আমাদের স্কুল

সেটিং

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের দেখানোর অপশনঃ
শুধুমাত্র উত্তর 2 অপশন
3 অপশন 4 অপশন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অপশন প্রদর্শনঃ
রো আকারে কলাম আকারে
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরঃ
লুকান বোল্ড করুন
দেখান দেখান ও বোল্ড করুন
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ব্যাখ্যাঃ
দেখান লুকান নিচে লুকান
থিম নির্বাচন করুনঃ
ফন্ট সাইজঃ
15

 বিশালাকৃতির ঢেউ
 সামুদ্রিক ঢেউ
 জলোচ্ছ্বাস
 পোতাশ্রয়ের ঢেউ
ব্যাখ্যাঃ

জাপানিজ শব্দ ‘সুনামি’ এর অর্থ হল পোতাশ্রয়ের ঢেউ (港の津波 - minato no tsunami)।

'সু' (津) শব্দের অর্থ পোতাশ্রয় বা বন্দর এবং 'নামি' (波) শব্দের অর্থ ঢেউ। ভূমিকম্প বা অন্য কোনো কারণে সমুদ্রের তলদেশে আকস্মিক আলোড়ন সৃষ্টি হলে বিশাল আকারের ঢেউ উপকূলে আঘাত হানে, যা পোতাশ্রয় বা বন্দরের কাছাকাছি বেশি দেখা যায়। এই কারণেই জাপানি জেলেরা এই ঢেউগুলোকে "পোতাশ্রয়ের ঢেউ" নামে অভিহিত করে।

 মরুকরণ
 বন্যা
 সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
 ভূমিকম্প
ব্যাখ্যাঃ

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয় ভূমিকম্প


ব্যাখ্যা:

  • মরুকরণ, বন্যা, এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—সবগুলোই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পরিণতি
  • মরুকরণ ঘটে যখন দীর্ঘমেয়াদী তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের অভাবের ফলে জমি শুষ্ক হয়ে যায়।
  • বন্যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পরিবর্তিত আবহাওয়া এবং অতিবৃষ্টি থেকে সৃষ্টি হতে পারে।
  • সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঘটে যখন বরফ গলতে থাকে এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে, ভূমিকম্প ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতার কারণে হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়

 নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
 নদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
 নদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা
 বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা
ব্যাখ্যাঃ

বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থার মধ্যে নদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয়।


ব্যাখ্যা:

  • নদী খনন বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
  • নদী শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর।
  • বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক।

অন্যদিকে, নদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সরাসরি বন্যা নিয়ন্ত্রণের মূল ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয়

 ভূমিকম্প
 ভূমিধস
 সুনামি
 খরা
ব্যাখ্যাঃ

কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ হলো খরা।

ব্যাখ্যা:


  • খরা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা একটি বড় কৃষি-আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়
  • ভূমিকম্প, ভূমিধস, এবং সুনামি মূলত ভূতাত্ত্বিক (Geological) বিপর্যয়, যা সরাসরি কৃষি-আবহাওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়।

খরার ফলে কী ক্ষতি হয়?

  • ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
  • মাটির আর্দ্রতা হ্রাস পায়।
  • খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
 ১৫ নভেম্বর ২০০৭
 ১৬ নভেম্বর ২০০৭
 ১৭ নভেম্বর ২০০৭
 ১৮ নভেম্বর ২০০৭
ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশে সিডর আঘাত হানে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর। এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

 ফোকাস
 এপিসেন্টার
 ফ্রাকচার
 ফল্ট
ব্যাখ্যাঃ

ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে এপিসেন্টার (Epicenter) বলে।

ভূগর্ভের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, তাকে হাইপোসেন্টার (Hypocenter) বা ফোকাস বলা হয়। এপিসেন্টার হলো সেই ফোকাসের ঠিক উল্লম্বভাবে ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত বিন্দু, যেখানে ভূমিকম্পের প্রভাব প্রথম অনুভূত হয় এবং সাধারণত সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে।

 বন্যা
 ভূমিকম্প
 ঘূর্ণিঝড়
 খরা
ব্যাখ্যাঃ

সঠিক উত্তর হল খঃ ভূমিকম্প

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং খরা - এই তিনটি দুর্যোগেরই কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও আবহাওয়াবিদদের জ্ঞান ব্যবহার করে বন্যার তীব্রতা ও সময়কাল, ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও আঘাত হানার সময় এবং খরার পূর্বাভাস বেশaccurately দেওয়া যায়।

অন্যদিকে, ভূমিকম্প কখন, কোথায় এবং কতটা তীব্রতায় আঘাত হানবে, তা বর্তমানে কার্যকরভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারলেও, নির্দিষ্ট সময় এবং তীব্রতার পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি এখনও উন্নত হয়নি। ভূমিকম্পের কারণ ও প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং ভূগর্ভের অভ্যন্তরে দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় এর পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

 পূর্বপ্রস্তুতি
 সাড়াদান
 প্রশমন
 পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যাঃ

দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

 ব্ৰহ্মপুত্র নদী
 পদ্মা নদী
 কর্ণফুলি নদী
 মেঘনা নদী
ব্যাখ্যাঃ

ডাউকি ফন্ট বরাবর একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদ তার গতিপথ পরিবর্তন করে।

১৭৮৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের পূর্ব দিক থেকে সরে গিয়ে যমুনা নদীর প্রধান প্রবাহের সাথে মিলিত হয়। এই ভূমিকম্পটি ডাউকি ফল্ট অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল এবং এর প্রভাবে নদ-নদীর গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

 দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
 পশ্চিমাঞ্চল
 উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
 উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যাঃ

সঠিক উত্তর হল ঘঃ উত্তর-পূর্বাঞ্চল

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায় এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। এই বন্যা খুব দ্রুত আসে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

 ভূমিকম্প
 ভূমিধস
 টর্নেডাে
 খরা
ব্যাখ্যাঃ

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কঃ ভূমিকম্প-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও বাংলাদেশ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং অতীতেও বেশ কিছু মাঝারি ও বড় ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, দেশটির অভ্যন্তরে এবং পার্শ্ববর্তী টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালনের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল অবকাঠামো এবং ভূমিকম্প প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, ভূমিধস মূলত পাহাড়ি অঞ্চলে (যেমন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) একটি নিয়মিত দুর্যোগ, তবে এর ঝুঁকি সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। টর্নেডো বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে মাঝে মাঝে আঘাত হানে, কিন্তু এর প্রবণতা সাম্প্রতিককালে খুব বেশি বেড়েছে এমনটা বলা যায় না। খরা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পরিচিত সমস্যা, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর তীব্রতা বাড়তে পারে, তবে ভূমিকম্পের ঝুঁকির তুলনায় এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ বলা কঠিন।

সুতরাং, উপলব্ধ তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভূমিকম্প-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হয়।

 বন্যা
 খরা
 ঘূর্ণিঝড়
 ভূমিধস
ব্যাখ্যাঃ

সঠিক উত্তর হল বন্যা

‘Hydro-meteorological’ দুর্যোগ বলতে সেই দুর্যোগগুলোকে বোঝায় যা জলবায়ু এবং আবহাওয়াজনিত কারণে ঘটে থাকে। এর মধ্যে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, শৈত্যপ্রবাহ, দাবদাহ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আপনার বিকল্পগুলোর মধ্যে, বন্যা সরাসরি পানি এবং আবহাওয়ার সাথে সম্পর্কিত একটি দুর্যোগ।

অন্যান্য বিকল্পগুলো:

  • ভূমিকম্প: এটি ভূ-তাত্ত্বিক কারণে ঘটে।
  • ভূমিধস: যদিও বৃষ্টিপাত এর একটি কারণ হতে পারে, তবে এটি মূলত ভূমির গঠন এবং অন্যান্য ভূ-তাত্ত্বিক বিষয়ের উপর নির্ভরশীল।
  • টর্নেডো: এটি একটি আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ, তবে প্রশ্নে অন্যান্য আরও সুস্পষ্ট hydro-meteorological দুর্যোগের উদাহরণ বিদ্যমান। খরাও একটি hydro-meteorological দুর্যোগ, তবে বন্যার মতো সরাসরি পানির সম্পর্কযুক্ত নয়।

সুতরাং, সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর হলো বন্যা, যা সরাসরি পানি এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে এবং ‘hydro-meteorological’ দুর্যোগের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

 একটি দেশের নাম
 ম্যানগ্রোভ বন
 একটি দ্বীপ
 সাবমেরিন ক্যানিয়ন
ব্যাখ্যাঃ

সঠিক উত্তর হল ঘঃ সাবমেরিন ক্যানিয়ন

‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ হলো বঙ্গোপসাগরের একটি গভীর খাদ বা সাবমেরিন ক্যানিয়ন। এটি মেঘনা নদীর মোহনার দক্ষিণে অবস্থিত।

 বােয়ালমারী
 নড়িয়া
 আলমডাঙ্গা
 নিকলি
ব্যাখ্যাঃ

বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়া উপজেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে নদীভাঙ্গন-প্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে এই উপজেলায় প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু মানুষ বাস্তুহারা হয়।

অন্যান্য উপজেলাগুলোর মধ্যে, বোয়ালমারী, আলমডাঙ্গা এবং নিকলিতেও নদীভাঙনের সমস্যা রয়েছে, তবে নড়িয়ার তুলনায় এর তীব্রতা কম হতে পারে। তবে নদীভাঙনের পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল, তাই নির্দিষ্ট সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করার জন্য সাম্প্রতিক তথ্য এবং গবেষণা দেখা প্রয়োজন।

১৫. UDMC এর পূর্ণরূপ হলো-

[ বিসিএস ৪১তম ]

 Union Disaster Management Centre
 Union Disaster Management Committee
 Union Disaster Management Centre
 none of the above
ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশে UDMC এর পূর্ণরূপ হলো Urban Development and Management Centre.

এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।

 ১৯৭৪
 ১৯৮৮
 ১৯৯৮
 ২০০৭
ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭), ১৯৯৮ সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এই বন্যায় দেশের প্রায় ৬৮% এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে ছিল এবং এটি প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল।

 নদীজ বন্যা
 আকস্মিক বন্যা
 বৃষ্টিজনিত বন্যা
 জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী সাধারণত জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা এবং নদীজ বন্যা উভয় ধরনের বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। তবে, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান বন্যার ধরন হিসেবে জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা কেই বেশি বিবেচনা করা হয়।

জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা: ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ারের অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণে সমুদ্রের লোনা জল উপকূলীয় নিচু এলাকা প্লাবিত করে। এটি খুব দ্রুত এবং তীব্র হতে পারে, যা জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে।

নদীজ বন্যা: বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা সৃষ্টি করে।

সুতরাং, বিকল্পে যদি শুধুমাত্র একটি উত্তর বেছে নিতে হয়, তবে জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা হবে সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর।

 বায়ু দূষণ
 দুর্ভিক্ষ
 মহামারী
 কালবৈশাখী
ব্যাখ্যাঃ

কালবৈশাখী হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা সাধারণত গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে আঘাত হানে। এটি একটি আকস্মিক ও স্থানীয় ঝড়, যা তীব্র বাতাস, বৃষ্টি এবং মাঝে মাঝে শিলাবৃষ্টির সাথে দেখা যায়।

অন্যদিকে, বায়ু দূষণ, দুর্ভিক্ষ এবং মহামারী - এই তিনটিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানুষের কার্যকলাপের ফলস্বরূপ সৃষ্টি হতে পারে।

  • বায়ু দূষণ: কলকারখানা, যানবাহন এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কারণে বায়ুতে ক্ষতিকর পদার্থের মিশ্রণ।
  • দুর্ভিক্ষ: খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি, যা প্রায়শই মানবসৃষ্ট কারণ (যেমন - যুদ্ধ, অব্যবস্থাপনা) দ্বারা আরও তীব্র হতে পারে।
  • মহামারী: রোগের বিস্তার, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা বা মানুষের অসচেতনতার কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
 ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু
 ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
 উপক্রান্তীয় জলবায়ু
 আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু (Tropical Monsoon Climate) প্রকৃতির। এর কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো:

১. উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল:

  • গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে): এই সময় উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে। গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৫-৩৫° সেলসিয়াস থাকে, তবে কখনো কখনো ৪০° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এ সময়ে কালবৈশাখী ঝড় দেখা যায়।
  • বর্ষাকাল (জুন-অক্টোবর): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এটি বাংলাদেশের কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২০৩ সেন্টিমিটার। সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
  • শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি): শীতকাল শুষ্ক ও তুলনামূলকভাবে মৃদু হয়। গড় তাপমাত্রা সাধারণত ১৮-২৫° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। উত্তর দিক থেকে আসা হিমালয়ের বাতাস দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত না হওয়ায় (হিমালয় পর্বতমালা উত্তর দিক থেকে ঠাণ্ডা বাতাসকে আটকে রাখে) শীতকাল খুব তীব্র হয় না।

২. মৌসুমী বায়ুর প্রভাব: বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো মৌসুমী বায়ু। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে, যার ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু স্থলভাগ থেকে প্রবাহিত হয় বলে শুষ্ক থাকে।

৩. ভৌগোলিক অবস্থান:

  • কর্কটক্রান্তি রেখা: বাংলাদেশের মাঝ বরাবর কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত।
  • বঙ্গোপসাগরের প্রভাব: দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় সমুদ্রের প্রভাব দেখা যায়, যা জলবায়ুকে কিছুটা সমভাবাপন্ন রাখে। অর্থাৎ, চরম উষ্ণ বা চরম শীতল অবস্থা খুব বেশি দেখা যায় না।
  • হিমালয় পর্বতমালার ভূমিকা: উত্তরে অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালা শীতকালে সাইবেরিয়া থেকে আসা শীতল বায়ুকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়, ফলে শীতকাল ততটা তীব্র হয় না।

৪. ঋতু বৈচিত্র্য: মৌসুমী জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশে স্পষ্ট ঋতু বৈচিত্র্য দেখা যায়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়টি ঋতু (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত) প্রচলিত, জলবায়ুগতভাবে প্রধানত তিনটি ঋতু (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত) বেশি স্পষ্ট।

৫. প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা: বাংলাদেশের জলবায়ু প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য সংবেদনশীল। প্রতি বছরই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা এবং নদী ভাঙনের মতো দুর্যোগ দেখা যায়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়গুলি বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি করে।

৬. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: বর্তমানে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি ও খরার মতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, যা দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী প্রকৃতির, যা কৃষি ও জীবনযাত্রার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

 জাপানের উন্নয়ন কৌশল
 সুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
 দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
 ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
ব্যাখ্যাঃ

'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০' হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (Disaster Risk Reduction - DRR) এর জন্য বিশ্বব্যাপী একটি নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে। এটি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য তৈরি হয়েছে।

পটভূমি

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক তৃতীয় জাতিসংঘ বিশ্ব সম্মেলনে এই ফ্রেমওয়ার্কটি গ্রহণ করে। এটি পূর্ববর্তী হাইওগো ফ্রেমওয়ার্ক (Hyogo Framework for Action 2005-2015)-এর উত্তরসূরি। হাইওগো ফ্রেমওয়ার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিরোধের উপর জোর দিলেও সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থিতিস্থাপকতা (resilience) বাড়ানোর উপর বেশি মনোযোগ দেয়।

মূল উদ্দেশ্য

সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য হলো:

  • ১৫ বছরের মধ্যে দুর্যোগের কারণে নতুন ঝুঁকি তৈরি হওয়া রোধ করা এবং বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো কমিয়ে আনা।
  • ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো
  • দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা

লক্ষ্যসমূহ (Global Targets)

ফ্রেমওয়ার্কটিতে সাতটি বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের চেষ্টা করা হবে:

১. দুর্যোগের কারণে বৈশ্বিক মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ২. বৈশ্বিকভাবে দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ৩. বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) তুলনায় দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো। ৪. গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো (যেমন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা) এবং মৌলিক সেবার দুর্যোগ ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ৫. দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় কৌশলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। ৬. উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ৭. মানুষের কাছে সহজলভ্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা

কর্মসূচী (Priorities for Action)

এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য চারটি প্রধান কর্মক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:

১. দুর্যোগ ঝুঁকি বোঝা: ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং মূল্যায়ন করা। ২. দুর্যোগ ঝুঁকি শাসন জোরদার করা: দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩. বিনিয়োগ করা: দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের জন্য বেসরকারি ও সরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। ৪. দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নতি: দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, কার্যকর সাড়া দেওয়া এবং 'পুনরায় ভালো করে তৈরি করা' (Build Back Better) ধারণা অনুসরণ করা।

 ভূমিকম্প
 ভূমিধস
 নদীভাঙ্গন
 ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যাঃ

ভূমিকম্প জলজ আবহাওয়াজনিত (hydro-meteorological) দুর্যোগ নয়।

  • জলজ আবহাওয়াজনিত (Hydro-meteorological) দুর্যোগ হলো সেইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা জল (পানি) এবং আবহাওয়ার ঘটনার সম্মিলিত প্রভাবে ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

  • ভূমিকম্প: এটি ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ (geological hazard), যা পৃথিবীর ভূত্বকের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে ঘটে। এর সাথে জল বা আবহাওয়ার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই।

  • ভূমিধস: এটি প্রায়শই অতিবৃষ্টি বা বন্যা এবং মাটির জলীয় সম্পৃক্তির কারণে ঘটে, তাই এটি জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের আওতায় পড়ে।

  • নদীভাঙন: এটি মূলত নদীর জলের অতিরিক্ত প্রবাহ, স্রোত এবং পলল পরিবহনের কারণে ঘটে, যা জলজ আবহাওয়াজনিত প্রভাবের (যেমন বন্যা) সাথে সম্পর্কিত।

  • ঘূর্ণিঝড়: এটি একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা যা শক্তিশালী বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে আসে এবং সমুদ্রের উপর গঠিত হয়, তাই এটি স্পষ্টতই জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ।

 উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
 উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল
 দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল
 দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল
ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি খরাপ্রবণ অঞ্চল হলো উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল

এই অঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া এবং কুষ্টিয়া জেলাগুলোকে অতি খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যায়, যা খরার তীব্রতা বাড়ায়।

 বরেন্দ্র অঞ্চল
 মধুপুর গড় অঞ্চল
 উপকূলীয় অঞ্চল
 চলন বিল অঞ্চল
ব্যাখ্যাঃ

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ (FCDI) প্রকল্পগুলোর কারণে বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চল এবং উপকূলীয় অঞ্চল উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে ক্ষতির ধরন ভিন্ন।

  • বরেন্দ্র অঞ্চল: এই অঞ্চলে মূলত গভীর নলকূপের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা এক ধরনের পরিবেশগত ক্ষতি। সেচ সুবিধার জন্য এই অঞ্চলে FCDI প্রকল্পগুলো পানির ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

  • উপকূলীয় অঞ্চল: এই অঞ্চলে FCDI প্রকল্পগুলো, বিশেষ করে বাঁধ ও পোল্ডার নির্মাণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধে সাহায্য করলেও এর কিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে। যেমন, প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটা প্রবাহে বাধা, পাললিকরণের পরিবর্তন, কিছু জলাভূমির ক্ষতি, এবং অভ্যন্তরীণ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। কিছু ক্ষেত্রে, বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং এর ইকোসিস্টেমের উপর নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

যদি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গে সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং পানির স্তরের অবনতির কথা বলা হয়, তাহলে বরেন্দ্র অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। অন্যদিকে, উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও হুমকির সম্মুখীন, তবে FCDI প্রকল্পগুলো এখানে কিছু ইতিবাচক ভূমিকাও পালন করেছে, যদিও সেগুলোর পরিবেশগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

প্রশ্নটি যদি "পানি নিষ্কাশন ও সেচের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে" ক্ষতি বোঝায়, তাহলে বরেন্দ্র অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। যদি "বন্যা নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর কারণে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধা এবং জলাবদ্ধতা" বোঝায়, তাহলে উপকূলীয় এবং কিছু অভ্যন্তরীণ নিচু অঞ্চল (যেমন চলন বিল) প্রভাবিত হয়েছে।

সাধারণভাবে, FCDI প্রকল্পগুলির কারণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও, কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে, যেমন জলাভূমির বিলুপ্তি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের পরিবর্তন এবং নদীর প্রবাহ হ্রাস

 সড়ক দুর্ঘটনা
 তামাক ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ
 বায়ু দূষণ
 ক্যান্সার
ব্যাখ্যাঃ

বায়ু দূষণ (গঃ) হলো পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান এবং নীরব কারণ।

  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বায়ু দূষণের কারণে মারা যায়।
  • এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, শ্বাসযন্ত্রের রোগসহ নানা জটিল রোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
  • যদিও অন্যান্য কারণগুলিও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বৈশ্বিক পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় বায়ু দূষণজনিত রোগে

সড়ক দুর্ঘটনা, তামাক গ্রহণ, ক্যান্সার – এদেরও মৃত্যুতে বড় ভূমিকা রয়েছে, তবে তুলনামূলকভাবে বায়ু দূষণ সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে পরিচিত।

 উদ্ধার পর্যায়ে
 প্রভাব পর্যায়ে
 সতর্কতা পর্যায়ে
 পুনর্বাসন পর্যায়ে
ব্যাখ্যাঃ

সঠিক উত্তর: পুনর্বাসন পর্যায়ে

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে — যেমন:

  1. সতর্কতা/প্রস্তুতি
  2. প্রতিক্রিয়া/উদ্ধার
  3. পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন

দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন (Damage and Loss Assessment) সাধারণত পুনর্বাসন পর্যায়ে করা হয়। এই পর্যায়ে মূলত:

  • ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ,
  • ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও জনগণের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা,
  • এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য ডেটা সংগ্রহ করা হয়।

তাই, পুনর্বাসন পর্যায়েই ক্ষতির নিরূপণ ও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 ভূমিকম্প
 সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise)
 ঘূর্ণিঝড়, ও জলোচ্ছ্বাস
 খরা বা বন্যা
ব্যাখ্যাঃ

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি একটি ধীর গতির কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ, যা উপকূলবর্তী অঞ্চলের:

  • কৃষিজমি,
  • পানির উৎস,
  • বাসস্থান,
  • এবং সামগ্রিক জীবিকা ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে তোলে।

কেন এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে:

  • এটি স্থায়ীভাবে জমি ডুবিয়ে দিতে পারে।
  • লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে কৃষি ও মিষ্টি পানির চাষাবাদ কঠিন হয়।
  • মানুষকে জোরপূর্বক স্থানান্তরিত হতে হয় (climate migrants)।
  • এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকে।

অন্যদিকে ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা খরা তাৎক্ষণিক ও মাঝারি মেয়াদি ক্ষতি করে, তবে পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রভাব কিছুটা লাঘব করা যায়।

অতএব, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

 ১০০ – ২০০ কি.মি
 ৩০০ – ৪০০ কি.মি
 ৭০০ – ৮০০ কি.মি
 ৯০০ – ১০০০ কি.মি
ব্যাখ্যাঃ

২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামি ছিল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে আঘাত হানে।

কারণ:

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছে সমুদ্রের তলদেশে ৯.১ থেকে ৯.৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের (যাকে "সুমাত্রা-আন্দামান ভূমিকম্প"ও বলা হয়) ফলে এই সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। এটি ছিল শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প, যার প্রভাবে পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল এবং বিজ্ঞানীরা দাবি করেন যে এই ভূমিকম্পের কারণে পৃথিবী এক সেন্টিমিটার নড়ে গিয়েছিল।

ক্ষয়ক্ষতি:

এই সুনামি ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় ১৩ থেকে ১৪টি দেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঢেউয়ের গতি ঘণ্টায় ৭০০-৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল, যা একটি জেট বিমানের গতির সমান। এই প্রলয়ঙ্করী সুনামি প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ছিল শিশু। বহু মানুষ নিখোঁজ হয় এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ছিল:

  • ইন্দোনেশিয়া: প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে শুধু আচেহ প্রদেশেই ১ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়।
  • শ্রীলঙ্কা: প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়।
  • ভারত: প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা যায়।
  • থাইল্যান্ড: প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা যায়। এছাড়াও মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মাদাগাস্কার, সোমালিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

২০০৪ সালের সুনামি বিশ্বজুড়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করে।

 ৩ কোটি
 ৩.৫ কোটি
 ৪ কোটি
 ৪.৫ কোটি
ব্যাখ্যাঃ

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, এবং এর ফলে জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও পূর্বাভাসে উঠে এসেছে।

যদি ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠ ৪৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ডুবে যাবে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। বিভিন্ন গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে কমপক্ষে ৩.৫ কোটি (সাড়ে তিন কোটি) মানুষ জলবায়ু শরণার্থী বা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তাদের প্রতিবেদনে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কয়েক কোটি মানুষের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি একটি প্রধান কারণ। এটি শুধু সরাসরি প্লাবনের কারণে নয়, লবণাক্ততার বৃদ্ধি, কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের (যেমন: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস) তীব্রতা বৃদ্ধির কারণেও মানুষকে তাদের বাড়িঘর ও জীবিকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করবে।

এই সংখ্যাটি একটি অনুমান এবং বিভিন্ন মডেল ও গবেষণার ওপর নির্ভর করে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি একটি বিশাল মানবিক সংকট নির্দেশ করে।

 ১ জানুয়ারি
 ১১ জানুয়ারি
 ১৯ জানুয়ারি
 ২১ মার্চ
ব্যাখ্যাঃ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ মূলত ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়েছিল।

তবে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এর প্রকাশের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৫ এবং বাংলাদেশ গেজেটে এটি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল।

সুতরাং, প্রশ্নে 'কবে জারি হয়েছে' বলতে যদি গেজেট প্রকাশের তারিখ বোঝানো হয়, তাহলে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫। যদি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ বোঝানো হয়, তাহলে ১৯ জানুয়ারি ২০১৫। তবে সাধারণত প্রজ্ঞাপন জারির তারিখটিকেই মূল ধরা হয়।

 ঘূর্ণিঝড়
 চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
 সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পন
 আগ্নেয়গিরির আগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যাঃ

সুনামি (Tsunami) হলো সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট বিশাল আকারের ঢেউ, যা সাধারণত শক্তিশালী ভূ-তাত্ত্বিক ঘটনার কারণে উৎপন্ন হয়। জাপানি শব্দ 'সুনামি'-র অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ' বা 'বন্দরের ঢেউ'।

সুনামির প্রধান কারণগুলো হলো:

  • সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প: এটি সুনামির সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রধান কারণ। যখন সমুদ্রের নিচে টেকটনিক প্লেটগুলোর হঠাৎ নড়াচড়া হয় (বিশেষ করে যখন একটি প্লেট আরেকটির নিচে চলে যায় বা একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়), তখন বিশাল পরিমাণ জলরাশি স্থানচ্যুত হয়। এই স্থানচ্যুত জলরাশি থেকে বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়, যা সুনামি হিসেবে উপকূলের দিকে ধাবিত হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা যত বেশি হয়, সুনামির ঢেউ তত বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: সমুদ্রের তলদেশের আগ্নেয়গিরির ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাতও সুনামি ঘটাতে পারে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে যদি বিশাল পরিমাণ লাভা বা শিলা সমুদ্রের জলে পতিত হয় বা তলদেশে আকস্মিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তবে তা বড় ঢেউ তৈরি করতে পারে।

  • ভূমিধস: সমুদ্রের তলদেশে বা উপকূলীয় অঞ্চলে বড় আকারের ভূমিধস হলে তা বিশাল পরিমাণ জলরাশিকে স্থানচ্যুত করে সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, সমুদ্রের নিচে পর্বতের অংশ ধসে পড়লে বড় সুনামি হতে পারে।

  • উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর পতন: যদিও এটি খুবই বিরল ঘটনা, তবে কোনো বিশাল উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণু যদি সমুদ্রে পতিত হয়, তবে এর প্রভাবেও বিশাল আকারের সুনামি সৃষ্টি হতে পারে।

এই কারণগুলোর মধ্যে সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প হলো সুনামির প্রধান এবং সবচেয়ে ঘন ঘন কারণ। ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি এবং ২০১১ সালের জাপানের সুনামি - উভয়ই সমুদ্র তলদেশের শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে ঘটেছিল।

 যমুনা নদীতে
 মেঘনার মোহনায়
 বঙ্গোপসাগরে
 সন্দ্বীপ চেনেল
ব্যাখ্যাঃ

'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' (Swatch of No Ground) বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি গভীর সমুদ্রখাদ বা উপত্যকা।

এটি বাংলাদেশের সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জেলেরা একে 'নাই বাম' নামেও ডাকে।

 সেন্টমার্টিন
 রাঙ্গাবালি
 চর আলেকজান্ডার
 ছেড়াদ্বীপ
ব্যাখ্যাঃ

'অলিভ টারটল' বা জলপাইরঙা সাগর কাছিম বাংলাদেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে এবং দ্বীপে পাওয়া যায়, বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে ডিম পাড়ার জন্য তারা সৈকতে আসে।

বাংলাদেশের যে দ্বীপে অলিভ টারটল বেশি দেখা যায় এবং ডিম পাড়ার জন্য আসে, সেটি হলো সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

এছাড়াও, কক্সবাজারের অন্যান্য উপকূলীয় সৈকত যেমন বদরমোকাম, শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া, মনখালী, হিমছড়ি, প্যাঁচারদিয়া এবং সোনাদিয়া দ্বীপের সৈকতেও অলিভ টারটলের দেখা মেলে।

 বন্যা
 খরা
 ভূমিকম্প
 ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যাঃ

পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সাধারণত যে দুর্যোগটি সংঘটিত হয়, তা হলো ভূমিকম্প

ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার পূর্বাভাস দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যা দিয়ে নির্ভুলভাবে কখন, কোথায় এবং কত তীব্রতার ভূমিকম্প হবে, তা আগে থেকে জানা যায়। এ কারণে ভূমিকম্পকে প্রায়শই একটি আকস্মিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 অর্থনৈতিক
 সামাজিক
 পরিবেশগত
 অবকাঠামোগত
ব্যাখ্যাঃ

আপদ (Hazard) বলতে এমন কোনো ঘটনা বা অবস্থাকে বোঝায় যা ক্ষতি, আঘাত, অসুস্থতা, বা ধ্বংসের কারণ হতে পারে। যখন এই আপদগুলো বাস্তবে ঘটে, তখন এর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব দেখা যায়।

এখানে প্রশ্নটি আপদের প্রত্যক্ষ (Direct) প্রভাব কোনটি তা জানতে চাইছে।

  • ঘঃ অবকাঠামোগত (Infrastructure): এটি আপদের একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব। যখন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, বন্যা) ঘটে, তখন এটি সরাসরি রাস্তা, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎ লাইন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদির মতো অবকাঠামোর ক্ষতি করে। এই ক্ষতি তাৎক্ষণিক এবং সরাসরি দৃশ্যমান।

অন্যান্য বিকল্পগুলো পরোক্ষ বা সুদূরপ্রসারী প্রভাব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে:

  • কঃ অর্থনৈতিক (Economic): যদিও অবকাঠামোগত ক্ষতি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়, তবে অর্থনৈতিক প্রভাব (যেমন, উৎপাদন হ্রাস, ব্যবসা বন্ধ হওয়া, কর্মসংস্থান হারানো) প্রায়শই আপদের সরাসরি অবকাঠামোগত বা জীবনহানির ফলস্বরূপ আসে, যা কিছুটা পরোক্ষ।
  • খঃ সামাজিক (Social): সামাজিক প্রভাব (যেমন, বাস্তুচ্যুতি, মানসিক আঘাত, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, রোগব্যাধি বৃদ্ধি) আপদের ফলস্বরূপ আসে এবং এগুলো সাধারণত প্রত্যক্ষ শারীরিক বা অবকাঠামোগত ক্ষতির পরে দেখা যায়।
  • গঃ পরিবেশগত (Environmental): পরিবেশগত প্রভাব (যেমন, ভূমিধস, দূষণ, বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন) আপদের সরাসরি ফল হতে পারে, তবে প্রশ্নটি সাধারণ আপদের প্রত্যক্ষ প্রভাবের কথা বলছে যেখানে অবকাঠামোগত ক্ষতি একটি খুব সাধারণ এবং তাৎক্ষণিক প্রত্যক্ষ প্রভাব।

অতএব, আপদের একটি সুস্পষ্ট এবং তাৎক্ষণিক প্রত্যক্ষ প্রভাব হলো অবকাঠামোগত ক্ষতি।

 পুনর্বাসন
 ঝুঁকি (Risk) চিহ্নিতকরণ
 দুর্যোগ প্রস্তুতি
 দুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড
ব্যাখ্যাঃ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে সবার প্রথমে যে কাজটি হবে, তা হলো: ঝুঁকি (Risk) চিহ্নিতকরণ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে (Disaster Management Cycle) সাধারণত চারটি প্রধান পর্যায় থাকে:

  1. ঝুঁকি হ্রাস/প্রশমন (Mitigation): দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কার্যক্রম যার মাধ্যমে দুর্যোগের কারণ ও প্রভাব কমানো হয়।
  2. প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগ আঘাত হানার আগে জরুরি সাড়াদানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
  3. সাড়াদান (Response): দুর্যোগ আঘাত হানার সময় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া।
  4. পুনরুদ্ধার/পুনর্বাসন (Recovery): দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও জীবনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

এই পর্যায়গুলোর মধ্যে, যেকোনো কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ হলো ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ (Risk Identification)। কারণ, কোনো এলাকার কী ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি আছে, সেই ঝুঁকি কতটা তীব্র, এবং কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে, তা না জানলে প্রস্তুতি, প্রশমন বা পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব নয়। ঝুঁকি চিহ্নিতকরণের মাধ্যমেই বোঝা যায় কোন এলাকার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 কমিউনিটি পর্যায়ে
 জাতীয় পর্যায়ে
 উপজেলা পর্যায়ে
 আঞ্চলিক পর্যায়ে
ব্যাখ্যাঃ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কঃ কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে।

যদিও জাতীয়, উপজেলা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা এবং সম্পদ বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাস্তব ক্ষেত্রে দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলা এবং ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য কমিউনিটি পর্যায়ের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। এর কারণগুলো হলো:

  1. স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা: কমিউনিটির মানুষের কাছে তাদের এলাকার বিপদাপন্নতা, ঝুঁকি এবং স্থানীয় সম্পদ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জ্ঞান থাকে। তারা জানে কখন বন্যা হয়, কোথায় আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ, বা কোন রাস্তা ব্যবহার করা উচিত নয়।
  2. প্রথম সাড়াদানকারী: দুর্যোগ আঘাত হানলে স্থানীয়রাই প্রথম সাড়াদানকারী হয়। বাইরের সাহায্য পৌঁছাতে দেরি হতে পারে, কিন্তু স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
  3. সচেতনতা ও প্রস্তুতি: কমিউনিটি পর্যায়ে মানুষকে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে (যেমন: আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া, জরুরি কিট তৈরি করা, প্রাথমিক চিকিৎসা জানা) যুক্ত করা সহজ হয়।
  4. সম্পদের সদ্ব্যবহার: স্থানীয় সম্পদ (মানুষ, নৌকা, খাদ্যশস্য, ইত্যাদি) কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন সুবিধাজনক।
  5. টেকসই সমাধান: স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী বা টেকসই হয় না। যখন কমিউনিটির সদস্যরা পরিকল্পনার অংশ হয় এবং এর মালিকানা গ্রহণ করে, তখন সেটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটি ভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Community Based Disaster Management - CBDM) একটি জনপ্রিয় এবং কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বাংলাদেশও এই পদ্ধতির উপর জোর দিচ্ছে।

 কৃত্রিম সার প্রয়োগ
 পানি সেচ
 মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
 প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ
ব্যাখ্যাঃ

সঠিক উত্তরটি হলো পানি সেচ

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রধান উপায় হলো অতিরিক্ত পানি সেচ। যখন জমিতে বেশি পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি সেচ দেওয়া হয়, তখন সেই পানি মাটির উপরের স্তরের লবণকে ধুয়ে মাটির গভীরে নিয়ে যায়। এভাবে মাটির উপরের স্তরে লবণের ঘনত্ব কমে যায়। এই প্রক্রিয়াটিকে লিচিং (leaching) বলা হয়। তবে, এই পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার জন্য অবশ্যই উন্নত নিকাশী ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে লবণাক্ত জল জমি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

 আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
 ঘূর্ণিঝড়
 চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
 সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যাঃ

সমুদ্রের তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রচণ্ড ও ধ্বংসাত্মক বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এরূপ বিশাল সামুদ্রিক ঢেউগুলোকে সুনামি বলা হয়।

 কৃত্রিম সার প্রয়োগ
 পানি সেচ
 জমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
 প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ
ব্যাখ্যাঃ

পানি সেচ জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে। কৃত্রিম সার প্রয়োগ জমির লবণাক্ততা কিছুটা বৃদ্ধি করে। জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সারের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। জমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখার সাথেও জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের কোনো সম্পর্ক নেই।

 ব্যারোমিটার
 সেক্সট্যান্ট
 সিসমোগ্রাফ
 ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যাঃ

বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ‘ব্যারোমিটার’, গ্রহ-নক্ষত্রের উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র ‘সেক্সট্যান্ট’, ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র ‘সিসমোগ্রাফ’ এবং গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র হচ্ছে ‘ম্যানোমিটার’।

 উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
 নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
 সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
 বৃষ্টিপাত কমে যাবে
ব্যাখ্যাঃ

গ্রিন হাউজে ইফেক্টের কারনে পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে পৃথিবীর মেরুতে বিদ্যমান বরফ গলে নিম্নভূমি স্থায়ীভাবে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেরও নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে।

৪২. বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়-

[ ১৬তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]

 ১০ জুলাই
 ৫ জুন
 ২৪ সেপ্টেম্বর
 ১২ এপ্রিল

৪৩. বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় কোন দিন?

[ ১৩তম শি. (স্কুল সমপর্যায়) ]

 ৫ মে
 ১৫ মে
 ৫ জুন
 ১৫ জুন
 শতকরা ২০ ভাগ
 শতকরা ২৫ ভাগ
 শতকরা ৩০ ভাগ
 শতকরা ৩৫ ভাগ

৪৫. বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়?

[ ১০তম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]

 জুন ১৯৭২
 জুলাই ১৯৯২
 জুন ১৯৯২
 জুলাই ১৯৯৫

৪৬. ভূমিকম্পের দেশ কোনটি?

[ ৯ম শি. নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) ]

 চীন
 জাপান
 থাইল্যান্ড
 ইন্দোনেশিয়া
 ৩৫ ভাগ
 ৪০ ভাগ
 ২৫ ভাগ
 ৩০ ভাগ
 ১৯৯০ সাল
 ১৯৯১ সাল
 ১৯৯২ সাল
 ১৯৯৩ সাল

৪৯. বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়

[ ১০তম শি. নিবন্ধন (স্কুল সমপর্যায়) ]

 ৫ জুন
 ৫ জুলাই
 ৫ অগাস্ট
 ৫ মার্চ
 পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ হ্রাস
 উৎপাদন খরচের আধিক্য
 পরিবেশ দূষণ হ্রাস
 ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কমানো
 দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি
 গাছপালা কাটা
 পাহাড় কাটা
 নদী ভরাট করা
 ৫ এপ্রিল
 ৫ মে
 ৫ জুন
 ৫ জুলাই
 ১৯৩০ সালে
 ১৯৩৫ সালে
 ১৯৩২ সালে
 ১৯৪০ সালে

৫৪. বজ্রপাতের সময় থাকা উচিত?

[ প্রা. বি. স. শি. নি. ১১-০৫-২০১৮ ]

 গুহার ভিতর বা মাটিতে সুয়ে
 খোলা মাঠে দিড়িয়ে
 উঁচু দেয়ালের কাছে
 উঁচু গাছের নিচে

৫৫. Seismograph কি?

[ প্রাক-প্রা. স. শি. নি. ২৯-১০-২০১৬ ]

 পানির প্রবাহ মাপার যন্ত্র
 বায়ু মাপার যন্ত্র
 ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
 বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র