১. ঢাকা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত একটি স্থানের সাথে দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°। ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে-
[ বিসিএস ৪৬তম ]
ঢাকা থেকে পূর্বদিকে ৪৫° দ্রাঘিমার পার্থক্য থাকলে, সময়ের পার্থক্য হবে: \[ \frac{45°}{15°} = 3 \text{ ঘণ্টা} \] অর্থাৎ, ঐ স্থানের সময় ঢাকার তুলনায় ৩ ঘণ্টা এগিয়ে থাকবে। যদি ঢাকার মধ্যাহ্ন সময় ১২:০০ টা হয়, তাহলে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় হবে: \[ 12:00 + 3:00 = 15:00 \text{ (বা ৩:০০ PM)} \] সুতরাং, ঐ স্থানের স্থানীয় সময় ৩:০০ PM হবে।
২. নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ কত?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ হল ৯০°।
পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষীয় তলের সাথে উত্তর মেরু যে কোণ উৎপন্ন করে, তাই উত্তর মেরুর অক্ষাংশ এবং এর মান ৯০° উত্তর।
৩. মকরক্রান্তি রেখা কোনটি?
[ বিসিএস ৪৪তম ]
সঠিক উত্তর হলো কঃ ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ।
মকরক্রান্তি রেখা হলো পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত একটি কল্পিত রেখা। এটি বিষুবরেখার ২৩°৩০′ দক্ষিণে অবস্থিত। এই রেখাটি সেই অক্ষাংশকে নির্দেশ করে যেখানে ২১শে জুন তারিখে সূর্য সরাসরি মাথার উপর কিরণ দেয়।
অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল:
- ২৩°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ (খ): এটি কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত এবং উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
- ২৩°৩০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ (গ) এবং ২৩°৩০′ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ (ঘ): এগুলো দ্রাঘিমাংশ রেখা এবং কোনো নির্দিষ্ট তাপীয় অঞ্চল নির্দেশ করে না। দ্রাঘিমাংশ সময় নির্ধারণের সাথে সম্পর্কিত।
সুতরাং, মকরক্রান্তি রেখা হলো ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ।
একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না এমন নিয়ামকটি হলো: দ্রাঘিমারেখা
জলবায়ু নির্ধারণকারী নিয়ামকসমূহ:
- অক্ষরেখা (Latitude): এটি সূর্যরশ্মির পতন কোণকে প্রভাবিত করে, যা একটি অঞ্চলের তাপমাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলগুলো উষ্ণ এবং মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি অঞ্চলগুলো শীতল হয়।
- উচ্চতা (Altitude/Elevation): উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা হ্রাস পায়। পর্বত শিখরগুলো সংলগ্ন নিম্নভূমির চেয়ে শীতল হয়।
- সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents): উষ্ণ বা শীতল সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে। উষ্ণ স্রোত উপকূলীয় অঞ্চলকে উষ্ণ রাখে, আর শীতল স্রোত শীতল করে।
- দূরত্ব (Distance from Sea/Continentality): সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা চরমভাবাপন্ন হয় না (অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে খুব বেশি গরম বা শীতকালে খুব বেশি ঠান্ডা হয় না), কারণ সমুদ্রের জল ধীরে ধীরে গরম হয় এবং ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়। মহাদেশের অভ্যন্তরভাগে তাপমাত্রা চরমভাবাপন্ন হয়।
- বায়ুপ্রবাহ (Prevailing Winds): বায়ুপ্রবাহের দিক এবং উৎপত্তি স্থল একটি অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতকে প্রভাবিত করে।
- পাহাড় ও পর্বতের অবস্থান (Relief/Mountain Barriers): পর্বতমালা বায়ুর গতিপথ পরিবর্তন করে এবং একপাশে বৃষ্টিপাত ঘটায় (Windward side) এবং অন্যপাশে শুষ্ক পরিবেশ সৃষ্টি করে (Leeward side)।
দ্রাঘিমারেখা (Longitude) পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম অবস্থান নির্দেশ করে এবং এটি মূলত সময় অঞ্চল নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। এটি সরাসরি কোনো অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারণে ভূমিকা রাখে না। জলবায়ু মূলত অক্ষরেখা, উচ্চতা, সমুদ্রের নৈকট্য, বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রস্রোত দ্বারা প্রভাবিত হয়।
৫. গ্রিনিচ মানমন্দির অবস্থিত-
[ বিসিএস ৩৩তম ]
গ্রিনিচ মানমন্দির হলো একটি ঐতিহাসিক জ্যোতির্বিদ্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, যা ইংল্যান্ডের লন্ডনে অবস্থিত। এটি ১৬৭৫ সালে রাজা দ্বিতীয় চার্লস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নৌচালকদের জন্য নেভিগেশন ও সঠিক সময় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা।
গ্রিনিচ মানমন্দিরের গুরুত্ব
- মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian): গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে যে দ্রাঘিমা রেখাটি চলে গেছে, তাকেই পৃথিবীর মূল মধ্যরেখা বা মূল দ্রাঘিমা রেখা (0° দ্রাঘিমা) হিসেবে ধরা হয়। এই রেখাটি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধকে ভাগ করেছে।
- গ্রিনিচ মান সময় (GMT): এই মানমন্দির থেকে গ্রিনিচ মান সময় বা জিএমটি (GMT - Greenwich Mean Time) নির্ধারণ করা হয়, যা একসময় আন্তর্জাতিক সময় মান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি সমন্বিত বিশ্বজনীন সময় বা ইউটিসি (UTC - Coordinated Universal Time) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে, তবে জিএমটি এখনও বিভিন্ন দেশে এবং কাজে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে এই মানমন্দিরটি একটি জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হয় এবং এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
৬. ভূপৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগস্থলকে বলে–
[ বিসিএস ৩২তম | ৮ম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) | সর. মা. বি. সহ. শি. নি. ১৪-০৭-২০০৬ ]
ছায়াবৃত্ত (Circle of Illumination) হলো পৃথিবীর পৃষ্ঠের একটি কাল্পনিক সীমারেখা, যা পৃথিবীকে আলোকিত ও অন্ধকার—এই দুটি অংশে ভাগ করে।
ছায়াবৃত্তের কার্যকারিতা
পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর আবর্তনের কারণে এই সীমারেখাটি ক্রমাগত পূর্ব থেকে পশ্চিমে সরে যেতে থাকে। এর ফলে পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে দিন ও রাতের সৃষ্টি হয়। যে অংশটি সূর্যের দিকে থাকে সেখানে দিন এবং যে অংশটি সূর্যের বিপরীত দিকে থাকে সেখানে রাত হয়। এই সীমারেখাটি দিন ও রাতের মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে কাজ করে।
৭. সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম –
[ বিসিএস ৩১তম ]
যে সূক্ষ্ম যন্ত্রের সাহায্যে সঠিকভাবে কাল নিরূপণ করে সাগরবক্ষে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা যায় তাকে ক্রনোমিটার বলে। কম্পাস হচ্ছে দিক নির্দেশক যন্ত্র। সিসমোগ্রাফ ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্র। সেক্সট্যান্ট হলো কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করার যন্ত্র।
৮. কোথায় দিন রাত্রি সর্বত্র সমান?
[ বিসিএস ২৮তম ]
২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিন রাত্রি সমান থাকে। ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের দিকে এবং উত্তর গোলার্ধে সূর্যের বিপরীত দিকে থাকায় উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোট এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় হয়। জুন মাসে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের বিপরীত দিকে থাকায় উত্তর গোলার্ধে বড় দিন ছোট রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ছোট দিন বড় রাত পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু নিরক্ষরেখায় অবস্থিত অঞ্চলসমূহ সূর্য থেকে সবসময় সমদূরত্বে থাকায় এই সকল অঞ্চলসমূহে দিন রাত্রি সবর্দা সমান হয়।
৯. গ্রিনিচ মান সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য কত ঘণ্টা?
[ বিসিএস ২৬তম ]
বাংলাদেশের অবস্থান ৯০° দ্রাঘিমা রেখায় এবং গ্রিনিচের অবস্থান ০° দ্রাঘিমায় হওয়ায় উভয়ের মধ্যে ৯০° অর্থাৎ (৪×৯০) ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান গ্রিনিচ মান মন্দিরের পূর্ব দিকে হওয়ায় বাংলাদেশের স্থানীয় সময়= গ্রিনিচ মান +৬ ঘণ্টা।