আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

প্রশ্নঃ স্টিফেন হকিং একজন-

[ বিসিএস ৩৮তম ]

ক. দার্শনিক
খ. পদার্থবিদ
গ. রসায়নবিদ
ঘ. কবি
উত্তরঃ পদার্থবিদ
ব্যাখ্যাঃ

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং (Stephen William Hawking) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, কসমোলজিস্ট (মহাবিশ্বতত্ত্ববিদ) এবং লেখক। তাকে বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন: তিনি ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি অক্সফোর্ড, যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা দুজনেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তার বিজ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল।

শিক্ষা জীবন: হকিং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি হলে কসমোলজি নিয়ে পিএইচডি করার জন্য ভর্তি হন।

অসুস্থতা ও প্রতিকূলতা: ১৯৬৩ সালে, মাত্র ২১ বছর বয়সে, হকিং অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (ALS) বা মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হন। এটি একটি বিরল প্রগতিশীল স্নায়বিক রোগ, যা ধীরে ধীরে শরীরের পেশী নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকরা তাকে কয়েক বছর বাঁচবেন বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এই মারাত্মক রোগ নিয়েও ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বেঁচে ছিলেন এবং তার গবেষণা চালিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে, তিনি তার কণ্ঠস্বরও হারান এবং একটি বিশেষ ভয়েস সিন্থেসাইজার যন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন, যা তিনি তার গালের পেশীর নড়াচড়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন।

বৈজ্ঞানিক অবদান: শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্টিফেন হকিং পদার্থবিজ্ঞানে অসংখ্য যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হলো:

  • কৃষ্ণগহ্বর (Black Holes): তিনি রজার পেনরোজের সাথে মিলে প্রমাণ করেন যে, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব অনুসারে মহাবিশ্বের শুরুতে একটি সিঙ্গুলারিটি (singularity) থাকা আবশ্যক, যা বিগ ব্যাং তত্ত্বকে সমর্থন করে।
  • হকিং বিকিরণ (Hawking Radiation): এটি তার সবচেয়ে বিখ্যাত তত্ত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, কৃষ্ণগহ্বর পুরোপুরি কালো নয়, বরং এটি কণা এবং বিকিরণ নির্গত করে। এই বিকিরণ 'হকিং বিকিরণ' নামে পরিচিত। এই ধারণাটি আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
  • মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও গঠন: তিনি মহাবিশ্বের উৎপত্তি, ব্ল্যাক হোল এবং কোয়ান্টাম মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন।

জনপ্রিয় বইসমূহ: স্টিফেন হকিং বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করার জন্য বেশ কিছু জনপ্রিয় বিজ্ঞান বই লিখেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • A Brief History of Time (কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস): এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
  • The Universe in a Nutshell
  • The Grand Design

সম্মান ও পুরস্কার: তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান প্রফেসর অফ ম্যাথমেটিক্স পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যা একসময় স্যার আইজ্যাক নিউটনের পদ ছিল। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন, যার মধ্যে রয়েল সোসাইটির ফেলোশিপ এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু: স্টিফেন হকিং ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ৭৬ বছর বয়সে ক্যামব্রিজে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করে। তার জীবন ও কাজ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে দেখিয়েছে যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো বাধা হতে পারে না।