপপদ তৎপুরুষ সমাসে, কৃদন্ত পদের (এখানে 'করে', যা 'কৃ' ধাতু থেকে এসেছে) সাথে অন্য পদের (এখানে 'নীল') সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়। 'নীলকর' শব্দটি সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যে নীল চাষ করে।
প্রশ্নঃ ‘pedagogy’ শব্দের পরিভাষা –
[ বিসিএস ৪৬তম ]
‘Pedagogy’ শব্দের বহুল ব্যবহৃত বাংলা পরিভাষা হলো শিক্ষণবিদ্যা অথবা শিক্ষাতত্ত্ব।
এছাড়াও, ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষাবিজ্ঞান শব্দটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে, সবচেয়ে সাধারণ এবং উপযুক্ত পরিভাষা হলো শিক্ষণবিদ্যা।
প্রশ্নঃ ‘বঙ্কিম’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো ঘঃ ঋজু।
‘বঙ্কিম’ শব্দের অর্থ বাঁকা, কুটিল বা তেড়া। এর বিপরীত শব্দ হলো ঋজু, যার অর্থ সোজা, সরল বা অকুটিল।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর অর্থ:
- বন্ধুর: অসমান, উঁচুনিচু।
- অসম: যা সমান নয়।
- সুষম: যা সমানভাবে বিন্যস্ত বা সুগঠিত।
বাংলা একাডেমি ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে ২০০০ সালে কিছু নিয়ম সংশোধন করা হয় এবং ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিয়মগুলোর পরিমার্জন করা হয়।
প্রশ্নঃ কোন বানানটি শুদ্ধ?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
সঠিক বানানটি হলো খঃ মুলা এবং গঃ ধুলি।
বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, এই দুটি বানানই শুদ্ধ।
মুলা (মূল + আ) - এটি একটি ফল বা সবজির নাম। ধুলি (ধূলা + ই) - এর অর্থ হলো ক্ষুদ্র ধূলিকণা। "মুলো" এবং "ধূলো" এই বানান দুটি প্রমিত নয়।
প্রশ্নঃ ‘নদী’-র সমার্থক শব্দ কোনটি?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো গঃ তটিনী।
‘নদী’-র সমার্থক শব্দগুলো হলো: তটিনী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী, গাঙ, সরিৎ ইত্যাদি।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর অর্থ:
- সিন্ধু: একটি বৃহৎ নদী এবং সমুদ্র অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
- হিল্লোল: ঢেউ, তরঙ্গ।
- নির্ঝর: ঝর্ণা।
প্রশ্নঃ ‘ধ্বনি’ সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো কঃ ধ্বনি দৃশ্যমান।
ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, এটি শ্রবণযোগ্য। আমরা ধ্বনি শুনতে পাই, চোখে দেখতে পাই না।
অন্যান্য বাক্যগুলো সঠিক:
- খঃ মানুষের ভাষার মূলে আছে কতগুলো ধ্বনি: ভাষার মূল উপাদান হলো ধ্বনি। বিভিন্ন ধ্বনির সমন্বয়ে শব্দ এবং বাক্য তৈরি হয়।
- গঃ ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়: ধ্বনি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা যায় এবং কান দিয়ে শোনা যায়।
- ঘঃ অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্ধ্বনি: ভাষার অর্থপূর্ণ ধ্বনিগুলোই বাগ্ধ্বনি হিসেবে পরিচিত এবং এগুলোই বিভিন্ন ভাষার ভিত্তি তৈরি করে।
প্রশ্নঃ স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
স্বরান্ত অক্ষরকে মুক্তাক্ষর বলা হয়।
যেসব অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে অথবা যে অক্ষর স্বরধ্বনি দিয়ে শেষ হয়, তাকে মুক্তাক্ষর বলে। মুক্তাক্ষর উচ্চারণের সময় মুখ খোলা থাকে।
উদাহরণ:
- দা (দ্ + আ)
- মা (ম্ + আ)
- কে (ক্ + এ)
- যাই (য্ + আ + ই)
- অ (এখানে 'অ' নিজেই একটি স্বর এবং অক্ষর)
প্রশ্নঃ শুদ্ধ বানানের গুচ্ছ কোনটি?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক বানানের গুচ্ছ হলো কঃ শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন।
আসুন, প্রতিটি শব্দের সঠিক বানান এবং তার কারণ জেনে নেওয়া যাক:
- শিরশ্ছেদ: বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে, শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ। বিসর্গের পরে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ হয়।
- দরিদ্রতা: দরিদ্র শব্দের সাথে '-তা' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে দরিদ্রতা শব্দটি গঠিত হয়েছে। এখানে 'য' ফলা হবে না।
- সমীচীন: এই বানানটি সঠিক। 'সমীচিন' বা 'সমিচীন' নয়।
সুতরাং, বিকল্প ক-এর সবগুলো বানানই শুদ্ধ।
সঠিক উত্তরটি হলো গঃ গ্রিক।
আরবি ‘কলম’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘kalamos’ (κάλαμος) থেকে এসেছে, যার অর্থ নলখাগড়া বা লেখার নল। ‘কলমোস’ হলো সেই গ্রিক শব্দেরই একটি পরিবর্তিত রূপ।
প্রশ্নঃ ‘ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।’ মন্তব্যটি কোন ভাষা-চিন্তকের?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
উক্তিটি বিশিষ্ট ভাষাবিদ সুকুমার সেন-এর। তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থ ‘ভাষার ইতিবৃত্ত’-এ ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি লেখেন— “ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ভাষা কেবল চিন্তাকে প্রকাশ করে না, বরং ভাষার মাধ্যমেই চিন্তার বিকাশ ঘটে। অর্থাৎ, ভাষা মানুষকে মননশীল করে তোলে এবং মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে।
প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁও (Manuel da Assumpção)।
তিনি একজন পর্তুগিজ মিশনারি ছিলেন এবং ১৭৩৪ সালে "Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes" নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এই বইটির দ্বিতীয় অংশে বাংলা ব্যাকরণের একটি প্রাথমিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এটি সম্পূর্ণরূপে বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ ছিল না, তবে এটিই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ হিসেবে ধরা হয়।
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী ঘঃ এ হলো উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি।
স্বরধ্বনিগুলোকে জিহ্বার অবস্থান (উচ্চতা ও সম্মুখ-পশ্চাৎ) এবং ঠোঁটের আকৃতির (গোলাকার বা অগোলাকার) ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়।
- উচ্চ: জিহ্বা মুখের তালুর খুব কাছে থাকে (যেমন: ই, ঈ, উ, ঊ)।
- উচ্চমধ্য: জিহ্বা উচ্চ এবং মধ্য অবস্থানের মাঝামাঝি থাকে (যেমন: এ, ও)।
- নিম্নমধ্য: জিহ্বা মধ্য এবং নিম্ন অবস্থানের মাঝামাঝি থাকে (যেমন: অ্যা)।
- নিম্ন: জিহ্বা মুখের তলদেশের কাছে থাকে (যেমন: আ)।
অন্যদিকে, জিহ্বার সামনের অংশের অবস্থানের ভিত্তিতে স্বরধ্বনিগুলোকে সম্মুখ, কেন্দ্রীয় ও পশ্চাৎ এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- সম্মুখ: জিহ্বার সামনের অংশ প্রসারিত থাকে (যেমন: ই, ঈ, এ, অ্যা)।
- কেন্দ্রীয়: জিহ্বার মাঝের অংশ সামান্য উঁচু হয় (যেমন: অ)।
- পশ্চাৎ: জিহ্বার পেছনের অংশ প্রসারিত থাকে (যেমন: উ, ঊ, ও, ঔ)।
অতএব, 'এ' ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখের সামনের দিকে এবং উচ্চ ও মধ্যস্থানের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। ঠোঁট সামান্য প্রসারিত থাকে (অগোলাকার)। তাই 'এ' হলো উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি।
অন্যান্য বিকল্পগুলো:
- কঃ অ - কেন্দ্রীয় নিম্নমধ্য স্বরধ্বনি (ঠোঁট সামান্য গোলাকার বা প্রসারিত হতে পারে)।
- খঃ আ - সম্মুখ নিম্ন স্বরধ্বনি (ঠোঁট প্রসারিত)।
- গঃ ও - পশ্চাৎ উচ্চমধ্য স্বরধ্বনি (ঠোঁট গোলাকার)।
প্রশ্নঃ ‘তাম্বুলিক’ শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো গঃ তামসিক।
‘তাম্বুলিক’ শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো: পান-ব্যবসায়ী, পর্ণকার এবং বারুই (যারা পান চাষ ও বিক্রি করেন)।
অন্যদিকে, ‘তামসিক’ শব্দের অর্থ হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন, তমোগুণযুক্ত, আলস্যপূর্ণ বা জড়তাময়। সুতরাং, এটি ‘তাম্বুলিক’ শব্দের সমার্থক নয়।
প্রশ্নঃ ‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’ – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো গঃ অনন্বয়ী অব্যয়।
যদিও এই বাক্যে "ভারি" শব্দটিকে অনুসর্গ অব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে (যেহেতু এটি "সুন্দর" বিশেষণের পরে বসে তার তীব্রতা বোঝাচ্ছে), প্রধানত এই বাক্যের সুর এবং বিস্ময় ভাব প্রকাশ করছে "তো" শব্দটি।
অনন্বয়ী অব্যয় হলো সেইসব অব্যয় পদ যা বাক্যের অন্য কোনো পদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ভাব (যেমন - বিস্ময়, আনন্দ, দুঃখ, স্বীকৃতি, অস্বীকৃতি ইত্যাদি) প্রকাশ করে। এই বাক্যে "তো" বিস্ময় বা সামান্য জোর দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
পদান্বয়ী অব্যয় (যা অনুসর্গ নামেও পরিচিত) বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে এবং কারক বিভক্তি বা অন্যান্য সম্পর্ক বোঝাতে সাহায্য করে (যেমন: দ্বারা, হতে, থেকে)। "ভারি" এখানে সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।
অনুকার অব্যয় কোনো কিছুর ধ্বনি বা অনুকরণ প্রকাশ করে (যেমন: ঝমঝম, কিচিরমিচির)।
অতএব, প্রধানত "তো" শব্দটির কারণে এই বাক্যে অনন্বয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে বলা যায়।
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো ঘঃ মিতালি।
যৌগিক শব্দ হলো সেইসব শব্দ যা দুই বা ততোধিক স্বাধীন অর্থবোধক শব্দ যুক্ত হয়ে তৈরি হয় এবং নতুন অর্থ প্রকাশ করে।
আসুন, বিকল্প শব্দগুলোর বিশ্লেষণ করা যাক:
- প্রবীণ: এটি একটি মৌলিক শব্দ। এর কোনো অংশ স্বাধীন অর্থ বহন করে না।
- জেঠামি: এটি একটি কৃদন্ত শব্দ। "জেঠা" শব্দের সাথে "-আমি" প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ যৌগিক নয়, এগুলো সাধিত শব্দ।
- সরোজ: এটিও একটি মৌলিক শব্দ। "সর" (পুকুর) এবং "জ" (জন্ম) আলাদাভাবে অর্থ বহন করলেও, "সরোজ" একটি নির্দিষ্ট অর্থ (পদ্ম) প্রকাশ করে এবং এর গঠন রূঢ়ি শব্দের মতো।
- মিতালি: "মিতালি" শব্দটি "মিতা" (বন্ধু) এবং "আলি" (বন্ধুদের সমাহার বা ভাব) এই দুটি স্বাধীন অর্থবোধক শব্দ যোগে গঠিত হয়েছে এবং এটি বন্ধুত্ব বা সখ্যতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি একটি যৌগিক শব্দ।
‘সুনামীর তান্ডবে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে।’- বাক্যটিতে তিনটি ভুল আছে।
সঠিক বাক্যটি হবে: ‘সুনামির তাণ্ডবে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছে।’
ভুলগুলো হলো:
১. সুনামীর: সঠিক বানান হবে সুনামির (হ্রস্ব ই-কার)। ২. তান্ডবে: সঠিক বানান হবে তাণ্ডবে (ণ-এর জায়গায় ণ)। ৩. সর্বশান্ত: সঠিক শব্দ হবে সর্বস্বান্ত (তালব্য শ-এর জায়গায় দন্ত্য স এবং ত-এর সাথে ব ফলা)।
প্রশ্নঃ কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে কী বলে?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে উপপদ বলে।
ব্যাকরণে, কৃদন্ত শব্দের আগে যে পদ বসে এবং কৃদন্তের সাথে কারকবাচক সম্পর্ক স্থাপন করে, তাকে উপপদ বলে। এই ধরনের সমাসকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
উদাহরণ:
- জলচর (জলে চরে যে) - এখানে "জল" হলো উপপদ এবং "চর" কৃদন্ত।
- পকেটমার (পকেট মারে যে) - এখানে "পকেট" হলো উপপদ এবং "মার" কৃদন্ত।
- মাছিমারা (মাছি মারে যে) - এখানে "মাছি" হলো উপপদ এবং "মারা" কৃদন্ত।
প্রশ্নঃ ‘তোমার নাম কী?’-এখানে ‘কী’ কোন প্রকারের?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
‘তোমার নাম কী?’-এখানে ‘কী’ হলো সর্বনাম।
এই বাক্যে ‘কী’ শব্দটি একটি প্রশ্নবোধক সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নাম জানতে চাইছে।
বাংলা ব্যাকরণে, যে পদ বিশেষ্য পদের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। ‘কী’, ‘কে’, ‘কোন’, ‘কার’ ইত্যাদি প্রশ্নবোধক সর্বনামের উদাহরণ।
প্রশ্নঃ ‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক নয় নিচের কোনটি?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
সঠিক উত্তরটি হলো ঘঃ গরল।
‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দগুলো হলো কুটিল, জটিল ও বক্র। এই শব্দগুলো সরলতার বিপরীত - অর্থাৎ ঘোরানো, পেঁচানো বা সোজা নয় এমন অর্থ বোঝায়।
অন্যদিকে, ‘গরল’ শব্দের অর্থ হলো বিষ। তাই এটি ‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক নয়।
প্রশ্নঃ ‘Rank’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
[ বিসিএস ৪৫তম ]
‘Rank’ শব্দের বাংলা পরিভাষা হলো পদমর্যাদা, শ্রেণী, স্তর, স্থান অথবা ক্রম।
কোন প্রেক্ষাপটে শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে এর সঠিক বাংলা পরিভাষা নির্বাচন করতে হয়।
- সামরিক বা সরকারি ক্ষেত্রে: পদমর্যাদা (যেমন: তার উচ্চ পদমর্যাদা রয়েছে)।
- কোনো তালিকা বা প্রতিযোগিতায় অবস্থান বোঝাতে: স্থান বা ক্রম (যেমন: পরীক্ষায় তার প্রথম স্থান অধিকার)।
- গুণমান বা মানের ক্ষেত্রে: শ্রেণী বা স্তর (যেমন: এই পণ্যটি উচ্চ শ্রেণীর)।
সুতরাং, ব্যবহারের ক্ষেত্র অনুযায়ী এই পরিভাষাগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
সঠিক উত্তর হলো গঃ পিচাশ।
এখানে বর্ণ-বিপর্যয়ের নিয়ম অনুসারে "পিশাচ" শব্দটি "পিচাশ"-এ পরিবর্তিত হয়েছে। বর্ণ-বিপর্যয় হলো যখন শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনবর্ণ নিজেদের স্থান পরিবর্তন করে।
অন্যান্য উদাহরণগুলো বর্ণ-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত নয়:
- কঃ রতন: এটি একটি স্বাভাবিক শব্দ।
- খঃ কবাট: এটিও একটি স্বাভাবিক শব্দ।
- ঘঃ মুলুক: এটিও একটি স্বাভাবিক শব্দ।
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি ‘অগ্নি’র সমার্থক শব্দ নয়?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো খঃ আবীর।
'আবীর' শব্দের অর্থ হলো রং, বিশেষত হোলি উৎসবে ব্যবহৃত রঙিন পাউডার।
অন্যদিকে, 'বহ্নি', 'বায়ুসখা' এবং 'বৈশ্বানর' - এই তিনটি শব্দই 'অগ্নি'র সমার্থক শব্দ। 'বায়ুসখা' অর্থ বায়ু যার বন্ধু, অর্থাৎ বায়ু ছাড়া আগুন জ্বলে না। 'বৈশ্বানর' হলো অগ্নির অপর নাম।
প্রশ্নঃ ‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা’ – এই উক্তিটি নিচের কোন পারিভাষিক অলংকার দ্বারা শোভিত?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো কঃ অপহৃতি।
এখানে নদীর স্বাভাবিক জলধারাকে অস্বীকার করে অশ্রুধারা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পারিভাষিক অলংকারে যখন কোনো সত্য বিষয়কে অস্বীকার করে মিথ্যা কিছু স্থাপন করা হয়, তখন তাকে অপহৃতি অলংকার বলে। এই উক্তিটিতে জলের স্বাভাবিক ধর্মকে অস্বীকার করে শোক বা দুঃখের গভীরতা বোঝাতে অশ্রুজলের রূপক ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যান্য অলংকারগুলো এখানে প্রযোজ্য নয়:
- খঃ যমক: একই রকম বা সামান্য ভিন্ন ধ্বনিযুক্ত শব্দের একাধিকবার ব্যবহার।
- গঃ অর্থোন্নতি: কোনো শব্দের প্রচলিত অর্থের চেয়ে উৎকৃষ্ট বা গভীরতর অর্থ দ্যোতনা।
- ঘঃ অভিযোজন: কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বা পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান।
প্রশ্নঃ ‘যথারীতি’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘যথারীতি’ অব্যয়ীভাব সমাস এর দৃষ্টান্ত।
যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয় এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধানভাবে বোঝায়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। ‘যথারীতি’ শব্দটিতে ‘যথা’ একটি অব্যয় এবং এর অর্থ ‘রীতিকে অতিক্রম না করে’ বা ‘নিয়ম অনুসারে’। এখানে ‘যথা’ অব্যয়ের অর্থই প্রধান।
এর ব্যাসবাক্য হবে: রীতিকে অতিক্রম না করে অথবা রীতি অনুসারে।
প্রশ্নঃ ‘মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি’ – কথাটি সংকোচন করলে হবে –
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো গঃ মৃন্ময়।
'মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি' - এই কথাটিকে এক শব্দে প্রকাশ করলে হয় মৃন্ময়।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর অর্থ:
- কঃ তন্ময়: কোনো বিষয়ে গভীরভাবে মগ্ন বা লীন।
- খঃ মন্ময়: মন থেকে উৎপন্ন বা আমার মন সংক্রান্ত।
- ঘঃ চিন্ময়: জ্ঞানময় বা চৈতন্যস্বরূপ।
প্রশ্নঃ ‘অর্ধচন্দ্র’ কথাটির অর্থ –
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘অর্ধচন্দ্র’ কথাটির অর্থ খঃ গলাধাক্কা দেওয়া।
বাংলায় ‘অর্ধচন্দ্র দেওয়া’ একটি বাগধারা, যার অর্থ হলো ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া বা বিদায় করা।
অন্যান্য বিকল্পগুলোর অর্থ:
- কঃ অমাবস্যা: চাঁদের কৃষ্ণপক্ষ বা যখন চাঁদ দেখা যায় না।
- গঃ কাছে টানা: আকর্ষণ করা বা নিকটে আনা।
- ঘঃ কাস্তে: ধান বা ঘাস কাটার জন্য ব্যবহৃত বাঁকানো লোহার ফলাযুক্ত হাতলবিশিষ্ট কৃষি সরঞ্জাম।
প্রশ্নঃ ‘হরতাল’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘হরতাল’ শব্দটি গঃ গুজরাটি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
প্রশ্নঃ কোনটি ‘জিগীষা’র ?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো খঃ জয় করিবার ইচ্ছা।
‘জিগীষা’ শব্দের অর্থ হলো জয় করার প্রবল ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা।
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো গঃ ধূলি।
ধূলি একটি তৎসম শব্দ, যা সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে অপরিবর্তিতভাবে বাংলা ভাষায় এসেছে।
অন্যান্য শব্দগুলোর উৎস:
- কঃ পছন্দ - এটি ফারসি শব্দ।
- খঃ হিসাব - এটি আরবি শব্দ।
- ঘঃ শৌখিন - এটিও ফারসি শব্দ।
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি বাংলা ধাতুর দৃষ্টান্ত?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
বাংলা ধাতুগুলো হচ্ছে: আঁক্, কহ্, কাট্, কর্, কাঁদ্, কিন্, খা, গড়্, ঘষ্, দেখ্, ধর্, পড়, বাঁধ্, বুঝ্, রাখ্, শুন্, থাক্, হাস্।
সংস্কৃত ধাতু হলো: অঙ্ক্, কথ্, কৃৎ, কৃ, ক্রন্দ্, ক্রী, খাদ্, গঠ্, ঘৃষ্, দৃশ্, ধৃ, পঠ্, বন্ধ্, বুধ্, র্ক্ষ, শ্রু, স্থা, হস্।
প্রশ্নঃ শুদ্ধ বানান কোনটি?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
শুদ্ধ বানান হলো গঃ মুমূর্ষু।
প্রশ্নঃ ‘ইতরবিশেষ’ বলতে বােঝায়—
[ বিসিএস ৪৪তম ]
‘ইতরবিশেষ’ বলতে বােঝায় গঃ পার্থক্য।
‘ইতর’ শব্দের অর্থ হলো অন্য, ভিন্ন বা সাধারণ এবং ‘বিশেষ’ মানে পার্থক্য বা বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, ‘ইতরবিশেষ’ অর্থ হলো ভেদাভেদ, পার্থক্য বা কমবেশি।
প্রশ্নঃ নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির দৃষ্টান্ত কোনটি?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো কঃ গো + অক্ষ = গবাক্ষ।
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি সেই স্বরসন্ধিকে বোঝায় যা ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করে না, বরং বিশেষভাবে গঠিত হয়। 'গবাক্ষ' শব্দটি 'গো' + 'অক্ষ' - এই দুটি স্বরের সন্ধিতে গঠিত হয়েছে, কিন্তু এখানে স্বরসন্ধির সাধারণ নিয়ম (যেমন অ + অ = আ, ও + অ = অব) খাটে না। এটি ব্যতিক্রমভাবে গঠিত হয়েছে।
অন্যান্য উদাহরণগুলো স্বরসন্ধির সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত:
- খঃ পৌ + অক = পাবক (ও + অ = আব) - এটি অয়াদি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
- গঃ বি + অঙ্গ = বঙ্গ (ই + অ = য) - এখানে ব্যঞ্জনসন্ধি হয়েছে।
- ঘঃ যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র (ই + ই = ঈ) - এটি দীর্ঘ স্বরসন্ধির উদাহরণ।
প্রশ্নঃ নিচের কোন বাক্যটি প্রয়ােগগত দিক থেকে শুদ্ধ?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
অন্যান্য অপশন গুলোর শুদ্ধরূপ হলো: (ক) আমি কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই, (খ) আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত এবং (ঘ) সারাজীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।
প্রশ্নঃ নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো ঘঃ ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী।
যৌগিক বাক্য হলো সেই বাক্য, যেখানে দুই বা তার বেশি সরল বাক্য কোনো সংযোজক অব্যয় (যেমন: এবং, ও, কিন্তু, অথবা, তথাপি, বরং, কিংবা) দ্বারা যুক্ত থাকে এবং প্রতিটি সরল বাক্য স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
অপশন (ঘ)-তে "ছেলেটি চঞ্চল" একটি সরল বাক্য এবং "তবে মেধাবী" আরেকটি সরল বাক্য, যা "তবে" সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে। উভয় বাক্যই স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম।
অন্যান্য বাক্যগুলো সরল বা জটিল বাক্য:
-
কঃ দোষ স্বীকার করলে তােমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না: এটি একটি জটিল বাক্য। এখানে "দোষ স্বীকার করলে" একটি অধীন খণ্ডবাক্য এবং "তােমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না" প্রধান খণ্ডবাক্য।
-
খঃ তিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন: এটি একটি সরল বাক্য। এখানে একটি কর্তা ("তিনি") এবং দুটি অসমাপিকা ক্রিয়া ("বেড়াতে এসে", "করলেন") রয়েছে।
-
গঃ মহৎ মানুষ বলে সবাই তাঁকে সম্মান করেন: এটি একটি জটিল বাক্য। এখানে "মহৎ মানুষ বলে" একটি অধীন খণ্ডবাক্য এবং "সবাই তাঁকে সম্মান করেন" প্রধান খণ্ডবাক্য।
প্রশ্নঃ কোনটি নামধাতুর উদাহরণ?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল গঃ বেতা।
নামধাতু হলো সেইসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল, যা বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে '-আ' প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয় এবং ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে।
এখানে বিকল্পগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
- কঃ চল্: এটি একটি মৌলিক ধাতু, যা কোনো নামশব্দ থেকে গঠিত হয়নি।
- খঃ কর্: এটিও একটি মৌলিক ধাতু।
- গঃ বেতা: 'বেত' একটি বিশেষ্য (লাঠি)। 'বেত'-এর সাথে '-আ' প্রত্যয় যোগ করে 'বেতা' (মারধর করা অর্থে) নামধাতু গঠিত হয়েছে।
- ঘঃ পড়ু: এটিও একটি মৌলিক ধাতু।
সুতরাং, 'বেতা' শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ ('বেত') থেকে '-আ' প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয়েছে এবং এটি মারধর করা অর্থে ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করছে। তাই এটি নামধাতুর উদাহরণ।
প্রশ্নঃ ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগধারায় ‘গড্ডল’ শব্দের অর্থ কী?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগধারায় ‘গড্ডল’ শব্দের অর্থ খঃ ভেড়া।
‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগধারাটির অর্থ হলো অন্ধ অনুকরণ বা স্রোতের গা ভাসিয়ে চলা। ভেড়া যেমন পালের অন্য ভেড়ার অনুসরণ করে চলে, তেমনই কোনো বিচার-বিবেচনা না করে অন্যের দেখানো পথে চলাকেই গড্ডলিকা প্রবাহ বলা হয়।
সঠিক উত্তর হলো গঃ তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা:
অস্তিবাচক রূপ তৈরি করতে "না" বা বিপরীত অর্থের শব্দ ব্যবহার করা হয়।
প্রদত্ত বাক্য:
"তাতে সমাজজীবন চলে না।"
এখানে "চলে না" অংশের বিপরীত অর্থ "অচল হয়ে পড়ে"।
অন্য বিকল্পগুলোর বিশ্লেষণ:
- কঃ "তাতে সমাজজীবন চলে" (এটি আসল বাক্যের ইতিবাচক রূপ)
- খঃ "তাতে না সমাজজীবন চলে" (এটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়)
- ঘঃ "তাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে" (এটি ইতিবাচক রূপ, অস্তিবাচক নয়)
প্রশ্নঃ রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন।
তাঁর মতে, "যাকে স্বত্ত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত নিয়মে) সম্প্রদান কারক বলে।" তবে, তিনি মনে করতেন কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সম্পন্ন করা যায়। "বাংলাভাষা পরিচয়" প্রবন্ধে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
প্রশ্নঃ কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?
[ বিসিএস ৪৩তম ]
সঠিক উত্তর হল হিত্তিক ও তুখারিক।
কেন্তুম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি শাখা। এই শাখার দুটি উপশাখা এশিয়ার অন্তর্গত:
- হিত্তিক: এই ভাষাটি খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) প্রচলিত ছিল।
- তুখারিক: এই ভাষাটি খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দে তারিম অববাহিকায় (বর্তমান চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ) প্রচলিত ছিল।
উল্লেখ্য, কেন্তুম শাখার অন্যান্য উপশাখাগুলো মূলত ইউরোপে বিকাশ লাভ করেছিল।