১. দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার কত শতাংশ ছিল?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪১.৮ শতাংশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২. কতজন নারী ২০২৩ সালে বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন?
[ বিসিএস ৪৬তম ]
২০২৩ সালে পাঁচজন নারী বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন।
নারী জাগরণ ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পাঁচ বিশিষ্ট নারীকে এই পদক প্রদান করা হয়।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
[ বিসিএস ৩৮তম ]
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে, বিশেষ করে বাঙালি বসতি স্থাপনকারী এবং স্থানীয় আদিবাসী জুম্ম জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভূমি, সংস্কৃতি, পরিচয় এবং স্বায়ত্তশাসনের অধিকার নিয়ে জটিলতা ও সংঘাত চলছিল। এই সংঘাত এক পর্যায়ে সশস্ত্র রূপ ধারণ করে, যেখানে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি' (PCJSS) এবং এর সশস্ত্র শাখা 'শান্তিবাহিনী' স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতময় পরিস্থিতি অঞ্চলটির উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা ছিল।
চুক্তি স্বাক্ষর: দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা, মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- সরকারের পক্ষে: তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ (বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে)
- জনসংহতি সমিতির পক্ষে: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)
চুক্তির প্রধান বিষয়বস্তু/ধারা: শান্তিচুক্তিতে চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত করে মোট ৭২টি ধারা রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষত্ব বজায় রেখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এর প্রধান বিষয়বস্তুগুলো ছিল:
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন:
- পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল স্থানীয় পরিষদগুলোর সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হবে, যার চেয়ারম্যান হবেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একজন।
- এই পরিষদ ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে ক্ষমতা পাবে।
২. জেলা পরিষদগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি:
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে আরও ক্ষমতা ও কার্যাবলী প্রদান করা হবে।
- এই পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান হবেন সংশ্লিষ্ট জেলার আদিবাসী প্রতিনিধি।
৩. জুম্ম শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন:
- ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের যথাযথ পুনর্বাসন করা হবে।
- একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধানের জন্য।
৪. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন:
- পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সংক্রান্ত সকল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বাধীন ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠিত হবে।
- আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
৫. শান্তিবাহিনী বিলুপ্তি ও অস্ত্র সমর্পণ:
- শান্তিবাহিনী তাদের সকল অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং সাধারণ জীবনে ফিরে আসবে।
- সরকার তাদের সাধারণ ক্ষমা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে।
৬. সেনাবাহিনী প্রত্যাহার:
- পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পগুলো ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হবে। তবে, স্থায়ী ক্যান্টনমেন্টগুলো বহাল থাকবে।
৭. আদিবাসী পরিচিতি ও সংস্কৃতি সুরক্ষা:
- পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচিতি, ঐতিহ্য ও প্রথাগত অধিকারের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
চুক্তির গুরুত্ব ও প্রভাব:
- সংঘাতের অবসান: এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় দুই দশকের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে এবং শান্তি ফিরে আসে।
- জাতিগত স্বীকৃতি: এটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর স্বতন্ত্র পরিচিতি ও অধিকারের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি বড় ধাপ ছিল।
- উন্নয়নের পথ উন্মোচন: শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং পর্যটন বিকাশের পথ সুগম হয়।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: এটি বাংলাদেশের একটি সফল শান্তিচুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়।
বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ: চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু ধীরগতি ও চ্যালেঞ্জ দেখা গেছে। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যকারিতা, সেনাবাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার, এবং আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদগুলোর কার্যকর ক্ষমতায়ন নিয়ে এখনও কিছু বিতর্ক ও অসন্তোষ বিদ্যমান। তবে, চুক্তির মাধ্যমে যে শান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সর্বোপরি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক, যা সংঘাত নিরসন ও জাতিগত সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।
৪. ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ৩৬তম ]
বাংলাদেশে একাধিক ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা মৎস্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধান কিছু প্রতিষ্ঠান হলো:
-
মৎস্য প্রশিক্ষণ একাডেমি, সাভার, ঢাকা: এটি মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনস্থ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জনবলের জ্ঞান ও দক্ষতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এর প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মৌলিক সম্প্রসারণ, আধুনিক মৎস্যচাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
-
মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, চাঁদপুর: এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত। এটি মৎস্য অধিদপ্তর পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
-
বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমি (BMFA), চট্টগ্রাম: এটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার অন্তর্গত ইছানগর এলাকায় অবস্থিত। এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পেশাদার স্নাতক (অনার্স) কোর্স প্রদান করে, যা সামুদ্রিক মৎস্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়ক।
-
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: যদিও এটি মূলত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ময়মনসিংহে সদর দপ্তর), এটি তার বিভিন্ন কেন্দ্র (যেমন: ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, খুলনা, কক্সবাজার, বাগেরহাট) ও উপকেন্দ্রের মাধ্যমে মৎস্য চাষি, গবেষক এবং সম্প্রসারণ কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও আয়োজন করে।
সুতরাং, বাংলাদেশে 'ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট' নামে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান না থাকলেও, মৎস্য খাতের প্রশিক্ষণের জন্য উল্লিখিত একাধিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান।
৫. ‘আলোকিত মানুষ চাই’ এটি কোন প্রতিষ্ঠানের শ্লোগান?
[ বিসিএস ৩২তম ]
‘আলোকিত মানুষ চাই’ হলো বাংলাদেশের সুপরিচিত বেসরকারি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি জনপ্রিয় স্লোগান।
এই স্লোগানটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল দর্শনকে ধারণ করে, যার লক্ষ্য হলো বই পড়াকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি আলোকিত সমাজ গঠন করা।
৬. বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কোন মহিলা টেস্টটিউব শিশুর মা হন?
[ বিসিএস ২৭তম ]
৩০ মে ২০০১ ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল হসপিটালে জন্মলাভ করে হীরা, মণি ও মুক্তা নামে ৩টি টেস্ট টিউব শিশু। এদের বাবা-মা ছিলেন আবু হানিফ ও ফিরোজা বেগম এবং এ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. পারভীন ফাতেমা।
৭. বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি কমিশন গঠিত হয় কোন সনে?
[ বিসিএস ২৭তম ]
বাংলাদেশের একমাত্র পরমাণু শক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ১৯৭৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
৮. বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা কবে চালু হয়?
[ বিসিএস ২৬তম ]
বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড (বিটিটিবি) যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (BTCL) । দেশব্যাপী সর্বাধুনিক টেলি সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯০ সালের ৪ জানুয়ারি সর্বপ্রথম ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা চালু করে।
৯. বাংলাদেশে রঙিন টিভি সম্প্রচার কোন সনে শুরু হয়?
[ বিসিএস ২৬তম ]
১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর তারিখে রামপুরা টিভি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রথম রঙিন টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ২৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়।
১৯৯৭ সালের ২-৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম মাইক্রোক্রেডিট সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগে প্রবর্তিত ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সর্বপ্রথম এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
১১. নিচের কোন পর্যটক সোনারগাঁও এসেছিলেন?
[ বিসিএস ২৫তম ]
জগদ্বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৭৮ খ্রি) ছিলেন মরক্কোর অধিবাসী। ইবনে বতুতা সোনারগাঁওয়ে আসেন ১৩৪৬ সালে। মধ্যযুগের আর যেসব বিখ্যাত পরিব্রাজক সোনারগাঁও পরিভ্রমণ করেন, তারা হচ্ছেন চীনের মা হুয়ান ১৪০৬ সালে এবং হৌ হিয়েন ১৪১৫ সালে। অন্যদিকে ফা-হিয়েন (আনুমানিক ৩৫৮-৪৩৫ খ্রি) ভারত পরিভ্রমণকারী চীনদেশীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পণ্ডিত। মার্কো পোলো (১২৫৪-১৩২৪ খ্রি.) মধ্যযুগের ইউরোপীয় ভূ-পর্যটকদের একজন। তার বর্ণনাকৃত ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকেই ইউরোপবাসী চীন, তিব্বত, ভারত, সিংহল, ব্রহ্মদেশ ও শ্যামদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের জীবনযাপন সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে। আর হিউয়েন সাং (৬০২-৬৬৪ খ্রি.) হলেন ভারত পরিভ্রমণকারী প্রাচীন চীন দেশীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পণ্ডিত।
১২. সদ্য ঘোষিত তিতাস উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ২৫তম ]
তিতাস দেশের ৪৭০তম উপজেলা। এটি কুমিল্লা জেলার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫টি। সর্বশেষ উপজেলা মাদারীপুরের ডাসার, সুনামগঞ্জের মধ্য নগর এবং কক্সবাজারের ঈদগাওঁ।
১৩. বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর-
[ বিসিএস ২৪তম | রে. বে. প্রা. স. শি. নি. ০৭-১২-২০১১ ]
বর্তমানে দেশের স্থল বন্দরের সংখ্যা ২৫টি। সর্বশেষ ঘোষিত ২৫তম স্থলবন্দর হলো মুজিবনগর স্থল ও কাস্টমস স্টেশন। অবস্থান মাঝপাড়া মুজিবনগর, মেহেরপুর ঘোষিত হয়- ২৭ মে, ২০২১।
১৪. বাংলাদেশের বিখ্যাত মণিপুরী নাচ কোন অঞ্চলের?
[ বিসিএস ২২তম | প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ১৩-০৪-২০১৩ ]
মণিপুরী নাচ সিলেটে বসবাসরত মণিপুরী উপজাতিদের একটি নৃত্য, যা সারা দেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
১৫. সোনালী আঁশের দেশ কোনটি?
[ বিসিএস ২২তম ]
বাংলাদেশ সোনালী আঁশের দেশ হিসেবে পরিচিত। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
ঐতিহ্য: পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় পাট ছিল বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস।
প্রাকৃতিক পরিবেশ: বাংলাদেশের উর্বর মাটি এবং অনুকূল জলবায়ু পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পলি মাটি এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত পাট উৎপাদনের জন্য আদর্শ।
উৎপাদন: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ। যদিও বর্তমানে এর উৎপাদন কিছুটা কমেছে, তবুও পাট এখনও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: পাট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাট শিল্প অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করেছে।
১৬. বাংলাদেশের জেলা সংখ্যা কত?
[ বিসিএস ২০তম ]
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৬৪টি জেলা রয়েছে। এই জেলাগুলি ৮টি বিভাগের অধীনে অবস্থিত। বিভাগগুলো হলো:
1. ঢাকা বিভাগ 2. চট্টগ্রাম বিভাগ 3. রাজশাহী বিভাগ 4. খুলনা বিভাগ 5. বরিশাল বিভাগ 6. সিলেট বিভাগ 7. রংপুর বিভাগ 8. ময়মনসিংহ বিভাগ
বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ঢাকা বিভাগ:
ঢাকা গাজীপুর নারায়ণগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ মানিকগঞ্জ টাঙ্গাইল কিশোরগঞ্জ ফরিদপুর রাজবাড়ী শরীয়তপুর মাদারীপুর গোপালগঞ্জ
চট্টগ্রাম বিভাগ:
চট্টগ্রাম কক্সবাজার রাঙ্গামাটি বান্দরবান খাগড়াছড়ি কুমিল্লা নোয়াখালী ফেনী লক্ষ্মীপুর চাঁদপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রাজশাহী বিভাগ:
রাজশাহী বগুড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ নওগাঁ নাটোর পাবনা সিরাজগঞ্জ জয়পুরহাট
খুলনা বিভাগ:
খুলনা যশোর সাতক্ষীরা বাগেরহাট কুষ্টিয়া চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর নড়াইল মাগুরা ঝিনাইদহ
বরিশাল বিভাগ:
বরিশাল পটুয়াখালী ভোলা পিরোজপুর বরগুনা ঝালকাঠি
সিলেট বিভাগ:
সিলেট মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ সুনামগঞ্জ
রংপুর বিভাগ:
রংপুর দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় নীলফামারী লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম গাইবান্ধা
ময়মনসিংহ বিভাগ:
ময়মনসিংহ জামালপুর শেরপুর * নেত্রকোণা
এছাড়াও, আরও দুইটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাবনা রয়েছে, যেগুলো হলো ফরিদপুর বিভাগ এবং কুমিল্লা বিভাগ। তবে, এখনও পর্যন্ত এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।
১৭. জনাব এফ আর খান বাংলাদেশের জন্য গৌরব। তিনি কি ছিলেন?
[ বিসিএস ১৮তম ]
ফজলুর রহমান খান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি আমেরিকার শিকাগো শহরে অবস্থিত বিখ্যাত সিয়ার্স টাওয়ারের স্থপতি। তিনি তার স্বতন্ত্র নির্মাণ কৌশলের স্বীকৃতিস্বরূপ লাভ করেছিলেন নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা। যেমন- ‘কন্সট্রাকশন্স ম্যান অব দ্য ইয়ার’ (১৯৭২), ‘আগা খান পদক’ (১৯৮৩) ইত্যাদি।
১৮. বাংলাদেশের গবাদিপশুতে প্রথম ভ্রূণ বদল করা হয়-
[ বিসিএস ১৭তম ]
বাংলাদেশে প্রথম গবাদিপশুতে ভ্রূণ বদল করা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই কাজটি করেছিলেন।
১৯. ১৮৭৪ সালে ঢাকা শহরে পানি সরবরাহ করার জন্য প্রথম পানি সরবরাহ কার্যক্রম স্থাপিত হয়-
[ বিসিএস ১৭তম ]
১৮৭৪ সালে চাঁদনীঘাটে পরিচালিত পানি সরবরাহ প্রকল্পের অর্থ যোগান দেয় ঢাকার নবাব পরিবার। সর্বশেষ ২০০২ সালে পানি সরবরাহ কার্যক্রম স্থাপিত হয় ঢাকার সায়েদাবাদে। যেটা দেশের সর্ববৃহৎ পানি সরবরাহ কার্যক্রম। এখানে প্রতিদিন ২২.৫ কোটি গ্যালন পানি শোধন করা যায়।
২০. অভ্যন্তরীন কন্টেইনার ডিপো কোথায় অবস্থিত?
[ বিসিএস ১৬তম ]
বাংলাদেশের প্রথম ও বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (Inland Container Depot) চট্টগ্রামে অবস্থিত। ১৯৮৭ সালে ঢাকার কমলাপুরে দ্বিতীয় ICD প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে হিসেবে চট্টগ্রাম ও ঢাকা দুটি উত্তরই সঠিক।
২১. বাসস একটি–
[ বিসিএস ১১তম ]
‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’ (বাসস) বাংলাদেশের প্রধান সংবাদ সংস্থা। এটি ঢাকার পল্টনে অবস্থিত।
২২. হরিপুরে তেল আবিষ্কৃত হয়–
[ বিসিএস ১১তম ]
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সিলেট শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলার হরিপুরে বাংলাদেশের প্রধান তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত। ১৯৮৬ সালের ২২ ডিসেম্বর হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে খননকৃত সপ্তম কূপে তেল পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, হরিপুরে বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে।
২৩. বিকেএসপি হলো–
[ বিসিএস ১১তম ]
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ঢাকা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে সাভারের জিরানীতে অবস্থিত। ১৯৮৬ সালের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয় ও নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ রাখা হয়।
২৪. মা ও মনি হলো–
[ বিসিএস ১১তম ]
মা ও মনি গোল্ডকাপ (১৪ বছরের নিচে) টুর্নামেন্ট ১৯৯২ সালের ২৬ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। জেলাভিত্তিক এ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনালে খেলে টাঙ্গাইল জেলা দল ২-১ গোলে ফেনী জেলা দলকে হারায়।